জাতীয়

দুই দশক ধরে পরিত্যক্ত খাদ্যগুদাম, বিপাকে কৃষক

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
খাদ্যশস্যের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলা। কৃষকের উৎপাদিত ধান-চালসহ খাদ্যশস্য সংরক্ষণ এবং সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে সহজ করতে তৎকালীন জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের দেওপুরায় প্রায় তিন একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয় একটি সরকারি খাদ্যগুদাম। গুদামটির সঙ্গে কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল আবাসিক ভবনও। একসময় এই স্থাপনা ঘিরেই চলত খাদ্যশস্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের যাবতীয় কার্যক্রম। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত সরকারি এই অবকাঠামো। কিন্তু একটি ডাকাতির ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যায় গুদামটির কার্যক্রম। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই দশক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে সরকারি এই খাদ্যগুদাম। কোটি টাকার সম্পদ এখন অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, অথচ খাদ্যশস্য উৎপাদনের অন্যতম প্রধান এই অঞ্চলে কৃষকদের জন্য এর কোনো ব্যবহার নেই। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, প্রায় দুই দশক আগে রাতের আঁধারে দেওপুরা খাদ্যগুদামে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় গুদামে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গুদামটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর কেটে গেছে প্রায় ২০ বছর। দীর্ঘ এই সময়ে আর চালু হয়নি গুরুত্বপূর্ণ এই খাদ্যগুদামটি। ফলে বছরের পর বছর ধরে পরিত্যক্ত ও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে সরকারি স্থাপনাটি। স্থানীয় বাসিন্দা রাধা কান্ত বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চল কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানকার কৃষকরা বছরে দুই মৌসুমে ধানসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য উৎপাদন করেন। এসব ফসল উৎপাদনে কৃষকদের বিপুল অর্থ, শ্রম ও সময় ব্যয় করতে হয়। কিন্তু দেওপুরা খাদ্যগুদামটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় উৎপাদিত খাদ্যশস্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। তিনি বলেন, গুদামটি চালু থাকলে কৃষকরা সরাসরি সরকারের কাছে তাদের উৎপাদিত খাদ্যশস্য বিক্রি করার সুযোগ পেতেন এবং ন্যায্যমূল্যও নিশ্চিত হতো। বর্তমানে গুদামটি বন্ধ থাকায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাজারে কম দামে ফসল বিক্রি করছেন। এতে একদিকে যেমন কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন-যে কোন ফসল বিক্রিতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন আড়তদারদের কাছে। কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে ফড়িয়াদের কাছে তাদের কষ্টে উপার্জিত ফসল। এতে জীবন মান যেমন উন্নয়ন হচ্ছে না, তেমনি ফসল উৎপাদনের খরচও উঠছে না। এমন অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষক। এলাকার উন্নয়ন ও কৃষক বাঁচাতে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে হলেও গুদামটি চালু করা হোক। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মনির বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে। ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দেওপুরা খাদ্যগুদামটি পুনরায় চালু করতে এখন আর বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে খাদ্যগুদামটি চালু করা হলে স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত খাদ্যশস্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিক্রির সুযোগ পাবেন। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে। তাই কৃষকের স্বার্থে দ্রুত দেওপুরা খাদ্যগুদামটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। আরও পড়ুন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা / নদীতে ইলিশের টান, সামনের নিষেধাজ্ঞার সময় পেছানোর দাবি জেলেদের সরেজমিনে পরিদর্শন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহন আহমেদ বলেন, দেওপুরা খাদ্যগুদামটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও সামান্য সংস্কার ও প্রয়োজনীয় মেরামতকাজ সম্পন্ন করেই এটি পুনরায় চালু করা সম্ভব। গুদামটি চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে গুদামটি চালুর চেষ্টা করা হবে। জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সরকারি স্থাপনায় যে কেও নিরাপত্তা চাইলে প্রস্তত রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি খাদ্যশস্য জমায় চলতি বোরো মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান বাধার মুখে পড়েছে। সোহান মাহমুদ/এনএইচআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>