ব্রেকিং নিউজ
ঢাকার চারপাশে নদ-নদী রক্ষায় কেন্দ্রীয় সেল আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ‘বিরোধী দল দমনের চক্রান্ত ও ফ্যাসিবাদী পথ’: বিবৃতিতে নাহিদ-আখতার আগস্ট মাসে হামলা, আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার ৫১ সংবাদকর্মী: বিএজে জুলাই যোদ্ধাদের সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষা চেয়ে রিট, পরবর্তী শুনানি রোববার একক গানে ফিরছেন ব্ল্যাকপিংকরা ময়মনসিংহে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১০ বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থনীতি কার্ল মার্ক্সের পরিবেশ ভাবনা ও রাজনৈতিক অর্থনীতির অসমাপ্ত সমালোচনা আমরা আর বিভাজনের দিকে যেতে চাই না: মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সরকারি দলের আচরণে সংসদে নিয়মিত থাকার আগ্রহ কমে যাচ্ছে: বিরোধীদলীয় উপনেতা
জাতীয়

বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থনীতি

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
বইেয়র প্রচ্ছদ, ছবি: ক্যামিব্রজ ইউনিভার্সিটি প্রেস

ক্লাইমেট ক্যাপিটালিজম: গ্লোবাল ওয়ার্মিং অ্যান্ড দ্য ট্রান্সফরমেশন অব দ্য গ্লোবাল ইকোনমি, পিটার নুয়েল ও ম্যাথু প্যাটারসন
কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০১০।

১.
জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বহু গবেষণা, ভবিষ্যদ্বাণী ও বিতর্ক হচ্ছে। পৃথিবীর প্রায় সব বিজ্ঞানীই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভবিষ্যত্ হুমকির বিষয়ে একমত। কিন্তু জীবাশ্ম-জ্বালানিনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সন্দেহ পোষণনীতি অনুসরণ করছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা চিন্তা করে বিদ্যমান নব্য উদারনীতিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের সমাধান খোঁজারও চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও সার্বিক বিচারে আদিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান ব্যবস্থায় এই সংকটের সমাধান পাওয়া দুষ্কর, কিন্তু সংকটের মাত্রা কিছুটা কমানোর লক্ষ্যে নতুন ধরনের এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মুনাফা করার সুযোগ দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানো। নতুন এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদানের লক্ষ্যেই এই বই আলোচনা করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।

সার্বিক বিচারে কোনো সবুজ বিপ্লব এখনো দিগন্তরেখায় আমরা দেখতে পাচ্ছি না। এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে অনিয়ন্ত্রিত জীবাশ্ম-জ্বালানির ওপর মানুষের নির্ভরশীলতার ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে এবং সব বিবেচনায় এর প্রভাব নেতিবাচক। এ কথা বিজ্ঞানীরা জানেন, রাজনীতিবিদেরা জানেন এবং অর্থনীতির বড় বড় খেলোয়াড়েরাও জানেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পিটার নুয়েল ও ম্যাথু প্যাটারসেনের ক্লাইমেট ক্যাপিটালিজম বইয়ে সবুজ পুঁজিবাদ বা পরিবেশবান্ধব পুঁজিবাদের সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে।

অনেক এনজিও টেকসই উন্নয়ন ও সমতার নীতি অনুসরণ করে সমাজকে সম্পূর্ণ পুনর্গঠনের কথা ভাবে। এটা নিঃসন্দেহে ভালো চিন্তা। কিন্তু শিগগিরই এমন কিছু ঘটা সম্ভব নয়। পুঁজিবাদ ও বাজার অর্থনীতি ‘পশ্চিমা বিশ্বকে’ ধনী বানিয়েছে। শিল্পায়নের যুগ থেকে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রায় নিয়ত বেড়েছে। এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে পণ্য ও সেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বেশি। এর সবকিছুই ঘটেছে জীবাশ্ম-জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে। ফলে আমরা এখন এমন এক অবস্থায় এসে পৌঁছেছি, যেখানে এসবের ফলাফল আমাদের মোকাবিলা না করে উপায় নেই।

