বিজ্ঞাপন
গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখায় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) চার শিক্ষককে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চ এক্সিলেন্স’ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ধারাবাহিক গবেষণা উৎকর্ষতার ভিত্তিতে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চার অব দ্য ইয়ার-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনের সভাকক্ষে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্কুল অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মস্তাবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক এবং শাবিপ্রবির উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম।
অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সিইই বিভাগের আয়েশা ফেরদৌস মিতা। তার গবেষণার বিষয় ‘অপ্টিমাইজিং প্রোপার্টিজ অব কংক্রিট কনটেইনিং স্টোন ডাস্ট অ্যান্ড সিরামিক টাইলস অ্যা রেসপন্স সারফেস মেথডোলজি অ্যাপ্রোচ’। তিনি সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আর্কিটেকচার ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।
কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে এফইটি বিভাগের জাহিদ হাসান শৌরভ ও ড. মো. জহুরুল ইসলাম অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।
জাহিদ হাসান শৌরভের গবেষণার বিষয় ‘এক্সট্রাকশন অব পেকটিন ফ্রম ওয়াটারমেলন রাইন্ডস ইউজিং সিকুয়েনশিয়াল আল্ট্রাসাউন্ড-মাইক্রোওয়েভ টেকনিক, অপ্টিমাইজেশন ইউজিং আরএসএম অ্যান্ড এএনএন মডেলিং অ্যান্ড ক্যারেক্টারাইজেশন’।
একই ক্যাটাগরিতে ড. মো. জহুরুল ইসলাম পুরস্কার পেয়েছেন ‘ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ক্যারেক্টারাইজেশন অব অ্যান ইনোভেটিভ ইউভি-রেজিস্ট্যান্ট বায়োকম্পোজিট ফিল্ম বেজড অন হিপটিস সুয়াভিওলেনস মিউসিলেজ, ব্ল্যাক গ্রাম হাস্ক লিগনিন, অ্যান্ড সিট্রাস ম্যাক্রোপটেরা এসেনশিয়াল অয়েল’ শীর্ষক গবেষণার জন্য।
আর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. মিসেস নাসিমা বেগম।
এছাড়া, গবেষণা উৎকর্ষতার ভিত্তিতে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চার অব দ্য ইয়ার-২০২৬’ প্রদান করা হয় কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড শাহিদুর রহমানকে।
পুরস্কারের মূল্যায়নে জার্নাল আর্টিকেল, কিউ ইনডেক্স, কনফারেন্স পেপার, গুগল স্কলারের সাইটেশন, পিএইচডি, এমএসসি ও বিএসসি পর্যায়ের সুপারভিশন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রিসার্চ গ্রান্ট এবং জাতীয় স্বার্থে গবেষণায় অবদানের মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য রবিউল ইসলাম বলেন, শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশ করলেই গবেষণার কাজ শেষ হয় না; গবেষণার ফলাফল কীভাবে বাস্তবে কাজে লাগানো যায়, এখন সেদিকেও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
গবেষণার ফলাফল পেটেন্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের গবেষণা যেন শুধু প্রকাশনার মধ্যেই আটকে না থাকে। একটি ভালো গবেষণা থেকে যদি পেটেন্ট বা বাস্তব কোনো উদ্ভাবন তৈরি করা যায়, সেটিই হবে গবেষণার সবচেয়ে বড় সার্থকতা। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে পেটেন্টিং ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তরুণ গবেষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা পিএইচডি বা পোস্টডক্টরাল গবেষণা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছেন, তারা নতুন নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার ধারণা নিয়ে আসছেন। এসব জ্ঞান অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য নিয়মিত সেমিনারের আয়োজন করা যেতে পারে। এতে নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে এবং শিক্ষার্থীরাও গবেষণায় আরও আগ্রহী হবে।
এসএইচ জাহিদ/এসজেডএইচ/জেআইএম
বিজ্ঞাপন