জাতীয়

ভালোবাসা চান, তবে ভালোবাসা পেলে পালান কেন?

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

একজন আপন মানুষ চান, যাঁর কাছে অকপটে মনের কথা বলা যায়। দিব্যি নিজের স্বতন্ত্রতা নিয়ে নিরাপদ বোধ করা যায়। কিন্তু যখন সত্যিই কেউ কাছে আসেন বা আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখনই অদ্ভুত এক অস্বস্তি শুরু হয়। যত্ন পেলে সন্দেহ হয়। ভালোবাসা পেলে ভয় লাগে। সম্পর্ক গভীর হওয়ার আগেই দূরে সরে যেতে ইচ্ছা করে। যেন মন বলছে, আমি মানুষটাকে চাই, অথচ ভেতরের আরেকটি কণ্ঠ বলছে, ‘পালাই, পালাই’। কেন এমন হয়?

প্রেম ভালোবাসা ডেটিং
খন সত্যিই কেউ কাছে আসেন বা আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখনই অদ্ভুত এক অস্বস্তি শুরু হয়। যত্ন পেলে সন্দেহ হয়। ভালোবাসা পেলে ভয় লাগে

১. ভালোবাসা মানেই যদি আঘাত হয়?

শৈশবে কিংবা আগের কোনো সম্পর্কে যদি ভালোবাসার সঙ্গে কষ্ট, ট্রমা, প্রত্যাখ্যান বা অনিশ্চয়তা জড়িয়ে থাকে, তাহলে মস্তিষ্ক ভালোবাসাকে সব সময় নিরাপদ হিসেবে চিনতে পারে না। আগের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে অনিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত করে।

২. ছেড়ে যাবে না তো?

আগের সম্পর্কে যদি ওপর পক্ষ অন্যায্যভাবে ছেড়ে যায়, সেটা যে কারও ভেতরে–ভেতরে ব্যাপক হীনম্মন্যতা আর অনিশ্চয়তাবোধ তৈরি করতে পারে। সেই ‘জঘন্য’ অনুভূতির কাছে ওই ব্যক্তি আর ফিরতে চান না।

ফলে নতুন কেউ আন্তরিক বা ভালো হলেও নিজের ‘ডিফেন্স মেকানিজম’ থেকেই ভেতরে–ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়, ‘শেষ পর্যন্ত আমাকেও ছেড়ে যাবে না তো?’ তখন আদতে আপনি ভালোবাসা প্রত্যাখ্যান করছেন না। বরং সম্ভাব্য আঘাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে চাইছেন।

৩. ‘আমি ভালোবাসার যোগ্য নই’

আরেকটি বড় বাধা আসে আত্মমূল্যায়ন থেকে। ‘আমাকে সত্যিই কেউ ভালোবাসবে কেন?’ কিংবা ‘কেউ আমাকে এতটা ভালোবাসতে পারে না’—এমন বিশ্বাস থাকলে অন্যের ভালোবাসাকেও সন্দেহ হতে পারে।

সাধারণত পরিবার ও সমাজের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারা ও নানা ধরনের ‘জাজমেন্ট’ থেকে এই ধরনের ধারণা তৈরি হয়।

৪. কাছে আসা মানেই অস্বস্তি

মনোবিজ্ঞানে ‘অ্যাভয়ডেন্ট অ্যাটাচমেন্ট’ বলে একটা বিষয় আছে। এই ধরনের মানুষ ঘনিষ্ঠতা চান না, বিষয়টি ঠিক এমন নয় বা এতটা সরল নয়। বরং ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলে ‘শেষ পর্যন্ত কোথায় গড়ায়’, ‘যদি খারাপ হয়ে যায়’—এই ধরনের চিন্তা কাজ করে।

সম্পর্ক ভালো রাখার চাপ থেকেও তাঁরা অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। এ কারণে সম্পর্কে তাঁরা আবেগগত দূরত্ব বজায় রাখতে চান। কিঞ্চিৎ অস্বস্তিকর কথোপকথনও এড়িয়ে চলতে চান।

ভালোবাসা গ্রহণ করা কি শেখা যায়

যায়। তবে প্রথম ধাপ হলো, নিজের আচরণের পেছনের ভয়টি চিনতে পারা। কেন ভালোবাসা এলে আপনি সন্দেহ করেন? কেন কেউ খুব কাছে এলে দূরে সরে যেতে চান? কোন পুরোনো অভিজ্ঞতা আজকের প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে?

নিজেকে দোষ দেওয়া নয়, বরং নিজের প্রতিরক্ষামূলক আচরণকে বোঝাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিং বা থেরাপিও নিতে পারেন।

শেষ কথা

‘আ থাউজেন্ড ইয়ারস’ নামে কেটি পেরির একটি জনপ্রিয় গান আছে। ইউটিউবে কেবল তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকেই গানটি শোনা হয়েছে ২৮০ কোটির বেশিবার।

‘টোয়ালাইট’ সিনেমায় ব্যবহৃত এই গানের একটি লাইন হলো, ‘হাউ ক্যান আই লাভ হোয়েন আই অ্যাম অ্যাফরেইড?’ একবাক্যে এটিই আদতে এই লেখার মূলকথা।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>