বিজ্ঞাপন
হুট করে বাড়ছে এডিস মশার উৎপাত। জমে থাকা পানিতে দ্রুত বংশবিস্তার করছে এই মশা, বাড়ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। শুধু জ্বর হলেই ডেঙ্গু নিয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি জ্বর কমে যাওয়ার পরের সময়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।
তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার বংশবিস্তার বন্ধ করার পাশাপাশি রোগের লক্ষণ, পরীক্ষা ও সতর্কতার বিষয়গুলোও জানা জরুরি।
কখন বেশি কামড়ায় ডেঙ্গুর মশা?
ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। সকাল ও বিকেলের দিকে এদের কামড়ানোর প্রবণতা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে সকাল ৮টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যার সময় পর্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এডিস মশা অনেক সময় পায়ের নিচের অংশে কামড়ায়।
তাই মশার উৎপাত বেশি হলে শরীর যথাসম্ভব ঢেকে রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা এবং ঘরের ভেতর-বাইরে পানি জমতে না দেওয়া জরুরি।
যেভাবে ডেঙ্গু ছড়ায়
ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে এডিস মশা কামড়ানোর পর মশাটি ভাইরাস বহন করতে পারে। পরবর্তী সময়ে সেই আক্রান্ত মশা অন্য একজন সুস্থ মানুষকে কামড়ালে তার শরীরেও ডেঙ্গুর ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। এভাবেই একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে মশার সাহায্যে অন্য মানুষের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।
তাই বাড়িতে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে শুধু রোগীর চিকিৎসাই নয়, তাকে যেন মশা কামড়াতে না পারে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ডেঙ্গু মানেই শুধু জ্বর নয়
ডেঙ্গুর সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ জ্বর হলেও রোগটি শুধু জ্বরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ করে গুরুতর ডেঙ্গুতে রক্তক্ষরণ, শরীরে তরল জমা, লিভারের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট কিংবা একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
প্লাটিলেট কমে যাওয়া ডেঙ্গুর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা দেখেই রোগীর অবস্থা বিচার করা ঠিক নয়। রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা, রক্তের অন্যান্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বর কমলেই বিপদ কেটে যায় না
ডেঙ্গুতে জ্বর কমে যাওয়ার পর রোগী ভালো হয়ে গেছেন-এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর কমার পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই সময়ে গুরুতর ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
তাই জ্বর কমে গেলেও রোগীকে নজরে রাখা জরুরি। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট, ঘুমঘুম ভাব বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কখন কোন পরীক্ষা করবেন
ডেঙ্গু শনাক্ত করতে রোগের সময় অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। জ্বরের শুরুর দিকে এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা যেতে পারে। কয়েক দিন পর আইজিএম অ্যান্টিবডি পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নিউক্লিক অ্যাসিড অ্যামপ্লিফিকেশন পরীক্ষা বা আরটি-পিসিআরও করা হয়।
কোন পরীক্ষা কখন প্রয়োজন, তা রোগের সময়কাল ও রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাই নিজে থেকে পরীক্ষা বেছে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা
শিশুর জ্বরের সঙ্গে শরীর বা গাঁটে ব্যথা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, বমি, পেটব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
যেভাবে ভাত খেলে ভুঁড়ি বাড়বে না
পানি ও খাবারে নজর দিন
ডেঙ্গুতে শরীরে পানিশূন্যতার ঝুঁকি থাকে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করা জরুরি। একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাবার ও তরল গ্রহণ করা যেতে পারে। ঘরে তৈরি সহজপাচ্য খাবারও রাখা যেতে পারে খাদ্যতালিকায়।
আরও পড়ুন
রাস্তার যেসব খাবার খেলে ওজন বাড়বে না
সতর্কতা
বাড়ি কিংবা আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া। ফুলের টব, বালতি, পরিত্যক্ত পাত্র, ছাদ বা যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। কারণ ডেঙ্গুর চিকিৎসার পাশাপাশি এডিস মশার বংশবিস্তার বন্ধ করাই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, আমেরিকান লাইব্রেরি অব মেডিসিন, মায়ো ক্লিনিক এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন