ব্রেকিং নিউজ
দিনাজপুরের কান্তনগর মন্দির ঘুরে দেখলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ঘুষ-নোটিশ বাণিজ্যে রাজউক পরিচালক হামিদুলের ‘অবৈধ বিপুল সম্পদের পাহাড়’ ঐতিহ্য রক্ষায় হরিয়ান সুগার মিলের আধুনিকায়ন চান এমপি মিলন সাংবাদিক-মানবাধিকারকর্মীদের সুরক্ষায় রেফারেল ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থীকে ট্যাব উপহার দেবেন প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ২৪১, উদ্ধার ২০৭ কেজি গাঁজা পার্বত্য চট্টগ্রামে আরও ৮৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎ পাবে, নেওয়ার্ক বাড়াতে ঋণ দেবে এডিবি জুলাই যোদ্ধাকে মারধর-হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ শ্রীনগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৬ ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা তেল চুক্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ
জাতীয়

ডাকপিয়নের ব্যাগ-ডিজিটাল ইনবক্স, প্রিয়জনের বার্তা কি একই আবেগ নিয়ে আসে?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
  আবু রায়হান দূর থেকে ভেসে আসছে সাইকেলের ঘণ্টার আওয়াজ। উঠোনে বসে থাকা ছেলেটি হঠাৎ উঠে দাঁড়ালো। মায়ের চোখেও কৌতূহল। ডাকপিয়ন গেটের কাছে এসে একটি খাম এগিয়ে দিলেন। খামের ওপর পরিচিত হাতের লেখা। কয়েক মুহূর্তের জন্য যেন থমকে গেল সময়টা। চিঠিটি হাতে নিয়ে ছেলেটির মুখে ফুটে উঠলো হাসি। সেই হাসিতে ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য আর না বলা অসংখ্য কথার স্পর্শ। একসময় মানুষের জীবনে চিঠি ছিল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দূরের মানুষের কাছে নিজের খবর পৌঁছে দেওয়া, প্রিয়জনের খোঁজ নেওয়া কিংবা পছন্দের মানুষের কাছে মনের কথা প্রকাশ-সবকিছুর জন্যই ছিল চিঠির ওপর নির্ভরতা। একটি চিঠি পৌঁছাতে সময় লাগত কয়েক দিন, কখনো সপ্তাহও। কিন্তু সেই অপেক্ষার মধ্যেই তৈরি হতো অন্যরকম এক আবেগ। আজ ১ সেপ্টেম্বর, চিঠি দিবস। দ্রুতগতির ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় কাগজের পাতায় লেখা সেই সময়ের কথা। যে সময়ে একটি খাম হাতে পাওয়া মানেই ছিল বিশেষ কিছু। চিঠির সঙ্গে জড়িয়ে থাকত মানুষের আবেগ, ভালোবাসা, অভিমান, প্রত্যাশা ও স্মৃতি। আরও পড়ুন সাড়ে তিন হাত দূরত্ব, প্রিয়তমার ঠিকানায় কখনো পৌঁছাবে না চিঠি একসময় ডাকপিয়ন ছিলেন মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক বার্তাবাহক। কাঁধে কিংবা সাইকেলে ঝোলানো ব্যাগে করে তিনি পৌঁছে দিতেন দূর-দূরান্তের মানুষের ভালোবাসা, অপেক্ষা আর অনুভূতির বার্তা। তার ব্যাগের প্রতিটি খাম যেন বহন করত একেকটি গল্প, একেকটি সম্পর্ক আর প্রিয়জনের অমূল্য স্মৃতি। কোনো খামে থাকত প্রবাসী সন্তানের খবর, কোনো খামে চাকরির সংবাদ। কোথাও বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুত্বের টান, কোথাও প্রিয় মানুষের ভালোবাসা। আবার কোনো চিঠিতে থাকত পরিবারের জন্য উৎকণ্ঠা কিংবা দূরে থাকা স্বজনের প্রতি টান। ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টার শব্দ তাই অনেক পরিবারের কাছে ছিল আশার শব্দ। বাড়ির সামনে ডাকপিয়ন এসে দাঁড়ালে কেউ ছুটে যেতেন দরজার দিকে। কারো মুখে হাসি ফুটত, আবার কখনো কোনো চিঠি নিয়ে আসত উদ্বেগের খবর। চিঠির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল অপেক্ষা। আজকের মতো মুহূর্তেই উত্তর পাওয়ার সুযোগ ছিল না। চিঠি লিখতে হবে, ডাকঘরে দিতে হবে, তারপর সেটি নানা পথ পেরিয়ে পৌঁছাবে প্রাপকের কাছে। এরপর আবার অপেক্ষা করতে হবে উত্তরের জন্য। এই দীর্ঘ অপেক্ষাই চিঠিকে আলাদা করে তুলেছিল। একটি চিঠি হাতে পাওয়ার পর সেটি বারবার পড়া হতো। কখনো একা, কখনো পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনে। প্রিয় মানুষের হাতের লেখা দেখার মধ্যেও ছিল আনন্দ। অনেকেই পুরোনো চিঠি যত্ন করে রেখে দিতেন। বইয়ের ভাঁজে, আলমারির তাকে কিংবা কাঠের বাক্সে বছরের পর বছর সংরক্ষণ করা হতো সেসব চিঠি। প্রেমের সম্পর্কেও চিঠির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগের আধুনিক মাধ্যম সহজলভ্য হওয়ার আগে মনের কথা জানানোর অন্যতম মাধ্যম ছিল চিঠি। কয়েক পাতার একটি চিঠিতে লেখা থাকত ভালোবাসা, অভিমান, অপেক্ষা আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। চিঠি লেখার সময় প্রাপককে সামনে কল্পনা করেই শব্দ বেছে নেওয়া হতো। একটি বাক্য লেখার আগে অনেকবার ভাবা হতো। ভুল হলে কেটে আবার লেখা হতো। ফলে একটি চিঠির প্রতিটি শব্দের সঙ্গে জড়িয়ে থাকত লেখকের সময় ও মনোযোগ। আজ হয়তো কয়েক সেকেন্ডেই লেখা যায় -‘তোমাকে খুব মনে পড়ছে।’ কিন্তু একসময় এই কথাটিই লিখে খামে ভরে ডাকঘরে দিতে হতো। তারপর শুরু হতো অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার মধ্যেই ভালোবাসা যেন আরও গভীর হয়ে উঠত। আরও পড়ুন মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে শাড়ি-স্যান্ডেল পরে ম্যারাথনে মা চিঠি পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গেও যোগাযোগের বড় মাধ্যম ছিল এটি। পড়াশোনা বা চাকরির জন্য বাড়ির বাইরে থাকা সন্তান বাবা-মাকে চিঠি লিখতেন। নিজের পড়াশোনা, কাজ, শরীর-স্বাস্থ্য কিংবা অর্থনৈতিক অবস্থার খবর জানাতেন। বাবা-মায়ের চিঠিতে থাকত সন্তানের জন্য নানা পরামর্শ, সময়মতো খাওয়া, নিজের যত্ন নেওয়া, মন দিয়ে পড়াশোনা করা। বিদেশে থাকা স্বজনের চিঠি ছিল পরিবারের জন্য বিশেষ আনন্দের। একটি চিঠি হাতে এলে পরিবারের সবাই মিলে সেটি পড়ার ঘটনাও ছিল স্বাভাবিক। ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি ইতিহাস সংরক্ষণেও চিঠির গুরুত্ব রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন, যুদ্ধ, সামাজিক পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের সময় লেখা চিঠিতে পাওয়া যায় সেই সময়ের মানুষের চিন্তা ও অনুভূতি। সরকারি নথিতে যেখানে একটি ঘটনার আনুষ্ঠানিক বিবরণ থাকে, ব্যক্তিগত চিঠিতে সেখানে উঠে আসে মানুষের আবেগ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। এ কারণে পুরোনো চিঠি ইতিহাস ও গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে বদলে গেছে মানুষের যোগাযোগের ধরন। ডাকপিয়নের