ব্রেকিং নিউজ
ট্রাম্পের হুমকির পর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চুক্তি করলো যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক সবচেয়ে বেশি গোল্ডেন ডাক শিকার, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সোনা জয় ও আরও ৮ প্রশ্ন ট্রাম্পের হুমকির পর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক নিরাপত্তা চুক্তি ‘কিছু ক্ষত কোনোদিন শুকায় না` লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির, নজরও রাখছে শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্যে জোর দিন গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি, বড় সামরিক উপস্থিতির ঘোষণা ট্রাম্পের বিভিন্ন দাবিতে ১১ দলের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু তপুকে ছাড়াই আসিয়ান কাপের ২৩ জনের দল ঘোষণা সুনামগঞ্জে একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার
জাতীয়

মারেসকার মিউজিক থেরাপি, গানই ম্যান সিটির সাফল্যের রহস্য

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

লাউড স্পিকার থেকে ভেসে আসছে কানফাটা ডান্স মিউজিক, যে রকম উচ্চস্বরের মিউজিক সাধারণত নাইটক্লাবগুলোতে বাজানো হয়। দেখে মনে হতে পারে কোনো উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু জায়গাটা কোনো নাইটক্লাব নয়, ম্যানচেস্টার সিটির বিখ্যাত ইতিহাদ কমপ্লেক্স।

মাঠের মাