ব্রেকিং নিউজ
গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি, মূল্যস্ফীতিতেও স্বস্তি: মাহদী আমিন বাড্ডা-বনানীতে অটোরিকশাচালক ও গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বিভাগে নতুন সভাপতি নিয়োগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের আহ্বান যুবদলের বুকের দুধ শ্বাসনালীতে আটকে প্রাণ গেল ৮ মাসের শিশুর বেশির ভাগ অপরাধের মূলে রয়েছে মাদক–জুয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানে ১৫ মিটার গভীর কূপে পড়ে গেল শিশু, জীবিত উদ্ধার খুলনার হারানো গৌরব ফেরাতে চাই: তুষার ইমরান মেট্রোরেলের পিলারে ফাটলের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা খেলাধুলায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে যবিপ্রবিতে প্রতিযোগিতার আয়োজন
জাতীয়

নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় আরও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ওয়াশ ব্যবস্থা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি রয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোকে পরিমাপযোগ্য কর্মসূচিতে রূপ দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন অধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইকুইটি অ্যান্ড জাস্টিস এ সভার আয়োজন করে। সভায় সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, সহিংসতা থেকে সুরক্ষা, জলবায়ু ঝুঁকি এবং বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতি ও ঘাটতি তুলে ধরা হয়। আরও পড়ুন শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশে শুরু হচ্ছে ‘দোলন ক্রিয়েটিভ ভিশন’ মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাজেট বরাদ্দ, স্কুল ফিডিং, স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত উদ্যোগ, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সম্প্রসারণ এবং প্রতিবন্ধী ভাতা নিয়ে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় আরও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে নারী, শিশু, কিশোরী ও তরুণদের বিষয়গুলো অনেক সময় তুলনামূলক কম গুরুত্ব পায়। এ কারণে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে ১৪টি রাজনৈতিক দলের কাছে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, নারী ও শিশুর জন্য বিনিয়োগকে দয়া বা অনুদান হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটিকে অধিকারভিত্তিক ও কৌশলগত উন্নয়ন অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, নারী ও শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে আর্থিক সক্ষমতা, অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও সুশাসন গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের শুধু সমতা নয়, ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বছরের পর বছর নীতিগত ঘাটতির কারণে তারা পিছিয়ে রয়েছেন। তিনি পিংক বাসের মতো উদ্যোগ নিয়মিত পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এসব উদ্যোগ হয়রানি কমাতে পারছে কি না, নাকি নতুন কোনো বাধা তৈরি করছে—তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ বলেন, দলীয় কাঠামো, মনোনয়ন প্রক্রিয়ার বাধা, নির্বাচনি ব্যয় ও অনলাইন হয়রানির কারণে নারীর সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এখনো সীমিত। রাজনীতিতে নারীর ৩৩ শতাংশ অংশগ্রহণের লক্ষ্যও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। আরও পড়ুন মতবিনিময় সভায় বক্তারা / নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার অন্যতম বড় কারণ জেন্ডার বৈষম্য জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ড. মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় রাজনৈতিক ঐক্য, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, শিশুর যত্নে সহায়তা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দলকে শূন্য সহনশীলতার অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংরক্ষিত আসনের এসপি নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি বলেন, নারী ও শিশুরা ঘরে, জনপরিসরে ও অনলাইনে এখনো অনিরাপত্তার মুখোমুখি হচ্ছেন। ডিপফেকের মাধ্যমে হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং সাইবার আইনে আরও স্পষ্ট সুরক্ষার দাবি জানান তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষিত আসন ও পিংক বাসের মতো সাময়িক ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। তবে লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে নারীরা নিরাপদে, সরাসরি ও মর্যাদার সঙ্গে অংশ নিতে পারবেন। আরও পড়ুন থামছেই না নারী-শিশু নির্যাতন, প্রতি মাসে গড়ে ১৭৭৮ মামলা তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়ানোর কাজ চলছে। কিশোরীদের বিনামূল্যে স্যানিটারি সামগ্রী ও সচেতনতামূলক শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। হাওর ও দুর্গম এলাকার শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়নেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী আইন দ্রুত প্রণয়ন, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম প্রতিরোধে শক্তিশালী পরিকল্পনা, শিক্ষাক্রম সংস্কার, স্বাস্থ্যবিমা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ওয়াশ ব্যবস্থা এবং ইশতেহারভিত্তিক বাজেট প্রণয়নের সুপারিশ করেন বক্তারা। ইএইচটি/এমএমকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>