ব্রেকিং নিউজ
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ‘গ্লোবাল ইনফ্রা-এস্টেট কনক্লেভ’  একটুর জন্য হলো না ইতিহাস, ভারতের কাছে জাপান হারল ২ রানে চুয়েটে উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ আজ কিছুটা বাড়ল তেলের দাম, ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০২ ডলার ‘যাদের কাছে ধানের শীষে ভোট চেয়েছি, তাদের কাছে মাফ চাই’—পোস্ট দিয়ে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কৃত সোনিয়ার নাগরিকত্ব মামলা আবার শুরুর নির্দেশ, শাসক দলের হাতে ‘নতুন অস্ত্র’ ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি গ্যাস কূপ খননের টার্গেট সরকারের ৯৯৯-এ কল করে অভিযোগ করায় স্কুলছাত্রীর ৫ দাঁত ভেঙে দিল বখাটে সিরাজগঞ্জে পারিশ্রমিক চাওয়াকে কেন্দ্র করে রাঁধুনিকে মারধর, পুলিশ হেফাজতে শিক্ষার্থী নিয়ামত কেন হারিয়ে যায়, কীভাবে ধরে রাখব
জাতীয়

নিয়ামত কেন হারিয়ে যায়, কীভাবে ধরে রাখব

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

মাহমুদ হাসান ফাহিম

জীবন, সুস্থতা, জ্ঞান, পরিবার, সন্তান, জীবিকা, নিরাপত্তা, সময়, সম্মান—এসবের প্রতিটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। অনেক সময় এসব নিয়ামত এতটাই স্বাভাবিক বিষয় মনে করে যে এগুলোর প্রকৃত মূল্যই উপলব্ধি করি না। অথচ এসব নিয়ামত কত দিন থাকবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

আল্লাহ–তাআলা মানুষের অবস্থা পরিবর্তন করেন না। মানুষ নিজে নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করে ফেলে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে।’ (সুরা রাদ, আয়াত : ১১)

নিয়ামত কী

শুধু অর্থসম্পদই নিয়ামত নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি বস্তুই নিয়ামত। চোখে দেখা, কানে শোনা, কথা বলতে পারা, সুস্থ শরীর, নিরাপদে ঘুমানো, পরিবারকে কাছে পাওয়া, হালাল উপার্জনের সুযোগ, সময় পাওয়া, জ্ঞান অর্জনের সুযোগ—সবই নিয়ামত।

আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কাছে যে নিয়ামত রয়েছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৫৩)

অর্থাৎ নিয়ামত পাওয়া যেমন আল্লাহর অনুগ্রহ, তেমনি নিয়ামত ধরে রাখার জন্যও প্রয়োজন কৃতজ্ঞতা, আনুগত্য ও সৎ জীবনযাপন। মানুষের কিছু কাজ এমন আছে, যা তার হাতে থাকা নিয়ামতকে বিপন্ন করে তোলে। পাপ, অকৃতজ্ঞতা, জুলুম, অহংকার ও আল্লাহর অবাধ্যতা যখন জীবনে প্রবেশ করে, তখন নিয়ামতের বরকত কমে যেতে থাকে।

অকৃতজ্ঞ হওয়া

নিয়ামত হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলো অকৃতজ্ঞতা। মানুষ যখন কোনো নিয়ামত পাওয়ার পর আল্লাহকে ভুলে যায় এবং মনে করে—‘এটা আমি নিজের যোগ্যতায় অর্জন করেছি’—তখন সে নিয়ামতের প্রকৃত মালিককে অস্বীকার করার মতো আচরণ করে।

আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে অবশ্যই আমি তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৭)

কৃতজ্ঞতা শুধু মুখে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলার নাম নয়। নিয়ামতদাতাকে চেনা, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং নিয়ামতকে তাঁর পছন্দের কাজে ব্যবহার করাই হচ্ছে প্রকৃত কৃতজ্ঞতা।

গুনাহ করা

গুনাহ মানুষের রিজিক ও জীবনের ওপর প্রভাব ফেলে। এতে জীবনের বরকত নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় পাপ করার পরও সম্পদ থাকে, কিন্তু তাতে শান্তি থাকে না। ঘর থাকে, কিন্তু ভালোবাসা থাকে না। শরীর থাকে, কিন্তু সুস্থতা থাকে না। অর্থ থাকে, কিন্তু তৃপ্তি থাকে না। সময় থাকে, কিন্তু সময়ের বরকত থাকে না। এটা হচ্ছে নিয়ামত থাকার মধ্যেও নিয়ামত হারিয়ে ফেলা।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা তার গুনাহের কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪০৯৪)