নুয়েল ও প্যাটারসন তাঁদের এই বইয়ে বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক চুক্তিগুলো বিশ্লেষণ করেছেন। এগুলো তাঁরা দেখছেন নব্য উদারনীতিবাদের মানসিকতা থেকে জন্ম নেওয়া বাজারভিত্তিক সমাধান হিসেবে। ফলে তাঁদের প্রশ্ন হলো এসব পদ্ধতি বিশ্ব অর্থনীতির সফল কার্বনমুক্তি ঘটাবে কি না এবং আরও টেকসই বিশ্ব অর্থনীতি গড়ে তুলতে পুঁজিবাদের পুনর্বিন্যাস করা যায় কি না।

এই বইয়ে তাঁরা দেখিয়েছেন কীভাবে প্রথমে শিল্পকারখানা, বিশেষ করে জীবাশ্ম-জ্বালানিনির্ভর কোম্পানিগুলো জলবায়ু পরিবর্তন বিজ্ঞানের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছে এবং কার্বনমুক্ত হওয়ার খরচকে অতিরঞ্জিত করেছে। এসব কোম্পানি ধীরে ধীরে জলবায়ু পরিবর্তনকে মানতে শুরু করেছে। আর এর কারণ মূলত ক্রেতা ও আইনপ্রণেতাদের চাপ। কিন্তু এর মধ্যেই তাঁরা নিজেদের ব্যবসায়িক মুনাফা খোঁজার চেষ্টা করেছে। এর ক্রেতামুখী ও সহজাত কিছু কারণ রয়েছে: করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর), নিয়ন্ত্রণের ভয়, জলবায়ু সচেতন ক্রেতাদের কাছে নতুন পণ্যের প্রচার, জ্বালানিদক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জলবায়ুঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অথবা খরচ বাঁচানো। এর অনেক কিছুই আবার সুনামের কথা চিন্তা করে করা হয়েছে। যেমন শেল ইউরোপ জলবায়ু পরিবর্তন মেনে নিলেও একই সময়ে শেল যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু পরিবর্তনের অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্ক করে চলেছে।

স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়ীরা সারবত্তায় আগ্রহী। যার অর্থ হলো মুনাফা অর্জন। সে জন্যই জলবায়ু পরিবর্তনে প্রথম সাড়া দেয় অর্থায়ন খাত। এর কারণ হলো দক্ষতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ হিসেবে ক্রমবর্ধমান বিমা খরচ ও কার্বন নির্গমন। এখানে জ্বালানি ভোগ গুরুত্ব পেতে থাকে। আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হওয়া কিয়োটো চুক্তি কার্বন নির্গমন হ্রাস টার্গেট প্রচলন করে এবং একটি বৈশ্বিক কার্বন বাজার তৈরি করে। এটা করা হয় পরিচ্ছন্ন উন্নয়ন পদ্ধতি বা ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (সিডিএম) তৈরি করার মাধ্যমে। উন্নয়নশীল দেশের সার্টিফায়েড ইমিশন রিডাকশন বাণিজ্যের মাধ্যমে উন্নত দেশের কার্বন হ্রাস টার্গেট অর্জন করা হবে। কিয়োটো চুক্তির আওতায় এই সিডিএম পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে কার্বন হ্রাসকরণে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা সার্টিফায়েড ইমিশন রিডাকশন ইউনিট বা কার্বন ক্রেডিট সৃষ্টি করে। তারপরে এগুলো ইমিশন ট্রেডিং স্কিম বা কার্বন নির্গমন বাণিজ্য স্কিমের আওতায় বেচাকেনা করা যায়।

তবে ডিকার্বোনাইজেশন বা কার্বনমুক্তকরণ ঘটাতে হলে সুবিচার ও আঞ্চলিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রথম পূর্ণমাত্রায় ইমিশন ট্রেডিং স্কিম চালু করে। অনেক সমস্যা থাকার পরও এই স্কিমের ফলে ৫০-১০০ মিলিয়ন টন কার্বন কমানো গিয়েছিল।

