জাতীয়

কালো ভালুক কীভাবে বোঝে হাইবারনেশনে যাওয়ার সময় হয়েছে

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

শীত এলেই যুক্তরাষ্ট্রের কালো ভালুকেরা (Ursus americanus) গুহা বা নিরাপদ আশ্রয়ে লুকিয়ে পড়ে। সেখানে তারা লম্বা সময় প্রায় ঘুমিয়েই কাটায়। এই ব্যাপারকে বলা হয় শীতঘুম বা হাইবারনেশন। এত দিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, ভালুকের এই শীতঘুম পুরোপুরি তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, বিষয়টা আসলে এত সহজ নয়! তাপমাত্রার পাশাপাশি দিনের আলো কতক্ষণ থাকছে, অর্থাৎ দিনের দৈর্ঘ্যও ভালুকের এই আচরণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া টেক ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক এই বিষয়টি নিয়ে দারুণ এক কাজ করেছেন। তাঁরা কালো ভালুকের শীতঘুমের সঙ্গে তাপমাত্রা ও দিনের দৈর্ঘ্যের সম্পর্ক খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। এ জন্য তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্ল্যাক বিয়ার রিসার্চ সেন্টারে থাকা চারটি বন্য ও অন্তঃসত্ত্বা কালো ভালুকের আচরণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

শীতকালে যুক্তরাষ্ট্রের কালো ভালুকেরা গুহা বা নিরাপদ আশ্রয়ে লুকিয়ে পড়ে

বিভিন্ন সময়ে ধারণ করা ২২ হাজার ঘণ্টারও বেশি ভিডিও ঘেঁটে দেখেছেন তাঁরা! গবেষকেরা ভালুকের মোট ৪৫ ধরনের আচরণ আলাদাভাবে চিহ্নিত করেন। এরপর সেগুলো মিলিয়ে দেখেন তাপমাত্রা, দিনের দৈর্ঘ্য ও শীতঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ে ভালুকের শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে। মজার এই গবেষণাটি ছাপা হয়েছে বিখ্যাত প্রসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি: বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস সাময়িকীতে।

নতুন গবেষণায় জানা গেছে, ভালুকের শীতঘুম বিষয়টা আসলে এত সহজ নয়! তাপমাত্রার পাশাপাশি দিনের আলো কতক্ষণ থাকছে, অর্থাৎ দিনের দৈর্ঘ্যও ভালুকের এই আচরণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।

শুধু তাপমাত্রা নয়, দিনের আলোও গুরুত্বপূর্ণ

গবেষণায় দেখা গেছে, শীতঘুমের সঙ্গে জড়িত ভালুকের আচরণে তাপমাত্রা ও দিনের দৈর্ঘ্য দুটোই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে শীতঘুমের সব পর্যায়ে এই দুটির প্রভাব কিন্তু একই রকম নয়। যেমন, শীতঘুম শুরুর দিকে ভালুকের আচরণ মূলত তাপমাত্রা দিয়েই নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু শীতঘুমের আগে বেশি করে খাবার খাওয়ার সময়ে অন্য ঘটনা ঘটে। আবার শীতঘুম শেষে গুহা থেকে বের হয়ে আসার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলোতে তাপমাত্রা ও দিনের দৈর্ঘ্য একসঙ্গে ভালুকের আচরণ ঠিক করে দেয়।

শীতঘুম শুরুর দিকে ভালুকের আচরণ মূলত তাপমাত্রা দিয়েই নিয়ন্ত্রিত হয়

কখন শীতঘুমে যেতে হবে বা কখন গুহা থেকে বের হতে হবে, তা ভালুক কীভাবে বোঝে? কিংবা কখন বেশি করে খাবার জমা করতে হবে, তা-ই বা বোঝে কীভাবে? এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভালুক যে শুধু বাইরের ঠান্ডা-গরম মাপে, তা কিন্তু নয়। দিনের আলো কতক্ষণ থাকছে, সেটাও ওদের জন্য ভীষণ জরুরি সংকেত। গবেষকেরা জানান, ভালুকের শীতঘুমের ক্ষেত্রে পরিবেশের এই সংকেতগুলো কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে, তা নিয়ে এর আগে খুব একটা গভীরে গিয়ে ভাবা হয়নি।

ভালুক ও মানুষের মধ্যে সংঘাতও বেড়ে যাওয়ার ভয় আছে। কারণ, খাবারের খোঁজে ভালুক যদি অসময়ে জেগে ওঠে, তবে মানুষের বসতি বা লোকালয়ে এদের ঢুকে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যাবে।

জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে যেতে পারে ছন্দ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতিতে থাকা এই সুন্দর সম্পর্কটি ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়তে পারে। কারণ, দিনের দৈর্ঘ্য বদলায় পৃথিবীর কক্ষপথ ও ঋতুর ওপর ভিত্তি করে। এটি একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা আগের মতো নিয়মে বদলাচ্ছে না। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দিনের আলো ও তাপমাত্রার মধ্যে যে স্বাভাবিক তালমিল থাকার কথা, সেটি ভবিষ্যতে আর না-ও থাকতে পারে।

কালো ভালুকের শীতঘুমের সময় বদলে গেলে পুরো বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে

এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে কালো ভালুকের শীতঘুমের অভ্যাসের ওপর। এরা যদি স্বাভাবিক সময়ের আগে বা পরে শীতঘুমে যায়, অথবা ঘুম থেকে ওঠার সময় বদলে ফেলে, তাহলে শুধু ভালুকের নয়, পুরো বাস্তুতন্ত্রেরই ক্ষতি হতে পারে। এমনকি ভালুক ও মানুষের মধ্যে সংঘাতও বেড়ে যাওয়ার ভয় আছে। কারণ, খাবারের খোঁজে ভালুক যদি অসময়ে জেগে ওঠে, তবে মানুষের বসতি বা লোকালয়ে এদের ঢুকে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যাবে।

দিনের দৈর্ঘ্য বদলায় পৃথিবীর কক্ষপথ ও ঋতুর ওপর ভিত্তি করে। এটি একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা আগের মতো নিয়মে বদলাচ্ছে না।

এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অ্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক ব্রোগান হলকম্ব। কালো ভালুক নিয়েই তাঁর যত গবেষণা। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা যদি এভাবে বাড়তেই থাকে, তবে ভালুকের শারীরিক পরিবর্তন ও পরিবেশের সংকেতগুলোর মধ্যে বড় ধরনের গন্ডগোল দেখা দিতে পারে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কালো ভালুকের আচরণ ভবিষ্যতে কতটা বদলে যেতে পারে, তা বুঝতে এই সম্পর্কটির খোঁজ রাখা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

লেখক: জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক, কিশোর আলো

সূত্র: পপুলার সায়েন্স

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>