বিজ্ঞাপন
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান শেষে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। মাদক কারবারে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে, আধিপত্য ধরে রাখা এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির জন্যই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, ২০-২২ জনের একটি দল এসে হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। তবে তাদের কতজনের হাতে অস্ত্র ছিল তা এখনো জানা যায়নি।
তবে গুলি কারা করেছে তাদের খুঁজতে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, র্যাব ও পিবিআই কাজ করছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগে সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে এক নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। তারা হলেন- পথচারী আশা আকতার (২০), পথচারী সিয়াম (১৮) ও চা বিক্রেতা আলমগীর (৩৩)। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
আরও পড়ুন
গেন্ডারিয়ায় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলি, নারীসহ গুলিবিদ্ধ ৩
এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। কারা গুলি করেছে সেটিও বের করতে পারেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গতকাল রোববার বিকেলে গেন্ডারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন করাতিটোলা এলাকা থেকে মো. রাকিব (২২), মো. বিল্লাল (২৫) ও মো. রিফাত (২১) নামের তিন তরুণকে মাদক বিক্রির সময় আটক করেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। পরে তাদের বিএনপির স্থানীয় কর্মী মো. মনির হোসেনের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কার্যালয়ে ওই তিন তরুণকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ ডেকে তাদের ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ ওই তিন তরুণকে নিয়ে থানায় যাওয়ার ক্ষেত্রে হামলার আশঙ্কা করছিল। উপস্থিত লোকজন পুলিশকে থানায় পৌঁছে দিতে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই ২০ থেকে ২২ জন তরুণের একটি দল এসে গুলি ছোঁড়া শুরু করে। তাদের অনেকের হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। তবে কতজনের হাতে অস্ত্র ছিল তা এখনো বের করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, মাদক নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. মনির হোসেন ও তার ভাগনে রাসেল মাদক কারবারি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অটো সজলের লোকজনকে মারধর করেন। মনির হোসেনও তার কাছে থাকা একটি অবৈধ পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছেন।
ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল রোববার গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ সেখানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান শেষে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
আরও পড়ুন
মাদকবিরোধী অভিযান: পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর গেন্ডারিয়ায় গোলাগুলি
কেন ও কী কারণে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত চলছে, পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কার সঙ্গে কার সংঘর্ষ হয়েছে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট গ্রুপ এতে জড়িত কি না এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে ঘটনার মূল কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, এখনো কেউ মামলা করতে থানায় আসেনি। তবে পুলিশের একাধিক টিম এ ঘটনায় কাজ করছে। যারা গুলি করেছে তাদের শনাক্তে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, অপরাধীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।
টিটি/ইএ
বিজ্ঞাপন