ব্যাগের জায়গা নিয়েছে স্মার্টফোনের ইনবক্স। চিঠির জায়গায় এসেছে এসএমএস, ই-মেইল, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ নানা ডিজিটাল মাধ্যম। এখন পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে কয়েক সেকেন্ডই যথেষ্ট। ছবি, ভিডিও, কণ্ঠস্বর-সবই মুহূর্তে পাঠানো যায়। যোগাযোগ আগের চেয়ে সহজ ও দ্রুত হয়েছে। কিন্তু এই দ্রুততার সঙ্গে হারিয়ে গেছে অপেক্ষার একটি বড় অংশ। আগে একটি চিঠির উত্তরের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো। এখন উত্তর কয়েক মিনিট দেরি হলেই অনেকে অস্থির হয়ে পড়েন। ‘সিন’ হয়েছে কি না, প্রাপক অনলাইনে আছেন কি না-এসবও এখন যোগাযোগের অংশ। ডিজিটাল যোগাযোগের সবচেয়ে বড় সুবিধা গতি। তবে হাতে লেখা চিঠির সঙ্গে এর পার্থক্যও স্পষ্ট। একটি ডিজিটাল বার্তা মুহূর্তে পাঠানো যায়, আবার অসংখ্য নতুন বার্তার ভিড়ে সেটি হারিয়েও যেতে পারে। কিন্তু হাতে লেখা একটি চিঠি একটি স্মৃতি হয়ে থাকে। লেখকের হাতের লেখা, কাগজের ভাঁজ, কালির দাগ, সবকিছু মিলে চিঠিটি হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত একটি দলিল। বহু বছর পর একটি পুরোনো চিঠি খুললে শুধু লেখা কথাগুলোই ফিরে আসে না, ফিরে আসে সেই সময়, সেই মানুষ এবং সেই সম্পর্কের স্মৃতিও। চিঠির প্রচলন আগের মতো নেই। তবে এর আবেদন পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বিশেষ কোনো দিন, জন্মদিন, বিদায় কিংবা বিশেষ সম্পর্কের মুহূর্তে এখনো অনেকে হাতে লেখা চিঠি উপহার দেন। কারণ কিছু অনুভূতি দ্রুত পাঠানোর জন্য নয়। কিছু কথা আছে, যা ধীরে লিখতে হয়। ভেবে লিখতে হয়। যত্ন করে রেখে দিতে হয়। চিঠি মানুষকে সেই সময়টুকু দেয়। নিজের অনুভূতির সামনে কিছুক্ষণ থেমে দাঁড়ানোর সময়। আরও পড়ুন বাবার চিঠির অপেক্ষায় থাকা ছেলে, মেসেজের যুগে হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি চিঠি দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যোগাযোগের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের অনুভূতি প্রকাশের ধরনও কীভাবে বদলে গেছে। ডাকপিয়নের ব্যাগ থেকে ডিজিটাল ইনবক্স-এই দীর্ঘ যাত্রায় আমরা পেয়েছি গতি। কমেছে দূরত্ব। কিন্তু হারিয়ে গেছে কি অপেক্ষার সেই মায়া? হয়তো পুরোপুরি হারায়নি। কারণ আজও কোনো পুরোনো চিঠি হাতে নিলে মানুষের চোখে জল আসে, মুখে হাসি ফুটে ওঠে, মনে পড়ে যায় কোনো মানুষ কিংবা জীবনের কোনো বিশেষ সময়। সময়ের সঙ্গে চিঠি হয়তো তার জায়গা বদলেছে। কিন্তু মনের কথা বলার প্রয়োজন বদলায়নি। চিঠি হয়তো হারিয়েছে, ডাকপিয়নের ব্যাগ হয়তো জায়গা ছেড়েছে ডিজিটাল ইনবক্সকে। কিন্তু কাগজের পাতায় লেখা কয়েকটি শব্দ যে অনুভূতি তৈরি করত, সেই অনুভূতি কি কখনো ডিজিটাল পর্দায় পুরোপুরি ধরা সম্ভব? চিঠি দিবস, সেই মানুষগুলোর স্মৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার দিন, যারা জানতেন-দূরত্ব যত দীর্ঘই হোক, একটি চিঠি কখনো কখনো মানুষকে সবচেয়ে কাছে নিয়ে আসে। লেখক: শিক্ষার্থী, সংস্কৃত বিভাগ, রাজশাহী কলেজ কেএসকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>