রাষ্ট্রের বাইরেও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্বতঃস্ফূর্ত কার্বন মার্কেট সৃষ্টি করা শুরু করেছে। এগুলো মূলত স্ট্যান্ডার্ড ও সার্টিফিকেশন স্কিমের মাধ্যমে স্বনিয়ন্ত্রিত। এর ফলে কোম্পানিগুলো তাদের পাবলিক রিলেশনস ও করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি প্রচেষ্টায় কার্বন নির্গমন কমাতে পারে। কিন্তু প্রায়শই এগুলোর গুণাগুণ মান কড়াকড়িভাবে বজায় রাখা হয় না।

নুয়েল ও প্যাটারসন সতর্কতার সঙ্গে এসব কার্বন মার্কেটের সীমা বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁদের সমালোচনার জায়গা হলো ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজমের মাধ্যমে চীন ও ব্রাজিলের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো সুবিধা নিচ্ছে। এসব দেশে সেই ধরনের অবকাঠামো ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। তাঁরা প্রশ্ন রাখেন, স্বাভাবিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অংশ হিসেবে মেকানিজম তৈরি না করেও এ ধরনের কার্বন নির্গমন কমানোর প্রকল্পগুলোয় অর্থায়ন করা যেত কি না। তাঁরা ‘কার্বন কলোনাইজেশন’ বা কার্বন উপনিবেশায়ন প্রবণতার সমালোচনা করেন। তাঁদের মতে, কার্বন উপনিবেশায়নের ফলে বাইরের বিশেষ জ্ঞান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে যেসব সংরক্ষণ প্রকল্প নেওয়া হয়, তা সংরক্ষণ এলাকার স্থানীয় মানুষের জীবিকার ক্ষতি করে। এ ছাড়া যে প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়েছে তা হলো, স্বতঃস্ফূর্ত এ ধরনের ক্ষতিপূরণ প্রকল্প ভোক্তাদের মধ্যে পছন্দনীয় আচরণগত পরিবর্তন ঠেকাবে কি না।

এর ফলে যে বিষয়টি প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়ায় তা হলো, কার্বন পুঁজিবাদের শাসনব্যবস্থা আরও বৃদ্ধি করা। আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও বেসরকারি অ্যাক্টরদের এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। তারা দাম, পরিমাণ ও তথ্য বণ্টনের মাধ্যমে এই শাসনব্যবস্থা বৃদ্ধি করতে পারে। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে শুধু অপর্যাপ্তই নয়, অসামঞ্জস্যপূর্ণও বটে। এসব নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার মাধ্যমে মনুষ্যসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের অবিচার ঠেকানো উচিত। কারণ যেসব মানুষের জীবনযাপন জলবায়ু পরিবর্তনে কোনো অবদানই রাখে না, তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। কিন্তু যাদের বিলাসিতার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি, তাদের দুর্ভোগ সে তুলনায় কম। ফলে নুয়েল ও প্যাটারসন সরকার কর্তৃক কার্বন হ্রাস টার্গেট আরোপের দাবি জানান। এর ফলে দুর্লভ পণ্য যেমন সৃষ্টি হবে, তেমনি কার্বন নির্গমনের হিসাবরক্ষণের জন্য শক্তিশালী নিয়ম তৈরি করা যাবে বলে তাঁরা মনে করেন।

বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকিতে থাকা দেশের জন্য নতুন এই অর্থনীতি খুবই গুরুত্ব বহন করে। কার্বনমুক্ত বিভিন্ন খাত গড়ে তুলে ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজমের আওতায় বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে যেমন লাভবান হতে পারে, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়ও ভূমিকা রাখতে পারে। সাধারণত প্রস্তাবিত ক্লিন ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পগুলো একটি মনোনীত জাতীয় কর্তৃপক্ষ বা ডেজিগনেটেড ন্যাশনাল অথরিটি (ডিএনএ) মূল্যায়ন করে থাকে। যদি কোনো প্রকল্পের সত্যিকার অর্থে কার্বন কমানোর সম্ভাবনা থাকে, তাহলেই শুধু তা ক্লিন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট হিসেবে বিবেচনাধীন হয়। বাংলাদেশের জ্বালানি, পুরোনো রাষ্ট্রীয় শিল্প, বনায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ইত্যাদি খাতে ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে। এ ছাড়া প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্যাস সংযোগ, উন্নত চুলা, সৌর প্রতিফলন যোগ্য কাচ ব্যবহূত ভবন, কেরোসিনের বাতির বদলে সৌর লণ্ঠন, প্রথাগত ইটের পরিবর্তে ফাঁপা ইট ইত্যাদি ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম প্রকল্পের আওতায় আনা যেতে পারে। এসব বিবেচনায় নতুন এই অর্থনীতির ভালোমন্দ বিষয়ে বাংলাদেশে আরও বিস্তর আলোচনা-পর্যালোচনা প্রয়োজন।

২.

এই বইয়ে নীতিকথার চেয়ে বাস্তবতায় বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। লেখকদের মূল যুক্তি হলো ‘বাস্তবে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জের মানে হলো হয় পুঁজিবাদকে বাতিল করে দেওয়া অথবা একে এমনভাবে বৃদ্ধি পেতে দেওয়ার পথ খুঁজে বের করা, যেখানে ধীরে ধীরে কয়লা, তেল ও গ্যাসের বিকল্প গ্রহণ করা হবে (৯)। তবে তাঁরা মনে করেন, “স্বল্প মেয়াদে পুঁজিবাদকে বাতিল করে দেওয়া অসম্ভব” (৯)। ফলে, যে ধরণের পদক্ষেপ বাজার সৃষ্টিতে সহায়তা করবে, তা বেশি আকর্ষণীয়। এখানে কার্বন নির্গমনের অনুমতি বা কার্বন-ভাতা বেচাকেনার মাধ্যমে টাকা কামানো সম্ভব। তা হবে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই। কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো পুঁজিবাদীরা এমন কোনো পথ খুঁজে পাবে কি না, যেখানে কার্বনমুক্তি অর্জন করা যায় (১০)।’ সে জন্য লেখকদের মূল গবেষণা ছিল কার্বন মার্কেটের সম্ভাব্যতা খোঁজা। এর পাশাপাশি কার্বনমুক্তকরণের জন্য শক্তিশালী অ্যাক্টরদের যুক্ত করার কৌশলগত চিন্তা। পুরো বইয়ে তাঁরা বাজারের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে তাঁদের সচেতনতা ব্যক্ত করছেন (দেখুন পৃ. ১৩০) এবং কায়েমি স্বার্থগুলোকে আশ্বস্ত করার প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সজাগ থেকেছেন (দেখুন পৃ. ৫৫-৫৬)।

তাঁদের যুক্তি হলো এসব প্রতিবন্ধকতা চাইলে প্রণোদনা এবং করপোরেট সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনয়নের মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা যায়। কিয়োটো চুক্তির প্রস্তুতির সময়ে অর্থায়নকারীরা কার্বন নির্গমন বাণিজ্য ও ক্ষতিপূরণ বাজারে নিজেদের ব্যবসার সুযোগ খুঁজতে শুরু করে। যখনই কিয়োটো চুক্তি বাস্তবায়ন শুরু হলো, বারক্লেইস ও ডিউস ব্যাংকের মতো বিশাল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কার্বন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠা করল (৭৪)। তারা নিজেদের নব্য উদারনীতিবাদী যুক্তি কাজে লাগিয়ে বলা শুরু করল যে পৃথিবীর সমস্যার সমাধান হলো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের টাকা সংহত করা। এ ক্ষেত্রে করণীয় হলো এই প্রক্রিয়াটাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা। সে জন্য ‘নব্য উদারনীতিবাদী বিশ্বে প্রতিপত্তিওয়ালা বড় আর্থিক বিনিয়োগকারীদের আচরণে পরিবর্তন আনতে প্রণোদনা তৈরি করতে হবে (৭৬)।’

