ব্রেকিং নিউজ
মদের বারে ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী নিহত, জড়িত সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা কক্সবাজারে মদের বারে সংঘর্ষ, দুই যুবক নিহত এক মাস ধরে গ্যাস-সংকট, ৬৬০ বস্ত্রকলে উৎপাদন বিপর্যস্ত ষষ্ঠ শ্রেণির পোশাকেই স্কুলজীবন পার হয়েছে অনিকের ডিগ্রি-সনদ ছাড়াই চিকিৎসাসেবা, ভুয়া চিকিৎসককে জরিমানা ও কারাদণ্ড বেড়েছে চিনি–আটা–ময়দার দাম, ডিমের দাম এখনো চড়া শাড়ির সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ খুঁজে না পাওয়ায় গড়ে উঠল যে ব্র্যান্ড মানিকগঞ্জে খাদ্যগুদামে চাল-গমের হিসাবে গরমিল, দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত দৃঢ় ইচ্ছা ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো অবস্থা থেকেই সফল হওয়া সম্ভব—সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম, বিজ্ঞানী ও গবেষক ইয়র্ক: ইতিহাসের শহর পেরিয়ে উত্তরের পথে
জাতীয়

দৃঢ় ইচ্ছা ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো অবস্থা থেকেই সফল হওয়া সম্ভব—সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম, বিজ্ঞানী ও গবেষক

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

পারমাণবিক শক্তিকে আরও নিরাপদ ও দক্ষ করে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল টুইন ও নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছেন বাংলাদেশি নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ার ও গবেষক সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমিজ অব সায়েন্সেস, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেডিসিনের একটি এআই কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি জ্বালানি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন। পেয়েছেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ইন রিসার্চসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। অথচ ছোটবেলায় বিজ্ঞানী হওয়ার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না তাঁর। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বাসচালক হওয়ার স্বপ্ন দেখা সেই ছেলেটিই আজ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছে।

এখন তাঁর গবেষণার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, এআই, ডিজিটাল টুইন ও ভবিষ্যতের জ্বালানিব্যবস্থা। এআই কি সত্যিই মানুষের বিকল্প হয়ে উঠবে? পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে আরও নিরাপদ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে কাজ করতে পারে? ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে কী পরিবর্তন আসবে? বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা কীভাবে বিশ্বমঞ্চে গবেষক হিসেবে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারেন? এসবের পাশাপাশি বিজ্ঞানভীতি, বই পড়ার অভ্যাস, দেশে গবেষণার পরিবেশ এবং নিজের বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার গল্পসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিজ্ঞানচিন্তার নির্বাহী সম্পাদক আবুল বাসার ও সহসম্পাদক কাজী আকাশ

কেমন আছেন?

বাহাউদ্দিন আলম: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।

২০২৫ সালে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেডিসিনের একটি এআই কমিটির সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। পেয়েছেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ইন রিসার্চ। আপনাকে বিজ্ঞানচিন্তার পক্ষ থেকে অভিনন্দন। কেমন লাগছে এই স্বীকৃতিগুলো পেয়ে?

বাহাউদ্দিন আলম: খুব ভালো লেগেছে। তবে সত্যি বলতে, এগুলোর কোনোটাই আমি আগে থেকে আশা করিনি। ন্যাশনাল একাডেমিসের কমিটিতে সারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত গবেষকের নাম বিবেচনায় ছিল। তাই যখন আমাকে নির্বাচনের খবর জানানো হলো, আমি বেশ অবাক হয়েছিলাম। আমার জন্য এটা সম্মানের পাশাপাশি শেখারও একটা বড় সুযোগ।

ডিনস অ্যাওয়ার্ডের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা প্রায় একই। কীভাবে আবেদন করতে হয়, সেটিও আমার জানা ছিল না। বিভাগের সিনিয়র সহকর্মীরা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। বিভিন্ন বিভাগ থেকে সহকারী অধ্যাপকদের মনোনয়ন দেওয়া হয়, তারপর কয়েকজনকে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিত হওয়ার খবরটি অবশ্যই আনন্দের ছিল। তবে এসব কাজ কখনো একা করা সম্ভব নয়। আমার ছাত্রছাত্রী, সহকর্মী এবং যাঁদের সঙ্গে গবেষণা করেছি, তাঁদের অবদানও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

এই দুই স্বীকৃতির কোনটি কেন দেওয়া হয়? এই অর্জন দিয়ে আপনি কী কী করতে পারবেন?

বাহাউদ্দিন আলম: দুটি স্বীকৃতির ধরন আসলে ভিন্ন। ন্যাশনাল একাডেমিসের কমিটির কাজ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জির বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফাউন্ডেশন মডেল কীভাবে কার্যকর এবং দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে গবেষণা ও সুপারিশ করা।

অন্যদিকে ডিনস অ্যাওয়ার্ডটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার স্বীকৃতি। কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপকদের গবেষণার ভিত্তিতে এটি দেওয়া হয়। তাই দুটির গুরুত্ব আমার কাছে দুই রকম।

আপনার শৈশব ও বেড়ে ওঠার কথা জানতে চাই। কোথায় পড়াশোনা করেছেন?

বাহাউদ্দিন আলম: আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত কালুরঘাটে পড়েছি। এরপর এক বছর নাসিরাবাদ সরকারি স্কুলে পড়ার পর ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হই। সেখানে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি। পরে বুয়েটে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করি ২০১১ সালে। ২০১২ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই। সেখানে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি সম্পন্ন করি।

ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে যাওয়া কতটা কঠিন ছিল?

বাহাউদ্দিন আলম: আমার কাছে খুব বেশি কঠিন মনে হয়নি। দুই ক্ষেত্রেই গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের ব্যবহার অনেক। তাই শুরুতে নতুন কিছু বিষয় শিখতে হলেও ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে পেরেছি।

ছোটবেলায় কী হতে চেয়েছিলেন? তখন কি বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন ছিল?

