বিজ্ঞাপন
চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আমদানি করা ফল। ফলে কুমিল্লার বাজারে বিদেশি ফলের বদলে তুলনামূলক কম দামের দেশি ফলে ঝুঁকছেন ক্রেতারা। আপেল, মালটা, আঙুর, আনার, নাশপাতি, কমলা, রামবুটান ও এভোকাডোর মতো বিদেশি ফলের বিপরীতে তরমুজ, সাম্মাম, পেঁপে, ড্রাগন, পেয়ারা, আম, জাম্বুরা, বরই, আমড়া ও আখসহ বিভিন্ন দেশি ফল কিনছেন তারা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার খুচরা ফলের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি করা ফলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় আগের তুলনায় কিছুটা দাম বেড়েছে। অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামের কারণে দেশি ফলের বিক্রি বেড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন দেশি ফলের দামও কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
শনিবার নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আপেল বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩৬০ টাকা, সবুজ আপেল ৩৮০ টাকা এবং চায়না আপেল ৩০০ টাকা দরে। এক সপ্তাহ আগে কুমিল্লার বাজারে আপেল বিক্রি হয়েছে ২৯০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া মালটা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি দরে। এ ফলের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আঙুরের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লাল আঙুর আকারভেদে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং সবুজ আঙুর ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কমলার দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ৩৮০ টাকা হয়েছে। আনার বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। নাশপাতির দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩৫০ টাকা। রামবুটান ও কাটলিচু বিক্রি হচ্ছে কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে। এভোকাডোর দাম কেজি ১ হাজার ৬০০ টাকা। খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে
অন্যদিকে দেশি কলা বিক্রি হচ্ছে ডজন ৬০ থেকে ১০০ টাকা। পাকা পেঁপে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এ ফলের দাম ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এছাড়া তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। ড্রাগনের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা। আকারভেদে ডাব বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২২০ টাকা পিস।
পেয়ারার দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা। আমড়ার দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। কাটিমন আমের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৮০ টাকা। এছাড়া সাম্মাম বিক্রি হচ্ছে কেজি ৮০ টাকা। জাম্বুরা ৩০ থেকে ৫০ টাকা পিস। পেয়ারা ফল ও টক বরই বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫৫০ টাকা দরে। বড় আখ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাঠি এবং আনারস ৮০ থেকে ১০০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।
কুমিল্লা নগরীর ফল বিক্রেতা কান্দিরপাড় এলাকার ফারুক এন্টারপ্রাইজের আব্দুল কাদের বলেন, গত ১৫ বছর ধরে এই এলাকায় ফল বিক্রি করি। বর্তমান সময়ের মতো কখনো ফল বিক্রিতে ভাটা পড়েনি। আগে ফলের দাম বেশি হলেও বেচা-বিক্রি ছিল। বর্তমানে দাম কিছুটা বৃদ্ধি সত্য, তবে বিক্রি নাই বললেই চলে। গত ২ ঘণ্টা এক কেজি ফলও বিক্রি করতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশি ফল বিক্রি করছেন, তারা আমাদের থেকে ভালো আছেন। কারণ দেশে ফলের দাম বিদেশি ফলের তুলনাই কম।
লাকসাম রোডের ফল বিক্রেতা মো. মনু মিয়া বলেন, ফল ব্যবসায় বিক্রি হলে লাভ, না হয় লোকসান গুনতে হয়। বর্তমানে ফল বিক্রি কম হচ্ছে। তবে কি কারণে বিক্রি কমেছে বুঝতে পারছি না। আমার ধারণা, মানুষের কাছে টাকা নেই, হয়ত এই কারণে বিক্রি কমেছে।
আব্দুল হাই নামে এক ক্রেতা বলেন, ফলের বাজারে দেখছি অস্থিরতা। এক দোকান থেকে অন্য দোকানে একটি ফলের দাম অন্তত ৩০-৭০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। বাজার মনিটরিং না থাকার কারণে এমনটাই হচ্ছে বলে আমি মনে করি।
জান্নতুল মাওয়া নামে এক নারী ক্রেতা বলেন, অসুস্থ এক সহকর্মীর জন্য ডালিম ও আপেল কিনেছি। রোগীর জন্য এসব ফল উপকারী হলেও দাম অনেক বেশি। বর্তমান সময়ে এসব ফল নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে। সরকারের উচিত এ বিষয়ে নজর দেওয়া।
মো. কামাল উদ্দিন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেশি ফল সংগ্রহ করে কুমিল্লা নগরীতে বিক্রি করছি। প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার ফল বিক্রি করি। এতে এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যবসা হয়। দেশি ফলে মানুষের আকর্ষণ বেশি।
বাজার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া বলেন, ফল কিনতে গিয়ে কোনো ভোক্তা প্রতারিত হলে অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দোকানদারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত নিজ উদ্যোগে বাজার মনিটরিং করি। নগরীর ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে, মূল্য তালিকা না থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাহিদ পাটোয়ারী/কেএইচকে
বিজ্ঞাপন