ব্রেকিং নিউজ
Vaibhav Sooryavanshi: ফের একবার সঠিক ডিআরএসের সিদ্ধান্ত, বৈভব সূর্যবংশীর মধ্যে অধিনায়কত্বের সম্ভাবনা দেখছেন সমর্থকরা বেনজীরকে ফেরাতে কী ব্যবস্থা, দ্রুত সংসদকে জানাতে স্পিকারের নির্দেশ ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িত কারা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে গেলে অর্থনীতি-সার্বভৌমত্ব দুটোই ঝুঁকিতে পড়বে: আনু মুহাম্মদ বেনজীরসহ পলাতকদের ফেরাতে শৈথিল্য নয় হৃদ্‌রোগ-স্ট্রোক ঠেকাতে ফিজিওথেরাপি কতটা জরুরি বন্ধু আলভারেজের কঠিন পরিস্থিতিতে যা বললেন মার্তিনেজ দ্বিতীয় দিনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছেন ৭৮৯৬ গ্রাহক মার্কিন দূতেরা চলে যাওয়ার পর কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
জাতীয়

বেনজীরসহ পলাতকদের ফেরাতে শৈথিল্য নয়

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ বিদেশে পলাতক কোনো আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকার শৈথিল্য দেখাবে না। এ বিষয়ে সরকারকে দোষী না করে সহযোগিতা করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকারি দল।

বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের আনা একটি প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আজ মঙ্গলবার সরকারের পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।

অন্যদিকে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারের সত্যিকার চেষ্টা কতটুকু, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল। তারা বেনজীরসহ বিদেশে পলাতকদের ফিরিয়ে আনতে একটি বিশেষ সেল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রস্তাবের ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। সাধারণত বিরোধী দলের আনা প্রস্তাব গৃহীত হয় না। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা গেল।

সংসদে প্রস্তাবটি এনেছিলেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। ভোটে গৃহীত প্রস্তাবটি হলো, ‘সংসদের অভিমত এই যে ঘৃণ্য অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ কীভাবে দুবাইতে জামিন পেলেন—এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথাশিগগির জাতীয় সংসদকে অবহিত করবেন। এই ঘৃণ্য অপরাধীকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? সে সম্পর্কে মীর আহমাদ বিন কাসেমকে এবং সংসদের প্রতিটি সদস্যকে যথাসময়ে যথাশিগগির অবহিত করবেন।’

প্রস্তাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চারটি বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়। সেগুলো হলো ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ অনুরোধসহ নেওয়া পদক্ষেপের পূর্ণ বিবরণ; নথিতে কোনো আইনি বা পদ্ধতিগত ত্রুটি ছিল কি না এবং দায়ীদের শনাক্তকরণ; সরকারি চাকরিতে থাকাকালে ছয়টি দেশের পাসপোর্ট নেওয়ার তদন্তের অগ্রগতি; বেনজীরকে সেন্ট লুসিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দেশে-বিদেশে তাঁর অবৈধ সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ।

কোনো শৈথিল্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বেনজিরসহ বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাবে না। তিনি জানান, বেনজীরের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করা, প্রত্যর্পণপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগ যাচাই এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ শনাক্ত ও জব্দে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

নিজের বক্তব্যে ২০০৯ সাল থেকে গুম-খুন-নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বেনজীর আহমদকে ‘সিরিয়াল কিলার’ আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই নির্যাতনের হাতিয়ার এবং যে দুষ্কৃতকারীরা ছিল, তার মধ্যে শেখ হাসিনার পর বেনজীরকে ‘নাম্বার ওয়ান’ বলা যায়।

বেনজিরকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দায়ী না করে আপনারা সহযোগিতা করবেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ছেড়ে সেন্ট লুসিয়ায় গেছেন—এমন খবরের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।

কাউকে ধরে ফাঁসি দেওয়া যায় না—মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুডিশিয়াল প্রসেসটা একটু লম্বা হয়। আইনের হাত যেমন লম্বা, জুডিশিয়াল প্রসেসটাও অনেক লম্বা। সুতরাং আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং জুডিশিয়াল প্রসেসের ওপর আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ জুন এনসিবি, আবুধাবি বাংলাদেশকে জানায়, বেনজীর সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ইউএইর আইনে ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানোর কথা থাকলেও বাংলাদেশ মাত্র চার দিনের মধ্যে, ১৬ জুন কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠায়।

উল্লেখ্য, ইন্টারপোলের সঙ্গে প্রতিটি সদস্যদেশের কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ও সমন্বয়কারী সংস্থা হলো ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তাই দেশটির অভ্যন্তরীণ আইন ও পারস্পরিক সহযোগিতার নীতির ভিত্তিতে প্রক্রিয়াটি চলছে। ইউএইর চাহিদা অনুযায়ী, অতিরিক্ত নথিপত্র ৪ আগস্ট পাঠানো হয়েছে। পরে আরও আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া হলে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। এ জন্য ইউএইতে একটি ল ফার্মও নিয়োগ করা হয়েছে।

বেনজীর সংযুক্ত আরব আমিরাতে

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, নোটিশে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী বেনজীর সেন্ট লুসিয়ায় চলে গেছেন। তিনি বলেন, সম্ভবত গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যে কুখ্যাত আইজিপি বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাত ছেড়ে গেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি যাচাই করা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা সম্পর্কে তাঁরা অবগত নন। এর অর্থ হলো, বেনজীর এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতেই রয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতিটি মামলা আলাদাভাবে বিবেচনার সুযোগ আছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করবে। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

গুমের মতো ঘটনা নতুন প্রজন্মের কাছে বেনজীর আহমেদরাই পরিচিত করেছেন বলেন মন্তব্য করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান।

বিরোধী দলের প্রস্তাব

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, বেনজীরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু ফলাফল পাওয়া যায়নি।

একটি বিশেষ সেল গঠনের প্রস্তাব করে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, বেনজীরসহ অন্য পলাতক ফ্যাসিস্টদের ইস্যু সমাধান করার কাজ করবে এই সেল।

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ইতিমধ্যে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দেশে ঢুকে পড়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়েও আওয়ামী লীগের পরিচিতরা মিটিং–মিছিল করছে। তারা সংগঠিত হচ্ছে। অনেক সময় তাদের চিহ্নিত করে পুলিশে তথ্য দিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে পুলিশ মোটেও তৎপর নয়।

বেনজীরকে গ্রেপ্তারের পর কোনো আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে কি না, কখন লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এসব জানতে চান বিরোধীদলীয় উপনেতা। বেনজীরসহ সব সন্ত্রাসীকে এ দেশের সম্পত্তি সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি করে ভুক্তভোগী পরিবারদের মধ্যে বিতরণ করার প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় উপনেতা।

সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

বেনজীরকে দেশে ফেরাতে সরকার সত্যিকার অর্থে চেষ্টা করছে কি না—এমন প্রশ্ন রেখে জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুবাইয়ে ছুটে গেলে বুঝতে পারতাম সরকার সত্যিকার চেষ্টা করেছে। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে দুবাই সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে নিজের কাউকে পাঠালে কিংবা নিজে ছুটে গেলে বুঝতাম সরকার চেষ্টা করেছে।’

এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ‘বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবর জানিয়ে তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা শুনে আমরা আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে, এই সংসদে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে টেবিল চাপড়িয়ে ধন্যবাদ জানালাম, সেই ধন্যবাদ উবে গেছে?’ শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের আরও যারা শীর্ষ অপরাধী আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ তাঁরা জানতে চান।

অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম, মারজিয়া বেগম ও তাসমিয়া প্রধান আলোচনায় অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>