বিজ্ঞাপন
মিষ্টির পছন্দ একেক মানুষের কাছে একেক রকম। কারও কাছে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কোনো খাবার সবচেয়ে প্রিয়, আবার কারও কাছে পরিবারের পুরোনো কোনো রেসিপি। তবে ব্যক্তিগত পছন্দের বাইরে কিছু মিষ্টান্ন রয়েছে, যেগুলো স্থানীয় সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়েছে। এসব খাবারের অনেকগুলোর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে উপকরণ ও রান্নার কৌশল ছড়িয়ে পড়ার গল্প।
বিশ্বের বিখ্যাত মিষ্টান্নের এই তালিকায় যেমন রয়েছে ইতালির তিরামিসু, তেমনি আছে তুরস্কের বাকলাভা, ভারতের গুলাব জামুন ও কুলফি, ফ্রান্সের ক্রেম ব্রুলে, জাপানের চিজকেক কিংবা থাইল্যান্ডের ম্যাংগো স্টিকি রাইস। কোনোটি উৎসবের সঙ্গে জড়িত, কোনোটি প্রতিদিনের কফি-বিরতির সঙ্গী, আবার কোনোটি বহু শতাব্দীর খাদ্যসংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে। নিচে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ৫০টি জনপ্রিয় মিষ্টান্নের পরিচয় তুলে ধরা হলো।
কুলফি - ভারত
দুধ দীর্ঘ সময় কম আঁচে জ্বাল দিয়ে ঘন করে তৈরি করা হয় কুলফি। ধীরে ধীরে দুধ কমে যাওয়ায় এতে প্রাকৃতিক ক্যারামেল স্বাদ তৈরি হয় এবং টেক্সচার হয় অত্যন্ত ঘন ও মসৃণ। আধুনিক সময়ে কুলফির নানা স্বাদ পাওয়া গেলেও গোলাপ, এলাচ, জাফরান ও পেস্তা এর ঐতিহ্যবাহী স্বাদের মধ্যে রয়েছে। কুলফির উৎপত্তির সঙ্গে মুঘল সাম্রাজ্যের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়।
আলফাহোরেস - দক্ষিণ আমেরিকা
আর্জেন্টিনা থেকে পেরু পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের পাড়ার বেকারিতে সহজেই দেখা মেলে আলফাহোরেসের। নরম ও ভঙ্গুর এই বিস্কুটে কামড় দিলে ভেতরে পাওয়া যায় দুলসে দে লেচে—মিষ্টি দুধ ধীরে ধীরে রান্না করে তৈরি করা ক্যারামেলসদৃশ ঘন পুর। লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এর নানা সংস্করণ রয়েছে। কোথাও ডার্ক চকলেটে ডোবানো হয়, কোথাও হোয়াইট চকলেট বা নারকেল দিয়ে সাজানো হয়। মসলা ব্যবহার করেও তৈরি করা হয় ভিন্ন স্বাদের আলফাহোরেস।
আপফেলস্ট্রুডেল - অস্ট্রিয়া
অস্ট্রিয়ার ঐতিহ্যবাহী আপফেলস্ট্রুডেল তৈরি হয় অত্যন্ত পাতলা করে টানা খামির বা ডো দিয়ে। কিংবদন্তি অনুযায়ী, ঐতিহ্যবাহী স্ট্রুডেলের ডো এতটাই পাতলা হওয়া উচিত যে তার মধ্য দিয়ে সংবাদপত্রের লেখা পড়া যায়। সেই পাতলা ডোর ভেতরে দেওয়া হয় আপেল, মাখনে ভাজা ব্রেডক্রাম্ব ও কিশমিশ। কোনো কোনো সংস্করণে আখরোটও যোগ করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর দেখা মিললেও ঐতিহ্যবাহী আপফেলস্ট্রুডেলের স্বাদ নিতে ভিয়েনাই আদর্শ জায়গা।
গুলাব জামুন - ভারত
দুধের ঘন স্বাদ ও সুগন্ধি সিরাপের কারণে গুলাব জামুন ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম পরিচিত মিষ্টি। ঐতিহ্যবাহী গুলাব জামুনের ডো তৈরিতে খোয়া ব্যবহার করা হয়। এরপর মণ্ড ঘি-তে ভেজে এলাচ ও গোলাপের সুগন্ধযুক্ত সিরাপে ডুবিয়ে রাখা হয়। ঈদুল ফিতর থেকে দীপাবলি—ভারতের বিভিন্ন উৎসব ও পারিবারিক আয়োজনে গুলাব জামুন জনপ্রিয়। এর নামও পারস্যের সঙ্গে এর ঐতিহাসিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
বাকলাভা - তুরস্ক
অসংখ্য পাতলা পেস্ট্রির স্তর, বাদামের পুর ও মিষ্টি সিরাপ- এই তিনের সমন্বয়ে তৈরি বাকলাভা বিশ্বের অন্যতম পরিচিত মিষ্টান্ন। অটোমান সাম্রাজ্যের অন্যতম মিষ্টি ঐতিহ্য হিসেবে পরিচিত এই খাবার লেভান্ত, বলকান, ককেশাস ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলেও জনপ্রিয়। তবে বাকলাভার প্রধান আবাসভূমি হিসেবে আধুনিক তুরস্কের নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়। সেখানে পেস্ট্রি দোকানগুলোতে হীরা আকৃতিতে কাটা বাকলাভা মধুমিশ্রিত সিরাপে ভেজানো অবস্থায় পরিবেশন করা হয়।
ব্ল্যাক ফরেস্ট কেক - জার্মানি
জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট অঞ্চল এই বিখ্যাত কেকটির নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। গাঢ় চকলেট কেকের স্তরগুলোতে দেওয়া হয় চেরির সিরাপ ও কির্শওয়াসার, যা টক চেরি থেকে তৈরি এক ধরনের ব্র্যান্ডি। এর সঙ্গে থাকে ঘন হুইপড ক্রিম ও তাজা চেরি। পুরো কেকটি আবার ক্রিম, চকলেটের কুচি ও চেরি দিয়ে সাজানো হয়। জার্মানিতে এটি ‘শোয়ার্জভেল্ডার কির্শটর্টে’ নামে পরিচিত।
বোরমা - মধ্যপ্রাচ্য ও তুরস্ক
কানাফেহর মতো দেখতে সূক্ষ্ম পেস্ট্রির সুতো দিয়ে বাদামের পুর মুড়িয়ে তৈরি করা হয় বোরমা। বাকলাভার সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও এটি অনেক সময় ভেজে নেওয়া হয়, ফলে বাইরের অংশ আরও খসখসে হয়। পরে এটি সুগন্ধি সিরাপে ভেজানো হয়। পেস্তা, পাইন নাট বা আখরোটের পুর বাইরে থেকে দেখা যায় বলে বোরমার পরিবেশনেও আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও তুরস্কের পেস্ট্রি দোকানগুলোতে এটি বেশ জনপ্রিয়।
ব্রাউনি - যুক্তরাষ্ট্র
ফাজি হবে, নাকি কেকের মতো—ব্রাউনি নিয়ে মিষ্টিপ্রেমীদের মধ্যে এই বিতর্ক বহু পুরোনো। এর প্রাথমিক রেসিপিগুলোর একটি ১৯০৬ সালের ‘বস্টন কুকিং স্কুল কুক বুক’-এ প্রকাশিত হয়েছিল। আনসুইটেনড চকলেট ব্যবহারের কারণে ব্রাউনির ঘন ও ফাজি টেক্সচার তৈরি হয়। এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় খাবারগুলোর একটি এবং সানডে থেকে শুরু করে আইসক্রিমের স্বাদ হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে।
ক্যানোলি - সিসিলি, ইতালি
বাইরে ভঙ্গুর ও খসখসে শেল, আর ভেতরে মসৃণ রিকোটা পনিরের পুর- সিসিলির ক্যানোলির মূল বৈশিষ্ট্য এটাই। পালার্মোর কার্নিভাল উৎসবের সঙ্গে এর উৎপত্তির ইতিহাস জড়িত। ঐতিহ্যবাহী ক্যানোলিতে ভেড়ার দুধের রিকোটা ব্যবহার করা হয়। ভেতরের পুরে মিষ্টি সিট্রাসের ব্যবহার সিসিলির রান্নায় আরব প্রভাবের কথাও মনে করিয়ে দেয়।
কার্ডামম বান - সুইডেন
সুইডেনের কার্ডামম বানকে দেশটির কফি-বিরতির সংস্কৃতি ‘ফিকা’র অবিচ্ছেদ্য অংশ বলা যায়। ইস্ট দেওয়া হালকা মিষ্টি ডোতে চূর্ণ এলাচ মেশানো হয়। এরপর ডোতে চিনি ও মসলার মিষ্টি স্তর দিয়ে পাকানো হয়। সদ্য বেক করা এই বান কফির সঙ্গে বন্ধু বা সহকর্মীদের নিয়ে খাওয়ার সংস্কৃতির অংশ।
