বিজ্ঞাপন
জার্মানিতে স্যাক্সনি আনহাল্টের নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি দল এএফডির বড় জয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল। নিজের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) সদস্য হিসেবে এ ফলাফল দেখে তার ‘হৃদয় রক্তাক্ত হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
এএফডির এই জয়কে জার্মানির ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তনের মুহূর্ত বলেও উল্লেখ করেছেন মেরকেল। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) কোলনে একটি অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
আরও পড়ুন
জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থিদের উত্থান, অভিবাসন নিয়ে বড় বার্তা
এ ফলাফল ‘হতবাক করার মতো’ দাবি করে মেরকেল বলেন, একজন সিডিইউ সদস্য হিসেবে এ দৃশ্য দেখে তার হৃদয় রক্তাক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে, এএফডির উত্থানকে জার্মান ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, নির্বাচনের ফলাফলে স্যাক্সনি আনহাল্টে অভিবাসন ও শরণার্থী নীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এএফডি ক্ষমতায় গেলে অভিবাসন নীতিতে কঠোর পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছে। দলটির কর্মসূচিতে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
রাজ্যের রাজধানী ম্যাগডেবার্গে বসবাসকারী সিরীয় পরিবারের সদস্য মরিয়ম বলেন, এএফডির উত্থানে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তার আশঙ্কা, দলটি ক্ষমতায় এলে অভিবাসী পরিবারগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন
ইইউতে ইউক্রেনীয় আশ্রয়প্রার্থীর ঢল, সবচেয়ে বেশি জার্মানিতে
৫৪ বছর বয়সী ডোরিন অবশ্য এএফডিকে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের হতাশা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের জন্য জার্মানির সহায়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, ৮৮ বছর বয়সী জুডিথ এএফডির উত্থানে গভীরভাবে হতাশ। ১৯৪৫ সালে সিলেশিয়া থেকে পালিয়ে আসা এই নারী বলেন, শরণার্থীদের বিরুদ্ধে এএফডির অবস্থান তাকে নাড়া দিয়েছে। তিনি এবার বামপন্থি দল ডি লিংকে ভোট দিয়েছেন।
২১ বছর বয়সী এরিকও এএফডির উত্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন। জার্মান মা ও গিনির বাবার সন্তান এরিকের আশঙ্কা, কট্টর ডানপন্থিদের উত্থান তার মতো কৃষ্ণাঙ্গ জার্মানদের জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন
জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি আসলেই টিউশন ফি ফ্রি? বাস্তবতা যা বলে
গত রোববার জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি আনহাল্টের নির্বাচনে এএফডি ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়। বিপরীতে সিডিইউ পেয়েছে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। ২০২১ সালের নির্বাচনে এএফডির ভোট ছিল ২০ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে দলটির ভোট দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়েছে।
অন্যদিকে, ২০২১ সালে সিডিইউর ভোট ছিল ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ, যা এবার অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ানএমআরএইস/কেএএ/
বিজ্ঞাপন