বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত না হলে তারা পিছিয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে শিক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু সংগঠন-সম্পর্কিত তথ্যই নয়, বিশ্ব রাজনীতি, দেশীয় রাজনীতি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কেও জানতে পারবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যান কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন এবং চারটি তথ্যবহুল বুকলেট বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যুক্ত থাকা জরুরি। তা না হলে তারা প্রযুক্তিগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়বে। ছাত্রদলের এ ডিজিটাল উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের তথ্য ও জ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমে আরও সম্পৃক্ত করবে।
অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছিরউদ্দিন নাছির, সিনিয়র সহসভাপতি আফসান ইয়াহিয়া, ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, ছাত্রদল একটি মহতী উদ্যোগ নিয়েছে। গত ১৬-১৭ বছরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন ও মামলা দেওয়া হয়েছে। এমনকি সংগঠনের অনেক নেতার নামে ৩০টিরও বেশি মামলা ছিল। তাদের অনেকে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি তো দূরের কথা, কলেজের শিক্ষার্থীও ছিলেন না। অর্থাৎ কলেজ পর্যায় থেকেই তারা রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যে একটি ছাত্রসংগঠনের প্রধান দায়িত্ব- শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কর্মসূচি নেওয়া- কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই জায়গা থেকে ছাত্রদলের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে তিনি শিক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখছেন।
রিজভীর ভাষ্য, শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করা। শিক্ষা যদি প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত না হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে এবং নানা ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশে যখন ব্যাপক নিরক্ষরতা ছিল, তখন প্রতারক ও প্রতারক চক্র মিথ্যা ও জাল দলিল তৈরি করে দরিদ্র মানুষের জমিজমা দখল করে নিত। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাক্ষরতা অভিযান শুরু করেছিলেন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, একইভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রযুক্তি শিক্ষার পাশাপাশি সভ্যতারও একটি অংশ এবং এর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত থাকা জরুরি। শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত না হলে তারা প্রযুক্তিগতভাবে নিরক্ষর হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে পড়তে না দেওয়ার লক্ষ্যেই ছাত্রদল অনেক আগে থেকেই এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে আসছে। বর্তমানে সেই উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শুধু সংগঠন-সম্পর্কিত তথ্যই থাকবে না; বিশ্ব রাজনীতি, দেশীয় রাজনীতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উত্থান-পতনের তথ্যও থাকবে। এসব তথ্য রাজনীতির শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক শিক্ষার মান বাড়াতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, ছাত্রদলের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়বে এবং সারা দেশে সংগঠনের নেটওয়ার্কের আওতাধীন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোকে এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
রিজভী বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মুহূর্তেই প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন। প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ছাত্ররাজনীতিকে আরও এগিয়ে নেবে।
ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্ররাজনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘এই স্টুডেন্ট অ্যাক্টিভিজম হচ্ছে এটাই হলো তার প্রাণশক্তি।’
তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এভাবেই স্টুডেন্ট অ্যাক্টিভিজম গড়ে উঠেছে। উন্নত দেশ হোক কিংবা অনুন্নত দেশ- প্রত্যেকটি দেশেই শিক্ষাসংক্রান্ত সংকটকে দাবি হিসেবে কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করে ছাত্ররা যখন ক্যাম্পাসে অথবা ক্যাম্পাসের বাইরে বেরিয়ে এসেছে, তখনই ছাত্ররাজনীতি ফুটে উঠেছে।
রিজভী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষা শাসনের’ প্রশ্নে প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮৯৫ সালে ব্যাপক আন্দোলন তৈরি হয়েছিল। ওই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে মস্কো বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষা শাসন’ নিশ্চিত করে। তাদের অনুসরণ করে এবং তাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে রাশিয়া ও ইউরোপের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ‘শিক্ষা শাসনের’ আন্দোলন জোরদার হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ছাত্ররাজনীতির বিভিন্ন দিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ফুটে উঠবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রে যখন ভয়ংকর রকম ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচার ও একনায়কেরা চেপে বসে, তখন কিছুটা স্পেস থাকে ক্যাম্পাসগুলোতে, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে।
ভেনিজুয়েলার উদাহরণ দিয়ে রিজভী বলেন, ৫০-এর দশকে যখন একনায়কেরা ভেনেজুয়েলা শাসন করছিলেন, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে এবং ছাত্ররাজনীতি খুব তীব্র হয়েছে। ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্র আন্দোলনের কারণে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসের বাইরে অনুপ্রাণিত হয়েছে এবং ফ্যাসিস্ট বা একনায়কের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর ‘ভূরি ভূরি’ প্রমাণ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তব্য, পৃথিবী যখন এগোয়, সভ্যতা যখন এগোয় এবং গণতন্ত্রের বোধ যখন এগোয়, তখন ছাত্ররাজনীতির কারণেই সেটি এগিয়েছে।