চেনডল - সিঙ্গাপুর
গরম আবহাওয়ায় স্বস্তি দিতে সিঙ্গাপুরে জনপ্রিয় চেনডল। বরফঠান্ডা নারকেলের দুধে পাম সুগারের সিরাপ মেশানো হয়, যা হালকা ধোঁয়াটে ক্যারামেলের মতো স্বাদ দেয়। এর সঙ্গে থাকে সবুজ চালের আটার জেলি, যার রং আসে পানডান পাতার রস থেকে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর সংস্করণ থাকলেও সিঙ্গাপুরের চেনডলে মিষ্টি লাল বিন যোগ করা হয়।
চকলেট চিপ কুকি - যুক্তরাষ্ট্র
সাধারণ মাখন, চিনি ও ময়দার কুকিতে চকলেটের টুকরো মেশালেই তৈরি হয় এই জনপ্রিয় মার্কিন মিষ্টি। তবে এর সরলতার মধ্যেই রয়েছে নানা ধরনের স্বাদের বৈচিত্র্য। আদর্শ চকলেট চিপ কুকির বাইরের অংশ হালকা খসখসে হলেও ভেতরটা থাকে নরম ও গলে যাওয়ার মতো। প্রচলিত গল্প অনুযায়ী, ম্যাসাচুসেটসের সরাইখানা মালিক রুথ ওয়েকফিল্ড কুকির ডোতে কাটা চকলেট মেশানোর পরই নতুন এই কুকির যাত্রা শুরু হয়।
চকলেট মুস - ফ্রান্স
অল্প কয়েকটি উপকরণ দিয়ে তৈরি হলেও চকলেট মুসের স্বাদ বেশ সমৃদ্ধ। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো হালকা ও ফেনিল টেক্সচার। ফরাসি ভাষায় ‘মুস’ শব্দের অর্থই ফেনা। তবে চকলেটকে ফেনার মতো করার ধারণা ইউরোপীয়দের আগেও ছিল। ওলমেক, মায়া ও অ্যাজটেক জনগোষ্ঠী ইউরোপীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের বহু আগে চকলেট পান করত এবং চকলেটে ফেনা তৈরিকে তারা বিশেষ পছন্দ করত।
নারকেল কেক - যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল
নরম ও মাখনসমৃদ্ধ ভ্যানিলা কেকের স্তরের ওপর প্রচুর কোরানো নারকেল ও ফ্রস্টিং দিয়ে তৈরি হয় দক্ষিণাঞ্চলীয় নারকেল কেক। যুক্তরাষ্ট্রে পটলাক, কেক ওয়াক ও গির্জার পিকনিকের মতো সামাজিক আয়োজনে এটি দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় মিষ্টি। নানা ধরনের রেসিপি থাকলেও তাজা নারকেল দিয়ে তৈরি ঘন সাদা আবরণ এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। দেখতে সরল হলেও এটি বেশ সমৃদ্ধ ও জমকালো একটি মিষ্টান্ন।
কর্ন দে গাজেল - মরক্কো
মরক্কোর নানা উৎসব ও বিশেষ আয়োজনে কর্ন দে গাজেল বেশ জনপ্রিয়। পাতলা ডোর ভেতরে কমলা ফুলের পানিতে সুগন্ধি দেওয়া বাদামের পুর ভরে এটি তৈরি করা হয়। হালকা সোনালি হওয়া পর্যন্ত বেক করার কারণে বাইরের ডো নরম থাকে এবং পুরের সঙ্গে মিশে যায়। মরক্কোর তেতুয়ান শহরের সংস্করণগুলোতে ডোর ওপর জটিল নকশাও তৈরি করা হয়।
ক্রিম ব্রুলে - ফ্রান্স
ক্রেম ব্রুলের মূল আকর্ষণ এর পোড়া চিনির শক্ত আবরণ। ভ্যানিলা কাস্টার্ডের ওপর চিনি ছড়িয়ে সেটি আগুনে পুড়িয়ে ক্যারামেলাইজ করা হয়। ফলে এক কামড়ে প্রথমে পাওয়া যায় খসখসে ক্যারামেলের স্বাদ, এরপর নরম ও মসৃণ কাস্টার্ড। সাধারণত ক্রিম দিয়ে তৈরি এই ডেজার্ট রান্নার সময় পানির বাথ ব্যবহার করা হয়, যাতে কাস্টার্ড জমাট বেঁধে না যায়।
ড্যান তাত - হংকং