বিজ্ঞানচিন্তা হাতে বিজ্ঞানী ও গবেষক সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম

বাহাউদ্দিন আলম: না, একেবারেই নয়। ছোটবেলায় আমার প্রথম দিকের একটি স্বপ্ন ছিল—ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বাসচালক হওয়া। তখন সোহাগ পরিবহনের বিজ্ঞাপন দেখতাম; আর ঢাকা যাওয়ারও খুব ইচ্ছা ছিল। একবার ঢাকা থেকে কয়েকজন আত্মীয় এসেছিলেন। তাঁদের কাছে ঢাকা নিয়ে অনেক গল্প শুনেছিলাম। সেখান থেকেই হয়তো মাথায় ঢুকে গিয়েছিল, বাস চালালে তো নিয়মিত ঢাকা যাওয়া যাবে!

বাসচালক হওয়ার স্বপ্নটা কখন বদলে গেল?

বাহাউদ্দিন আলম: ক্লাস থ্রি-ফোরের দিকে সম্ভবত। এরপর কিছুদিন ক্রিকেটার হওয়ার ইচ্ছা হয়েছিল; কিন্তু খেলাধুলায় আমি খুব একটা ভালো ছিলাম না। ক্যাডেট কলেজে গিয়ে সেনাবাহিনীতে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলাম। পরে বুঝলাম, শারীরিক সক্ষমতার জায়গাটা আমার শক্তির দিক নয়।

তখন ধীরে ধীরে বুঝলাম, যা একটু-আধটু পারতাম, সেটা পড়াশোনাই। বিশেষ করে গণিত ভালো লাগত। তাই প্রকৌশলের দিকে গেলাম।

তবে বুয়েটে ভর্তি হওয়ার পরও গবেষক হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আমার ইচ্ছা ছিল কোনো টেলিকম কোম্পানিতে চাকরি করার। তৃতীয় বর্ষের দিকে দেখলাম, আশপাশে অনেকেই গবেষণা করছে, পেপার লিখছে, উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তখন মনে হলো আমিও একটু চেষ্টা করে দেখি। বলতে পারেন, সেখান থেকেই ধীরে ধীরে গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।

বিজ্ঞানী হওয়ার পথে আপনার অনুপ্রেরণা কে ছিলেন?

বাহাউদ্দিন আলম: ছোটবেলায় কুদরাত-এ-খুদা এবং জগদীশচন্দ্র বসুর কথা পড়েছি। তবে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছেন বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক মতিন স্যার। তাঁর সঙ্গে বিজ্ঞানের নানা বিষয় নিয়ে আড্ডা হতো। তিনিই আমাকে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিকে যেতে উৎসাহ দেন।

মতিন স্যার অনেকটা বাবার মতো আমাকে আগলে রেখেছিলেন। বুয়েটের শেষ বর্ষে তাঁর বাসায় আমি প্রায় প্রতি সকালেই নাশতা করতে যেতাম। তিনি বলতেন, ভবিষ্যতে জ্বালানি ও নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গুরুত্ব আরও বাড়বে। তাঁর কথাগুলো আমার সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে।

শুনেছি, ছোটবেলায় লোডশেডিংয়ের অভিজ্ঞতা আপনাকে জ্বালানি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী করেছিল। কথাটা কি সত্যি?

বাহাউদ্দিন আলম: হ্যাঁ, কিছুটা সত্যি। আমাদের এলাকায় প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যেত। গরম, মশা, হারিকেন আর মোমবাতি ছিল খুব পরিচিত অভিজ্ঞতা।

একবার আমাদের এক আত্মীয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সেখানে সাধারণত এভাবে লোডশেডিং হয় না। ছোটবেলায় কথাটা আমার মাথায় খুব দাগ কেটেছিল। মনে হয়েছিল, পৃথিবীর অন্য জায়গায় যদি এই সমস্যার সমাধান করা যায়, তাহলে আমাদের দেশেও নিশ্চয়ই করা সম্ভব। হয়তো সেখান থেকেই জ্বালানি নিয়ে একটা আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।

আপনার প্রতিষ্ঠিত ল্যাবের নাম ‘মার্শিয়ান’। কী ধরনের গবেষণা হয় সেখানে?

বাহাউদ্দিন আলম: আমরা মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কম্পিউটেশনাল মডেলিং এবং জ্বালানিব্যবস্থার সংযোগ নিয়ে কাজ করি। এমন অ্যালগরিদম তৈরির চেষ্টা করি, যা পারমাণবিক ও অন্যান্য জ্বালানিব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করতে সাহায্য করতে পারে।

আমরা ডিজিটাল টুইন, নিউরাল অপারেটর এবং কম শক্তি ব্যবহার করে চলতে পারে, এমন এআই নিয়েও কাজ করছি। সহজভাবে বললে, বাস্তব কোনো জটিল ব্যবস্থার আচরণ কম্পিউটারে দ্রুত বোঝা, পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে আগাম সমস্যা শনাক্ত করার প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করি।

নতুন প্রজন্মের ছোট ও উন্নত পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়েও আমাদের গবেষণা আছে।

আপনার গবেষণার একটা বড় অংশজুড়ে আছে পারমাণবিক প্রকৌশল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কিশোর পাঠকদের জন্য সহজ করে বলুন, পারমাণবিক প্রকৌশল ও এআই একসঙ্গে কীভাবে কাজ করে?

বিজ্ঞানী ও গবেষক সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম

বাহাউদ্দিন আলম: একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অনেক বছর ধরে চলে। সেখানে হাজার হাজার যন্ত্রপাতি, সেন্সর ও বিভিন্ন উপাদান থাকে। সময়ের সঙ্গে কিছু যন্ত্র ক্ষয় হতে পারে বা এদের আচরণ বদলাতে পারে। সবকিছু সব সময় একজন মানুষের পক্ষে একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। এআই এখানে সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারে। বিভিন্ন সেন্সর থেকে তথ্য নিয়ে এটি কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন হচ্ছে কি না, সেটা ধরতে পারে। কোথাও সমস্যা শুরু হলে সেটি বড় হওয়ার আগেই সতর্ক করার সম্ভাবনাও থাকে।

ডিজিটাল টুইনের মাধ্যমে বাস্তব ব্যবস্থার একটি ভার্চ্যুয়াল প্রতিরূপ তৈরি করা যায়। ফলে বাস্তব সিস্টেমে কিছু করার আগে কম্পিউটারে বিভিন্ন পরিস্থিতি পরীক্ষা করা সম্ভব হয়।

আমরা এসব ব্যবস্থার সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও কাজ করি। কারণ, এআই তৈরি করলেই হবে না, সেটিকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্যও হতে হবে।

অনেকেই বলছেন, ভবিষ্যতে টেকনোলজিক্যাল সিঙ্গুলারিটি হবে, এআই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে। আপনি কী মনে করেন?

বাহাউদ্দিন আলম: এ বিষয়ে অনেক বিতর্ক আছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি সিনেমায় যেভাবে দেখানো হয়, এআই হঠাৎ মানুষের মতো স্বাধীন ও সচেতন সত্তা হয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে, বিষয়টিকে এত সরলভাবে দেখি না।

বর্তমান এআই মানুষের তৈরি তথ্য, অ্যালগরিদম, কম্পিউটিং ব্যবস্থা এবং নির্দেশনার ওপর খুবই নির্ভরশীল। ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কোথায় যাবে, সেটা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, মানুষ কীভাবে এআইকে নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করবে।

অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এআইয়ের কারণে চাকরি হারাতে হতে পারে। এ ব্যাপারে আপনার মত কী?

বাহাউদ্দিন আলম: কিছু কাজ অবশ্যই বদলে যাবে। বিশেষ করে যেসব কাজ খুব নিয়মিত, পুনরাবৃত্তিমূলক এবং নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে করা যায়, সেগুলোর অনেক অংশ স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে।

তবে ইতিহাসে নতুন প্রযুক্তি আসায় বারবার আমরা একই ঘটনা দেখেছি। কিছু কাজ কমেছে, আবার নতুন ধরনের কাজও তৈরি হয়েছে। কম্পিউটার আসার সময়ও অনেকের এমন ভয় ছিল।

এআইয়ের ক্ষেত্রেও আমার ধারণা, মানুষকে নতুন দক্ষতা শিখতে হবে। সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণ, সমস্যা সমাধান, মানুষে মানুষে যোগাযোগ এবং নতুন কিছু তৈরির ক্ষমতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এআইয়ের কারণে যদি অনেক নিয়মিত কাজ স্বয়ংক্রিয় হয়ে যায়, তাহলে কি সবাইকে সৃজনশীল কাজ করতে হবে?

বাহাউদ্দিন আলম: সবাইকে একই ধরনের সৃজনশীল পেশায় যেতে হবে, এমন নয়। তবে প্রায় সব পেশাতেই প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা বাড়াতে হবে।

এআইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, বাস্তবে প্রয়োগ করা, তার ফল যাচাই করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নতুন চিপ তৈরি করা, সফটওয়্যার তৈরি করা, ডেটা প্রস্তুত করা—এসব ক্ষেত্রেও নতুন কাজ তৈরি হচ্ছে।

ঠিক কত চাকরি যাবে আর কত চাকরি তৈরি হবে, সেটা এখনই বলা কঠিন। তবে আমি এটাকে শুধু চাকরি ধ্বংসের প্রযুক্তি হিসেবে দেখি না। কাজের ধরন বদলে দেওয়ার প্রযুক্তি হিসেবে দেখি।

ডিজিটাল টুইন প্রকল্পের জন্য আপনি সম্প্রতি এইচপিসিওয়্যার এডিটরস চয়েস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। প্রযুক্তিটি কী?

বাহাউদ্দিন আলম: ডিজিটাল টুইন হলো বাস্তব কোনো সিস্টেমের একটি ভার্চ্যুয়াল প্রতিরূপ। ধরুন, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বা কোনো যন্ত্রের আচরণ আমরা কম্পিউটারে এমনভাবে মডেল করতে চাই, যাতে বাস্তব ব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল মডেলটিও আপডেট হতে পারে।

প্রচলিত উচ্চ মানের সিমুলেশন অনেক ক্ষেত্রে খুব সময়সাপেক্ষ। আমরা এমন কিছু এআইভিত্তিক পদ্ধতি তৈরি করছি, যেগুলো একই ধরনের বৈজ্ঞানিক হিসাব অনেক দ্রুত করতে পারে। ফলে বাস্তব সময়ের কাছাকাছি সময়ে পর্যবেক্ষণ বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

আমাদের দল যে কাজগুলো করেছে, সেগুলোর স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কারটি এসেছে। আমি এটাকে পুরো দলের অর্জন হিসেবেই দেখি।

আপনার পাওয়া এত পুরস্কারের মধ্যে কোনটি আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন?