এ ক্ষেত্রে কার্বন নির্গমন বাণিজ্য স্কিমের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। কার্বন নির্গমন হ্রাসে যেসব অর্থায়নকারীর কায়েমি স্বার্থ আছে, তাদের মধ্যে নির্বাচকমণ্ডলী তৈরি করতে হবে (৭৫)। বইয়ের একটি বড় অংশজুড়ে এসব স্কিম তৈরি করা, এদের সাফল্য এবং সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করা হয়েছে। তাদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইমিশনস ট্রেডিং স্কিম (ইটিএস) নির্বাচকমণ্ডলী তৈরি করার মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে পরিণত করেছে। এই নির্বাচকমণ্ডলীর স্বার্থ হলো ‘কার্বন বাণিজ্য রক্ষা করা, এমনকি এই ব্যবস্থাকে জোরদার করা’ এবং একটি প্রবৃদ্ধি চক্র তৈরি করা যা জীবাশ্ম-জ্বালানি বাড়াবে না (১০৪)।

একইভাবে, ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (সিডিএম) বাজারভিত্তিক কার্বনমুক্তকরণের ‘একটি আভাস’ দেয় (৮৭)। নুয়েল ও প্যাটারসনের মতে, সিডিএমের সাফল্য হলো, সার্টিফায়েড ইমিশন রিডাকশন (সিইআর) পণ্যে এই পদ্ধতি ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করতে পেরেছে। অনেক দেশের সরকারের মধ্যে এর আকর্ষণ রয়েছে। এই ব্যবস্থার নকশা যারা তৈরি করেছিল, তাদের ধারণার চেয়ে বেশি দ্রুত তা বৃদ্ধি পেয়েছে (৯২-৯৩)। তবে লেখকেরা কার্বন নির্গমনের পাল্টা তথ্যসংক্রান্ত বয়ানের সমস্যাগুলো স্বীকার করেন। এর ওপরই তা নির্ভরশীল। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণকে অতিরঞ্জিত করতে উদ্বুদ্ধ হন। লেখকেরা বাজার ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনাও স্বীকার করেন। যেসব রাষ্ট্র নিজেদের পরিবেশগত ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে চায়, তারা সিডিএমকে ‘অপ্রীতিকর’ বলে আখ্যায়িত করেছে (১৩৪)। অনেকগুলো উত্তেজনার মধ্যে এটি একটা যা লেখকদের অবস্থান থেকে অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

সবশেষে, এই দুই লেখক জলবায়ু পুঁজিবাদের চারটি সম্ভাব্য ভবিষ্যত্ চিত্র তুলে ধরেন।

১.         একটি ক্লাইমেট ইউটোপিয়া বা জলবায়ু কল্পলোক: এখানে স্বপ্রণোদিত হয়ে জোরদার করা একটি ব্যবস্থা থাকবে, যেখানে প্রথম দিকে উদ্যোগ নেওয়া যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক বা চীন (সিডিএম প্রকল্পের ক্ষেত্রে) সুবিধা পাচ্ছে এবং অন্যরাও একই রকম সুবিধার জন্য তাদের অনুসরণ করবে। এর ফলে শক্তিশালী টার্গেট যেমন স্থাপন করা যাবে, তেমনি পরিচ্ছন্ন বিনিয়োগের প্রচেষ্টাও তৈরি হবে।

২.         স্থির অবস্থা: কার্বন মার্কেট মূলত একটি স্পেকুলেশন বা জল্পনার অস্ত্র হয়ে থাকবে। এর ফলে সৃষ্ট হওয়া বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সামগ্রিক পদক্ষেপ বাধাগ্রস্ত হবে।

