সরকার বাড়তি আরও ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ দফায় আসবে গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল। অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। একই সময়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সার আমদানিতে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে সরকারি ক্রয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে। দুটি বৈঠকই আজ বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।
ক্রয় কমিটিতে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ে জিটুজি পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে জ্বালানি তেল আমদানির শর্ত শিথিলের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
এতে সুপারিশ করা দরদাতা হিসেবে রয়েছে চীনের ইউনিপেক, ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি ও চীনের পেট্রোচায়না। অন্যদিকে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আগামী ১০ নভেম্বর এক জাহাজ অতিরিক্ত এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কেনার দর প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি।
দুই বস্ত্রকল চালু হবে পিপিপিতে
বন্ধ থাকা দুটি সরকারি বস্ত্রকল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল চালু করার নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড। বলা হয়েছে, প্রকল্পটিতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলটি প্রায় ৩৮ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। পিপিপির আওতায় মিলটি চালু হলে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তির মেয়াদ হবে ৩০ বছর। জমি ব্যবহারের বিপরীতে বেসরকারি অংশীদার এককালীন সাড়ে ৯ কোটি টাকা দেবে। তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড শেষে প্রতি মাসে ১২ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৭ টাকা চুক্তি মাশুল দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া পিপিপি কর্তৃপক্ষকে ৭৫ লাখ টাকা উন্নয়ন মাশুল এবং বিটিএমসিকে আড়াই কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে।
মাগুরা টেক্সটাইল মিলও পিপিপি পদ্ধতিতে আবার চালুর প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি পরিচালনার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান চরকা টেক্সটাইল লিমিটেডকে। ১৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত মাগুরা টেক্সটাইল মিলটি ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে চালু ছিল। নতুন চুক্তির মেয়াদ হবে ৩০ বছর। জমি ছাড়া প্রকল্পে সরকারের কোনো বিনিয়োগ থাকবে না, পুরো বিনিয়োগ করবে বেসরকারি অংশীদার।
চুক্তি অনুযায়ী, জমি ব্যবহারের বিপরীতে এককালীন ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা দিতে হবে। তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড শেষে প্রতিবছর ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা কন্ট্রাক্ট ফি দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া পিপিপি কর্তৃপক্ষকে ৫০ লাখ টাকা ডেভেলপমেন্ট ফি এবং বিটিএমসিকে আড়াই কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে।
এ ছাড়া কৃষি খাতের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে বড় পরিমাণে সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি, মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে ৫ লাখ টন ডিএপি, ২ লাখ ২০ হাজার টন এমওপি ও ২ লাখ টন টিএসপি আমদানি করা হবে। এসব সার আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
সারের পাশাপাশি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা। কাজ পেয়েছে খুলনার জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস।
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>