বিজ্ঞাপন
ঝিনাইদহের মহেশপুরে কপোতাক্ষ নদের পাড় দখল করে তৈরি করা হয়েছে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়। গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়ক ঘেঁষে প্রতিদিনই ফেলা হচ্ছে পৌর এলাকার বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ও আবর্জনা। এতে একদিকে নদের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ ও দূষণ। ময়লার ভাগাড়ের কারণে সড়কে চলাচলকারী মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহেশপুর পৌর শহরের পৌরসভা মোড় থেকে কপোতাক্ষ নদের পাড় হয়ে জলিলপুর অভিমুখী সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ময়লার ভাগাড়। নদের পাড় দখল নিয়ে ময়লার ভাগাড় করায় উৎকট দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। পথচারীরা মুখে কাপড় ও মাস্ক দিয়ে চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে।
সড়কের পূর্বদিকেই মহেশপুর পৌর পাইকারি মাছের বাজার। ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে মাছের বাজারেও ভোগান্তিতে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আশেপাশের বাসিন্দারাও দূষণ-দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ। পৌরসভা এলাকার সব ময়লা, মেডিকেল বর্জ্য ও হাট-বাজারের বর্জ্য নিয়মিত ফেলা হয় এই ভাগাড়ে। প্রায় ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে নদের পাড় দখল করে পৌরসভা এই ময়লার ভাগাড় তৈরি করেছে। ময়লার ভাগাড় অন্যত্র সরিয়ে নিতে স্থানীয়রা বারবার পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাহী অফিস বরাবর আবেদন করেও কোনো সমাধান পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা পরশ দাস বলেন, পৌরসভার গাড়িতে করে প্রতিদিন কপোতাক্ষ নদের পাড়ে রাস্তার পাশে ময়লা ফেলে রেখে যায়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা বৃষ্টি হলেই সড়কের ওপর চলে আসে। দুর্গন্ধে সড়ক দিয়ে চলাচল করা যায় না। নদের পানিও নোংরা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা মিশে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুরুজ আহমেদ বলেন, চার বছর আগে তৎকালীন পৌর মেয়র কারো পরামর্শ ও মতামত ছাড়াই কপোতাক্ষ নদের পাড় দখল করে ভাগাড় তৈরি করে। নদের পাড় তো ওয়াপদার জায়গা। এই জায়গা পৌরসভা কীভাবে দখলে নিয়ে ব্যবহার করছে আমরা সেটাও জানি না। আমরা চাই, বর্তমান প্রশাসন যেন দ্রুত কপোতাক্ষ নদের পাড় দখলমুক্ত করে ময়লা ভাগাড় অন্যত্র সরিয়ে নেয়। এটাই আমাদের দাবি।
আরও পড়ুন
পদ্মা সেতুতে কয়েক চক্কর দিয়ে উল্টে গেল বাস, আহত ১০
মহেশপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা বলেন, ময়লার ভাগাড় তৈরির জন্য উপযুক্ত জায়গা না পেয়ে প্রায় ৪ বছর আগে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে ময়লার ভাগাড় করা হয়। তৎকালীন মেয়রের নির্দেশে ওই ভাগাড় করা হয়েছিল।
কপোতাক্ষ নদের পাড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন জায়গা, পৌরসভা ওই জায়গা ব্যবহারের জন্য কোনো অনুমোদন নিয়েছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেই সময় কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এটা নিয়ে আমি এর বেশি কিছু জানি না।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পৌর বাসিন্দাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত জায়গায় পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশন তৈরির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রাস্তা সংক্রান্ত জটিলতায় আমরা এখন পর্যন্ত পৌরসভার নতুন ময়লার ভাগাড়ে বর্জ্য স্থানান্তরের কাজ শুরু করতে পারিনি। তবে এ নিয়ে কার্যক্রম চলমান।
এম শাহাজান/এনএইচআর/এএসএম
বিজ্ঞাপন