ব্রেকিং নিউজ
জাতীয়

বেসরকারিখাতে গেলে বিঘ্নিত হবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণন বেসরকারিতে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জাতীয় অর্থনীতি। কৃত্রিম সংকট-মজুতদারিতে রয়েছে ৯ ধরনের ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা। মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট, সরবরাহ লাইনে বিশৃঙ্খলাসহ তৈরি হতে পারে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে সম্প্রতি জমা হওয়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। জাগো নিউজের হাতে আসা এ প্রতিবেদন নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি বিপিসির কেউ। প্রতিবেদনে কমিটি তিনটি সুপারিশ করেছে। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা সমুন্নত রাখা এবং চলমান ইরান যুদ্ধে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে কৌশলগত পণ্য হিসেবে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণনের একক ক্ষমতা সরকারের কাছে সংরক্ষিত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করে কমিটি। আরও পড়ুন বেসরকারিতে ঝুঁকছে জ্বালানি খাত, একক নিয়ন্ত্রণ হারাবে বিপিসি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বখতিয়ার আহমেদ জেনারেল ট্রেডিং ওপিসি নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিশোধিত জ্বালানি তেল (ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েল) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমদানি করে বিক্রয় ও বিপণন ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি চেয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে আবেদন করে। পরে আরও একটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। বিষয়টি নিয়ে জ্বালানি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী বিপিসি ১১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বিপিসির পরিচালক (অপারেশন্স) এ কে মোহম্মদ সামছুল আহসানকে। কমিটির সদস্যরা হলেন- বিপিসির পরিচালক (অর্থ) নাজনীন পারভীন, পরিচালক (পরিকল্পনা) মুহাম্মদ আসাদুল হক, ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এ টি এম সেলিম, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ, মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) ফেরদৌসী মাসুম হিমেল, মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন, যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া, পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহীরুল ইসলাম। কমিটির সদস্য সচিব বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মো. ইশতিয়াক হোসেন। গত ১৯ জুলাই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত ও স্বাক্ষরিত হয়। রুগ্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বিপিসির সেই কমিটি তাদের প্রতিবেদনে ছয়টি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এগুলো হলো- ক) আইন অনুযায়ী দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণনের এখতিয়ার একচ্ছত্র সরকারের তথা বিপিসির। খ) বেসরকারি এক বা একাধিক প্রতিষ্ঠানকে এ সংক্রান্ত অনুমতি দেওয়া হলে এটিকে নজির হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দিতে হতে পারে। আরও পড়ুন পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি বেসরকারিতে দেওয়ার তোড়জোড় গ) বেসরকারি অংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সঙ্গে যুক্ত হলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে। ঘ) পিওপিএলসি, জেওপিএলসি ও এমপিএল রুগ্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এসব প্রতিষ্ঠান রুগ্ন হয়ে পড়লে সরকার এলপিজি সিন্ডিকেটের মতো পরিশোধিত জ্বালানি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঙ) বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়লে এবং মার্কিন ডলারের সরবরাহ সংকট হলে বেসরকারি অনুমতি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি বন্ধ রাখবে। ফলে দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র হবে। চ) চলমান ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তে বিপিসি ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ সমুন্নত রেখেছে। কিন্তু, বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি বিক্রি করতে সম্মত হবে না। সরবরাহ লাইনে বিশৃঙ্খলা, হতে পারে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি জ্বালানি তেল বিপণন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে বেশ কিছু কৌশলগত-অর্থনৈতিক জটিলতা এবং চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে মত দিয়েছে বিপিসির কমিটি। জ্বালানি সরবরাহে বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। এর