ব্রেকিং নিউজ
খেলার নিয়ম বদলে গেছে: ইরান ব্যাংকখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী Vaibhav Sooryavanshi: মাত্র ১৫ বছর বয়সে এই দাপট! সিরাজ়ের এক ওভারে ৪,৬,৪! দলীপ ট্রফির ফাইনালে বৈভবের প্রলয় INDW vs PAKW: এশিয়া কাপেও ভারতের বিরুদ্ধে হার, ফের পাকিস্তান দলকে খোঁচা, সোশ্য়াল মিডিয়ায় কী লিখলেন পাঠান? Virat Kohli: ক্রিকেট থেকে বিরতিতে রয়েছেন, এবার রোডিজ় শো-তে বিরাট? ক্লিপ ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজশাহীর পদ্মায় ১০ বছরে দুই শতাধিক মৃত্যু, নেপথ্যে কী? হাবিপ্রবিতে স্নাতক প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৪ জানুয়ারি গুমের শিকার পরিবারের নিরাপত্তা বাড়ান দরকার: চিফ প্রসিকিউটর নিজেই নিজেকে কোণঠাসা করে ফেলেছেন ট্রাম্প অক্টোবরে ডেঙ্গুর বড় ধাক্কা সামলাতে এখনই নামতে হবে
জাতীয়

কৃষকদের কাজে আসছে না মিনি হিমাগার

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসল নষ্ট হওয়া ঠেকাতে সরকারি অর্থে তৈরি করা হয়েছে মিনি কোল্ড স্টোরেজ। লক্ষ্য ছিল, পচনশীল কৃষিপণ্য কিছুদিন সংরক্ষণ করে কৃষকরা যেন উপযুক্ত সময়ে ভালো দামে বিক্রি করতে পারেন। কিন্তু মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সেই লক্ষ্যই যেন হারিয়ে গেছে বাস্তব ব্যবহারে। প্রায় ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি কোল্ড স্টোরেজের কোনোটিই কাজে আসছে না কৃষকদের। উল্টো বিদ্যুৎ বিলের বোঝা টানতে হচ্ছে তাদের। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি মিনি কোল্ড স্টোরেজের কোনোটিই তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে আসছে না। একটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ব্যবহারে গেছে, অন্যটিও কৃষকদের বদলে ব্যবহার করছেন স্থানীয় এক বাগানমালিক। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ বিল ও পরিচালন ব্যয়ের দায়ও পড়েছে প্রকল্পের কৃষক সদস্যদের ওপর। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও বাস্তবতার ফারাক সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে সাশ্রয়ী কোল্ড স্টোরেজ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছিল ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সাশ্রয়ী কোল্ড স্টোরেজ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি প্রকল্প’। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে কৃষকদের জন্য এসব মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হয়। প্রকল্প সূত্র অনুযায়ী, একটি সাধারণ মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণে প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয় এবং এতে সর্বোচ্চ ১০ টন কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করা যায়। আর সৌরচালিত সংস্করণের প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১৮ লাখ টাকা। প্রচলিত কোল্ড স্টোরেজের তুলনায় পরিচালন ব্যয় কম হওয়ায় কৃষকের জন্য এটি সাশ্রয়ী হবে—এমনটাই ছিল প্রকল্পের পরিকল্পনা। আরও পড়ুন দেশে ১০০ মিনি হিমাগার তৈরি হবে: কৃষি উপদেষ্টা কিন্তু সিংগাইরের দুটি স্থাপনার বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা ও বাজারব্যবস্থার সঙ্গে প্রকল্পের স্থান নির্বাচন এবং ব্যবহারব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। একদিকে কৃষকেরা বলছেন, তাদের পণ্য দ্রুত বিক্রি হয়ে যাওয়ায় সংরক্ষণের প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে যেখানে কৃষক পণ্য রেখেছেন, সেখানে সংরক্ষণপদ্ধতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাবে পণ্য নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কৃষকের হিমাগার ব্যবহার করছেন ব্যবসায়ীরা সিংগাইর উপজেলার মেদুলিয়া গ্রামে স্থাপিত মিনি কোল্ড স্টোরেজটি দেশে এ ধরনের প্রথম প্রকল্প হিসেবে চালু করা হয়। ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট তৎকালীন কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এটি উদ্বোধন করেন। পরে একই উপজেলার দক্ষিণ জামশা এলাকাতেও আরেকটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হয়। কিন্তু সরেজমিনে মেদুলিয়া ও দক্ষিণ জামশার দুটি কোল্ড স্টোরেজ ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের পরিবর্তে একটিতে স্থানীয় আড়ত ব্যবসায়ীরা পণ্য রাখছেন। অন্যটিতে স্থানীয় এক বাগানমালিকের ফল সংরক্ষণ করতে দেখা গেছে। মেদুলিয়া গ্রামের কৃষক আশরাফুল হক বলেন, এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। ফলে কোল্ড স্টোরেজে পণ্য রাখার প্রয়োজন হয় না। তিনি বলেন, আমাদের এলাকার পাশেই ঢাকা। এ কারণে আমাদের কোনো মালামাল পড়ে থাকে না। ফলে এই কোল্ড স্টোরেজে কৃষিপণ্য রাখারও প্রয়োজন হয় না। তবে এটি যদি কোনো প্রত্যন্ত এলাকায় থাকত, তাহলে হয়তো সেখানে কৃষকদের কাজে লাগত। আরও পড়ুন ক্ষুব্ধ কৃষক / হিমাগারে ১ কেজি আলু রাখতে গুনতে হবে ৮ টাকা একই প্রকল্পের সদস্য কৃষক শরীফুল ইসলাম লাভলুও বলছেন, কৃষকদের জন্য স্থাপন করা হলেও বাস্তবে কোল্ড স্টোরেজটি তাদের তেমন কাজে আসছে না। তার ভাষ্য, এই কোল্ড স্টোরেজে কৃষকদের কোনো লাভ হচ্ছে না। এলাকার আড়ত ব্যবসায়ীরা মালামাল বিক্রি করতে না পারলে এখানে রেখে পরের দিন বিক্রি করেন। আমাদের এলাকায় সবজির বাজার সবসময় থাকে। তাই কৃষকদের কোনো মালামাল সাধারণত পড়ে থাকে না, সব বিক্রি হয়ে যায়। এদিকে সিংগাইরের দক্ষিণ জামশা এলাকায় স্থাপিত কোল্ড স্টোরেজটির অবস্থাও খুব একটা ভিন্ন নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্বোধনের পর থেকেই ‘আতিক’ নামের এক ব্যক্তি এটি ব্যবহার করছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোল্ড স্টোরেজটির ভেতরে মাত্র পাঁচটি ঝুড়ি রাখা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ঝুড়িতে ড্রাগন ফল সংরক্ষণ করা হয়েছে। কৃষকদের জন্য সরকারি অর্থে নির্মিত প্রায় ১৮ লাখ টাকার অবকাঠামোয় বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য থাকার কথা থাকলেও সেখানে তেমন কোনো পণ্য দেখা যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, উদ্বোধনের পর থেকে কোনো কৃষক সেখানে পণ্য সংরক্ষণ করতে পারেননি। বরং স্থানীয় মালটা ও পেয়ারা বাগানের মালিক আতিক এটি ব্যবহার করছেন। দক্ষিণ জামশা এলাকার জিহাদ আলী বলেন, এখানে কোনো কৃষক মালামাল রাখেন না। বাগানের মালিক আতিকই সবসময় ব্যবহার করেন। আমি সারাদিন এখানেই থাকি। আজ পর্যন্ত কোনো কৃষককে এখানে মালামাল রাখতে দেখিনি। আরও পড়ুন মাঘ মাসের ফসলের জন্য কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরামর্শ কৃষকদের পরিবর্তে কোল্ড স্টোরেজটি ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন আতিকও। তিনি বলেন, এই কোল্ড স্টোরেজটি আমি পেয়েছি এক বছর হলো। এ পর্যন্ত কোনো কৃষক আমাদের কাছে মালামাল রাখার জন্য আসেননি। এখানে মালামাল রাখলে বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে এ কথা বলার পর আর কেউ আগ্রহ দেখাননি। তিনি আরও