হংকংয়ের বেকারিতে ঢুকলেই ডিমের কাস্টার্ডের মিষ্টি সুবাসে ড্যান তাতের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। ছোট আকারের এই টার্ট সাধারণত গরম অবস্থায় খাওয়া হয়। খসখসে ক্রাস্টের ভেতরের উষ্ণ কাস্টার্ডই এর বিশেষত্ব। ড্যান তাতের ইতিহাস পর্তুগালের পাস্তেইস দে নাতার সঙ্গে যুক্ত। পর্তুগিজ বণিক ও উপনিবেশবাদীদের মাধ্যমে ডিমের এই টার্ট বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে হংকং থেকে বিশ্বের বিভিন্ন চায়নাটাউনেও জনপ্রিয় হয়।
ডোনাট - যুক্তরাষ্ট্র
ভাজা ডো দিয়ে তৈরি খাবারের ইতিহাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকলেও আধুনিক মার্কিন ডোনাট নিজস্ব বৈচিত্র্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। সাধারণ ডোনাটে এখন যোগ হয়েছে নানা ধরনের ফিলিং ও টপিং। ম্যাপল ফ্রস্টিং, ক্রিসপি বেকন, তাজা ফলের গ্লেজসহ নানা উপাদান ব্যবহার করে ডোনাটকে নতুন নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ ভাজা ডো থেকে এটি পরিণত হয়েছে সৃজনশীল মিষ্টান্নে।
এস্টারহাজি টর্টা - হাঙ্গেরি
পাতলা বাদামের মেরিংয়ের স্তরের মাঝে চকলেট বাটারক্রিম দিয়ে তৈরি করা হয় এস্টারহাজি টর্টা। কেকটির ওপরে চকলেট ও ভ্যানিলা ফন্ডেন্ট দিয়ে তৈরি করা হয় জটিল নকশা। অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের সময়কার যৌথ খাদ্যসংস্কৃতির ছাপ এই মিষ্টিতে স্পষ্ট। আজও বুদাপেস্ট ও ভিয়েনার পেস্ট্রি দোকানে এটি জনপ্রিয়।
ফ্লান - লাতিন আমেরিকা
মসৃণ কাস্টার্ড ও ক্যারামেলের সরল সমন্বয় ফ্লানকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। এর ওপরে থাকা পাতলা ক্যারামেল স্তর গলে গিয়ে চারপাশে মিষ্টি সিরাপ তৈরি করে। ধারণা করা হয়, স্পেন থেকে ফ্লান লাতিন আমেরিকায় পৌঁছেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে স্থানীয় রাঁধুনিরা এটিকে নিজেদের মতো করে বদলে নিয়েছেন। মেক্সিকোতে সাধারণ ক্যাফে থেকে পারিবারিক অনুষ্ঠান—সব জায়গাতেই ফ্লানের জনপ্রিয়তা রয়েছে।
গাতো ফঁদঁ অ শকলায় - ফ্রান্স
ফরাসি ভাষায় ‘গাতো ফঁদঁ অ শকলায়’ অর্থ গলে যাওয়া চকলেট কেক। গরম কেকটি কাটলেই ভেতর থেকে ধীরে ধীরে গলে পড়া চকলেট বেরিয়ে আসে। তবে এটি তৈরি করা বেশ কঠিন। একটু আগে পরিবেশন করলে ভেতরটা অতিরিক্ত তরল হয়ে যায়, আবার বেশি সময় বেক করলে এটি সাধারণ ব্রাউনির মতো হয়ে যেতে পারে। ১৯৯০-এর দশকে ‘লাভা কেক’ বা ‘মল্টেন চকলেট কেক’ নামে এটি রেস্তোরাঁয় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল।
জেলাতো - ইতালি
ঠান্ডা মিষ্টির জগতে ইতালির জেলাতোর বিশেষ জায়গা রয়েছে। সাধারণ আইসক্রিমের তুলনায় এতে চর্বির পরিমাণ কম এবং পরিবেশন করা হয় তুলনামূলক উষ্ণ তাপমাত্রায়। ফলে লেবু, হ্যাজেলনাট কিংবা চকলেটের মতো স্বাদ আরও স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। ইতালিতে জেলাতো সারা বছর খাওয়া হয়। বোলোনিয়ার জেলাতো মিউজিয়ামে গেলে এর ইতিহাসের পাশাপাশি স্বাদ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
জাপানি চিজকেক - জাপান
