বিজ্ঞাপন
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা। পিপিপি মডেলে এসব খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এর আগে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
মীর শাহে আলম বলেন, ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে এটি সৌজন্য সাক্ষাতের ধারাবাহিকতার অংশ। ব্রিটিশদের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। অতীতে তারা উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশের পাশে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
তিনি বলেন, ‘আলাদা বিষয় হিসেবে আমাদের ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কথা হয়েছে। তারা আমাদের সহায়তা করতে চান। বিশেষ করে মেডিকেল ওয়েস্টের ব্যবস্থাপনায় তারা সিটি করপোরেশনগুলোতে কাজ করবে। এর বাইরেও যে সব বর্জ্য আছে, সেগুলো নিয়েও কাজ করতে চায়। ওয়েস্ট টু এনার্জিতে তারা ইনভেস্ট করতে চায়।’
আরও পড়ুন
জানালেন শাহে আলম / আওয়ামী লীগ নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে এলে বিএনপির অবস্থান কী হবে
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ব্রিটিশ ইনভেস্টররা এখানে পিপিপি মডেলে ইনভেস্ট করতে চান। ওয়েস্ট টু এনার্জিসহ আরও অনেক বিষয়ে তারা ইনভেস্ট করার জন্য আসবেন। এ ব্যাপারে তারা আমাদের একটি টিম করে দিতে বলেছেন, যাতে আমাদের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে তাদের সঙ্গে অফিশিয়ালি যোগাযোগ করা যায়।’
তিনি জানান, সরকারি ও বেসরকারি দুই ধরনের ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরাই বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী।
অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকার অর্থবছরের সময় পরিবর্তন করায় ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। নতুন অর্থবছর তাদের অর্থবছরের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আগামী ২০২৮ সাল থেকে আমাদের অর্থবছর ১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এবং ৩১ মার্চ গিয়ে শেষ হবে। ক্যাবিনেটে এটি অনুমোদন হয়েছে। একটু সময় লাগছে, কারণ সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে। সংসদের সংবিধান সংশোধনী কমিটি যে কাজ করছে, জুলাই আগস্টের চেতনা এবং জুলাই চার্টারে বিএনপির যেসব কথা আছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধনের সময় আসবে। এর সঙ্গে অর্থবছরের বিষয়টিও সন্নিবেশিত হবে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাইকমিশনার জানতে চেয়েছেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের মতো অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে কি না। ‘আমরা বলেছি, এটি করার জন্যই আমরা আইন সংশোধন করেছি। আইন সংশোধন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে আর হচ্ছে না। এটি সাধারণ নির্বাচন হবে এবং দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না। দলীয় কোনো প্রতীকও নির্বাচনে থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘সরকার এখন পর্যন্ত বদ্ধপরিকর এবং শেষ পর্যন্তও থাকবে যে, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি নির্বাচন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন এই অর্থবছরের মধ্যে শেষ করব।’
সব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, ছবি: জাগো নিউজ
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব রয়েছে। একইভাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব রয়েছে। ১০ বছরের বেশি সময় ধরে দুই পক্ষ বিভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘ওই সময়ে মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন কাজকে সহায়তা করতে যুক্তরাজ্য ১০ কোটি পাউন্ডের বেশি বিনিয়োগ করেছে। জাতীয় নগর উন্নয়ন কর্মসূচি এবং নতুন জাতীয় নগর উন্নয়ন নীতি প্রণয়নেও এই সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।’
হাইকমিশনার বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় এ বিষয়ে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’
আরএমএম/এমএমএআর
বিজ্ঞাপন