ব্রেকিং নিউজ
ঝিনাইদহে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা নবগঙ্গা নদীতে জমজমাট নৌকাবাইচ, উৎসবে মুখরিত পুরো এলাকা সেনাবাহিনীর অনুশীলনে হতাহতের ঘটনায় ইসলামী আন্দোলনের শোক মদিনাবাসীকে মহানবী (সা.) প্রথম যে বার্তা দেন হতাশা ভুলে লিভারপুলের নায়ক ম্যাক অ্যালিস্টার, ২৯ পাসের গোলে আর্সেনালের জয় মেহেদি অনুষ্ঠানের আলোকসজ্জার তারে জড়িয়ে বৃদ্ধা নিহত অনিয়ম–জালিয়াতির অভিযোগের পর ডব্লিউএইচও’র পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ উনি কি গালি দিলেন না দোয়া, কিছুই বুঝলাম না: রুমিন প্রসঙ্গে শফিকুর তোরেসের হ্যাটট্রিকে পিএসজির হ্যাটট্রিক অভিযান শুরু চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৬ লাখ টন সার উদ্বৃত্ত থাকবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
জাতীয়

মদিনাবাসীকে মহানবী (সা.) প্রথম যে বার্তা দেন

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত শুধু একটি ভৌগোলিক স্থানান্তর ছিল না; বরং তা ছিল এক নতুন মানবিক রাষ্ট্র ও আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের ঐতিহাসিক শুভ সূচনা। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আবাসস্থল ছিল মদিনা। প্রধান দুটি গোত্র আউস ও খাজরাজ দীর্ঘ যুদ্ধ-বিগ্রহে ক্লান্ত তখন গোত্র।

মদিনায় পৌঁছে আল্লাহর রাসুল (সা.) নতুন নগরবাসীকে কী বার্তা দিয়েছিলেন? মাত্র চারটি গভীর মানবিক ও আত্মিক মূলনীতির ওপর তিনি গড়ে তুলেছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ইনসাফপূর্ণ ও শান্তির সমাজ।

মদিনার ইহুদি পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম, যিনি পরে ইসলাম গ্রহণ করেন, তিনি বর্ণনা করেন, “আল্লাহর রাসুল যখন প্রথম মদিনায় পদার্পণ করলেন, তখন চারপাশ থেকে মানুষ তাঁর দর্শনের জন্য ভিড় জমাল। আমিও ভিড়ের মধ্যে গিয়ে তাঁর চেহারার দিকে তাকালাম। এক পলক দেখেই আমার অন্তরাত্মা বলে উঠল—এটি কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে পারে না।

“তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশে সর্বপ্রথম যে বাণীটি উচ্চারণ করলেন, তা ছিল, ‘হে লোকসকল, তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করো, সমাজে সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটাও, আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় রাখো এবং রাতে মানুষ যখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন থাকে তখন নামাজ (তাহাজ্জুদ) আদায় করো; তবেই তোমরা পরম শান্তিতে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৮৫)

সংক্ষিপ্ত এই ভাষণে এই বার্তা কেন দিলেন, বিশদ আলোচনা করা হলো।

১. ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান: সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রথম শর্ত

একটি সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পূর্বশর্ত হলো মানুষের মৌলিক চাহিদার নিশ্চয়তা বিধান করা। পেটে ক্ষুধা রেখে কোনো জাতি উন্নত সংস্কৃতি কিংবা নৈতিকতার চর্চা করতে পারে না।

নবীজি (সা.) খুব ভালো করেই জানতেন যে, অভাব ও ক্ষুধা দূর না হলে কোনো রাষ্ট্রেই অপরাধ ও সংঘাত বন্ধ করা সম্ভব নয়।

মহানবী (সা.) অন্নসংস্থানকে কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় হিসেবে দেখেননি; বরং একে সামাজিক সুরক্ষার ভিত্তি বানিয়েছেন। শিখিয়েছেন, যেকোনো উপায়ে সমাজের কোনো মানুষ যেন অনাহারে না থাকে, তা নিশ্চিত করাই একটি ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্রের প্রথম পদক্ষেপ।

২. সালামের প্রসার: পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধন

রাস্তাঘাটে চলাচলের সময়, কর্মস্থলে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিংবা যেকোনো সামাজিক মিলনে পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে একে অপরকে আন্তরিকভাবে অভিবাদন জানানো পারস্পরিক হৃদ্যতা তৈরির সেরা মাধ্যম। অজ্ঞতা ও দূরত্ব থেকেই জন্ম নেয় ভয় এবং সেই ভয় পরবর্তীতে রূপ নেয় বিদ্বেষে।

ইসলামি সম্ভাষণ ‘আসসালামু আলাইকুম’ নিছক কোনো আনুষ্ঠানিক শব্দ নয়; এটি হলো মহান আল্লাহর পবিত্র গুণবাচক নাম ‘আস-সালাম’-এর মাধ্যমে অপর ভাইয়ের নিরাপত্তা ও শান্তি কামনা করা। যখন একজন মানুষ অন্যজনকে বলে—‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক’, তখন তা দুজনের মাঝে আস্থার সেতুবন্ধন তৈরি করে।

৩. আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় রাখা: পারিবারিক সুরক্ষাবলয়

পরিবার হলো যেকোনো সুস্থ সমাজের ক্ষুদ্রতম অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একক। একটি পরিবার যখন ভাঙনের মুখে পড়ে, আত্মীয়-স্বজনের যোগাযোগ যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে এবং সামাজিক সুরক্ষাবলয় ভেঙে যায়।

রাতের আঁধারে চোখের পানি ফেলে যে মানুষ নিজের অহংকার বিসর্জন দেয়, দিনের আলোয় সে-ই মানুষের কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার অদম্য প্রেরণা খুঁজে পায়।

প্রিয় নবী (সা.) রক্তের সম্পর্ক রক্ষা করাকে শুধু নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখেননি, বরং এটিকে সামাজিক ঐক্যের চাবিকাঠি বানিয়েছেন। নিয়মিত আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া, দূরবর্তী স্বজনদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সুখ-দুঃখে অংশীদার হওয়া সমাজের পারিবারিক মেলবন্ধনকে অক্ষুণ্ণ রাখে।

৪. নিঝুম রাতে নামাজ: আত্মিক শক্তির উৎস

সামাজিক দায়িত্ব পালনের তিনটি বাস্তবমুখী নির্দেশের সঙ্গে নবীজি (সা.) যুক্ত করেছেন একটি আত্মিক আমল—‘রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন নামাজ আদায় করো।’ বাহ্যিক সমাজসেবা ও দানশীলতা মানুষকে অনেক সময় অহংকারী বা ক্লান্ত করে ফেলতে পারে।

কিন্তু রাতের নিভৃতে পরম স্রষ্টার সঙ্গে একান্তে কথোপকথন বান্দার অন্তরে এক সঞ্জীবনী শক্তি জোগায়।

রাতের আঁধারে চোখের পানি ফেলে যে মানুষ নিজের অহংকার বিসর্জন দেয়, দিনের আলোয় সে-ই মানুষের কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার অদম্য প্রেরণা খুঁজে পায়। আত্মিক সংযোগ ছাড়া শুধু বৈষয়িক সমাজসেবা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>