ব্রেকিং নিউজ
সালমান শাহর ৩০ বছরের পুরোনো স্টাইল কি অনুসরণ করে বলিউড-বিটিএস? রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা হেফজ বিভাগের ১৪ ছাত্রের মধ্যে ছয়জনই বলাৎকারের শিকার, শিক্ষক গ্রেফতার দিল্লিতে ধসে পড়েছে ৬ তলা ভবন, বহু শিক্ষার্থী আটকা পড়ার শঙ্কা এবারের মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট জিতলেন কে এই সুন্দরী ভাড়া দেওয়ার সময় যাত্রীর টাকায় নজর, বাসেই শ্বাসরোধে হত্যা: পুলিশ কিছু আসামির তৎপরতা সন্দেহজনক: চিফ প্রসিকিউটর সক্ষমতার তুলনায় প্রতিদিন ১৫১৯ মিলিয়ন ঘনফুট কম গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে বাগেরহাটে একই পরিবারের তিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩ তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হবে
জাতীয়

বগুড়ার এলএ শাখা ঘিরে পার্সেন্টেজ বাণিজ্য

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
● টাকা আটকে মাসের পর মাস অপেক্ষা● দ্রুত চেক পেতে দিতে হয় ৩ থেকে ৫ শতাংশ● কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম ব্যবহার করে সক্রিয় দালালচক্র জমি গেছে সরকারি প্রকল্পে। ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার কথা জমির মালিকের। কিন্তু সেই টাকা পেতে কারো অপেক্ষা চার মাস, কারো প্রায় দুই বছর। এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে ফাইলের খোঁজে ছুটতে ছুটতে যখন ভুক্তভোগীরা ক্লান্ত, তখনই তাদের সামনে হাজির হচ্ছেন কথিত সহযোগীরা। প্রস্তাব একটাই, ক্ষতিপূরণের টাকার একটি নির্দিষ্ট শতাংশ দিলে দ্রুত হবে কাজ, মিলবে চেক। না দিলে অপেক্ষা চলতে পারে মাসের পর মাস। বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ বা এলএ শাখা ঘিরে এমন অভিযোগের সত্যতা খুঁজতে গিয়ে দালালচক্রের তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড় করতে ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত উৎকোচ দাবি করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলা হচ্ছে। অনুসন্ধানকালে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামও ব্যবহার করা হয়েছে এই লেনদেনের সঙ্গে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আরও পড়ুন কার্পেটিংয়ের ওপর ইটের সোলিং, তীব্র ঝাঁকুনিতে চলা দায় সরেজমিনে এলএ শাখায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিনই সেখানে জমছে সেবাপ্রার্থীদের ভিড়। কারো হাতে জমির দলিল, কারো হাতে আদালতের কাগজ, আবার কেউ ক্ষতিপূরণের চেকের খোঁজে এসেছেন। বারান্দা ও কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছেন অনেকেই। একই ধরনের সেবা নিতে এসে কেউ দ্রুত কাজ শেষ করতে পারলেও অন্যদের দীর্ঘদিন ঘুরতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই দীর্ঘ অপেক্ষাকেই দালালচক্র নিজেদের ব্যবসার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। শেরপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার শফিকুল ইসলামের জমি অধিগ্রহণ হয়েছে একটি সরকারি প্রকল্পে। তার ৩ শতক জমির সঙ্গে একটি টিনের স্থাপনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা তার। কিন্তু চেকের জন্য চার মাস ধরে এলএ শাখায় ঘুরছেন তিনি। শফিকুল ইসলামের ভাষ্য, অফিসে আসা-যাওয়ার একপর্যায়ে হাপুনিয়া এলাকার আলী হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রথমে ওই ব্যক্তি নিজেকেও সেবাপ্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিলেও পরে শফিকুলকে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তার দাবি, ক্ষতিপূরণের টাকার ৩ শতাংশ অফিসারদের দিতে হবে। এর বাইরে তাকেও আলাদা টাকা দিতে হবে। টাকা দিলে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে চেক পাওয়া যাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। শুধু শতাংশের কথা বলেই থেমে থাকেননি আলী হোসেন। শফিকুলের অভিযোগ, কোথায় টাকা