কুয়েত সরকারকে উপহার হিসেবে পাঠানোর জন্য গত এপ্রিল মাসে উচ্চমানসম্পন্ন বড় আকারের মোট ২০ টন মাছ কিনেছিল সরকার। ফ্লাইট-সংক্রান্ত জটিলতায় এ মাছ কুয়েতে পাঠানো সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ছিল ১০ টন গলদা চিংড়ি, ৫ টন রুপচাঁদা ও ৫ টন বাগদা চিংড়ি।
দেশের বাজারে এ মাছ বিক্রি করতে গত মাসে নিলাম ডাকে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। পুরোপুরি সাড়া পায়নি সংস্থাটি। নিলামে অংশ নিয়ে খুলনার একটি প্রতিষ্ঠান ৫ টন বাগদা চিংড়ি কিনে নিয়েছে। এখনো রয়ে গেছে ১০ টন গলদা চিংড়ি ও ৫ টন রুপচাঁদা।
এসব মাছ বিক্রির জন্য আবার নিলাম ডেকেছে টিসিবি। নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে। ঢাকায় টিসিবির প্রধান কার্যালয় এবং খুলনা ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কার্যালয়ে দরপত্র জমা দেওয়া যাবে। আগ্রহী ক্রেতারা ন্যূনতম ৫০০ কেজির জন্য দর প্রস্তাব করতে পারবেন। গলদা চিংড়ি ও রুপচাঁদার জন্য পৃথকভাবে দর প্রস্তাব ও জামানত দিতে হবে।
মাছগুলো এখন খুলনার বাটিয়াঘাটার ভান্ডারকোটের ট্রাস্ট সি-ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রসেসিং প্ল্যান্টে আছে। নিলামে আগ্রহী ব্যক্তিরা মাছের নমুনা দেখতে পারবেন। ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত খুলনার ভান্ডারকোটে জিটিএস সি-ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রসেসিং প্ল্যান্টে মাছ দেখা যাবে। মাছ দেখে দর প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলেছে টিসিবি।
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের উপহার হিসেবে চাল, মাছসহ কিছু পণ্য কুয়েত সরকারকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কুয়েত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তখন কুয়েত সরকার জানায়, নিজেদের নিয়মিত ফ্লাইটে উপহারের পণ্য নিয়ে যাবে। গত এপ্রিল মাসে এই উপহারসামগ্রী নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চাল নিলেও মাছ নেয়নি কুয়েত সরকার। সূত্রগুলো বলছে, মাছ পচনশীল পণ্য হওয়ায় বাণিজ্যিক ফ্লাইটে নিতে অনাগ্রহ তাদের।
৫ মাস অপেক্ষার পর ১৮ আগস্ট মাছ নিলামে তুলে দরপত্র আহ্বান করে টিসিবি। এতে শর্ত দেওয়া হয়, নিলামে অংশগ্রহণকারীদের কমপক্ষে ৫০০ কেজি মাছ নিতে হবে। আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজ প্যাডে মাছের ধরন, পরিমাণ, প্রতি কেজি দর, মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানার পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দিতে হবে। ঢাকার প্রধান কার্যালয়, চট্টগ্রাম ও খুলনা কার্যালয়ে নিলামের কাগজপত্র জমা দেওয়া যাবে।
দরপত্রের সঙ্গে টিসিবির অনুকূলে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে পে-অর্ডার জমা দিতে হবে। প্রস্তাবিত পরিমাণ ন্যূনতম সীমার বেশি হলে আনুপাতিক হারে জামানতের পরিমাণ বাড়বে। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। বিজয়ীকে উদ্ধৃত দরের ওপর বিধি অনুযায়ী ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
নিলামে বিজয়ী হওয়ার পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে। অর্থ পরিশোধের পরের তিন দিনের মধ্যে নিজ খরচে মাছ সংগ্রহ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাছ না নিলে নিলাম বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। অর্থ পরিশোধের পর মাছ নিতে দেরি হলে প্রতিদিনের জন্য সংরক্ষণাগারের খরচও দিতে হবে।
কেউ নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ করে মাছ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। আবার দর প্রস্তাবের সঙ্গে প্রয়োজনীয় জামানত জমা না দিলে সেই দর প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
টিসিবির মুখপাত্র ও উপপরিচালক শাহাদত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘৫ টন বাগদা চিংড়ি বিক্রি হয়ে গেছে। পুনর্নিলাম ডাকা হয়েছে গলদা চিংড়ি ও রুপচাঁদার জন্য। আশা করছি, এ দফায় সব মাছ বিক্রি হয়ে যাবে। আগ্রহী ব্যক্তিরা যাতে ঢাকায় মাছ দেখতে পারেন, সে জন্য খুলনা থেকে কিছু মাছ আনা হয়েছে।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>