অহংকার ও আত্মতুষ্টি

ইবলিসের পতনের মূল কারণগুলোর একটি ছিল অহংকার। সে আল্লাহর নির্দেশের সামনে নিজের যুক্তিকে বড় মনে করেছিল। নিজের ধনসম্পদ, জ্ঞান ও মর্যাদায় আত্মতুষ্ট হয়ে অহংকার করাই পতনের কারণ।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭৫)

আল্লাহকে ভুলে যাওয়া

বাহ্যিকভাবে সবকিছু থাকার পরও মানুষ অশান্তিতে ভোগে। এর বড় কারণ হলো আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলা। হৃদয়ের প্রকৃত প্রশান্তি সম্পদ, বাড়ি, গাড়ি বা ক্ষমতার মধ্যে নেই। আল্লাহর স্মরণেই রয়েছে মানুষের অন্তরের প্রশান্তি। তাই মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যায়, তখন সেসব নিয়ামত তার কাছে ক্রমে অর্থহীন হয়ে পড়ে।

আল্লাহ বলেন, ‘আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জন্য জীবন হবে সংকীর্ণ।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ১২৪)

গুনাহকে ছোট মনে করা

বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা কিন্তু ছোট ছোট গুনাহকে তুচ্ছজ্ঞান করে তাতে লিপ্ত হওয়া মারাত্মক ভুল। গুনাহ মানেই তো আল্লাহ–তাআলার অবাধ্যতা, এখানে ছোট-বড় পার্থক্য নেই। ছোট ছোট গুনাহ জমা হতে হতে মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা ছোট ছোট গুনাহ থেকে বেঁচে থেকো। কারণ, ছোট গুনাহ ওই সব পথিকের মতো, যারা কোনো এক উপত্যকায় যাত্রাবিরতি করে। তারপর প্রত্যেকে কাঠি সংগ্রহে নেমে পড়ে। এভাবে তারা সবাই মিলে পর্যাপ্ত কাঠি সংগ্রহ করে এবং তা দিয়ে নিজেদের রুটি বা খাবার রান্না করতে সক্ষম হয়। নিশ্চয়ই যখন ছোট গুনাহ জমতে থাকে এবং মানুষ যখন তা তুচ্ছ মনে করে, তখন তা ব্যক্তিকে ধ্বংস করে দেয়।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২২৮০৭; সহিহুল জামে, হাদিস: ২৬৮৭)

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়; এর সঙ্গে রিজিক ও জীবনের বরকতের সম্পর্ক রয়েছে। আত্মীয়ের সম্পর্ক নষ্ট করা, সামান্য বিরোধকে কেন্দ্র করে বছরের পর বছর সম্পর্ক ছিন্ন রাখা—এসব মারাত্মক অপরাধ। এতে জীবিকা সংকীর্ণ হয়।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ু বৃদ্ধি করা হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৬, আল আদাবুল মুফরাদ: ৫৬)

কীভাবে নিয়ামত ধরে রাখা যায়?

মানুষ সাধারণত নিয়ামত হারানোর পর সচেতন হয়। কিন্তু একজন বুদ্ধিমান মানুষ বিপদ আসার আগেই সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে। সর্বাবস্থায় সে নিয়ামতের কদর করে। তাই নিয়ামত ধরে রাখার জন্য প্রথম করণীয় হচ্ছে শুকরিয়া আদায় করা। 

প্রতিদিন নিজের জীবনের নিয়ামতগুলো স্মরণ করা। কী পেয়েছি—তার হিসাব করার পাশাপাশি কী হারায়েছি, সেটাও ভাবা।

নিয়ামত পাওয়া যেমন পরীক্ষা, নিয়ামত হারানোও পরীক্ষা। আল্লাহ বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতি দিয়ে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৫)

নিয়ামতের প্রকৃত মালিক আল্লাহ। তিনি চাইলে অল্পকে অনেক করে দিতে পারেন, আবার অনেককেও অল্প করে দিতে পারেন। তিনি চাইলে বিপদ দূর করতে পারেন, আবার পরীক্ষা হিসেবে কিছু সময়ের জন্য নিয়ামত ফিরিয়েও নিতে পারেন।

সুতরাং আমাদের প্রার্থনা হওয়া উচিত—‘হে আল্লাহ, আপনি আমাদের যে নিয়ামত দিয়েছেন, তার জন্য আমাদের কৃতজ্ঞ বানান। আপনার অবাধ্যতা থেকে আমাদের রক্ষা করুন। আমাদের সবকিছুতে বরকত দিন। আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন এবং আপনার দেওয়া নিয়ামতগুলো আমাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ বানিয়ে দিন।’

  • মাহমুদ হাসান ফাহিম: শিক্ষক, বাইতুল আকরাম মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স, গাজীপুর

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>