বিজ্ঞাপন
সালাউদ্দীন আহমেদ, দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের মর্যাদাপূর্ণ গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ (জিকেএস) ২০২৭-এর স্নাতক পর্যায়ের আবেদন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির আওতায় সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে দক্ষিণ কোরিয়ায় স্নাতক ও অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রিতে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন (এনআইআইইডি) এ বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। ২০২৭ সালের স্নাতক পর্যায়ের বৃত্তির জন্য অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। আবেদন করা যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, কোরিয়ান সময় বিকেল ৬টা পর্যন্ত।
যেসব সুবিধা থাকছে
জিকেএস বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফি ও টিউশন ফি সম্পূর্ণভাবে বহন করবে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা মাসিক উপবৃত্তি, বিমানভাড়া, স্বাস্থ্যবীমা এবং অন্যান্য নির্ধারিত ভাতা পাবেন।
স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক ১২ লাখ কোরিয়ান ওন উপবৃত্তি দেওয়ার কথা রয়েছে। ডিগ্রি শুরুর আগে এক বছর বিনামূল্যে কোরিয়ান ভাষা শেখার সুযোগও থাকবে। নিজ দেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়া এবং পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার ইকোনমি শ্রেণির বিমানভাড়াও বৃত্তির আওতায় থাকবে।
আরও পড়ুন
মিশিগানে ২০২৮ সালের ৪২তম ফোবানা সম্মেলন
কোরিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রাথমিক খরচের জন্য এককালীন ভাতা এবং জাতীয় স্বাস্থ্যবীমার সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়া যারা কোরিয়ান ভাষার দক্ষতা পরীক্ষায় (টপিক) পঞ্চম বা ষষ্ঠ স্তর অর্জন করবেন, তারা অতিরিক্ত মাসিক ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ থেকে ৩ জনের সুযোগ
২০২৭ সালের আন্ডারগ্রাজুয়েট জিকেএস কর্মসূচিতে বিশ্বজুড়ে মোট ২৮৬ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেওয়া হবে। বাংলাদেশ থেকে দূতাবাস ট্র্যাকের মাধ্যমে সরাসরি ৩ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এর মধ্যে সাধারণ দূতাবাস ট্র্যাকে ২ জন এবং আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত আর-জিকেএস ট্র্যাকে ১ জন নির্বাচিত হবেন। সাধারণ দূতাবাস ট্র্যাকে আবেদনকারীরা নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পছন্দের তিনটি বিষয় বা মেজর বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ট্র্যাকের অধীন ইউআইসি ও অ্যাসোসিয়েট পর্যায়েও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদনের সুযোগ রয়েছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন
আবেদনকারী এবং তার বাবা-মা- তিনজনকেই অ-কোরিয়ান নাগরিক হতে হবে। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদনকারীর বয়স ২৫ বছরের কম হতে হবে। অর্থাৎ ১ মার্চ ২০০২ বা তার পরে জন্মগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনকারীদের হাইস্কুল বা সমমানের শিক্ষা সম্পন্ন হতে হবে। তবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ফল প্রকাশ হবে, এমন শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত শর্তে আবেদন করতে পারবেন। ইতোমধ্যে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেছেন—এমন শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির আওতায় নতুন করে স্নাতকে আবেদন করতে পারবেন না।
একাডেমিক ফলাফলের ক্ষেত্রে আগের সব পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে অন্তত ৮০ শতাংশ নম্বর অথবা নিজ শ্রেণিতে শীর্ষ ২০ শতাংশের মধ্যে অবস্থান থাকতে হবে। নির্দিষ্ট স্কেলে ন্যূনতম জিপিএর শর্তও পূরণ করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনের সময় জিকেএস আবেদন ফরম, ব্যক্তিগত বিবৃতি, স্টাডি প্ল্যান, সুপারিশপত্র, আবেদনকারী চুক্তিপত্র ও স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ফরম জমা দিতে হবে।
এর সঙ্গে হাইস্কুল বা সমমানের সনদ ও নম্বরপত্র, আবেদনকারী ও বাবা-মায়ের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র এবং থাকলে আইইএলটিএস, টোয়েফল বা টপিকের ভাষা সনদ জমা দেওয়া যাবে।
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষাগত সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সত্যায়ন করে মূল কপি জমা দিতে হবে।
আবেদন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া
আগ্রহী শিক্ষার্থীদের দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি স্টাডি ইন কোরিয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অনলাইন আবেদনের সময়সীমা ১৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
দূতাবাস পর্যায়ের প্রথম ধাপের ফলাফল ১৬ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নভেম্বরে এনআইআইইডি দ্বিতীয় ধাপের মূল্যায়ন করবে। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন প্রক্রিয়া ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফল ৭ জানুয়ারি ২০২৭ প্রকাশের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের আবেদনকারীদের মেধা মূল্যায়নে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার কথা রয়েছে।
জিকেএস দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের একটি পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি কর্মসূচি। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেশটিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
এমআরএম
বিজ্ঞাপন