ব্রেকিং নিউজ
জাতীয়

জুমার নামাজের পর কী করতেন নবীজি (সা.)?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
দুপুরের দিকে অর্থাৎ সূর্য ঢলে যাওয়ার সামান্য পূর্বে কিংবা পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া বা হালকা ঘুমিয়ে নেওয়াকে আরবিতে ‘কাইলুলা’ বলা হয়। বিখ্যাত আরবি ভাষাবিদ ইবনুল আসীরের (রহ.) মতে, মধ্যাহ্নে শুয়ে বিশ্রাম নেওয়াই কাইলুলা, সে সময় ঘুম আসুক কিংবা না আসুক, বিশ্রাম নেওয়াটাই মুখ্য। রাসুলুল্লাহর (সা.) যুগে তাঁর ও সাহাবায়ে কেরামের একটি দৈনন্দিন অভ্যাস ছিল এই কাইলুলা। সাধারণ দিনগুলোতে তাঁরা সাধারণত জোহরের নামাজের আগেই আহার সম্পন্ন করতেন এবং কাইলুলা করতেন। তবে জুমার দিন তাঁদের এই রুটিনে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যেত। জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.) মধ্যাহ্নের পর প্রথম জুমার নামাজ আদায় করতেন। জুমার নামাজের পর তারা দুপুরের খাবার গ্রহণ করতেন এবং কাইলুলা করতেন বা শুয়ে বিশ্রাম নিতেন। হজরত সাহল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘জুমার দিন আমরা নবী কারীমের (সা.) সঙ্গে প্রথমে জুমার নামাজ আদায় করতাম, তারপর কাইলুলা করতাম।’ (সহিহ বুখারি) বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) তাঁর বিশ্ববিখ্যাত হাদিস ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারি’তে বলেন, এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, কাইলুলা করা সাহাবিদের প্রতিদিনের অভ্যাস ছিল, জুমার দিন কাইলুলার সময়সূচির কিছুটা পরিবর্তন ঘটত। আরও পড়ুন শুক্রবার আসরের পর যে আমল করবেন কাইলুলার উপকারিতা কী? নবীজি (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন। তারপর ফজরের নামাজ আদায় করে প্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত হয়ে যেতেন। ফজরের নামাজের পর ঘুমানোর অভ্যাস তাদের ছিল না। তাই মধ্যাহ্নের আগে-পরে খাবার খেয়ে এই কায়লুলা বা কিছুক্ষণের বিশ্রাম তাদের ক্লান্তি দূর করে দিনের বাকি সময় কর্ম তৎপর থাকতে সাহায্য করতো। পাশাপাশি পরবর্তী রাতে তাহাজ্জুদের জন্য রাত জাগও তাদের জন্য সহজ হতো। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আপনারা সাহরি খাওয়ার মাধ্যমে দিনের রোজা রাখার শক্তি অর্জন করুন এবং দুপুরে কাইলুলার মাধ্যমে রাতের কিয়াম তথা তাহাজ্জুদ আদায়ের শক্তি লাভ করুন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, সহিহ ইবনে খুজাইমা) হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কাইলুলা করো; শয়তান কাইলুলা করে না।’ (আল-মুজামুল আওসাত) দিনের কোন সময়ের ঘুম কেমন? দিনের বিভিন্ন সময়ের ঘুমের প্রভাব সম্পর্কে হজরত খাওয়ার ইবনে জুবাইর (রা.) চমৎকার একটি অনুসিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দিনের প্রথম ভাগের ঘুম (সকালবেলার ঘুম) মানুষের প্রফুল্লতা ও বরকত জ্বালিয়ে ছাই করে দেয়; দিনের মধ্যভাগের ঘুম (কাইলুলা) একটি উত্তম স্বভাব ও সুন্নাহ; আর দিনের শেষভাগের ঘুম (আসরপরবর্তী ঘুম) বুদ্ধিহীনতা বা নির্বুদ্ধিতা তৈরি করে।’ খাবার ও কাইলুলার সম্পর্ক অনেকে মনে করেন খাবারের পরপরই ঘুমানো বুঝি কাইলুলা। এই ধারণা সঠিক নয়। কাইলুলা মূলত দিনের মধ্যভাগের বিশ্রাম, খাওয়ার পরের বিশ্রাম নয়। মধ্যাহ্নের আগে-পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া বা শুয়ে থাকলে এই সুন্নত আদায় হয়ে যায়। ডাক্তার মুহাম্মদ আবদুল হাই (রহ.) তার ‘উসওয়ায়ে রাসুল আকরাম (সা.)’ গ্রন্থে লিখেছেন, সুযোগ ও অবসর থাকলে সুন্নাতের অনুসরণের নিয়তে দুপুরে খাবারের পর কিছুক্ষণ শুয়ে থাকা উত্তম। এটিকে কাইলুলা বলা হয়। তবে এই আমলের জন্য ঘুমানো শর্ত নয়, কেবল শুয়ে বিশ্রাম নিলেই সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। আরও পড়ুন জুমার দিন দোয়া কবুলের বিশেষ সময় ওএফএফ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>