২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শর বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং বা অনুসন্ধান বা তদন্ত কমিটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। চার শর বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত এসব ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত বা প্রত্যাহার করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকার্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ রুল দেন। সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী আবেদনকারী হয়ে ৬ সেপ্টেম্বর রিটটি করেন।
এর আগে গত ৪ আগস্ট ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে একটি অনলাইন পোর্টালে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক। বিষয়টি সমন্বয় করা হয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে খোলা সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে।’
ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য অনুসন্ধান বা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং শিক্ষকদের নোটিশ দিয়েছে উল্লেখ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার বরাবর গত ৩১ আগস্ট আবেদন পাঠান রিট আবেদনকারীরা।
ওই আবেদনে যাচাইহীন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকারি বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত ও চলমান তথ্য অনুসন্ধান বা তদন্ত কমিটিগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ধরনের সব কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করার দাবি জানানো হয়। এতে ফল না পেয়ে আবেদন নিষ্পত্তিতে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে এবং কমিটি গঠন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী রিটটি করেন। তাঁরা হলেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, এম লিটন আহমেদ, রাশেদুল হক খোকন ও বিপ্লব কুমার দাস।
আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসীম সরকার, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন ও শিহাব উদ্দিন খান।
পরে আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, কোনো অনলাইন পোর্টলের খবরের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং বা অনুসন্ধান বা তদন্ত কমিটি গঠনের কোনো বিধান ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে নেই। কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যদি থাকে, তাহলে তা তদন্তের এখতিয়ার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনের নেই। কারণ, এটি ফৌজদারি অপরাধ। এ জন্য ফৌজদারি মামলা করার সুযোগ রয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যক্তির মৌলিক অধিকার, যা সংবিধানে স্বীকৃত। সুতরাং কোনো শিক্ষক যদি স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করে থাকেন, তাহলে সে মত প্রকাশের কারণে সংবিধানস্বীকৃত তাঁর পেশার অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না। তাই ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং বা অনুসন্ধান বা তদন্ত কমিটি গঠন সংশ্লিষ্ট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধান সমর্থন করে না। মূলত এসব যুক্তিতে রিটটি করা হয়।
যাচাই ছাড়া শুধু ওই অনলাইন পোর্টালে গত ৪ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং বা তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত এবং পরবর্তী সময়ে নেওয়া ব্যবস্থা প্রত্যাহার চেয়ে রিট আবেদনকারীদের আবেদনটি (৩১ আগস্ট করা) নিষ্পত্তিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শর বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই সংবাদের ভিত্তিতে আইনি কর্তৃত্ব ছাড়া গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং বা অনুসন্ধান বা তদন্ত কমিটি এবং পরবর্তী সময়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলো কেন আইনগত কর্তৃত্ববর্হিভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শর বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত বা প্রত্যাহার করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস।
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>