বিজ্ঞাপন
অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের ১১ দেশ। এর জবাবে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও পদক্ষেপে দুই দেশের মধ্যে ক্রমেই তীব্রতর হওয়া বিরোধের সর্বশেষ তথ্য এই হামলার ঘটনা। এর ফলে দেশ দুটির কূটনৈতিক সম্পর্ক কার্যত চরম সংকটের পর্যায়ে পৌঁছেছে।’
বুধবার ( ৯ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সরকার যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ফিলিস্তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে মন্তব্য করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর পাল্টা ব্যবস্থা ঘোষণা করেন। নেতানিয়াহু সরকারের নীরব সমর্থনে এসব বসতিস্থাপনকারীদের (সেটলার) অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া এবং যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকজন এমপির ইসরায়েল প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ঘোষণা দেন।
শেখ জাররাহ এলাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি অধিকৃত ভূখণ্ডে ফিলিস্তিন-সংক্রান্ত বিষয়। এর মধ্যে গাজা, পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম অন্তর্ভুক্ত, নিয়ে কাজ করে। ইসরায়েলের ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত তেল আবিবে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাসে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর থেকে পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের অবৈধ দখলে থাকা ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে অধিকাংশ দেশ। তবে, ইসরায়েলের দাবি, জেরুজালেমই তাদের অবিভক্ত রাজধানী।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাসা’আর বলেন, একীভূত জেরুজালেম হলো ইসরায়েলের রাজধানী এবং এটি সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের অধীনে। এই এলাকায় যে কোনো বিদেশি কার্যক্রম অবশ্যই স্বীকৃত ও সম্মত চ্যানেলের মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে এবং ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা যাবে না।
সা’আর আরও কয়েকজন ব্রিটিশ এমপির ইসরায়েলে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া এমপিদের বেশিরভাগই বামপন্থী। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিন, ‘ইওর পার্টি’র এমপি জারা সুলতানা, লেবার পার্টির এমপি ডায়ান অ্যাবট, নাজ শাহ, জন ম্যাকডোনেল ও রিচার্ড বার্গন এবং গ্রিন পার্টির এমপি হান্না স্পেন্সার, কার্লা ডেনিয়ার, সিয়ান বেরি ও এলি চাউনস।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কেএম
বিজ্ঞাপন