৩.        একটি ক্লাইমেট ডিস্টোপিয়া বা খারাপ অবস্থা: এখানে ব্যাপকভাবে জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং হবে। জীবাশ্ম-জ্বালানি এবং জিনেটিক্যালি মোডিফাই করা বনের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো উন্নত বিশ্বের জন্য সেবা প্রদানকারীর ভূমিকায় আটকে যাবে। কিন্তু সুবিধার ভাগ পাবে না (কার্বন উপনিবেশায়ন)। আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যক্তিগত কার্বন-ভাতা দেখভাল করবে রাষ্ট্র ও এনজিওগুলো।

৪.         জলবায়ু কেইনেসীয়বাদ: এই পরিস্থিতিতে যখনই ঘাটতি দেখা দেবে, তখন সক্রিয় সরকারগুলো কার্বন মার্কেটে হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে। আত্মসংগঠনের মাধ্যমে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ আরোপ দেখা যাবে এবং রাষ্ট্র উচ্চমানের দিকে ধাবিত হবে। একটি ‘গ্রিন নিউ ডিল’ গঠিত হবে, যেখানে পরিবেশগত সেবা প্রদানের ভিত্তিতে সম্পদ বণ্টন হবে।

সামগ্রিকভাবে, নুয়েল ও প্যাটারসন কার্বন পুঁজিবাদের একটি সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছেন এবং সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ করেছেন। এ ছাড়া নব্য উদারনীতিবাদী নীতির ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বিদ্যমান বাজারভিত্তিক পদ্ধতির শক্তি ও দুর্বলতাগুলো তুলে ধরেছেন। ‘গ্রিন নিউ ডিলের’ তাঁরা বড় সমর্থক। এটা ইউরোপীয় ধাঁচের ধ্রুপদি সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতির সমতুল্য, যেখানে রাষ্ট্র বিভিন্ন স্বাধীন অ্যাক্টরদের জন্য কাঠামো তৈরি করে দেবে, যেন তারা বাজারের চাহিদায় সাড়া দিতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন প্রধানত একটি সামাজিক ইস্যু। এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই যে আমাদের একটি সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। যেহেতু নিয়ন্ত্রিতভাবে মুক্ত বাজার ছাড়া আমাদের সমাজকে সংগঠিত করার ভালো কোনো পদ্ধতি আমরা চালু করতে পারছি না, তাই এই প্রেক্ষাপটে আমাদের উচিত এমন পদ্ধতি গ্রহণ করা, যা সফলভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের সাহায্য করবে। নুয়েল ও প্যাটারসনের বইটি এই বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

ভিন্নদৃষ্টি

বইয়ের লেখকদের অ্যাজেন্ডা ছিল খোলাখুলিভাবে রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত টার্গেটের মাধ্যমে ঘাটতি সৃষ্টি করা, কার্বনের দাম বাড়ানো এবং জীবাশ্ম-জ্বালানির ওপর কোম্পানিগুলোর নির্ভরতা কমানোর জন্য প্রণোদনা তৈরি করা। এ ছাড়া ‘জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজনে সাহায্য করতে বাজারকে পরিচালিত করতে হবে (১৬০)।’ এটাকে বলা যায় একধরনের ‘জলবায়ু কেইনেসীয়বাদ’ (১৭২-১৭৮)। যদিও পরিষ্কার করে বলা হয়েছে যে ‘এই সব পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা কম’, কিন্তু এই ভয়ানক চিত্রটি পাল্টানোর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ যা করা হয়েছে, তা অপর্যাপ্ত।

