জাতীয়

জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত হয়নি বিএনপি, এটি আমাদের গর্বিত অতীত

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল— বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)। ১৯৭৮ সালের এই দিনে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। এবার দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রামের পর পুনরায় সরকার পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে তারা। এরই মধ্যে পার করেছে ছয় মাসের বেশি সময়। পরিবর্তিত এই রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির সামনের চ্যালেঞ্জ, আগামী এক বছরের পরিকল্পনা, সাংগঠনিক কার্যক্রম কোন পথে এগোবে ও সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের ভূমিকা কী হবে— এসব নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেছেন, জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত হয়নি বিএনপি এবং এটি তাদের গর্বিত অতীত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক খালিদ হোসেন। জাগো নিউজ: দীর্ঘ সময় আপনারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন। এখন বাস্তবতা ভিন্ন, দল সরকারে। দলের সামনে কী চ্যালেঞ্জ দেখছেন? রুহুল কবির রিজভী: চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। প্রতি পদে-পদে এটি মোকাবিলা করে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়াটাই প্রধান কাজ। একজন রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেটাই চেষ্টা করবেন। অনেক সংকট থাকবে, অনেক সমস্যা থাকবে। সেগুলো নিরসন করে আমাদের এগোতে হবে। জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন জাগো নিউজ: ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিএনপির জন্য কতটা আনন্দের, আর কতটা বেদনার? রুহুল কবির রিজভী: যে কোনো সংগঠন, প্রতিষ্ঠান বা যেটাই হোক না কেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মানেই হচ্ছে আনন্দঘন পরিবেশ। সেই প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের মধ্যে সেদিন একটা প্রাণবন্ততা থাকে। আমাদেরও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের ৪৮তম বছর যাচ্ছে, এটা একদিকে আনন্দের। তবে এই দলকে যিনি পুনর্গঠিত করেছেন, একেবারে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন, শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথকে আরও মজবুত করেছেন এবং দীর্ঘ সময় এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিটি কর্মসূচিতে যার উপস্থিতি আমাদের প্রেরণা দিতো, তিনি আজ আমাদের মধ্যে নেই। তিনি দলের সাবেক চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। এটাই হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের দুঃখ। প্রতিটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা তাকে নিয়ে শহীদ জিয়ার মাজারে যেতাম। অন্যরকম একটা পরিবেশ তৈরি হতো সেখানে। আমরা ফাতেহা পাঠ করতাম, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতাম। তারপর নানা কর্মসূচি থাকতো, সেসব কর্মসূচি পালন করা হতো। ১৯৮১-৮২ সাল থেকে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে দলের প্রধান যেসব দিবস, সেগুলোর মধ্যমণি ছিলেন তিনি। তিনি আজ আমাদের মধ্যে নেই। এটা একটা বেদনাদায়ক দিক। আরও পড়ুন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্রপ্রহরী বিএনপি: তারেক রহমান জাগো নিউজ: এখন দলের চেয়ারম্যান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাকে ঘিরে দলের প্রত্যাশা কী? রুহুল কবির রিজভী: আমাদের প্রত্যেকেরই বিশ্বাস এবং প্রেরণার উৎসস্থল এখন তারেক রহমান। কারণ তার বাবা ও মায়ের যে অসমাপ্ত কাজ, সেই কাজগুলোকে তিনি পূর্ণতা দিচ্ছেন এবং পূর্ণতা দান করবেন। এটা তার প্রতিটি বক্তব্যের মধ্যে, অভিপ্রায়ের মধ্যে রয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে দলের যে ইশতেহার, ৩১ দফার যে কর্মসূচি এবং তার আগে ম্যাডামের দেওয়া ২০৩০ ভিশন— সেগুলোর সব নির্যাস নিয়ে তিনি আজ দেশ গঠন ও পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেছেন। নিরলস পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে তিনি সামগ্রিকভাবে গোটা দেশকে বিবেচনায় নিয়ে মানুষের স্বার্থে, মানুষের কল্যাণের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন। জাগো নিউজ: নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের কাজকে কীভাবে দেখছেন? রুহুল কবির রিজভী: একটার পর একটা কর্মসূচি তিনি (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) নির্বাচনের আগে ঘোষণা করেছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে তার যে নিরলস প্রচেষ্টা, অক্লান্ত প্রচেষ্টা, সেটা আপনারা দেখছেন। সেটা ফ্যামিলি কার্ড হোক, কৃষক কার্ড হোক, প্রবাসী কার্ড হোক, খালখনন হোক, বৃক্ষরোপণ হোক, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী হোক অথবা পুরোহিতদের সম্মানী হোক— যেগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেগুলো নিয়েই তিনি কাজ শুরু করেছেন। সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হলো। এই ছয় মাসে এই কাজগুলোর কী অগ্রগতি, সেটা নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটা ব্রিফিং করেছি। সেখানে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তার কথা বলা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি কাজ হয়েছে। বিশেষ করে বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে ছয় মাসে টার্গেট ছিল আড়াই কোটি বৃক্ষরোপণ। সেখানে আমাদের তিন কোটির মতো হয়েছে। আর অন্যান্য যে কর্মসূচি, কোনোটা ছুঁইছুঁই, কোনোটা অতিক্রম করে গেছে, কোনোটা লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া জাগো নিউজ: এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিএনপির সাফল্যটা কোথায় দেখছেন? রুহুল কবির রিজভী: বিএনপি চেয়ারম্যান ও দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই কাজগুলোর মধ্য দিয়ে আমাদের সার্থকতা হলো— জনগণের কাছে বিএনপি যে অঙ্গীকার করেছে, সেটা নির্বাচনে হোক, আন্দোলন-সংগ্রামে হোক, সেখান থেকে সে বিচ্যুত হয়নি। এটা বিএনপিকে গৌরব দান করেছে। এটা আমাদের গর্বিত অতীত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে পথ দেখিয়েছেন, যে দর্শন দেখিয়েছেন, যে কাজ শুরু করেছিলেন, সেটাকে নিজের বিশ্বাস, আস্থা ও অঙ্গীকার পূরণের মধ্যে দিয়ে পূর্ণতা দান করেছেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। ঠিক একই কাজটা করছেন তারেক রহমান, বিএনপির সম্মানিত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী। সুতরাং যে দলের একটি গৌরবোজ্জ্বল অতীত আছে, সেই দল নিঃসন্দেহে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে। জাগো নিউজ: বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন? রুহুল কবির রিজভী: বিএনপির নানা কর্মসূচির মধ্যে তিনটা প্রত্যয় খুব শক্ত, যেটার সঙ্গে কখনোই আপস করেনি। সেগুলো হচ্ছে বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব। সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করা, স্বাধীনতাকে রক্ষা করা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার যে অঙ্গীকার, এই জায়গা থেকে বিএনপি কোনোদিনই বিচ্যুত হয়নি। এটা নিয়েই বিএনপি এগিয়ে চলে। এখানে কোনো ছাড় দেয়নি বিএনপি। যেমন দেননি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যেমন দেননি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, ঠিক তেমনি দিচ্ছেন না তারেক রহমান। এটাই আমাদের সবচেয়ে গর্বিত দিক। আরও পড়ুন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থায়ী কমিটির আকার ছোট করার চিন্তা জাগো নিউজ: সরকারে থাকা বিএনপির আগামী এক বছরের দলীয় পরিকল্পনা কী? রুহুল কবির রিজভী: আমাদের দল নিয়ে পরিকল্পনা— দল তো সরকার গঠন করেছে। দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে সরকারের অংশ বলে মনে করি। দলের যে দর্শন, সেটা ধারণ করে তারা সরকারের অংশ থাকবেন। আমি যে তিনটি কথা বললাম— বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা— এই দর্শনটা বুকে নিয়ে তারা সরকারের অংশ থাকবেন। গণতন্ত্র মানে হচ্ছে নাগরিক অধিকার বা নাগরিক স্বাধীনতা। তাহলে নাগরিকের স্বার্থে সরকার যা করছে, সেই বিষয়গুলো জেনে সেটার ব্যাপারে জনগণকে জানানো এবং সরকারের প্রতিটি কর্মসূচি যাতে সাফল্যমণ্ডিত হয়, সেই বিষয়টি তারা খেয়াল করবেন। তারা সেখানে অংশগ্রহণ করবেন অন্যভাবে। যদি খালখনন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে হয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় ছাত্ররা, যুবকরা সবাই অংশগ্রহণ করতো। ওরকম অংশগ্রহণ করলেও সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন নেতাকর্মীরা। জাগো নিউজ: সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের জন্য আপনার বিশেষ বার্তা কী? রুহুল কবির রিজভী: নেতাকর্মীদের জন্য আরেকটা বার্তা হচ্ছে, তারা কোনো ধরনের অনৈতিক প্রলোভনের সঙ্গে নিজেদের জড়াবেন না। নিজের মনকে আলোকিত রাখবেন। নিজের মনকে স্বচ্ছ রাখবেন। এই কারণে দেখা যাবে, সরকারের কোনো কাজকর্ম যারা বাস্তবায়নের সঙ্গে আছেন, তারা যদি কোনো ধরনের অন্যায় কিছু করেন, তাহলে নেতাকর্মীরা সেটা ধরে ফেলতে পারবেন, সেটা বলতে পারবেন, জানাতে পারবেন। এটা সরকারের কর্মসূচি, এটা তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত কর্মসূচি। এখানে কোনো ফাঁকিবাজি চলবে না। বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান খালখনন হচ্ছে, সেখানে দেখা গেল এক হাত সমান গর্ত হয়েছে— এটা হলে তো খাল কাটার যে মূল লক্ষ্য, সেই লক্ষ্য পূরণ হবে না। সুতরাং এই জিনিসটা নেতাকর্মীরা লক্ষ্য করবেন, জানবেন। জানার পর তারা জানাবেন যে, এখানে ফাঁকিবাজির কাজ হচ্ছে। তারা সেটা কেন্দ্রে জানাবেন। আর নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। কোনো ধরনের বিভ্রান্তিতে তারা ভুগবেন না। এটা মাথার মধ্যে রাখবেন। তাহলে আমরা মনে করি, এই দলটিকে শক্তিশালী গড়ে তুলতে পারবো এবং জনসমর্থন আমাদের অব্যাহত থাকবে, জনসমর্থন কমবে না। জাগো নিউজ: সাংগঠনিকভাবে আগামী দিনে বিএনপির প্রধান কাজ কী হবে? রুহুল কবির রিজভী: সাংগঠনিক কার্যক্রম যেটা চলমান আছে, সেটা থাকবে। এরপর যদি জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ এবং মাস ঘোষণা করা হয়, তাহলে সেটাকে কেন্দ্র করে জেলা পর্যায়ের কাউন্সিলগুলো, যেগুলো সম্পন্ন হয়নি, সেগুলো চলবে। থানা পর্যায়ের কাউন্সিল যেগুলো বাকি আছে, সেগুলোও হবে। ইউনিট পর্যায়ে যেগুলো বাকি আছে, সেগুলো হবে। এই কর্মযজ্ঞগুলো চলবে। এখন যেভাবে চলছে, অসম্পন্ন যেগুলো আছে— থানা কাউন্সিল, জেলা কাউন্সিল, তার কার্যক্রম তারা করবে। একটা ওয়ার্কার্স মিটিং করা, কর্মিসভা করা, এগুলো চলবে। যেমন ধরুন, এই ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে জেলায় জেলায় তারা নিজেরা কর্মিসভা করে, নিজেরা কর্মসূচি নেবে। পয়লা সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে এটা তারা করতে পারে। এটাও সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ। আমরা এ কারণে প্রতিটি জেলায় জেলায় বলে দিয়েছি যে, তারা নিজেদের উদ্যোগে, নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা করবে, র‍্যালি করতে পারে, কর্মসূচি নিতে পারে। আরও পড়ুন নয়াপল্টনের ছোট্ট কক্ষ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জাগো নিউজ: সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতি কি সামনে আরও বাড়বে? রুহুল কবির রিজভী: যেটা চলমান আছে, সেটা চলমান থাকবে। কখনো কখনো ইনটেনসিটি (তীব্রতা) বৃদ্ধি পেতে পারে। জাতীয় কাউন্সিল হলে এর আগে আমরা চেষ্টা করবো যে সর্বোচ্চ জেলা কাউন্সিলগুলো সম্পন্ন করতে। এটাই হলো আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম। এই যে দলীয় অফিসে আসছি, আমাদের যে যুগ্ম মহাসচিব, যুবদলের সব নেতারা আছেন, এই যে কথা বলছি, সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে জানছি, এটাও সাংগঠনিক কাজ। সুতরাং আমাদের কাজ থেমে নেই। জাগো নিউজ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। রুহুল কবির রিজভী: জাগো নিউজকেও ধন্যবাদ। কেএইচ/একিউএফ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>