নিউইয়র্কের ভারী ও ঘন চিজকেকের তুলনায় জাপানি চিজকেক অনেক বেশি হালকা। এতে চিজকেকের স্বাদ থাকলেও স্পঞ্জ কেকের মতো বাতাসময় টেক্সচার পাওয়া যায়। ক্রিম চিজ ও ভ্যানিলা সমৃদ্ধ গরম ব্যাটারে ফেটানো ডিমের সাদা অংশ মেশানো হয়। এই মেরিংয়ের কারণেই কেকটি এত হালকা হয়। ভালো জাপানি চিজকেকের একটি বৈশিষ্ট্য হলো হালকা দুলুনি।
কাশাতা - পূর্ব আফ্রিকা
ক্যারামেলাইজড চিনির সঙ্গে চিনাবাদাম, নারকেল কিংবা দুটির মিশ্রণে তৈরি হয় কাশাতা। দেখতে অনেকটা ভঙ্গুর মিষ্টির মতো হলেও এলাচের সুগন্ধ একে সাধারণ কনফেকশনের চেয়ে আলাদা করে। পূর্ব আফ্রিকার উপকূলে একসময় যেসব নৌবাণিজ্য চলত, তার মাধ্যমে বিভিন্ন মসলা ও স্বাদের আদান-প্রদান হয়েছিল। কাশাতার নামেও আরবি ভাষার প্রভাব রয়েছে।
কিফলি - হাঙ্গেরি
মধ্য ইউরোপের জনপ্রিয় ফলের সংরক্ষিত পুর বা লেকভারের স্বাদ পাওয়া যায় কিফলিতে। নরম ও খসখসে ডোকে অর্ধচন্দ্রাকৃতি করে তার ভেতরে এপ্রিকট বা প্লামের পুর দেওয়া হয়। ওপরে ছিটিয়ে দেওয়া হয় গুঁড়া চিনি। উৎসবের সময় ফলের পাশাপাশি মিষ্টি আখরোট বা পোস্তদানা দিয়েও কিফলির পুর তৈরি করা হয়।
কানাফেহ - লেভান্ত
সোনালি পেস্ট্রির সঙ্গে মিষ্টি ক্রিম, বাদাম কিংবা নোনতা পনিরের সমন্বয় কানাফেহকে দিয়েছে অনন্য স্বাদ। ওপরে দেওয়া পেস্ট্রি ও ভেতরের পুরে গোলাপ বা কমলা ফুলের সুগন্ধযুক্ত চিনির সিরাপ মিশে যায়। আম্মান থেকে আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে কানাফেহ জনপ্রিয় হলেও ফিলিস্তিনের নাবলুস শহর এর ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। নাবলুসের সংস্করণে ছাগলের পনির ব্যবহার করা হয়।
কুইন আমান - ফ্রান্সের ব্রিটানি
ব্রিটানি অঞ্চলের মাখন ও সামুদ্রিক লবণের গুণই কুইন আমানের স্বাদে বড় ভূমিকা রাখে। দেখতে অনেকটা ক্রসাঁর মতো হলেও এর স্তর কম ভাঁজ করা হয়। ফলে টেক্সচার হয় তুলনামূলকভাবে শক্ত ও খসখসে। মাখন, চিনি ও ব্রিটানির সামুদ্রিক লবণের সমন্বয়ে তৈরি এই পেস্ট্রির বাইরের অংশ ক্যারামেলাইজড হয়ে যায়।
লেমন টার্ট - ফ্রান্স
মাখনের সমৃদ্ধ স্বাদ, লেবুর টকভাব ও লেবুর খোসার সুগন্ধ—এই তিনের ভারসাম্য লেমন টার্টের মূল বৈশিষ্ট্য। নিচে থাকে শর্টব্রেডের মতো খসখসে ক্রাস্ট, আর তার ওপর থাকে মসৃণ লেবুর ক্রিম। ঐতিহ্যবাহী সংস্করণের পাশাপাশি ফ্রান্সে ইউজু দিয়ে তৈরি লেমন টার্টের মতো আধুনিক সংস্করণও জনপ্রিয় হয়েছে।
লিনজার টর্টে - অস্ট্রিয়া
অস্ট্রিয়ার লিনজ শহরের নাম অনুসারে পরিচিত এই টর্টে বাদামসমৃদ্ধ ডোর সঙ্গে থাকে জ্যামের পুর। দেখতে অনেকটা কেক ও টার্টের মাঝামাঝি ধরনের। ওপরে থাকে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ জালির নকশা, যার ফাঁক দিয়ে ভেতরের জ্যাম দেখা যায়। দারুচিনি, লবঙ্গ ও লেবুর খোসা এর স্বাদ ও সুগন্ধ আরও বাড়িয়ে দেয়। এর রেসিপির অস্তিত্ব অন্তত ১৬৫৩ সাল থেকে পাওয়া যায়।
ম’হানচা - মরক্কো
সোনালি সর্পিল আকৃতির ম’হানচা কাটলে ভেতরে পাওয়া যায় বাদামের পুর। এতে কমলা ফুলের পানি ও মাসটিক ব্যবহার করা হয়, যা মিষ্টিতে বিশেষ সুগন্ধ যোগ করে। মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী ওয়ারকা ডো ফিলোর চেয়েও পাতলা ও এটি তৈরি করতে যথেষ্ট দক্ষতা প্রয়োজন। সাধারণত মরক্কোর পুদিনা চায়ের সঙ্গে ম’হানচা পরিবেশন করা হয়।