অ্যাড্রিয়ান পার (২০১২) তাঁর র‌্যাথ অব ক্যাপিটাল: নিওলিবারেলিজম অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ পলিটিকস গ্রন্থে নব্য উদারনীতিবাদী পুঁজিবাদের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন যে সংকট সৃষ্টি করেছে, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি এটাকে বলছেন টেকসই উন্নয়ন রাজনীতির করপোরেট ‘হাইজেকিং’। তিনি সংকট সমাধানের পদ্ধতি হিসেবে কার্বন বাণিজ্যকে মার্ক্সীয় দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি কার্ল মার্ক্স, মাইকেল হার্দত, আন্তোনিও নেগ্রি, গিলস দেলিউজ, ফেলিক্স গুয়াত্তারি, স্লাভো জিজেক ও মিশেল ফুকোর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করেছেন। পশুর অধিকার, জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধি ও প্রজনন বিষয়ে নারীবাদী সমালোচনাও পারের বিশ্লেষণে জায়গা পেয়েছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিকভাবে জলবায়ু পুঁজিবাদ জলবায়ুর সমস্যাকে কমাবে। কিন্তু এর ফলে ভোক্তা সংস্কৃতি শক্তিশালী হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বিকল্প যুক্তি দিয়েছেন ড্যানিয়েল মিলার (২০১২)। কনজাম্পশন অ্যান্ড ইটস কনসিকিউয়েন্সেস গ্রন্থে তিনি বলছেন যে অর্থনীতিবিদ বা রাজনৈতিক তাত্ত্বিক কারোরই ভোক্তা সংস্কৃতির নৈতিক পরিতৃপ্তিকে নিশ্চিতভাবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

আলোচিত বইয়ে আবির্ভূত জলবায়ু পুঁজিবাদের চরিত্র সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক সংগ্রামের মাত্র দুটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে (১৮০, ১৮৬)। এর বদলে লেখকেরা জোর দিচ্ছেন ‘শহুরে ব্যবসায়ীদের ওপর (মূলত লন্ডনের) যারা দৈনন্দিন ব্যবসার বড় অংশ সম্পাদন করে থাকে’। এ ছাড়া ‘ক্ষতিপূরণ প্রকল্পের জন্য ডেভেলপার, “কার্বন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টে” নিয়োজিত কোম্পানিদের সাহায্যকারী ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট, কোম্পানিগুলোর কার্বন নির্গমন মূল্যায়নকারী নিরীক্ষক এবং অন্যদের’ ওপর তাঁরা জোর দিচ্ছেন (১০৪)। একইভাবে ঐতিহাসিক তুলনার ক্ষেত্রে তাঁরা ব্রেটন উডস ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা নিয়ে আলোচনা করেছেন। নব্য কেইনেসীয় নীতির ব্যাপরে যুক্তি তুলে ধরতে ব্রেটন উডস ব্যবস্থা অবশ্যই একটি মূল উপাদান। এখানে তাঁরা জোর দিয়েছেন প্রগতিশীল বিষয়গুলোর (উচ্চ মজুরি) সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের দূরদর্শিতার ওপর। কিন্তু বৈশ্বিক পুঁজিবাদের অনুরূপ নতুন রূপরেখায় করপোরেট অ্যাক্টরদের বাইরে অন্যদের ভূমিকাকে এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে নুয়েল তাঁর ২০১২ সালের গ্লোবালাইজেশন অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট: ক্যাপিটালিজম, ইকোলজি অ্যান্ড পাওয়ার গ্রন্থে বিশ্লেষণের কেন্দ্রে বাজার, রাষ্ট্র ও সিভিল সমাজকে রেখেছেন।

নুয়েল ও প্যাটারসন আলোচিত বইয়ে দুটি ভবিষ্যত সমস্যাকে তাঁরা এড়িয়ে গেছেন বা বলা যায় খুব গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেননি। এর একটি হচ্ছে জলবায়ু অভিবাসী ও শরণার্থী-সংকট। এ বিষয়ে সংহতি এবং জনবল সংগঠিত করতে কৌশল গ্রহণের জন্য আরও মনোযোগ দরকার। আর্থিক খাতের বাইরে এ ব্যাপারে ভাবনা খুবই জরুরি। একইভাবে তাঁরা বলছেন যে বাজারভিত্তিক কার্বনমুক্তির ব্যবস্থা তৈরিতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থাই মূল বিষয়। যেমন তাঁরা উল্লেখ করেছেন, ‘কতটুকু এবং কত দ্রুত করপোরেশনগুলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আগ্রহী হবে তা নির্ধারণে অর্থনীতির সার্বিক অবস্থাও একটি নিয়ামক (৫৮)’। কিন্তু এটা এখনো বিকশিত হয়নি।

