জাতীয়

ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা হলে প্রতিহত করা হবে

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ধর্মকে পুঁজি করে সস্তা রাজনীতির মাধ্যমে দেশে বিভাজন কিংবা সামাজিক অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে ধর্মবিশ্বাস বা রাজনৈতিক দর্শন যা-ই হোক, সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করা হবে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে যশোর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত র‌্যালির আগে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শহরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্মবিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে কোনো মানুষ যেন পিছিয়ে না পড়ে, আবার কেউ যেন অতিরিক্ত সুবিধাও না পায়—সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়। মানুষকে মানুষ হিসেবে চিনতে শিখেছি। এই শিক্ষা আমার রাজনৈতিক দল বিএনপি দিয়েছে। এ কারণে ক্ষমতায় থাকলেও আমরা মানুষের পাশে থাকি, ক্ষমতায় না থাকলেও মানুষের পাশে থাকি। জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ধর্ম নিছক বিশ্বাস ও চেতনার বিষয়; রাজনীতির মাঠে অনৈতিক সুবিধা লাভের হাতিয়ার হতে পারে না। জন্মাষ্টমী কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার দিন। তিনি বলেন, দ্বাপর যুগের অন্ধকারাচ্ছন্ন ও পাপাচারময় সময়ে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল। মথুরার কংসের কারাগারে বন্দিদশার সেই কঠিন সময়ে তার জন্ম আমাদের এই বার্তা দেয়—রাতের অন্ধকার যত গভীরই হোক, ন্যায়ের পথ ধরে মুক্তির আলো আসে। এটাই পরম সত্য। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজ থেকে সত্য ও বিশ্বাস হারিয়ে গেলেও আশা হারাবে না। সত্য উন্মোচন, পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা সৃষ্টি এবং ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই আশার আলো জ্বালাতে হবে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানও আমাদের সেই শিক্ষা দিয়েছে। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, কারও ধর্মবিশ্বাস কিংবা রাজনৈতিক দর্শন বিবেচ্য নয়; বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী সবার পরিচয় বাংলাদেশি। তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে এই যশোরের মাটিতে আমার যতখানি অধিকার রয়েছে, আপনাদেরও ঠিক ততখানি অধিকার রয়েছে।’ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও যশোরের পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস, রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন যশোরের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দজী মহারাজ প্রমুখ। মিলন রহমান/কেএইচকে 
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>