গবেষক সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম

বাহাউদ্দিন আলম: কয়েকটি স্বীকৃতি আমার কাছে বিশেষ অর্থ বহন করে। ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের CAREER Award এবং ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জির Early Career Award দুটোই আমার গবেষণার শুরুর দিকের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

আর ন্যাশনাল একাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের Frontiers of Engineering প্রোগ্রামে নির্বাচিত হওয়াটাও আমার কাছে বিশেষ। সেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের তরুণ প্রকৌশলী ও গবেষকদের সঙ্গে কাজ ও আলোচনা করার সুযোগ হয়।

গবেষণায় অনেক সময়ই নিজের কাজ নিয়ে সন্দেহ হয়। তখন এসব স্বীকৃতি মনে করিয়ে দেয় যে হয়তো আমরা যে সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করছি, সেগুলোর কিছু মূল্য আছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি নিয়ে ভয় আছে। সম্ভবত তা চেরনোবিল বা ফুকুশিমার দুর্ঘটনার জন্য। সে ক্ষেত্রে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা বাড়াতে এআই ও ডিজিটাল টুইন কীভাবে সাহায্য করতে পারে?

বাহাউদ্দিন আলম: একটি বড় সুবিধা হলো, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো। কোনো যন্ত্র বা উপাদানের আচরণ ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করলে এআই সেই পরিবর্তন শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।

ডিজিটাল টুইনে বিভিন্ন সম্ভাব্য দুর্ঘটনা বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ভার্চ্যুয়ালভাবে পরীক্ষা করা যায়। এতে বাস্তব ব্যবস্থার ঝুঁকি না বাড়িয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

তবে এখানে একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো নিরাপত্তা-সংবেদনশীল জায়গায় সাধারণ এআই সরাসরি ব্যবহার করা যায় না। খুব কঠোর যাচাই, পরীক্ষা, নিরাপত্তা বিশ্লেষণ এবং মানুষের তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।

প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণায় মানুষের প্রয়োজন কি কমে যাবে?

বাহাউদ্দিন আলম: আমার মনে হয় না; বরং গবেষকের কাজের ধরন বদলাবে। এআই অনেক তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারে, সম্ভাব্য প্যাটার্ন দেখাতে পারে এবং বিভিন্ন ধারণা পরীক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।

কিন্তু কোন প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ, কোন ফলটি বিশ্বাসযোগ্য, কোন ব্যাখ্যাটি বৈজ্ঞানিকভাবে অর্থবহ—এসব সিদ্ধান্ত এখনো মানুষেরই নিতে হয়। তাই আমি এআইকে গবেষকের বিকল্পের চেয়ে গবেষণার একটি শক্তিশালী সহকারী হিসেবে দেখি।

ধরুন, এআইকে প্রম্পট দিয়ে আমি একটা ফিচার লিখলাম। এই ফিচারের মালিক কে? আমি, এআই, নাকি যার লেখা থেকে এআই তথ্য নিয়েছে সেই লেখক?

বাহাউদ্দিন আলম: বিষয়টি আইনি ও নৈতিকভাবে এখনো অনেক দেশে বিবর্তনের মধ্যে আছে। তাই খুব সরল উত্তর দেওয়াও কঠিন।

আমার দৃষ্টিতে, এআইকে সহকারী হিসেবে ব্যবহার করা যায়; কিন্তু ধারণা, তথ্য যাচাই, সম্পাদনা ও চূড়ান্ত দায়িত্ব মানুষের কাছেই থাকা উচিত।

এআই যে তথ্য দিচ্ছে, সেটা যাচাই না করে ব্যবহার করা ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে কোথায় এআই ব্যবহার করা হয়েছে, সেটাও স্বচ্ছভাবে উল্লেখ করা ভালো। বিভিন্ন জার্নাল এবং প্রতিষ্ঠান এখন এ বিষয়ে নিজেদের নীতিমালা তৈরি করছে।

শিক্ষক হিসেবে নিজেকে কেমন মনে করেন?

বাহাউদ্দিন আলম: আমি এখনো শেখার মধ্যেই আছি। শিক্ষকতা এমন একটা কাজ, যেখানে প্রতিটি ক্লাস থেকেই কিছু না কিছু শেখা যায়।

আমি চেষ্টা করি ক্লাসের পরিবেশ বন্ধুসুলভ রাখতে, কঠিন বিষয়গুলো যতটা সম্ভব সহজভাবে বোঝাতে। ক্লাস নেওয়ার আগে নিজেও অনেক প্রস্তুতি নিই। অনেক সময় কোনো বিষয় ছাত্রদের বোঝাতে গিয়ে নিজেরও বিষয়টি নতুনভাবে বোঝা হয়।

তাই নিজেকে শুধু শিক্ষক ভাবার চেয়ে একজন শেখার মানুষ হিসেবে ভাবতেই আমার বেশি ভালো লাগে।

ক্লাস নেওয়ার সময় এমন কোনো মজার অভিজ্ঞতা হয়েছে, যেটা এখনো মনে পড়ে?

বিজ্ঞানচিন্তা হাতে বিজ্ঞানী ও গবেষক সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম

বাহাউদ্দিন আলম: ইলিনয়ে যাওয়ার আগে আমি মিজৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম। সেখানে এক শিক্ষার্থী একদিন খুব আন্তরিকভাবেই আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, বাংলাদেশে আমি ল্যাপটপ বা কম্পিউটার কোথায় পেলাম!

সে আসলে খারাপ উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেনি। বাংলাদেশ সম্পর্কে তার ধারণা খুব সীমিত ছিল।

আরেকজন জিজ্ঞাসা করেছিল, বাংলাদেশে যেহেতু প্রায়ই বন্যা হয়, আমরা কীভাবে পড়াশোনা করি। পরে জানতে পারলাম, তাদের পাঠ্যবইয়ে মৌসুমি বন্যার উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের কথা ছিল। ফলে বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের ধারণা ওই কয়েকটি উদাহরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।

এসব ঘটনা মজার, আবার আমাদের দেশের পরিচিতি নিয়েও ভাবার বিষয়।

অনেক লেখকই বলেছেন, বিদেশে গিয়ে তাঁদের প্রায়ই বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিতে হয়েছে। এখন কি সেই ধারণা বদলেছে?

বাহাউদ্দিন আলম: আগের তুলনায় অবশ্যই অনেক বদলেছে। শিক্ষিত ও আন্তর্জাতিক পরিবেশে কাজ করা মানুষ বাংলাদেশ সম্পর্কে এখন বেশি জানেন।

তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পরিচয় অনেক সময় গুলিয়ে যায়। বাংলাদেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সংবাদেও অনেক সময় বন্যা, রোহিঙ্গা সংকট বা রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো বিষয় বেশি আসে। আমাদের ইতিবাচক অর্জনগুলো তুলনামূলক কম দৃশ্যমান হয়।

ভারতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যবসায় দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয়দের বড় উপস্থিতি আছে। ফলে কয়েক প্রজন্ম ধরে তাঁদের একটা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে।

আমার নিজের অভিজ্ঞতায়, মেধার দিক থেকে বাংলাদেশিরা কারও চেয়ে কম নন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফল হতে মেধার পাশাপাশি ধারাবাহিক পরিশ্রম, নেটওয়ার্ক, সহযোগিতা এবং দীর্ঘ সময় ধরে একটা লক্ষ্য অনুসরণ করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গাগুলোতে আমাদের আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ আছে।

বাংলাদেশের কোনো কিশোর যদি ভবিষ্যতে আপনার মতো এআই গবেষক হতে চায়, তাহলে এখন থেকেই কীভাবে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?

বাহাউদ্দিন আলম: আমার গবেষণা এআই ও জ্বালানিব্যবস্থার সংযোগে। এর বড় ভিত্তি গণিত। তাই আমি ছাত্রদের সব সময় বলি, গণিতের ভিত্তিটা যতটা সম্ভব শক্ত করার চেষ্টা করো।

তবে শুধু সমীকরণ সমাধান করতে জানলেই হবে না। সমীকরণটি বাস্তবে কী বোঝাচ্ছে, কোন ভৌত ঘটনা প্রকাশ করছে, কোনো একটি রাশি বাড়লে আরেকটি কেন কমছে, এগুলো বোঝা আরও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রোগ্রামিং শেখাও কাজে আসে, কিন্তু প্রোগ্রামিংকে আমি একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখি। মূল বিষয় হলো, সমস্যা বুঝতে শেখা এবং প্রশ্ন করতে শেখা।

আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের মেধা সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কী? বিশ্বমঞ্চে আমরা কোথায় আছি?

বাহাউদ্দিন আলম: বাংলাদেশে মেধাবী শিক্ষার্থীর অভাব নেই। তবে শুধু মেধা দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় কিছু করা কঠিন। সাফল্যে হয়তো মেধার একটা অংশ আছে, কিন্তু তার সঙ্গে দীর্ঘ পরিশ্রম, ভালো পরামর্শদাতা, সঠিক গবেষণাসমস্যা, সহযোগিতা, গবেষণার সুযোগ এবং কিছুটা ভাগ্যও যুক্ত।

আমাদের একটা সীমাবদ্ধতা হলো আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক তুলনামূলকভাবে নতুন। ভারত বা চীনের গবেষকদের ক্ষেত্রে আগের কয়েক প্রজন্মের অনেক মানুষ ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প ও গবেষণাগারে প্রতিষ্ঠিত আছেন। নতুনেরা তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে সহায়তা পান।

বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও এখন সেই নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে এখন বাংলাদেশিদের দেখা যাচ্ছে। আমি খুব আশাবাদী, আগামী ১০-২০ বছরে এই অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

যুক্তরাজ্যে পিএইচডি শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার গড়া কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?

বাহাউদ্দিন আলম: আমার গবেষণার ক্ষেত্রের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অনেক সুযোগ আছে। তবে শুরুতে আমার জন্য সবকিছুই নতুন ছিল।

কোথায় আবেদন করতে হয়, কীভাবে গবেষণার অর্থায়ন পাওয়া যায়, কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়—এসবের অনেক কিছুই জানতাম না। ধীরে ধীরে শিখেছি।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, পথে কিছু অসাধারণ সহকর্মী ও বন্ধু পেয়েছি। তাঁদের মধ্যে ভারতীয় ও পাকিস্তানি অনেকেই ছিলেন। সত্যি বলতে, আমার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁদের কাছ থেকে অনেক সাহায্য পেয়েছি।

একজন পাকিস্তানি অধ্যাপক আমাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। আমার বর্তমান বিভাগের প্রধানও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। তাঁর কাছ থেকেও অনেক সহযোগিতা পেয়েছি।

ফ্রান্সে যখন প্রথম গিয়েছিলাম, তখন কিছুদিন থাকার জায়গার সমস্যা হয়েছিল। উত্তর প্রদেশের কানপুরের একজন ভারতীয় সহকর্মী আমাকে প্রায় তিন মাস বিনা ভাড়ায় তাঁর বাসায় থাকতে দিয়েছিলেন।

এসব অভিজ্ঞতার কারণে আমি কখনোই কোনো জাতি বা দেশের মানুষকে একভাবে দেখি না। ভালো-মন্দ মানুষ সব জায়গাতেই আছে। শেষ পর্যন্ত মানুষটাই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার পরিবার আপনার সাফল্যের পেছনে কতটা ভূমিকা রেখেছে?