বলেন, তবে এই প্রকল্প নিয়ে আমি খুব বিপদে আছি। কয়েক দিন পরপর নানা লোক এসে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। বিদ্যুৎ বিলেও কৃষকের দায় কৃষকদের অভিযোগ শুধু ব্যবহার নিয়ে নয়, কোল্ড স্টোরেজ পরিচালনার খরচ নিয়েও তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। মেদুলিয়ার কৃষক আশরাফুল হক জানান, প্রকল্পের ১৫ সদস্যকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য নিজস্ব অর্থ দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রকল্পে ১৫ জন সদস্য আছেন। আমরা প্রত্যেকে ২ হাজার টাকা করে দিয়েছিলাম বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার জন্য। সেই টাকা শেষ হওয়ার পরও আমরা ঋণের মধ্যে আছি। কিছুদিন আগে বিদ্যুৎ বিলের কারণে দুই মাস এটি বন্ধ ছিল। এখন এখানকার ব্যবসায়ীরা এটি ব্যবহার করেন। বিদ্যুৎ বিল তারাই দেন। কোল্ড স্টোরেজটি আমাদের কোনো কাজে না এলেও বিদ্যুৎ বিলের বোঝা আমাদের ঘাড়েই পড়ে। অর্থাৎ কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের জন্য নির্মিত অবকাঠামো ব্যবহার না করেও প্রকল্পের সদস্যদের শুরুতে বিদ্যুৎ বিলের অর্থ জোগাতে হয়েছে। পরে ব্যবসায়ীরা ব্যবহার শুরু করলেও প্রকল্পটির কাঙ্ক্ষিত কৃষককেন্দ্রিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কৃষক শরীফুল ইসলাম লাভলুর মতে, কৃষকের বদলে বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন বিবেচনায় এ ধরনের স্থাপনা করা হলে তা বেশি কার্যকর হতে পারে। তিনি বলেন, সরকার যদি এ ধরনের প্রকল্প কিছু কিছু বাজারে দিত, তাহলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হতে পারতেন। আমাদের এলাকায় এটি দিয়ে কৃষকদের কোনো লাভ হবে না। টমেটো রেখে নষ্ট হয়েছে সব তবে কোল্ড স্টোরেজে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের সুযোগ একেবারেই কাজে লাগেনি—এমনটাও নয়। জায়গীর গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, গত ঈদের আগের দিন তিনি কোল্ড স্টোরেজে ১২ ক্যারেট টমেটো রেখেছিলেন। কয়েক দিন পর সেগুলো বের করে ব্যবহার উপযোগী কোনো টমেটোই পাননি। তিনি বলেন, গত ঈদের আগের দিন ১২ ক্যারেট (ঝুড়ি) টমেটো এই কোল্ড স্টোরেজে রেখেছিলাম। কিন্তু কিছু দিন পর বের করে একটি টমেটোও কাজে লাগাতে পারিনি। শুধু আমি নই, আমরা সবাই মিলে প্রায় ১০০ ক্যারেট টমেটো রেখেছিলাম। সব নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আরও পড়ুন হিমাগারে বস্তা খুললেই পচা আলু, কৃষকের ঘাড়ে লোকসানের বোঝা তবে এ ক্ষেত্রে কৃষকদেরও পর্যাপ্ত ধারণার অভাব ছিল বলে মনে করেন আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘আসলে এখানে আমাদেরও কিছুটা দোষ ছিল। আমরা জানতাম না যে অল্প সময়ের জন্য এসব পণ্য সংরক্ষণ করা যায়। এখন এই কোল্ড স্টোরেজ স্থানীয় আড়তের কিছু ব্যবসায়ী ব্যবহার করেন।’ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কিশোর আহমেদ বলেন, ঢাকার কাছে হওয়ায় কৃষকদের মালামাল দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়—এটা ঠিক। তবে কৃষকদের কোনো কাজে লাগছে না, এই কথাটা ভুল। প্রকল্পের পরিচালক তালহা জুবায়ের মাসরুর জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করতে ১৮ লাখ টাকা করে ব্যয় হয়েছে। আমরা সিংগাইরে দুটি দিয়েছি। এখন অনেকেই এটি চাচ্ছেন। মেদুলিয়ারটি যদি কৃষকদের কাজে না লাগে, তাহলে আমরা সেটি সরিয়ে অন্য কোথাও দিয়ে দেব।’ মো. সজল আলী/কেএইচকে/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>