ক্লাইমেট ক্যাপিটালিজম বইটি বাজারের শক্তি ও সীমাবদ্ধতার বেশ চমত্কার একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্লেষণ। তবে কার্বন মার্কেটের বিশ্লেষণ এবং যে প্রেক্ষাপটে এই মার্কেট টিকে আছে, তা থেকে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক কৌশল থেকে এই বইয়ের উপসংহারে টানা হয়নি। এর বদলে উপসংহার টানা হয়েছে তাঁদের মূল অনুমান থেকে। সেখানে তাঁরা বলতে চাইছেন জলবায়ু-সংকটের এই সময়কালে কার্যকর পুঁজিবাদ বিরোধী আন্দোলন যেহেতু সম্ভব নয়, তাই সম্ভাব্য সমাধান অবশ্যই বাজারব্যবস্থার মধ্যেই খুঁজতে হবে। যা সম্ভব তা রয়ে গেছে দ্ব্যর্থবোধক। এর বদলে তাঁরা বলছেন, যা তাঁরা প্রয়োজনীয় হিসেবে মনে করেছেন। তাঁরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে ‘এমন একধরনের পুঁজিবাদ সম্ভব, যেখানে কার্বনমুক্তি অর্জন করা যাবে এবং তা বৈশ্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য একটি রূপান্তরের চলনসই পদ্ধতি হবে। কার্বন মার্কেটের একটি সুশাসিত ব্যবস্থাও অর্জন করা আমাদের কাছে সম্ভব মনে হচ্ছে’ (১৮৩)। কিন্তু মিলার তাঁর বইয়ে ক্রিস নামক একটি কাল্পনিক চরিত্র সৃষ্টি করেছেন। সেখানে ক্রিস ইউরোপে কার্বন নির্গমন কমাতে কার্বন বাণিজ্যের ব্যর্থতার সমালোচনা করেছেন। এই কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে মিলার মূলত কার্বন মার্কেটে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার কথা বলেছেন। অবশ্য জলবায়ু নীতির মার্কেটাইজেশনের যে রাজনৈতিক অর্থনীতি সমালোচনা কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে মিলার দিয়েছেন, তার বিস্তৃত কোনো তাত্ত্বিক ভিত্তি নেই।

তবে নুয়েল ও প্যাটারসনের বইয়ে এ রকম একটি বাস্তবতা অর্জনের রাজনৈতিক পদ্ধতি কী হবে, তা ভালো করে খতিয়ে দেখা হয়নি। এমনকি তাঁদের নিজেদের ভাষায় যেটাকে তাঁরা বলছেন বাধ্যকারী রাষ্ট্র ও বহুপক্ষীয় হস্তক্ষেপ, সেগুলোরও রাজনৈতিক পদ্ধতি খতিয়ে দেখা হয়নি। এই বইয়ের মূল কথা হলো কার্বন ক্ষতিপূরণের জন্য একটি কার্যকরী বাজার তৈরি করা। এটা যুক্তিসংগত দাবি। কিন্তু নব্য উদারনীতিবাদী যুগে এর ফলে ফাইন্যান্স ক্যাপিটালের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এই ক্ষমতাকে কীভাবে ভারসাম্যপূর্ণ করা যায়, তা একটি আশু বিতর্কের বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে।

তথ্যসূত্র

১. Mirza Shawkat Ali and Mahfujur Rahman, ‘Potentials of clean development mechanism’, The Daily Star, 17 March, 2012, Op-Ed page. 

২. Parr, A. 2012. The Wrath of Capital: Neoliberalism and Climate Change Politics. New York: Columbia University Press.

৩. Miller, D. 2012. Consumption and Its Consequences. Cambridge: Polity Press. 

৪. Newell, P. 2012. Globalization and the Environment: Capitalism, Ecology and Power. London: Polity Press.

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>