বাহাউদ্দিন আলম: অনেক বড় ভূমিকা। আমার স্ত্রী অত্যন্ত ধৈর্যশীল। সত্যি বলতে, আমার সঙ্গে থাকা সব সময় সহজ নয়। গবেষণার কাজ অনেক সময় খুব অনিয়মিত হয়।

বাজার করা, সংসারের হিসাব রাখা, ব্যাংকের অনেক কাজ, পরিবারের অনেক দায়িত্ব সে সামলায়। আমি অনেক সময় নিজের অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে, সেটাও জানি না।

আমরা বুয়েট থেকে বের হওয়ার পরই বিয়ে করি। তখন আমার ক্যারিয়ার বলতে প্রায় কিছুই শুরু হয়নি। সেই সময় থেকে সে পাশে আছে। তার সহযোগিতা ছাড়া আমার পক্ষে এতটা সময় গবেষণায় দেওয়া সম্ভব হতো না।

আমার মেয়ের বয়স সাত বছর, ছেলের বয়স দুই। ওরাও আমার বড় অনুপ্রেরণা।

মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্ত্রীর বোন ও তাঁর স্বামীও অনেক সাহায্য করেছেন। আমরা দুজনই চাকরি করি বলে শ্বশুর-শাশুড়ি যুক্তরাষ্ট্রে এসে নাতি-নাতনিদের দেখাশোনা করেছেন। পরিবারের এই সহযোগিতাগুলো বাইরে থেকে দেখা যায় না, কিন্তু আমাদের জীবনে এগুলোর গুরুত্ব অনেক।

অবসরে কী করেন? বই পড়ার সময় পান?

মুহম্মদ জাফর ইকবালের দুষ্টু ছেলের দল, টুকুনজিল, দীপু নাম্বার টু সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলমের খুব প্রিয় ছিল

বাহাউদ্দিন আলম: শৈশবে প্রচুর বই পড়তাম। এখন সেই অভ্যাস অনেকটাই কমে গেছে।

মুহম্মদ জাফর ইকবালের দুষ্টু ছেলের দল, টুকুনজিল, দীপু নাম্বার টু আমার খুব প্রিয় ছিল। বিশেষ করে টুকুনজিল সম্ভবত চতুর্থ বা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়েছিলাম। বইটি আমাকে খুব নাড়া দিয়েছিল।

ব্যক্তিগতভাবে জাফর ইকবাল স্যারকে আমি অনেক পছন্দ করি। ২০১১ সালের দিকে তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। আমি কিছু পরামর্শ চেয়েছিলাম, তিনি খুব আন্তরিকভাবে কথা বলেছিলেন।

হুমায়ূন আহমেদের বইও পড়েছি, খুব ভালো লাগত। তবে ছোটবেলায় বিজ্ঞান, কল্পনা ও নতুন কিছু করার আগ্রহ তৈরিতে জাফর ইকবাল স্যারের বইগুলোর প্রভাব বেশি ছিল।

রবীন্দ্রনাথ বা নজরুলের অনেক লেখা তখন আমার কাছে একটু কঠিন লাগত। জাফর ইকবালের লেখা তুলনামূলক সহজভাবে আমার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেছিল।

আপনি কি কখনো বই লেখার কথা ভেবেছেন? গত এক দশকে বাংলাদেশে বিজ্ঞানবিষয়ক বই লেখার একটা জোয়ার এসেছে। নানা বিষয়ে এখন বাংলায় বই পাওয়া যায়। আপনার মতো গবেষকদেরও এগিয়ে আসা উচিত।

বাহাউদ্দিন আলম: এখনো নিজেকে বই লেখার মতো প্রস্তুত মনে হয়নি।

আমার মনে হয়, শুধু কিছু লিখে ফেললেই ভালো বই হয় না। যেমন রান্না করলেই খাবার ভালো হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বইয়ের ক্ষেত্রেও তা–ই। আমি যদি কখনো বই লিখি চাইব, সেটা পড়ে পাঠক সত্যিই কিছু শিখুক বা উপকৃত হোক।

শুধু নিজের নামের পাশে একটা বই যোগ করার জন্য লিখতে চাই না।

অনেকের ধারণা, বিজ্ঞান খুব কঠিন ও রসহীন বিষয়। বিজ্ঞান নিয়ে মজা করা যায় না। এমন ধারণা কি বিজ্ঞানচর্চার পথে বাধা তৈরি করে?

বাহাউদ্দিন আলম: অবশ্যই করতে পারে। আমার অভিজ্ঞতায়, অনেক অসাধারণ বিজ্ঞানীরই দারুণ রসবোধ থাকে। তাঁরা খুব স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত মানুষ।

আমি যখন ক্যাডেট কলেজে ক্লাস এইটে পড়ি, একজন বিজ্ঞানী কলেজে এসেছিলেন। আমরা ভেবেছিলাম, তিনি হয়তো খুব গম্ভীর মানুষ হবেন। কিন্তু তিনি এত মজা করে কথা বলেছিলেন যে আমরা অবাক হয়েছিলাম।

আসলে বিজ্ঞান কৌতূহলের বিষয়। একটা সমস্যা নিয়ে ভাবা, ভুল করা, আবার চেষ্টা করা, এর মধ্যেও আনন্দ আছে।

আর বিজ্ঞান একা করার বিষয়ও নয়। নিজের ধারণা অন্যকে বোঝাতে হয়, সহযোগিতা করতে হয়। তাই যোগাযোগের দক্ষতাও একজন বিজ্ঞানীর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে অনেক শিক্ষার্থীর গণিত ও বিজ্ঞানভীতি আছে। এটা দূর করতে কী করা উচিত?

বাহাউদ্দিন আলম: আমার মনে হয়, এই ভয় অনেক সময় বিষয়টি শেখার আগেই তৈরি হয়ে যায়।

আমি যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি, তখনো সিনিয়ররা বলতেন, অমুক অধ্যায় খুব কঠিন। পড়ার আগেই মনে হতো, নিশ্চয়ই এটা পারব না।

ভয় অনেকটা সংক্রামক। তাই অন্য কেউ কঠিন বললেই ভয় না পেয়ে আগে নিজে চেষ্টা করা দরকার। কেউ যদি বলে একটা ফল খুব টক, আগে নিজে একটু খেয়ে দেখা ভালো।

শিক্ষকদেরও এতে বড় ভূমিকা আছে। শিক্ষক যদি শুরুতেই বলেন, ‘এটা খুব কঠিন’, তাহলে ছাত্ররা ভয় পেতে পারে; বরং ধাপে ধাপে শেখালে অনেক কঠিন বিষয়ও সহজ হয়ে যায়।

গণিতকে রহস্যময় কিছু না বানিয়ে দৈনন্দিন যুক্তির অংশ হিসেবে শেখানো দরকার।

অনেক দিন পর দেশে এসে কী কী পরিবর্তন চোখে পড়েছে?