মা’আমুল - মধ্যপ্রাচ্য
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন উৎসবের সঙ্গে মা’আমুলের সম্পর্ক গভীর। সুজির পাতলা আবরণের ভেতরে থাকে খেজুর, বাদাম কিংবা দুটির মিশ্রণ। কাঠের নকশাদার ছাঁচে চাপ দিয়ে তৈরি করায় প্রতিটি মা’আমুল দেখতে বেশ আকর্ষণীয় হয়। ইহুদি সম্প্রদায়ের পুরিম, খ্রিষ্টানদের ইস্টার এবং মুসলিমদের ঈদ—বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবেই এই মিষ্টির উপস্থিতি রয়েছে।
মানদাজি - দক্ষিণ সুদান
নারকেলের দুধ ব্যবহারের কারণে মানদাজির স্বাদে থাকে হালকা মিষ্টি ও সূক্ষ্ম নারকেলের সুবাস। এটি ভাজা ডোনাটের মতো দেখতে এবং কফি বা দুধ-চায়ের সঙ্গে খাওয়া হয়। কোনো কোনো সংস্করণে এলাচ যোগ করা হয়। দক্ষিণ সুদানে এটি মিষ্টান্ন হিসেবে পরিচিত হলেও তানজানিয়া, কেনিয়া, মোজাম্বিক ও উগান্ডাতেও মানদাজি জনপ্রিয় খাবার।
মেদোভিক - রাশিয়া
মধুর সুবাসযুক্ত পাতলা কেকের একাধিক স্তর একটির ওপর আরেকটি সাজিয়ে তৈরি হয় মেদোভিক। কোনো কোনো বিশেষ সংস্করণে ১০টি পর্যন্ত স্তর থাকতে পারে। প্রতিটি স্তরের মাঝে দেওয়া হয় ক্রিম, যা কেকের সঙ্গে মিশে তাকে নরম করে। টক ক্রিমের পাশাপাশি কনডেন্সড মিল্কও এর পুর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রাশিয়ার জনপ্রিয় মিষ্টান্নগুলোর মধ্যে মেদোভিকের বিশেষ জায়গা রয়েছে।
নিউইয়র্ক চিজকেক - যুক্তরাষ্ট্র
ঘন, মসৃণ ও ক্রিমি টেক্সচার নিউইয়র্ক চিজকেকের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। সাধারণত এতে বাড়তি টপিং বা তীব্র কোনো স্বাদ দেওয়া হয় না। চিনি, ডিম, ক্রিম ও ক্রিম চিজের সঙ্গে সামান্য ভ্যানিলা বা লেবুর খোসার সুগন্ধ যোগ করা হয়। এর পেছনে পূর্ব ইউরোপ, জার্মানি ও ইতালির বিভিন্ন চিজকেক ঐতিহ্যের প্রভাব রয়েছে।
ওলিবলেন - নেদারল্যান্ডস
নতুন বছরের আগের রাতের সঙ্গে ওলিবলেনের সম্পর্ক এতটাই ঘনিষ্ঠ যে নেদারল্যান্ডসে এটি উৎসবের খাবারে পরিণত হয়েছে। মিষ্টি ব্যাটারে কিশমিশ বা কারেন্ট মিশিয়ে সেটি তেলে ভাজা হয়। এরপর গরম ওলিবলেনের ওপর ছিটিয়ে দেওয়া হয় গুঁড়া চিনি। দেশটিতে প্রতিবছর স্বাদ পরীক্ষা করে সেরা ওলিবলিন বাছাইয়ের প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।
পাভলোভা - অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড
রুশ ব্যালেরিনা আনা পাভলোভার নামে নামকরণ করা পাভলোভা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের দাবি-পাল্টা দাবি রয়েছে। মেরিংয়ের তৈরি বাইরের আবরণ খসখসে হলেও ভেতরের অংশ থাকে নরম ও চিবনো। এর ওপর দেওয়া হয় হুইপড ক্রিম ও টক-মিষ্টি ফল। মিষ্টির ভারী স্বাদের সঙ্গে ফলের টকভাব চমৎকার ভারসাম্য তৈরি করে।
পোলভোরোনেস - লাতিন আমেরিকা, স্পেন ও ফিলিপাইন
হালকা চাপেই গুঁড়া হয়ে যায় এমন ছোট বিস্কুট পোলভোরোনেস। শর্টব্রেডের মতো এই মিষ্টিতে বাদাম, আখরোট বা পেকান ব্যবহার করা হয়। এর শিকড় স্পেনে, যদিও কোনো কোনো গবেষক এর আরও পুরোনো উৎস মধ্যপ্রাচ্যে খুঁজে দেখেন। যুক্তরাষ্ট্রে এর একটি সংস্করণ ‘মেক্সিকান ওয়েডিং কুকিজ’ নামেও পরিচিত।
