বিজ্ঞাপন
হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আর মাত্র দেড় মাস পরই কাশফুলের আবহে ঢাকের বাদ্যে শুরু হবে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব।
পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতি বছর বিভিন্ন পূজা কমিটিকে সরকারি অনুদান দেওয়া হয়। তবে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর বড় ও ছোট পূজা কমিটিগুলোর মধ্যে সরকারি অনুদান এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
এরই মধ্যে কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন বড় ও ছোট পূজা কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে তিনি দুর্গাপূজা উপলক্ষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার কথা জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহাষ্টমীর দিন রাজ্যের সব ধরনের মদের দোকান বন্ধ থাকবে। ওই দিন বার ও রেস্তোরাঁতেও মদ বিক্রি করা যাবে না।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজার সঙ্গে মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। তাই এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যাতে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে।
মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায়, মহাষ্টমীর দিন মানুষ পুষ্পাঞ্জলি দেন। এই ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ দিনকে সম্মান জানাতেই মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এবারের দুর্গাপূজায় বড় বাজেটের পূজা কমিটিগুলোকে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে যেসব ছোট বাজেটের পূজা কমিটি সরকারি সহায়তা ছাড়া পূজা আয়োজন করতে পারবে না, তাদের জন্য এক লাখ রুপি করে অনুদানের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, শহরাঞ্চলে একটি বড় পূজা আয়োজন করতে প্রায় ১০ লাখ রুপি বা তারও বেশি খরচ হয়। অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকাতেও একটি ভালো পূজা আয়োজন করতে কয়েক লাখ রুপি প্রয়োজন হয়।
বড় বাজেটের পূজা কমিটিগুলোকে সরকারি অর্থনৈতিক সহায়তা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এসব কমিটি বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। যারা সরকারি অনুদান গ্রহণ না করবে, তাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদও জানান তিনি।
থিমভিত্তিক পূজার ক্ষেত্রেও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, থিম পূজা আয়োজন করা যাবে, তবে এমন কোনো বিষয় ব্যবহার করা যাবে না, যাতে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে।
ছোট বাজেটের পূজা কমিটিগুলোকে সরকারি অনুদানের জন্য স্থানীয় থানার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। পরে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আবেদনগুলো যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে রাজ্যের অর্থ দপ্তরের মাধ্যমে অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়া রাস্তা কিংবা জাতীয় সড়ক বন্ধ করে কোনো পূজা আয়োজন করা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রে নতুন নীতি এবং থিম পূজায় বিধিনিষেধের ঘোষণায় এবার পশ্চিমবঙ্গের পূজা আয়োজন নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডিডি/এমএসএম
বিজ্ঞাপন