দিতে হবে, সে নির্দেশনাও তিনি দিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বাইরে সাতমাথার দিকে গিয়ে টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। সেখানে সিসি ক্যামেরার নজরদারি নেই বলেও উল্লেখ করা হয়। আলী হোসেনের বক্তব্য যাচাই করতে প্রতিবেদক ভুক্তভোগী সেজে পরে তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। সেখানেও প্রায় একই ধরনের প্রস্তাব পাওয়া যায়। তিনি বলেন, এলএ শাখার কর্মকর্তাদের ৩ শতাংশ দিতে হয়। এর বাইরে তাকে কিছু টাকা (১০ হাজার) দিলে তিনি দ্রুত কাজ করে দিতে পারবেন। কোন কর্মকর্তার মাধ্যমে কাজ হবে জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট নাম প্রকাশ না করে একজন কানুনগোর সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন। সেই কর্মকর্তার মাধ্যমেই বিভিন্ন কাজ করিয়ে থাকেন বলেও জানান। এই অভিযোগের সঙ্গে মিল রয়েছে আরেক ভুক্তভোগী আসমত আলীর অভিজ্ঞতার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একই এলাকায় জমি অধিগ্রহণ হওয়া একজন মালিক তার আগে ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছেন। পরে জানতে পারেন, দ্রুত কাজ করাতে ওই ব্যক্তি টাকা দিয়েছেন। এরপর নিজের প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক পেতে তিনিও দালালের মাধ্যমে ৩ শতাংশ হারে টাকা দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ তার। তার দাবি, টাকা দেওয়ার পরই ফাইলের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়। নন্দীগ্রাম উপজেলার সামছুল আলমের অভিজ্ঞতা আরও দীর্ঘ অপেক্ষার। একটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পে তার ১৭ শতক জমি অধিগ্রহণ হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে ক্ষতিপূরণের জন্য চেষ্টা করছেন তিনি। চার থেকে পাঁচ মাস আগে তার জমির বিষয়ে ৮ ধারা জারি হলেও এখনো টাকা পাননি। এলএ শাখার বারান্দায় দাঁড়িয়ে সামছুল আলম বলেন, তার আশপাশের একজন জমির মালিক ৪ শতাংশ হারে টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা তুলে নিয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। অথচ তার ফাইল এগোচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত নিজেরও টাকা দিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। তার হিসাবে ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে প্রায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হতে পারে। সামছুল আলমের প্রশ্ন, যে দপ্তরে অভিযোগ নিয়ে যাওয়ার কথা, সেই দপ্তর ঘিরেই যদি অনিয়মের অভিযোগ থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের প্রতিকার পাওয়ার পথ কোথায়? দীর্ঘদিন ধরে ফাইল আটকে থাকলে ভুক্তভোগীরা একসময় বাধ্য হয়েই দালালের শরণাপন্ন হন বলেও তিনি মনে করেন। আরও পড়ুন হিমাগারে বস্তা খুললেই পচা আলু, কৃষকের ঘাড়ে লোকসানের বোঝা শুধু একটি প্রকল্প ঘিরে নয়, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ-ঢাকা রেলপথ প্রকল্পে অধিগ্রহণ হওয়া জমির মালিকদের মধ্যেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বগুড়া সদর উপজেলার কৈচর দক্ষিণপাড়া এলাকার আমিনুল ইসলাম ও তার বাবা আলহাজ আব্দুল গফুর সরদারের ৬ দশমিক ৭৫ শতক জমি ওই প্রকল্পে অধিগ্রহণ হয়েছে। তাদের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ টাকা। আমিনুল ইসলামের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অফিসে ঘোরার পর এলএ শাখার সার্ভেয়ার অসিম কুমারের সঙ্গে কাজ করে দেওয়ার বিষয়ে তার কথা হয়। ক্ষতিপূরণের ৩ শতাংশ হিসেবে ৪২ হাজার টাকা এবং অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা, সব মিলিয়ে ৪৫ হাজার টাকায় কাজ করে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে দাবি তার। আমিনুল জানান, এর আগে তাকে বারবার বলা হচ্ছিল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যাচ্ছে না বা