কাতায়েফ - মধ্যপ্রাচ্য
রমজানে ইফতারের পর মধ্যপ্রাচ্যের অনেক মানুষের পছন্দের মিষ্টি কাতায়েফ। ইস্টযুক্ত প্যানকেকের মতো ব্যাটার এক পাশে সেঁকে নেওয়ার পর সেটি ভাঁজ করে ভেতরে দেওয়া হয় তাজা পনির, বাদাম, শুকনো ফল বা ক্রিম। গোলাপজল ও দারুচিনি এতে বাড়তি সুগন্ধ দেয়। কোনো সংস্করণ সরাসরি সিরাপ দিয়ে খাওয়া হয়, আবার কোনোটি পরিবেশনের আগে ভেজে নেওয়া হয়।
রিগো জানসি - হাঙ্গেরি
চকলেট স্পঞ্জ, এপ্রিকট জ্যাম ও হালকা চকলেট মুসের স্তর দিয়ে তৈরি রিগো জানসি। ওপরে থাকে পাতলা চকলেট গ্লেজ। মিষ্টিটির নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি আলোচিত প্রেমকাহিনি। রোমানি বেহালাবাদক রিগো জানসি ১৮৯৬ সালে বেলজিয়ামের বিবাহিত রাজপরিবারের এক নারীর সঙ্গে পালিয়ে গেলে তাদের প্রেম আন্তর্জাতিক সংবাদে পরিণত হয়। সেই ঘটনাই পরে মিষ্টিটির নামের সঙ্গে যুক্ত হয়।
জাফরান আইসক্রিম - ইরান
ইরানের জাফরান আইসক্রিম বা বাস্তানিতে জাফরান, গোলাপজল ও পেস্তার ব্যবহার করা হয়। হালকা সোনালি রং ও বিশেষ সুগন্ধ একে সাধারণ আইসক্রিমের চেয়ে আলাদা করে। ইরানি নববর্ষ নওরোজে এটি বিশেষ জনপ্রিয়। ঐতিহ্যবাহীভাবে পাতলা দুটি ওয়েফারের মাঝে জাফরান আইসক্রিম রেখে স্যান্ডউইচের মতোও পরিবেশন করা হয়।
জিয়ান দুওই বা তিলের বল - চীন
তিল দিয়ে ঢাকা সোনালি বাইরের আবরণে কামড় দিলে ভেতরে পাওয়া যায় নরম মিষ্টি পুর। সাধারণত মিষ্টি বিন পেস্ট বা পদ্মবীজের পিউরি ব্যবহার করা হয়। চীনা চন্দ্র নববর্ষের সময় জিয়ান দুওই বিশেষ জনপ্রিয়। গোল আকৃতি ও সোনালি রংকে এ সময়ে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
স্নো আইস - তাইওয়ান
তাইওয়ানের স্নো আইস সাধারণ বরফকুচি বা শেভড আইসের তুলনায় অনেক বেশি সূক্ষ্ম। গ্রিন টি বা ফলের পিউরি দিয়ে তৈরি মিষ্টি বেস জমিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে কেটে তুষারের মতো পাতলা স্তর তৈরি করা হয়। এরপর লাল বিন, টারো, ঘাসের জেলি, তাজা ফল, কনডেন্সড মিল্ক ও মোচি দিয়ে সাজানো যায়। তাইওয়ানের বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন শহরেও এটি জনপ্রিয় হয়েছে।
টক চেরি পাই - যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম
মন্টমোরেন্সি জাতের টক চেরি দিয়ে তৈরি টক চেরি পাইয়ের ভেতরের পুরের রং বেশ উজ্জ্বল। টক চেরিতে থাকা অম্লতা মিষ্টি পুরের সঙ্গে চমৎকার ভারসাম্য তৈরি করে। মিষ্টি চেরির তুলনায় এসব চেরি বেশি নষ্টপ্রবণ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাইরে এর তাজা সংস্করণ তুলনামূলক কম দেখা যায়।
ম্যাংগো স্টিকি রাইস - থাইল্যান্ড
থাইল্যান্ডের ম্যাংগো স্টিকি রাইস বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি মিষ্টি। আঠালো চালের সঙ্গে নারকেলের দুধ ও পাম সুগার মিশিয়ে তৈরি করা হয় এর মূল অংশ। পুরোপুরি নরম হলেও চালের দানায় হালকা চিবনো ভাব থাকে। এর সঙ্গে সাধারণত পাকা আম পরিবেশন করা হয়। থাই সংস্করণে নাম ডক মাই ও অওক রং—এই দুই ধরনের আম বিশেষভাবে পছন্দ করা হয়।