বাহাউদ্দিন আলম: অনেক পরিবর্তন চোখে পড়েছে। অবকাঠামো অনেক উন্নত হয়েছে। আগে বিমানবন্দর থেকে বাসায় যেতে কখনো কয়েক ঘণ্টা লাগত, এখন অনেক ক্ষেত্রে সময় কমেছে।

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় নতুন রাস্তা, স্থাপনা, রেস্টুরেন্ট এবং ব্যবসা হয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রাতেও পরিবর্তন এসেছে। দেশে ফিরে এই পরিবর্তনগুলো দেখতে ভালো লাগে।

আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চান?

বিজ্ঞানী ও গবেষক সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম

বাহাউদ্দিন আলম: আমি চাই, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী হোক।

আমার কাছে একটা বড় বিষয় হলো, মেধাবী মানুষদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করা, যাতে তাঁরা দেশে থেকে বা দেশের সঙ্গে যুক্ত থেকেও বিশ্বমানের কাজ করতে পারেন।

আজকের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা খুব অল্প বয়সেই কোডিং, এআই এবং নানা প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকে যে জিনিস শিখেছি, এখন অনেক স্কুলের শিক্ষার্থীও সেগুলো জানে।

এটা খুব আশাব্যঞ্জক। ঠিক সুযোগ ও দিকনির্দেশনা পেলে আগামী ১০ বছরে অনেক বড় পরিবর্তন সম্ভব।

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে অনেকেই আর দেশে ফিরছেন না। এটাকে অনেকে ব্রেন ড্রেন বলেন। আপনি কী মনে করেন?

বাহাউদ্দিন আলম: বিষয়টা বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, ব্যক্তিগত জীবনে ততটা সহজ নয়।

একজন মানুষ একা থাকলে হয়তো সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ। কিন্তু যখন স্বামী-স্ত্রী দুজনের চাকরি, সন্তানের স্কুল, পরিবার, গবেষণার অবকাঠামো—এসব যুক্ত হয়, তখন দেশে ফেরা অনেক জটিল সিদ্ধান্ত হয়ে যায়।

যাঁরা সবকিছু ছেড়ে দেশে ফিরে কাজ করছেন, তাঁদের আমি সত্যিই সম্মান করি। অনেক ত্যাগের প্রয়োজন হয়।

একই সঙ্গে বিদেশে থেকেও দেশের জন্য অনেকভাবে কাজ করা যায়, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ, যৌথ প্রকল্প বা নেটওয়ার্ক তৈরির মাধ্যমে।

দেশে ফেরার জন্য সরকারের কী করা উচিত বলে মনে করেন?

বাহাউদ্দিন আলম: অন্তত আমার গবেষণার ক্ষেত্রে একটা বড় বিষয় হলো গবেষণার পরিবেশ। বিশ্বমানের গবেষণা করতে শুধু একজন অধ্যাপক থাকলেই হয় না। প্রয়োজন ভালো ছাত্রছাত্রী, পিএইচডি ও পোস্টডক গবেষক, কম্পিউটিং অবকাঠামো, গবেষণার অর্থায়ন, প্রশাসনিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।

দেশে অনেক জায়গায় ভালো কাজ হচ্ছে, তবে এসব সুযোগ সব জায়গায় সমান নয়।

আমার মনে হয়, বিদেশে থাকা গবেষকদের ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু ব্যক্তিকে আহ্বান করলে হবে না, তাঁর কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশও তৈরি করতে হবে। তাহলে অনেকেই দেশে ফিরতে বা দেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হতে আগ্রহী হবেন।

আমরা যদি জামাল নজরুল ইসলাম স্যারের কথা বলি। আপনি বলছিলেন, তাঁর সঙ্গে আপনার দেখা হয়েছিল।

বাহাউদ্দিন আলম: হ্যাঁ, দেখা হয়েছিল। আমার খুব অল্প সময়ের অভিজ্ঞতা, কিন্তু তিনি আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন।

তিনি অত্যন্ত ভদ্র, আন্তরিক ও বিনয়ী মানুষ ছিলেন। এত বড় একজন বিজ্ঞানী এত সহজভাবে একজন তরুণের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, এটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিল।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। অন্যরা বিষয়ভিত্তিক কঠিন প্রশ্ন করছিলেন। তিনি বরং জানতে চাইলেন, আমি কী পড়তে ভালোবাসি, কী পড়াতে চাই, ছাত্রদের কীভাবে শেখাতে চাই। আজও তাঁর সেই মানবিক আচরণই সবচেয়ে বেশি মনে আছে।

আমার মনে হয়, আমাদের দেশের বড় বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদদের জীবদ্দশাতেই আরও বেশি সম্মান দেওয়া এবং তাঁদের কাজ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা উচিত।

আপনার মতে, বাংলাদেশের সেরা বিজ্ঞানী কে?