মধ্যে রয়েছে- ক) আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়বে। বিপরীতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে নাও কমতে পারে। খ) আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানিকারকরা আমদানি হ্রাস বা বিলম্বিত করতে পারে। গ) ওভার ইনভয়েস আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে মুদ্রা পাচারের আশঙ্কা থাকে। ঘ) বর্তমানে সরকার জ্বালানি তেলে যে মুনাফা করছে তা কমবে। ঙ) বর্তমানে কর রাজস্ব সরকার পাচ্ছে তা কমবে। চ) দেশের বিপণন করা জ্বালানি তেলের গুণগতমান কমতে পারে। ছ) বিপিসির অধীন কোম্পানিগুলোর বিপণন কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়বে। জ) বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি তেল বিপণন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিলে মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট, সরবরাহ লাইনে বিশৃঙ্খলা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ঝ) কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করে জ্বালানির দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। ঞ) আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ট) বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনকল্যাণের চেয়ে ব্যবসায়িক মুনাফাকে বেশি প্রাধান্য দেয়। ঠ) আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ড) পেট্রোলিয়াম অপারেশনের ক্ষেত্রে বেসরকারি অংশে পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত (দেশব্যাপী পরিশোধিত জ্বালানি তেল মজুত, বিতরণ, সরবরাহ ও বিপণন ইত্যাদি) সুবিধা বর্তমানে খুবই অপ্রতুল। ঢ) সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে আমদানি করা পণ্যের সর্বগ্রহণীয় মূল্য কাঠামো প্রণয়ন করা এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের (সরকার ও বিইআরসি) বিষয়ে স্পষ্টীকরণ করা। ণ) প্রধান প্রধান জ্বালানি পণ্যের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে লোকসান হলে বেসরকারি অংশকে ভর্তুকি দেওয়ার মতো আর্থিক দায় কে কীভাবে বহন করবে তার বিষয়ে বর্তমানে সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধিমালা নেই। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যেও তৈরি হয় সংকট জ্বালানি বেসরকারিখাতে ছেড়ে দিয়ে বিপাকে পড়েছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে জ্বলন্ত উদাহরণ শ্রীলঙ্কা। বিপিসির কমিটির প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়। আরও পড়ুন আবেদন নাকচের পরেও রিফাইনারি বানাচ্ছে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল! শ্রীলঙ্কা তাদের জ্বালানি বাজার আংশিক বেসরকারিকরণ করে লঙ্কা আইওসি (এলআইওসি) এবং অন্য বিদেশি ও বেসরকারি সংস্থাকে যুক্ত করে। ফলে ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময় বেসরকারি আমদানিকারকরা ডলার সংকটের কারণে তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। সরকারি সিলন পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (সিপেটকো) একাই চাপ সামলাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়, যার ফলে দেশটিতে মাইলের পর মাইল তেলের লাইন, গণপরিবহন বন্ধ হওয়া এবং ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। কোনো ক্রমেই বর্তমান অবস্থায় জ্বালানির মতো স্পর্শকাতর খাত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। আগে ইস্টার্ন রিফাইনারির ইআরএল-২ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারকে আরও বেশি উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। এতে বছরে ৩০ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়বে সরকারের। রাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।-বিপিসির সাবেক ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক ও এলপি গ্যাস লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু হানিফ পাকিস্তানে জ্বালানি আমদানির বড় অংশ বেসরকারি অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলোর হাতে ন্যস্ত। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে বা ডলারের রেট পরিবর্তন হলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো বেশি মুনাফার আশায় তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। সেখানে পেট্রোল পাম্পগুলোতে নিয়মিত ‘নো পেট্রোল’ বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যা সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে। আমাদের দেশেও এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে যুক্তরাজ্য তাদের সম্পূর্ণ জ্বালানি ও ইউটিলিটি খাত বেসরকারিতে ছেড়ে দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার পর, বহু বেসরকারি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল এক বছরেই দ্বিগুণ-তিনগুণ হয়ে যায় এবং লাখ লাখ পরিবার ‘জ্বালানি দরিদ্রতা’র শিকার হয়। সিআরইউ থেকেও সংকটে বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য হয় বিপিসি সাম্প্রতিক সংকটের সময়ে আমদানিমূল্য অত্যধিক থাকলেও বিপিসি সরকার নির্ধারিত দামে (প্রতি লিটার ১১৫ টাকা) ডিজেল বিক্রি করে। একই সময়ে দেশের বেসরকারি চারটি সিআরইউ প্ল্যান্ট থেকে প্রাপ্ত ডিজেল অধিক মূল্যে কিনতে বিপিসি বাধ্য হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আরও পড়ুন জ্বালানিতে ‘জ্বলছে’ শেয়ারবাজার এতে বলা হয়- চলতি ২০২৬ সালের এপ্রিল, মে ও জুন মাসে বিপিসি সিআরইউ প্ল্যান্ট থেকে গৃহীত ডিজেলের মূল্য ছিল (ডিলার কমিশন, কোম্পানি মার্জিন, ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসকসহ বিক্রয় পর্যায়ে ব্যয় ব্যতীত) যথাক্রমে ১৭৭ দশমিক ৪০ টাকা ১৭৭ দশমিক ৪০ টাকা এবং ১৪৭ দশমিক ৫৮ টাকা। কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারির ৯ ঝুঁকি বিপিসির কমিটি বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানি ও বিপণন ছেড়ে দিলে কৃত্রিম সংকট এবং মজুতদারির ৯ ধরনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছে প্রতিবেদনে। ক) সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ: সরকারের সঙ্গে নীতিগতভাবে মতদ্বৈততার উদ্ভব হলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। খ) মজুতদারি প্রবণতা: আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার আভাস পেলে অধিক মুনাফার আশায় তেল মজুতের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। গ) প্রত্যন্ত অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি অলাভজনক রুট বর্জন: দুর্গম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে তেল পাঠানো ব্যয়বহুল হওয়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে সরবরাহ কমাতে বা বন্ধ করতে পারে। শুধু লাভজনক ও বড় শিল্পাঞ্চলগুলোতে সরবরাহ সচল রাখার প্রবণতা দেখা যাবে। ফলে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। আরও পড়ুন জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ / তথ্য লুকিয়ে ফের আবেদন সুপার পেট্রোকেমিক্যালের, বিপিসির কমিটি গঠন ঘ) জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত ঝুঁকি: জ্বালানি একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এর নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি হাতে গেলে সংকটের সময় সরকার অসহায় হয়ে পড়তে পারে। ঙ) তদারকি ও গুণগত মান নিয়ন্ত্রণহীনতা: সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করতে জ্বালানিতে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা বাড়তে পারে। চ) জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি: বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেলের বিপণন ও ব্যবস্থাপনা ছেড়ে দিলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। ছ) বিদ্যুৎ ও ইউটিলিটি বিল বৃদ্ধি: বেসরকারি খাতের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও কয়েক দফা বাড়ানো হতে পারে। ওয়াসা বা পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাম্প চালাতে খরচ বাড়বে, যা পানির বিল বাড়িয়ে দেবে। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ব্যয় বাড়বে। গরিব জনগোষ্ঠী সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে। জ) মুদ্রাস্ফীতি: জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। জ্বালানির দাম একবার বাড়লে তার প্রভাবে বাজারের সবকিছুর দাম এমনভাবে বাড়ে যা সহজে আর কমে না। ঝ) বেকারত্ব বৃদ্ধি: বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় সাত হাজার জনবল কর্মরত। এ খাতের পরিচালন ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শ্রমিক-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের চাকরি ও সামাজিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে কথা হলে বিপিসির সাবেক ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক ও এলপি গ্যাস লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু হানিফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘কোনো ক্রমেই বর্তমান অবস্থায় জ্বালানির মতো স্পর্শকাতর খাত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। আগে ইস্টার্ন রিফাইনারির ইআরএল-২ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারকে আরও বেশি উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। এতে বছরে ৩০ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়বে সরকারের। রাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।’এমডিআইএইচ/এএসএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>