বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার কাছ থেকে পাওয়া তেল দিয়ে মার্কিন পেট্রোলিয়ামের মজুত আরও বাড়ানো হবে। নিজ দেশের তেলের মজুত খালি হয়ে যাওয়ার পেছনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেও দুষেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তেল সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুতই শুরু হবে। এই তেলকে মার্কিন জনগণের প্রতি ভেনেজুয়েলার জনগণের উপহার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয় যে, ঠিক কতটা দ্রুত ভেনেজুয়েলা থেকে আমেরিকায় তেল সরবরাহ শুরু হবে। শুক্রবার হওয়া এই চুক্তির মূূল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার ভেঙে পড়া তেল অর্থনীতিকে আবার চাঙ্গা করা। তবে, এর জন্য ব্যাপক অবকাঠামোগত পুনর্গঠন প্রয়োজন।
আগস্টের ২১ তারিখ পর্যন্ত আমেরিকার মজুতে ২৯০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সংরক্ষিত ছিল যা ৪৪ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। তবে, শুক্রবার হওয়া এই চুক্তি অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন তেলক্ষেত্রে মজুত থাকা ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের ওপর খবরদারির সুযোগ পাবে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্পের এই ভেনেজুয়েলা নীতিকে বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির প্রেক্ষাপটে ‘ডনরো ডকট্রিন’ (Donroe Doctrine)-এর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। শব্দটি Donald Trump ও ঐতিহাসিক Monroe Doctrine—এই দুই নামের সমন্বয়ে তৈরি।
আরও পড়ুন
ট্রাম্পের ‘ডনরো ডকট্রিন’ / ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিশ্ব ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের
১৮২৩ সালে ২ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর ঘোষিত ‘মনরো ডকট্রিন’ (Monroe Doctrine)-এর মূল ধারণা ছিল, ইউরোপীয় শক্তিগুলো যেন আমেরিকা মহাদেশে নতুন করে হস্তক্ষেপ বা উপনিবেশ স্থাপন না করে।
চুক্তি নিয়ে যা জানা দরকার
এই নজিরবিহীন চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পশ্চিম গোলার্ধে (লাতিন আমেরিকা) দেশটির জ্বালানি-প্রভাব ও আধিপত্যকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেবে। তবে, চুক্তির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টির সঙ্গে সংযুক্ত একটি সূত্র অ্যাক্সিওস-কে জানিয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্র, বেসরকারি কোম্পানি এবং ভেনেজুয়েলার মধ্যে এক ধরনের ‘সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব’ (public-private partnership)।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এটি কোনো ক্রয় নয়। তারা আমাদের ইকুইটি বা মালিকানার অংশ দিচ্ছে। এটি এমন এক ধরনের করপোরেট লেনদেন, যেখানে কোম্পানিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানার অংশ থাকবে।
ওই সূত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্র তথাকথিত ‘অফ-টেক অয়েল’ (off-take oil) পাওয়ার সুযোগও পাবে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট পরিমাণ অপরিশোধিত তেল (crude oil) নিশ্চিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র পাবে এবং তা উৎপাদন খরচের বিনিময়ে সরবরাহ করা হবে।
ট্রাম্প তার Truth Social অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তিতে প্রবেশ করেছে!
এএমএ
বিজ্ঞাপন