জাতীয়

বেঁচে আছেন, নাকি মৃত? ১৩ বছরেও যে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
১৩ বছরের অপেক্ষা। এখনো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের তিন নেতার পরিবারের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটির উত্তর মেলেনি—তারা কোথায়? তারা বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন? মারা গিয়ে থাকলে কোথায় তাদের দাফন করা হয়েছে? ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ভাটারা থানার আওতাধীন একটি এলাকা থেকে সাদা পোশাকের একদল ব্যক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের তিন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ তিনজন হলেন আসাদুজ্জামান রানা, মাজহারুল ইসলাম রাসেল ও আল আমিন। তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রাসেল ও আল আমিন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এবং রানা দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনজনই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন বলে তাদের পরিবার ও সহযোদ্ধারা জানিয়েছেন। পরিবারের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তাদের গুম করা হয়েছিল। গুমের শিকার মাজহারুল ইসলাম রাসেলের বোন নুসরাত লাবনী বলেন, ‘২০১৩ সালে আমরা যে অবস্থায় ছিলাম, এখনো সেই অবস্থাতেই আছি। আমার ভাইয়ের খোঁজ তখনও পাইনি, এখনো পাইনি।’ আরও পড়ুন আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর গুম: প্রধানমন্ত্রী তিনি বলেন, ‘আগে আমি আমার ভাইকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত চাইতাম। এখন চাই, সে যদি বেঁচে না থাকে, তাহলেও আমি জানতে চাই তার সঙ্গে কী হয়েছিল, তার মরদেহ কোথায় নেওয়া হয়েছিল। তাকে কি বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল, নাকি শীতলক্ষ্যায়, নাকি অন্য কোথাও—এটুকু অন্তত আমরা জানতে চাই।’ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাসেল ফিরে আসবেন বলে নতুন করে আশা করেছিলেন তার মা। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। লাবনী বলেন, ‘চব্বিশের পর গুম হওয়া অনেকেই ফেরত এসেছে। আমার মা-ও নতুন করে স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্নটাকেও আমরা হত্যা করে ফেলেছি। তার কোনো খোঁজ আমরা মাকে দিতে পারিনি।’ একই সঙ্গে আরেক শিক্ষার্থী আল আমিনও গুমের শিকার হন। তার ভাই রুহুল আমিন বলেন, তাদের পরিবারের এখন একটাই চাওয়া—ভাইয়ের সঙ্গে কী হয়েছিল, তা জানা। ‘আমার ভাইয়ের সঙ্গে কী করা হয়েছিল, সেটা জানতে চাই। যদি তাকে মেরে ফেলা হয়ে থাকে, তাহলে তার কবর কোথায়? আমরা অন্তত কবরটা দেখতে চাই।’ আরও পড়ুন গুম-খুন ও জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে থাকবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / গুমের জন্য এমন আইন আনতে চাই যাতে প্রতিটি ভুক্তভোগী বিচার পাবে এখনো নিখোঁজ আসাদুজ্জামান রানার বড় বোন মিনারা বেগমও জানতে চান, তার ভাই জীবিত নাকি মৃত। তিনি বলেন, ‘একজন মানুষ মারা গেলে তাকে দাফন করা হয়, জানা যায়। কিন্তু আমার ভাইয়ের জন্য তো আমরা ঠিকমতো দোয়াও করতে পারি না। সে বেঁচে আছে, নাকি মারা গেছে, আমরা জানি না। এটাই সবচেয়ে কষ্টের।’ নিখোঁজ হওয়া ছাত্রদলের এই তিন নেতার সন্ধান এবং গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করছেন তাদের সহপাঠীরাও। জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘তিনজনই আমাদের সহযোদ্ধা ছিলেন। তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, আর এ কারণেই তারা গুমের শিকার হয়েছেন। তাদের অবস্থান সম্পর্কে আমরা এখনো কোনো তথ্য জানতে পারিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সরকার গুমের শিকার পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। এসব ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে, যাতে ফ্যাসিবাদ আর কখনো ফিরে আসতে না পারে।’ আরও পড়ুন ‘গুম হওয়া’ ৩ ছাত্রদল নেতার সন্ধান চেয়ে জবিতে মানববন্ধন গুমের দিন শেষ, বিগত ঘটনারও বিচার হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক আসলে কী ঘটেছিল, জানতে চান শিক্ষকেরাও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। তাদের স্মরণে এবং সন্ধানের দাবিতে কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসাদুজ্জামান রানা, মাজহারুল ইসলাম রাসেল ও আল আমিনের বিষয়ে আমরা বারবার জানতে চেয়েছি। শুধু তাদের পরিবার নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই জানতে চায়, তাদের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিষয়টি সমাধানের জন্য কাজ করবে বলে আমরা আশা করি। একটি কার্যকর উপায় বের করে দীর্ঘদিনের এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটানো প্রয়োজন। শুধু এই তিন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেই নয়, দেশের সব নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের ক্ষেত্রেই সত্য উদ্‌ঘাটন করা জরুরি।’ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন সাবেক শিক্ষার্থীর ১৩ বছর ধরে নিখোঁজ থাকার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর এত দীর্ঘ সময়েও তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে পরিবার কোনো নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে তাদের পরিবার যে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছে, সেই বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। আমরা চাই, পরিবারগুলো অন্তত সত্যটা জানুক এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক।’ টিএইচকিউ/এমএমএআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>