আধুনিক বালা হয়ে উঠেছে এমন এক সৃজনশীল ক্যানভাস, যেখানে ঐতিহ্যের শিকড় আর সমকালীন নান্দনিকতা মিশে তৈরি করছে নতুন সৌন্দর্য।

একসময় বালা মানেই ছিল সোনা কিংবা রুপার ভারী অলংকার। সময়ের সঙ্গে এসেছে পিতল, তামা, কাঁসা ও জার্মান সিলভারের বালা। আর একালে এসে বালায় যুক্ত হয়েছে কাঠ, সুতা, ক্লে, রেজিন ও কাপড়ের মতো বৈচিত্র্যময় উপকরণ।
জামদানি, কাঁথা স্টিচ কিংবা কাপড়ের প্যাচওয়ার্কে কড়ি ও কপারের সূক্ষ্ম কাজ, কাঠের গায়ে রঙিন হ্যান্ডপেইন্টিং—নানা উপাদান ও কারুকাজে সমৃদ্ধ হচ্ছে বালার নকশা।

এখন বালায় কোন ট্রেন্ড চলছে, জানতে চেয়েছিলাম অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘আটকুঠুরি নয় দরজা’র স্বত্বাধিকারী হাফসা মোসলেমের কাছে। তিনি বললেন, ‘তরুণীরা এখন চওড়া বালা পরতে ভালোবাসছেন। সোনা ও রুপালি মেটালের ফিউশন বা টু-টোন শেড বেশ জনপ্রিয় হলেও ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে পিতল ও তামা।’
নকশার বৈচিত্র্যের কারণেই অনলাইন জুয়েলারির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কাস্টমাইজড অর্ডারের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে হাতে ধরে দেখে মান ও মাপ যাচাই করার জন্য অফলাইন মার্কেটের আলাদা আবেদন রয়েছে।
শাঁখারীবাজার, নিউমার্কেট কিংবা বড় বড় ব্র্যান্ডের দোকান ঘুরে বালা কেনার আনন্দই আলাদা। হোম ইকোনমিকস কলেজের শিক্ষার্থী মুসাররাত হাসান বলেন, অফলাইনে স্পর্শ করে বালার মান ও তাৎক্ষণিক মাপ মিলিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দরদাম করার সুযোগ থাকে।

১. টেম্পল ও ট্রাইবাল: অ্যান্টিক ফিনিশ বা অক্সিডাইজ স্টাইলের ভারী মোটিফযুক্ত বালা।
২. ওপেন-এন্ডেড বা কফ বালা: এই ধরনের বালার দুই প্রান্ত খোলা থাকে। তাই হাতে পরা তুলনামূলক সহজ। আর কফ বালা সাধারণত একটু মোটা ও শক্ত।
৩. ম্যাট ও ব্রাশড ফিনিশ: ধাতুর ওপরের অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে কম চকচকে রাখা হয়। ফলে বালায় আসে মিনিমাল লুক।
৪. মিনাকারি: ধাতু বা অক্সিডাইজ গয়নায় গোলাপি, প্যাস্টেল বা লাল রঙের মিনাকারি কাজ করা হয়।
৫. ফেব্রিক ও এমব্রয়ডারি বালা: কাঠ বা প্লাস্টিকের বালায় সুতি বা জামদানি কাপড়ে নকশিকাঁথার সূক্ষ্ম স্টিচ ও এমব্রয়ডারি করে প্যাঁচানো হয়।
৬. রেশমি সুতা ও পাথর: রেশমি সুতার সঙ্গে রঙিন কাচের পুঁতি বা বিভিন্ন ধরনের পাথর মিলিয়ে তৈরি হয় সুন্দর ও আকর্ষণীয় বালা।
৭. টেরাকোটা ও কাঠ: মিনিমালিস্টিক ও এথনিক লুকের জন্য টেরাকোটা ও কাঠের বালা বিভিন্ন উৎসবে জনপ্রিয়।

১. আড়ং ও যাত্রার মতো এথনিক ব্র্যান্ডগুলোতে নকশা ও উপকরণভেদে বালার দাম পড়বে মেটাল ও পাথর ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা, কাঠ ও কাপড় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, রুপা বা গোল্ড প্লেটেড ২ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা।
২. নিউমার্কেট, চাঁদনী চক বা মৌচাকের মতো লোকাল মার্কেটে ১০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে মিলবে সূচিশিল্প, কাপড়, কাঠ ও মেটালিক বালা।
৩. দোয়েল চত্বর বৈচিত্র্যময় বালার জন্য সেরা জায়গা। এখানে বালার দাম অনেক কম। ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যেই পছন্দের বালাটি কিনতে পারবেন।

১. মেটাল ও গোল্ড প্লেটেড বালা বাতাসহীন বক্সে টিস্যুতে পেঁচিয়ে রাখতে হবে। ঘাম লাগলে সুতি কাপড়ে মুছে ফ্যানের বাতাসে শুকাতে হবে।
২. মাটির বালা এয়ারটাইট বক্সে টিস্যুতে মুড়িয়ে রাখা ভালো। মাঝেমধ্যে বের করে হালকা হাতে মুছে রাখতে পারেন।
৩. পারফিউম ও মেকআপ নেওয়ার পর একদম শেষ ধাপে বালা পরবেন।
৪. বালা রাখতে জিপলক ব্যাগ এবং বক্সে আর্দ্রতা দূর করতে ‘সিলিকা জেল’ ব্যবহার করা ভালো।
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>