কাগজ হারিয়ে গেছে। পরে টাকার বিষয়টি আসার পর কাজ এগোনোর কথা বলা হয়। একই রেল প্রকল্পে শাজাহানপুর উপজেলার চোপিনগরের বাদশা মিয়ার জমিও অধিগ্রহণ হয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে ৮ ধারা জারির পর থেকে তিনিও ক্ষতিপূরণের জন্য চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধানের সময় এলএ শাখায় মামুন নামের এক ব্যক্তিকে তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। ইসলামপুর হরিগাড়ী এলাকার বাসিন্দা মামুন নিজেকে ‘বিপদে পড়া মানুষের সহায়তাকারী’ হিসেবে পরিচয় দেন। বাদশা মিয়ার সঙ্গে তার কথাবার্তার বিষয়টি অনুসন্ধান করে জানা যায়, তার প্রস্তাবও ছিল দ্রুত কাজ করে দেওয়ার। এজন্য অফিসে ক্ষতিপূরণের ৩ শতাংশ এবং তাকে আলাদাভাবে কিছু টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। এভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের ভুক্তভোগীদের অভিযোগে একটি বিষয় বারবার উঠে এসেছে, ক্ষতিপূরণের চেক পেতে দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে তৈরি হয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীর একটি বলয়। অভিযোগ রয়েছে, এই বলয়ের সদস্যরা অফিসের ভেতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য করে তোলেন। আবার ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ বলছেন, টাকা দেওয়ার পরই তাদের ফাইলের গতি বেড়েছে। অনুসন্ধানে এলএ শাখার সার্ভেয়ার অসিম কুমার, অফিস সহকারী নূর ইসলাম এবং কানুনগো মাসুদ রানার নাম বিভিন্ন অভিযোগে উঠে এসেছে। তবে প্রত্যেকেই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সার্ভেয়ার অসিম কুমার বলেন, ‘তিনি কাউকে হয়রানি করেন না। চাকরিজীবনে কখনো উৎকোচ নেননি এবং এমন কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতও নন। বাইরে কেউ তার নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন, কিন্তু তিনি এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।’ কানুনগো মাসুদ রানা বলেন, আলী হোসেন নামের ওই ব্যক্তিকে তিনি চেনেন না। অনুসন্ধানের দিনই তাকে প্রথম দেখেছেন। বাইরে কেউ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম ব্যবহার করে টাকা দাবি করলেই তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ হয় না। উৎকোচের কোনো ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি। অফিস সহকারী নূর ইসলামও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, মানুষ বিভিন্ন ধরনের কথা বলতে পারে। কেউ অভিযোগ করলেই সেটি সত্য হয়ে যায় না। কারো কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। এলএ শাখায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ আসে, সবার উদ্দেশ্য যাচাই করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। অনুসন্ধান চলাকালে বিষয়টি জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের নজরে আসে। এরপর তিনি এলএ শাখার সামনে অভিযান চালান। এসময় দালাল হিসেবে অভিযুক্ত আলী হোসেনকে আটক করা হয় এবং পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। শহরের সেউজগাড়ী এলাকার তানজিজুল ইসলাম স্মরণের ৩ শতক জমিও সরকারি প্রকল্পে অধিগ্রহণ হয়েছে। তার দাবি, ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র তিনি এলএ শাখায় জমা দিয়েছেন। সিএস রেকর্ড থেকে শুরু করে আদালতের রায়, সরকারি কৌঁসুলির ইতিবাচক মতামত, সহকারী কমিশনারের আদেশ, খাসমুক্তির কাগজ এবং নতুন খতিয়ানও রয়েছে তার কাছে। এরপরও চার মাস ধরে ক্ষতিপূরণের টাকা পাচ্ছেন না তিনি। তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরাবি বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে সারিয়াকান্দি সহকারী জজ আদালতে মামলা হয়। পরে প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতেও সরকারপক্ষ মামলাটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দুই আদালতেই