স্টিকি টফি পুডিং - যুক্তরাজ্য
নরম কেকের ভেতরে কাটা খেজুর আর ওপরে প্রচুর ক্রিমি টফি সস- এটাই স্টিকি টফি পুডিংয়ের মূল বৈশিষ্ট্য। এর স্বাদে ট্রিকল বা মোলাসেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্রিটেনে ‘পুডিং’ শব্দটি অনেক সময় সাধারণভাবে মিষ্টান্ন বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই নামের কারণে এটি ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের বাইরের প্রচলিত পুডিংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়।
তার্ত তাতাঁ - ফ্রান্স
আপেল, চিনি ও মাখন দিয়ে তৈরি ফরাসি তার্ত তাতাঁ দেখতে সাধারণ টার্টের মতো হলেও তৈরির পদ্ধতিতে রয়েছে বিশেষত্ব। প্রথমে ভারী প্যানে আপেল, চিনি ও মাখন সাজানো হয়, তারপর ওপরে ডো দিয়ে ঢেকে বেক করা হয়। বেক করার পর সেটিকে উল্টে প্লেটে ফেলতে হয়। এ সময় ক্যারামেলাইজড চিনি ও নরম হয়ে যাওয়া আপেল মিলে তৈরি করে এর স্বতন্ত্র স্বাদ।
তিরামিসু - ইতালি
কফিতে ভেজানো লেডিফিঙ্গার, মাসকারপোনে, ক্রিম ও চকলেট—এই উপকরণগুলোর সমন্বয়ে তৈরি তিরামিসু ইতালির অন্যতম পরিচিত মিষ্টান্ন। এর নামের অর্থ ‘আমাকে তুলে ধরো’ ধরনের অর্থ বহন করে। কফি ও চকলেটের স্বাদের সঙ্গে ক্রিমের মসৃণতা একে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করেছে। এর উৎপত্তি নিয়ে নানা দাবি থাকলেও ইতালির ত্রেভিসোর রেস্তোরাঁ লে বেকেরিকে এর ইতিহাসের সঙ্গে প্রায়ই যুক্ত করা হয়।
ত্রেস লেচেস কেক - মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা
নামেই রয়েছে এর মূল বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত—‘তিন দুধ’। নরম স্পঞ্জ কেককে সাধারণত মিষ্টি কনডেন্সড মিল্ক, ইভাপোরেটেড মিল্ক ও ক্রিমের মিশ্রণে ভিজিয়ে তৈরি করা হয়। ফলে কেকটি এতটাই নরম ও রসালো হয় যে এর টেক্সচার প্রায় পানীয়ের মতো মনে হতে পারে। কনডেন্সড মিল্কের দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তাও এ মিষ্টির স্বাদের সঙ্গে জড়িত।
ট্রিফেল - যুক্তরাজ্য
শেরিতে ভেজানো স্পঞ্জ কেক, জ্যাম, কাস্টার্ড ও হুইপড ক্রিম স্তরে স্তরে সাজিয়ে তৈরি করা হয় ব্রিটিশ ট্রাইফেল। এর সৌন্দর্য হলো, উপকরণ নিয়ে খুব বেশি কঠোর নিয়ম নেই। কেকের সঙ্গে বিভিন্ন মিষ্টি উপকরণ যোগ করে ওপরে হুইপড ক্রিম দেওয়া যায়। নামটির ব্যবহার অন্তত ১৬ শতক থেকে পাওয়া যায়। পুরোনো হলেও সহজে পরিবর্তনযোগ্য হওয়ার কারণেই ট্রাইফেল এখনও জনপ্রিয়।
টব টিম ক্রব - থাইল্যান্ড
থাই ভাষায় টব টিম ক্রবের অর্থ ‘কুড়মুড়ে রুবি’। ওয়াটার চেস্টনাটকে উজ্জ্বল গ্রেনাডিন সিরাপে ভিজিয়ে ট্যাপিওকা ময়দায় মুড়ে সেদ্ধ করা হয়। দেখতে লাল রুবির মতো এই টুকরোগুলো পরিবেশন করা হয় চূর্ণ বরফ ও পানডান পাতার সুগন্ধযুক্ত মিষ্টি নারকেলের তরলের সঙ্গে। ফলে একই সঙ্গে পাওয়া যায় ঠান্ডা, চিবনো ও সামান্য খসখসে অনুভূতি।
সূত্র: সিএনএন
এসএএইচ
বিজ্ঞাপন