জাতীয়

কবি ও ঔপন্যাসিক কেতকী কুশারী ডাইসন মারা গেছেন

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

ভারতীয় বংশোদ্ভূত কবি, ঔপন্যাসিক, অনুবাদক ও গবেষক কেতকী কুশারী ডাইসন (৮৬) মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর ইংল্যান্ডে অক্সফোর্ডের শহরতলি কিডলিংটনে শুক্রবার শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক থেকে অনুবাদ সাহিত্যের একাধিক ক্ষেত্রে কেতকী কুশারীর ছিল স্বতন্ত্র বিচরণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রকর্ম নিয়ে তাঁর গবেষণা যেমন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, তেমনই রবীন্দ্রসাহিত্যের অনুবাদেও তাঁর অবদান স্মরণে থাকবে পাঠকদের। প্রবাসী হয়েও তিনি আজীবন বাংলা ভাষা ও বিশ্বসাহিত্যের সেতু হিসেবে কাজ করে গেছেন।

১৯৪০ সালে কলকাতায় জন্মেছিলেন কেতকী কুশারী। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯৫৮ সালে রেকর্ড নম্বর নিয়ে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক হন। এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যান অক্সফোর্ডে। সেখানে ১৯৬৩ সালে প্রথম শ্রেণিতে ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭৫ সালে পিএইচডি লাভ করেন। অক্সফোর্ডে অধ্যয়নকালেই ইয়র্কশায়ারের অধিবাসী এবং পদার্থবিদ্যার গবেষক রবার্ট ডাইসনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হয়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জনের পর তিনি নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর পদবি ‘ডাইসন’ যোগ করেন। বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও নিজের ভাষা ও বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর আত্মিক বন্ধন কমেনি, বরং বেড়েছে।

১৯৭৭ সালে প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বল্কল’ দিয়ে সাহিত্যজগতে যাত্রা শুরু করে কেতকী কুশারী মোট ছয়টি কবিতার বই প্রকাশ করেন। সাহিত্যজীবনে ‘নারী, নগরী’, ইংল্যান্ডে অভিবাসীদের জীবন নিয়ে লেখা ‘নোটন নোটন পায়রাগুলি’ প্রবলভাবে প্রশংসিত হয়। ‘জল ফুঁড়ে আগুন’ও একটি উচ্চ প্রশংসিত গ্রন্থ। উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি ‘রাতের রোদ’ এবং ‘সুবর্ণরেখা’ নামে নাটকও রচনা করেছেন। গবেষণামূলক কাজের ক্ষেত্রে তাঁর রচিত ‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’ গ্রন্থটি প্রবল সাড়া ফেলেছিল। রবীন্দ্রনাথের আঁকা ছবির বিশদ বিশ্লেষণ এবং রবীন্দ্রসাহিত্যের নিখুঁত ইংরেজি অনুবাদে তাঁর অবদান বাংলা সাহিত্যের এক মাইলফলক।

বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই কেতকী কুশারী কবিতাও লিখেছেন। ‘সবীজ পৃথিবী’, ‘জলের করিডর ধরে’ এবং ‘কথা বলতে দাও’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতার বই। ইংরেজিতে লিখেছেন ‘হিবিস্কাস ইন দ্য নর্থ’, ‘স্যাপ উড’ প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া লিখেছেন একাধিক প্রবন্ধগ্রন্থ, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’, যা তিনি যৌথভাবে লিখেছিলেন প্রাবন্ধিক সুশোভন অধিকারীর সঙ্গে। ‘শিকড়বাকড়’, ‘ভাবনার ভাস্কর্য’—এই দুই প্রবন্ধগ্রন্থও যথেষ্ট সমাদর পেয়েছিল পাঠকমহলে।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>