বাহাউদ্দিন আলম: একজনকে সেরা বলা আমার কাছে খুব কঠিন। বিজ্ঞান এত বিস্তৃত যে একজন পদার্থবিজ্ঞানী, একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী এবং একজন প্রকৌশলীকে একই মানদণ্ডে বিচার করা যায় না।

তবে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহিদ হাসান ভাইয়ের কাজ আমি খুব সম্মানের সঙ্গে দেখি। তাঁর গবেষণা বিশ্বমানের। এহসান হক ভাইয়ের কাজও অসাধারণ এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি খুব সহায়ক মানুষ।

আমার কাছে শেষ পর্যন্ত একজন ভালো বিজ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়াটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বৈজ্ঞানিক সমস্যা সমাধান অনেকেই করতে পারেন, কিন্তু জ্ঞান ও অবস্থান ব্যবহার করে অন্য মানুষকে সাহায্য করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

নিউটন ও আইনস্টাইনের মধ্যে কে সেরা?

সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম

বাহাউদ্দিন আলম: এটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। দুজনই বিজ্ঞানের ইতিহাস বদলে দিয়েছেন।

নিউটনের কাজ ছাড়া আধুনিক প্রকৌশল ও পদার্থবিজ্ঞানের বড় একটা অংশ কল্পনা করা যায় না। আইনস্টাইনের কাজও আমাদের স্থান, সময় ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে ধারণা বদলে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে হয়তো আইনস্টাইন বেশি পরিচিত। তাঁর জীবন, ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে মতামত নিয়েও অনেক লেখা হয়েছে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক গুরুত্বের দিক থেকে কে ‘বড়’, সেই বিচার করার যোগ্যতা অন্তত আমার নেই।

যদি নিউটন বা আইনস্টাইন আজকের যুগে জন্মাতেন, কী নিয়ে গবেষণা করতেন বলে মনে করেন?

বাহাউদ্দিন আলম: এটা পুরোপুরি কল্পনার প্রশ্ন, তাই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। আমার ধারণা, তাঁরা দুজনই বর্তমানের সবচেয়ে মৌলিক ও কঠিন সমস্যাগুলোর দিকে যেতেন। সেটা এআই হতে পারে, কোয়ান্টাম বিজ্ঞান হতে পারে, মহাবিশ্বের মৌলিক পদার্থবিজ্ঞান হতে পারে, আবার এমন কোনো বিষয়ও হতে পারে, যার কথা আমরা এখনো ভাবিইনি।

বিজ্ঞানের কি কোনো শেষ গন্তব্য আছে?

বাহাউদ্দিন আলম: আমার মনে হয় না। বিজ্ঞানে একটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে প্রায়ই আরও কয়েকটি নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়। ৫ তলা ভবনের ছাদে উঠে মনে হলো অনেক ওপরে এসেছি, তারপর দেখলেন, সামনে ২০ তলা আরেকটি ভবন দাঁড়িয়ে আছে। বিজ্ঞানের পথও অনেকটা তেমন।

একসময় যক্ষ্মা বড় সমস্যা ছিল, তার চিকিৎসা এসেছে। পরে নতুন রোগ এসেছে। গাড়ি মানুষের জীবন সহজ করেছে, আবার দূষণের সমস্যা তৈরি হয়েছে। মানুষ যত দিন প্রশ্ন করবে, নতুন সমস্যা থাকবে। আর সমস্যা থাকলে বিজ্ঞানও থাকবে।

যাঁরা ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হতে চান, তাঁদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

বাহাউদ্দিন আলম: প্রথমে দেখতে হবে, আপনি প্রশ্ন করতে এবং কোনো সমস্যা নিয়ে অনেকক্ষণ ভাবতে পছন্দ করেন কি না। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই ভালো বিজ্ঞানী হওয়া যায় না। পরীক্ষার জন্য অনুশীলন করে অনেক কিছু শেখা যায়, কিন্তু গবেষণায় এমন প্রশ্ন আসে, যার উত্তর আগে থেকে জানা নেই। তখন ধৈর্য ধরে চেষ্টা করতে হয়, ভুল করলে আবার শুরু করতে হয়। বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে গণিতের একটা ভালো ভিত্তি অবশ্যই সাহায্য করে। তবে কৌতূহল, অধ্যবসায় ও নিজের না জানা বিষয় স্বীকার করে শেখার মানসিকতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞানচিন্তার কিশোর পাঠকদের জন্য কিছু বলুন।

বাহাউদ্দিন আলম: আমি নিজের জীবন ও আশপাশের অনেক মানুষের জীবন দেখে একটা জিনিস শিখেছি, শুরুটা কোথা থেকে হচ্ছে, সেটাই শেষ কথা নয়।

সবাই নামী স্কুলে পড়বে না, সবার পরিবারে একই সুযোগ থাকবে না। আমার নিজের জীবনেও অনেক কিছু পরিকল্পনা করে হয়নি। ধীরে ধীরে শিখেছি, অনেক মানুষের সাহায্য পেয়েছি, অনেকবার ভুল করেছি।

আজকের একটা বড় সুবিধা হলো ইন্টারনেট। পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার, বই, কোড, গবেষণাপত্র—অনেক কিছুই এখন হাতের কাছে।

তাই নিজের অবস্থাকে অজুহাত না বানিয়ে যতটুকু সুযোগ আছে, সেটা দিয়ে শুরু করা দরকার।

আরেকটা কথা আমি বিশ্বাস করি, শুধু প্রতিভা দিয়ে বেশি দূর যাওয়া যায় না। দীর্ঘ সময় চেষ্টা করতে হয়। কখনো ফল আসবে, কখনো আসবে না। ব্যর্থতার পরও চেষ্টা করতে হয়।

নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন, তবে একই সঙ্গে বিনয়ী থাকুন এবং অন্যদের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করুন।

আমার বিশ্বাস, আন্তরিক ইচ্ছা, সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিশ্রম করলে খুব সাধারণ জায়গা থেকেও অনেক দূর যাওয়া সম্ভব।

অনুলিখন: জান্নাতুল ফাতেমা

*লেখাটি ২০২৬ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় আগস্ট সংখ্যায় প্রকাশিত

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>