ব্রেকিং নিউজ
উৎসব কি এখন বাণিজ্য, নাকি সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট? ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন জাপানে ম্যানহোল থেকে তৈরি হলো পানির ফোয়ারা নির্বাচনে জিতলে মার্কিনিদের ৫ হাজার ডলার দেবেন ট্রাম্প মানিকগঞ্জে দুই মিষ্টির কারখানাকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা জেলি পুশ করা ১০৫ কেজি চিংড়ি জব্দ, ৩ আড়তকে জরিমানা রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে আগুন, সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাসকে 'ভেড়া' বলে আক্রমণ, বিগ বসে তুমুল অশান্তি Rohit Sharma: ইন্ডোর সেট আপেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের জন্য প্রস্তুতি শুরু করলেন রোহিত মুক্তিপণ চেয়ে স্ত্রীকে ফোন, পরে বন বিভাগের কটেজে মিললো ব্যবসায়ীর খোঁজ
জাতীয়

ফ্যাসিবাদী সময়ে বিরোধী মতের আশ্রয় ছিল ডিআরইউ: রিজভী

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ফ্যাসিবাদী সময়ে বিরোধী মত প্রকাশের পরিসর সংকুচিত হয়ে গেলেও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) কিছুটা আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে বিকশিত ও শক্তিশালী করতে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই। গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করলে সমাজে সন্ত্রাস ও ঘুষ কমবে এবং সমাজ আরও পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় এসব কথা বলেন রিজভী। রিজভী জানান, সংবাদ সংগ্রহ করে নিজ নিজ গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ করেন—এমন সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি। সংগঠনটির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুঃখের দিনের, সংগ্রামের দিনের, আনন্দের দিনের সাথী—তাদের সবাইকে আমি আন্তরিক প্রীতি জানাচ্ছি, শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’ রিজভী বলেন, ‘আমাদের দলীয় কার্যালয়ে এখানে নানা সময়-অসময়ে আমাদের যখন কোনো আশ্রয় ছিল না, তখন আমরা মনে করতাম ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আমাদের একটি আশ্রয়ের জায়গা।’ তিনি বলেন, সাংবাদিকদের অনেকে তাদের দিন-রাতের কার্যক্রম ধারণ করতেন এবং তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল।কমপক্ষে একটা চা খাওয়ার আমন্ত্রণের নিশ্চয়তা ছিল জায়গাটিতে এসে। বিএনপির এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ে বিরোধী মত প্রকাশের পরিসর এত সংকুচিত হয়েছিল যে যারা বিরোধী মত প্রকাশ করতেন, তারা কোথায় দাঁড়াবেন, কোথায় কী বলবেন—সে জায়গা ছিল না। তার ভাষায়, ‘সেটা কিছুটা ছিল এই ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে।’ তবে অন্য প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে মন্তব্য করবেন না জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘আপনারা জানেন, আরও প্রতিষ্ঠান আছে,  প্রেসক্লাব আছে।’ এরপর নিজের গ্রেফতারের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী জানান, জুলাই আন্দোলনে ১৯ জুলাই তিনি একবার প্রেসক্লাবের ভেতর থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তিনি জানান, প্রেসক্লাবের তৎকালীন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল—এমন কথা তিনি অনেকের কাছ থেকে শুনেছেন। তবে তিনি বিষয়টির সত্যতা জানেন না বলেও উল্লেখ করেন। রিজভী বলেন, একসময় প্রেসক্লাব ভিন্নমত পোষণকারী এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় থেকে সরকারের ভিন্নমত পোষণকারীদের আশ্রয়ের জায়গা ছিল। তার অভিযোগ, পরে সেই প্রেসক্লাব ‘ফ্যাসিবাদের আশ্রয় কেন্দ্র’ হয়ে গিয়েছিল এবং সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। আরও পড়ুন নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে কাজ করছে বিএনপি: রিজভী তিনি বলেন, ‘এমন একটা সময় অতিক্রম করেছিলাম, যে সময়টি ছিল ঘোর কৃষ্ণবর্ণ অন্ধকার সময়। গণতন্ত্রের ন্যূনতম মূল্যবোধগুলো তারা কখনোই রক্ষা করেনি।’ আরও পড়ুন আসিফ-পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা বদল, সিটি নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ ১৯৭৫ সালের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, তখন শেখ মুজিবুর রহমানের পর শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবে শেখ ফজলুল হক মনির নাম উল্লেখ করা হতো। তিনি বলেন, শেখ ফজলুল হক মনি এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘আমি ভায়োলেন্সে বিশ্বাস করি।’ রিজভীর ভাষ্য, ‘এই ভায়োলেন্সে বিশ্বাস করে এই দলটি যখন এই প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে, তারা তাদের ডিএনএর মধ্যে যে ফ্যাসিজম, সেটাকে কখনো পরিত্যাগ করেনি।’ ১৯৭৫ সালে বাকশাল করা, সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া, কথা বলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা স্তব্ধ করে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া ছিল, গত ১৭ বছরে তার নতুন সংস্করণ দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর দেখলাম অনেক টেলিভিশন ছিল, অনেক পত্রিকা ছিল। কিন্তু কথা বলা হবে, মত প্রকাশ হবে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির, একটি রাজনৈতিক দলের। আর যারা এর বাইরে চেষ্টা করেছেন, তাদের ভয়-গুমের শিকার হতে হয়েছে, না হলে কারাগারের মধ্যে থাকতে হয়েছে।’ রিজভীর ভাষায়, সেই পরিস্থিতি ছিল ‘ভয়াবহ’। তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান না হলে তারা আরও বেশি দিন ক্ষমতায় থাকলে কী হতো, তা তিনি জানেন না। রিজভী অভিযোগ করেন, ‘তখন মিডিয়াগুলো ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণে, টকশো তাদের নিয়ন্ত্রণে, টকশো হোস্ট যারা করছেন তাদের নিয়ন্ত্রণে। সামাজিক গণমাধ্যমকে তারা নিয়ন্ত্রণ করছেন নানাভাবে।’ তিনি বলেন, এর মধ্যে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকেরা ধিকিধিকি করে গণতন্ত্রের আলো জ্বালিয়ে রেখেছিলেন। তার ভাষায়, ‘এর মধ্যে যারা সাংবাদিক মাঠপর্যায়ের, এরা কেবল ধিকিধিকি করে জ্বলছিলেন। গণতন্ত্রের আলোটাকে তারা বাজিয়ে রেখেছেন যারা এখানে অনেকেই বসে আছে।’ তৎকালীন গণমাধ্যমের পরিস্থিতি বোঝাতে একটি টেলিভিশন টকশোর উদাহরণ দেন রিজভী। তিনি বলেন, একটি টেলিভিশনকে সে সময় সরকারের অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন এবং সরকারের মুখপাত্র হিসেবে বিবেচনা করা হতো। রিজভী বলেন, ওই টেলিভিশনের একজন নারী টকশো উপস্থাপক একজন কৃষিবিজ্ঞানীকে অনুষ্ঠানে নিয়ে এসেছিলেন। ওই বিজ্ঞানী একটি বড় আকারের বেগুনে ক্যানসারের কিছু উপাদান রয়েছে বলে তার গবেষণায় পেয়েছিলেন। রিজভীর ভাষ্য, ওই কৃষিবিজ্ঞানীকে অনুষ্ঠানে এনে উপস্থাপক প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি যে ক্যানসারের উপাদানের কথা বলছেন, এর সঙ্গে কোনো সরকারবিরোধী এজেন্ডায় তিনি জড়িত কি না এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত কি না। রিজভী বলেন, ‘বেচারা কোনো দিন কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়, একজন নিরেট কৃষিবিজ্ঞানী। তিনি হতবুদ্ধ হয়ে গেছেন। দেখুন, এটা আমার গবেষণার ফাইন্ডিংস, আমি এই মানুষকে সতর্ক করা আমার দায়িত্ব।’ তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই বিজ্ঞানীকে আরও বলা হয়েছিল, সরকারের উৎপাদন ও উন্নয়নের বিরুদ্ধে তার কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার এবং তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া দরকার। রিজভী বলেন, ‘এটা বাস্তব কথা, এটা সত্য কথা। বেশি দিন আগে নয়, এই জুলাই বিপ্লবের কয়েক মাস আগের ঘটনা।’ তিনি বলেন, ‘এই ছিল মিডিয়ার পরিণতি, এই ছিল মিডিয়ার অবস্থা। হত্যা হচ্ছে, খুন হচ্ছে, গুম হচ্ছে—কেউ নেই। কিন্তু সরকারের বয়ান তৈরি করে করে তারা সেটা প্রচার করছেন এবং সম্পূর্ণরূপে ডাহা অসত্য।’ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে রিজভী বলেন, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সার্বজনীন রূপ হলো, গণমাধ্যম সত্য প্রচার করবে এবং অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর সত্য প্রচার করবে। তিনি বলেন, সত্য প্রচার করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি এলেও সেই ঝুঁকি সাংবাদিককে বরণ করে নিতে হবে। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আদালতকে যেমন নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হয়, তেমনি গণতান্ত্রিক সরকার হলে গণমাধ্যমকেও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হয় বলে মন্তব্য করেন রিজভী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, প্রচলিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে রিপোর্টার, নিউজ এডিটর ও এডিটর থাকেন। তারা একটি সংবাদ পরিশুদ্ধ করে এরপর প্রচার করেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো নিউজ এডিটর বা চিফ রিপোর্টার নেই। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অধিকার যেমন একজন সজ্জন, শিক্ষিত তরুণ, বৃদ্ধ বা প্রৌঢ়ের আছে, তেমনি একজন ‘বখাটে’ বা একজন সন্ত্রাসীও সেটি ব্যবহার করতে পারে। ডিআরইউর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এর আগেও তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এসেছেন। ডিআরইউর পরিসরে প্রতিবছর আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। রঙিন বেলুন ওড়ানো, পায়রা ওড়ানো, র‍্যালি করা এবং বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিকদের ঝুঁকিপূর্ণ পেশাগত দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘আপনাদের নিরন্তর যে প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে, আমার জানামতে অনেকেই আপনারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেকের হাত অবশ হয়ে গেছে, পা অবশ হয়ে গেছে। কেউ কেউ পৃথিবী থেকে চলে গেছে।’ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতার মতো মহত্তম পেশাকে আরও মহিমান্বিত করার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সফু, পিআইবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসেত জামান, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ডিএমডি অসীম কুমার সাহা, বেসিস ব্যাংকের চেয়ারম্যান হেলাল খান, ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান কাজিমুজ্জামান, ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন্দ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কেএইচ/এমআইএইচএস
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>