কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। সংগঠনটির দাবি, দেশজুড়ে শিশু নিখোঁজের ঘটনা বাড়লেও তাদের উদ্ধারে রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা শিশুদের নিরাপত্তাকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
আজ শনিবার গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির এক বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে সংগঠনটি বলেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে এখনো ২ হাজার ৩৮টি শিশুর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সংগঠনটির হিসাবে, এ সময়ে গড়ে প্রতিদিন ১০টির বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে পুলিশের অবহেলা ও অমানবিক আচরণের চিত্র উঠে এসেছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় গিয়ে জিডি করতে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়েছে—এমন অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কারও কারও কাছ থেকে ‘তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?’ কিংবা ‘পুলিশের আরও অনেক কাজ আছে’—এ ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংগঠনটি বলেছে, বয়সজনিত চপলতা, পারিবারিক অসন্তোষ কিংবা ঘর ছেড়ে যাওয়ার মতো সামাজিক কারণ দেখিয়ে শিশু নিখোঁজের ঘটনাকে হালকা করে দেখার বা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। নিখোঁজের কারণ যা-ই হোক, প্রতিটি শিশুকে উদ্ধার করা এবং তাদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
অবিলম্বে ইশায়াত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ থাকা ২ হাজার ৩৮টি শিশুসহ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত নিখোঁজের ঘটনাগুলো দ্রুত পুনঃ তদন্ত করে শিশুদের উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।
থানায় অভিযোগ গ্রহণে বিলম্ব এবং নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শিশু নিখোঁজ ও পাচার রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিটি নিখোঁজের জিডির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক তদন্ত বাধ্যতামূলক করতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>