বিজ্ঞাপন
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার উপজেলা ও সার্কেল ভূমি অফিসে খুঁজে না পাওয়া নামজারি খতিয়ান পুনঃসৃজন করে অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেমে এন্ট্রির নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এজন্য পাঁচ ধরনের পরিস্থিতিতে কীভাবে খতিয়ান আবার তৈরি (পুনঃসৃজন) করতে হবে, তা নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স অনুবিভাগ থেকে গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ পরিপত্র জারি করা হয়।
এতে বলা হয়েছে, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন কার্যক্রমের আওতায় ইউএনডিপি বাংলাদেশের মাধ্যমে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসে ডেটা এন্ট্রির সময় অনেক নামজারি খতিয়ান অনুপস্থিত বা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নামজারি খতিয়ান না থাকায় সংশ্লিষ্ট ভূমির মালিকানা ও নামজারি সংক্রান্ত তথ্য অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেমে যথাযথভাবে এন্ট্রি ও সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। এতে ভূমিসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, যেসব ভূমি অফিসে নির্দিষ্ট নামজারি খতিয়ান পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু সংশ্লিষ্ট নামজারি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ হিসেবে রেজিস্টার ২ ও ৯, নামজারির প্রস্তাবপত্র এবং নামজারি মামলার সংশ্লিষ্ট নথি রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নামজারি খতিয়ান পুনঃসৃজন করতে হবে।
পাঁচ পরিস্থিতিতে করণীয়
ক. নামজারি নথি ও স্বাক্ষরিত প্রস্তাবপত্র, রেজিস্টার ৯ ও ২ আছে, কিন্তু খতিয়ানের কপি নেই
১. এক্ষেত্রে উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিসে কোনো নামজারি খতিয়ান পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট নামজারি নথি চিহ্নিত করে প্রস্তাবপত্র শনাক্ত করতে হবে।
২. এরপর সংশ্লিষ্ট নামজারি প্রস্তাবপত্রের তথ্য নামজারি মামলার নথির আদেশপত্র ও রেজিস্টার ৯ এ সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. কোনো সন্দেহ দেখা দিলে ইউনিয়ন বা পৌর ভূমি অফিসে সংরক্ষিত রেজিস্টার ২ এর সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হবে এবং রেজিস্টার ২ থেকে খতিয়ান নম্বর সংগ্রহ করতে হবে।
৪. সব তথ্য যাচাই করে খতিয়ানের নির্ধারিত ছক অনুযায়ী খতিয়ানটি সিস্টেমে এন্ট্রি, যাচাই ও ভেলিডেট করতে হবে।
৫. রেজিস্টার ২ ও ৯ এর সংশ্লিষ্ট অংশ এবং নামজারির প্রস্তাবপত্র স্ক্যান করে সিস্টেমে আপলোড করতে হবে।
৬. এন্ট্রিকৃত খতিয়ান প্রিন্ট করে পুনরায় যাচাই করতে হবে। এরপর বর্তমানে কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয়ন দিয়ে সই করবেন। প্রত্যয়নে বলা হবে, খতিয়ানটি পাওয়া না যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও রেজিস্টারের ভিত্তিতে দাপ্তরিক প্রয়োজন, ভূমিসেবা সিস্টেমে ডেটা এন্ট্রি ও নাগরিকদের ভূমিসেবা দেওয়ার স্বার্থে পুনঃসৃজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে মূল খতিয়ান পাওয়া গেলে সেটিই প্রতিস্থাপিত হবে।
৭. প্রিন্ট করা খতিয়ানের এক কপি সংশ্লিষ্ট নামজারি নথিতে সংরক্ষণ করতে হবে।
৮. এভাবে পুনঃসৃজিত ১০০ বা ২০০টি খতিয়ানের কপি একসঙ্গে বাঁধাই করে রাখতে হবে।
খ. নামজারি নথি, স্বাক্ষরিত প্রস্তাবপত্র ও রেজিস্টার ৯ আছে, কিন্তু খতিয়ানের কপি ও রেজিস্টার ২ নেই
১. এক্ষেত্রে প্রথম পরিস্থিতির ৩ নম্বর ছাড়া অন্যান্য নির্দেশনা অনুসরণ করে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
২. সব কার্যক্রম শেষে রেজিস্টার ২ হালনাগাদ করতে হবে।
গ. নামজারি খতিয়ান ও নথি পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু রেজিস্টার ২ ও ৯ রয়েছে
১. প্রথমে রেজিস্টার ৯ এর তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে।
২. এরপর ভূমি অফিসে সংরক্ষিত রেজিস্টার ২ এর সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হবে এবং রেজিস্টার ২ থেকে খতিয়ান নম্বর সংগ্রহ করতে হবে।
৩. এরপর প্রথম পরিস্থিতির ৪, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর নির্দেশনা অনুসরণ করে বাকি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
ঘ. নামজারি খতিয়ান ও নথি পাওয়া যাচ্ছে না, রেজিস্টার ২-এ কোনো তথ্য নেই, শুধু রেজিস্টার ৯-এ রয়েছে
১. প্রথমে রেজিস্টার ৯ এর তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সন্দেহ দেখা দিলে আর অগ্রসর না হয়ে কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। তথ্য সঠিক থাকলে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।
২. ভূমি মালিককে নোটিশ দিয়ে খতিয়ানের কপি দাখিল করতে বলা যেতে পারে।
৩. ভূমি মালিকের কাছ থেকে খতিয়ানের কপি পাওয়া গেলে এবং তা সঠিক থাকলে সিস্টেমে এন্ট্রি, যাচাই ও ভেলিডেট করতে হবে।
৪. খতিয়ানের কপি পাওয়া না গেলে রেজিস্টার ৯-এর তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করে ওই তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত ছকে খতিয়ানটি সিস্টেমে এন্ট্রি, যাচাই ও ভেলিডেট করতে হবে।