উপমহাদেশে ছাত্ররাজনীতির ইতিহাস তুলে ধরে রিজভী বলেন, প্রথম কলেজ হিসেবে হিন্দু কলেজের নাম আসে, যা পরবর্তীতে প্রেসিডেন্সি কলেজ নামে প্রতিষ্ঠিত হয় কলকাতায়। ১৮৩৫ অথবা ১৮৪৫ সালের দিকে সেখানে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। ফরাসি বিপ্লবের চিন্তা-চেতনা তাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল। উপনিবেশবিরোধিতা এবং মানুষের অধিকারের প্রশ্নে সেখানে তীব্র আলাপ-আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছিল।
তিনি বলেন, তখন বর্তমান সময়ের মতো ‘ডেমনস্ট্রেটিভ’ বিষয় ছিল না। কলকাতায় একটি টাওয়ার ছিল। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে সেখানে ব্রিটিশ পতাকা ‘ইউনিয়ন জ্যাক’ ছিল। প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্ররা সেখানে গিয়ে ইউনিয়ন জ্যাক নামিয়ে দিয়ে ‘সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা’- ফরাসি বিপ্লবের যে পতাকা ও বাণী, সেটি তুলে দিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, বলা হয়, এই সময় থেকেই এই দেশ ও উপমহাদেশে ছাত্ররাজনীতির শুরু।
রিজভী বলেন, ‘এই যে অধিকারের আন্দোলন, জনগণের অধিকার আন্দোলন, মানুষের বাক্স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা এবং একাডেমিক ফ্রিডম- সবগুলোই কিন্তু ছাত্ররাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে উঠেছে।’
তারমতে, ছাত্ররাজনীতি একটি মূল্যবান বিষয়। এ বিষয়ে আরও জানাশোনা ও পড়াশোনা করা দরকার। পৃথিবীর আজকের যেসব বিষয় মানুষকে আকৃষ্ট করে- নাগরিক স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্ন মতাবলম্বীরাও সংগঠন গড়ে তুলতে পারে- এসব পৃথিবীব্যাপী বিপ্লব ও ফরাসি বিপ্লবকে কেন্দ্র করে উৎসাহিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অতীত ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এই ছাত্রসংগঠনের একটি অতীত গৌরব তৈরি হয়েছে। ছাত্রদলের নেতৃত্বে এরশাদের মতো ‘ভয়ংকর একনায়কের’ পতন হয়েছে এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের সংগ্রাম বিজয়ী হয়েছে।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রেরণায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণ ছাত্রদের ভোট ও সমর্থন নিয়ে পূর্ণ প্যানেলে অথবা অল্প কিছু পদ ছাড়া বিজয়ী হয়েছে। তার ভাষ্য, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল— মেধাবীদের প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং তৎকালীন বুয়েটসহ যে প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল, প্রত্যেকটিতেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিজয়ী হয়েছে।
রিজভীর মতে, এর কারণ ছিল বেগম খালেদা জিয়ার সাহসী ও বীরোচিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব, গণতন্ত্রের প্রতি তার কমিটমেন্ট এবং ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শন।
তিনি বলেন, ‘এত সত্য, এত অমোঘ এবং এত বাস্তব ছিল, যেটা সাধারণ ছাত্ররা গ্রহণ করেছিল— যে না, অন্যরা যাই বলুক, জিয়াউর রহমানের এই জাতীয়তাবাদী দর্শনই হচ্ছে সত্য।’
এই আদর্শ ও দর্শন ধারণ করেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল পথ শুরু করে এগিয়ে গেছে এবং আজকের অবস্থায় উপনীত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘কোন পরিস্থিতি যেটাই হোক না কেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সেই আদর্শের ওপর ভিত্তি করে আবার এগোবে, আবার এগিয়ে যাবে। আর যে সত্য এবং রাজনৈতিক দর্শন তারা ধারণ করে, এটা জনগণের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত।’
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এটি তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং ‘বাঙালি বাঙালি’ বলে চিৎকার করেছেন। কিন্তু একটি দেশের ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্ব করতে হলে এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতি করতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই। এত কিছুর পরও পাসপোর্টে ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি রাখতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ছাত্রদলের অতীত গৌরব এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে শক্তিশালী ও সুরক্ষিত করেছেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র নিশ্চিত করেছেন— এমন ব্যক্তিদের অবদান সাধারণ ছাত্রসমাজের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে মনে করেন রিজভী।
তিনি বলেন, ‘এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতায় ছাত্রদলের অতীত গৌরব এবং এই দেশের যারা সত্যিকার অর্থে সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতাকে শক্তিশালী করেছেন, সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রকে যারা নিশ্চিত করেছেন, তারা যাতে তাদের অবদানগুলো জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সাধারণ ছাত্রসমাজের কাছে তুলে ধরতে পারবে।’
অনুষ্ঠানে চারটি বুকলেট তৈরির উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাদের যে বুকলেটগুলো তৈরি করতে বলেছিলেন, তারা সেগুলো তৈরি করেছেন। সেখানে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা রয়েছে।
জুলাই আন্দোলনে নিহতদের সংখ্যা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে রিজভী বলেন, ‘এখন একক ক্রেডিট দেওয়ার চেষ্টা করা হয় জুলাই আন্দোলনে।’ তার দাবি, ১৪২ জনের আত্মাহুতি এবং বিএনপি ও শ্রমিক সংগঠনসহ সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫০ জনের আত্মাহুতিকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে’ তুচ্ছ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু জাতীয়তাবাদী দল, তার নেত্রী বেগম জিয়া, তার নেতা তারেক রহমান- তাদের যে জাতীয় নেতৃত্বের অস্তিত্ব এবং জনগণের মধ্যে তাদের যে অস্তিত্ব এবং শক্তি, তাদের যে প্রভাব- এটা সংঘটিত ছিল বলেই জুলাই বিপ্লবটা সাফল্যমণ্ডিত হয়েছে।’
রিজভী বলেন, ‘সুতরাং এটাকে অবজ্ঞা করার কিছু নেই। আর এই বিপ্লবে যে ১৪২ জন টাটকা তরুণ, তাজা প্রাণ ঝরে গেল, যারা বলে যে এখানে কোনো অবদান নেই, তারা এই শহীদদের রক্তকে অপমান করলেন।’
কেএইচ/এমএএইচ/
বিজ্ঞাপন