বাদীর পক্ষে রায় ও ডিক্রি বহাল থাকে। এরপর এলএ শাখা থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও টাকা না দেওয়ার বিষয়টি আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এ বিষয়ে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মুনিরা সুলতানা বলেন, আদালতের রায় থাকলেও বর্তমান সিএস বা আরএস রেকর্ডে জমিটি সরকারের নামে রয়েছে। রেকর্ড সংশোধন করে আনতে পারলে ওই ব্যক্তি ক্ষতিপূরণের টাকা পাবেন। তার মতে, সব ফাইল এক ধরনের নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমির মালিকানা ও রেকর্ড নিয়ে জটিলতা থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। তবে ভুক্তভোগী তানজিজুল ইসলাম স্মরণ বলেন, তার অভিযোগের মূল প্রশ্নটি অন্য জায়গায়। একই ধরনের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কেউ তুলনামূলক দ্রুত চেক পাচ্ছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিন ধরে ফাইল নিয়ে ঘুরছেন কেন? দীর্ঘসূত্রতার কারণ যদি প্রশাসনিক বা আইনি জটিলতা হয়, তাহলে সেই জটিলতা নিরসনে সেবাপ্রার্থীদের স্পষ্টভাবে কী করতে হবে, তা কি সবাইকে জানানো হচ্ছে? আর এই অপেক্ষার মধ্যেই দালালরা কীভাবে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করে ক্ষতিপূরণের একটি অংশ দাবি করার সাহস পাচ্ছেন? সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে কাউকে ঘুষ বা পার্সেন্টেজ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এমন কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দালালচক্রের বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নাম ব্যবহার করে টাকা দাবি করলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। দালালের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি কমাতে এলএ শাখায় পর্যাপ্ত জনবল দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও সেবাপ্রার্থীদের কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো অনৈতিক লেনদেনে না জড়িয়ে সরাসরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। আরও পড়ুন গোবরেই স্বস্তি-সাশ্রয় মিলছে বগুড়ার মানুষের সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের (সুপ্র) সম্পাদক কেজিএম ফারুক বলেন, অভিযোগগুলোকে শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ বিভিন্ন প্রকল্পের একাধিক ভুক্তভোগীর বক্তব্যে একই ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে। কেউ বলছেন ৩ শতাংশ, কেউ ৪ শতাংশ, আবার কেউ ৫ শতাংশ পর্যন্ত টাকা চাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রশাসন যদি দাবি করে থাকে যে ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়ার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে সেবাপ্রার্থীরা কেন দালালের কাছে যাচ্ছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। একই প্রকল্পে একজনের কাজ দ্রুত শেষ হচ্ছে, আরেকজনের ফাইল মাসের পর মাস আটকে থাকছে, এর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকতে হবে। কেজিএম ফারুকের মতে, দালালরা যদি প্রকাশ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা দাবি করে, তাহলে দুটি প্রশ্ন সামনে আসে। প্রথমত ওই দালালদের সঙ্গে অফিসের কারো কোনো যোগাযোগ আছে কি না। দ্বিতীয়ত দীর্ঘদিন ধরে অফিস চত্বরে তাদের তৎপরতা চললেও কার্যকর নজরদারি কেন নিশ্চিত করা যায়নি? আর শুধু দালাল আটক করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। যেসব অভিযোগের কারণে মানুষ দালালের কাছে যেতে বাধ্য হচ্ছে, সেই ব্যবস্থাগত দুর্বলতাগুলোও চিহ্নিত করতে হবে। কোন ফাইল কত দিন ধরে আটকে আছে, কী কারণে আটকে আছে এবং কখন নিষ্পত্তি হওয়ার কথা, এসব তথ্য সেবাপ্রার্থীর জন্য সহজলভ্য করা গেলে দালালের সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে। এফএ/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>