৫. রেজিস্টার ৯ এর সংশ্লিষ্ট অংশ স্ক্যান করে সিস্টেমে আপলোড করতে হবে।
৬. এরপর প্রথম পরিস্থিতির ৬ ও ৮ নম্বর নির্দেশনা অনুসরণ করে বাকি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
৭. সব কার্যক্রম শেষে রেজিস্টার ২ হালনাগাদ করতে হবে।
ঙ. নামজারি খতিয়ান ও নথি পাওয়া যাচ্ছে না, রেজিস্টার ৯-এ তথ্য নেই, শুধু রেজিস্টার ২-এ রয়েছে
১. প্রথমে রেজিস্টার ২-এর তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সন্দেহ দেখা দিলে আর অগ্রসর না হয়ে কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। তথ্য সঠিক থাকলে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।
আরও পড়ুন
যৌথ খতিয়ানে ভূমি উন্নয়ন কর নিয়ে হয়রানি নিরসনে ৬ নির্দেশনা
২. ভূমি উন্নয়ন কর নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে কি না তা জানতে হবে। ভূমি মালিককে নোটিশ দিয়ে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ এবং খতিয়ানের কপি দাখিল করতে বলা যেতে পারে।
৩. খতিয়ানের কপি পাওয়া গেলে যাচাই করে সঠিক থাকলে সিস্টেমে এন্ট্রি, যাচাই ও ভেলিডেট করতে হবে।
৪. খতিয়ানের কপি পাওয়া না গেলে রেজিস্টার ২-এর তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করে ওই তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত ছকে খতিয়ানটি সিস্টেমে এন্ট্রি, যাচাই ও ভেলিডেট করতে হবে।
৫. রেজিস্টার ২ এর সংশ্লিষ্ট অংশ স্ক্যান করে সিস্টেমে আপলোড করতে হবে।
৬. এরপর প্রথম পরিস্থিতির ৬ ও ৮ নম্বর নির্দেশনা অনুসরণ করে বাকি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
সন্দেহ থাকলে অনুমান করে তথ্য যোগ নয়
পরিপত্রে বলা হয়েছে, কোনো তথ্যের ক্ষেত্রে সন্দেহ, অসামঞ্জস্যতা বা ঘাটতি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট নথি ও রেজিস্টার পুনরায় যাচাই করতে হবে। যেসব ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বা সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে না, সেসব ক্ষেত্রে অনুমান করে কোনো তথ্য সংযোজন করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট খতিয়ান পুনঃসৃজনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
খতিয়ান পুনঃসৃজনের এ কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন করে নামজারি অনুমোদন বা নতুন স্বত্ব সৃষ্টি হয়েছে বলে গণ্য করা যাবে না। এটি আগে অনুমোদিত নামজারির খতিয়ান পুনঃসৃজন হিসেবে বিবেচিত হবে।
যেসব ক্ষেত্রে খতিয়ান নম্বর পাওয়া যাবে না, সেসব ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিশাখা ৩ এর ১৪ মে ২০২৬ তারিখের ১২৮ নম্বর পরিপত্র অনুযায়ী খতিয়ান নম্বর দিতে হবে।
কোনো নামজারি খতিয়ান পুনঃসৃজনের আগে নিশ্চিত হতে হবে, ওই খতিয়ানটি আগে অন্য কোনো নম্বরযুক্ত খতিয়ান হিসেবে অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেমে সন্নিবেশিত হয়নি।
দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে
পরিপত্রে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজ নিজ উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিস এবং আওতাধীন ইউনিয়ন বা পৌর ভূমি অফিসে এ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। পরিপত্র জারির দুই মাসের মধ্যে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হিসেবে খতিয়ান পুনঃসৃজনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসে পরিচালিত এ কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি করবেন।
উল্লিখিত ক্র্যাশ প্রোগ্রাম যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক আওতাধীন দপ্তরের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ও কম ব্যস্ত কর্মচারীদের মধ্য থেকে অস্থায়ী ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা, সার্কেল, ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিসে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অতিরিক্ত জনবল পদায়ন করবেন। প্রকল্প পরিচালক, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প এবং যুগ্মসচিব, ডিকেএমপি, ভূমি মন্ত্রণালয় এ কার্যক্রমের সার্বিক সমন্বয় করবেন। প্রকল্প পরিচালক, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প খতিয়ান পুনঃসৃজনের জন্য সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা বা ফিচার সংযোজনের ব্যবস্থা করবেন।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো আগে নামজারি সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু বর্তমানে খতিয়ান পাওয়া যাচ্ছে না বা সংরক্ষিত নেই, এমন নামজারি খতিয়ান বিদ্যমান তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পুনঃসৃজন করে অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেমে এন্ট্রি করা। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানকে যথাযথভাবে ভূমিসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
আরএমএম/এএমএ
বিজ্ঞাপন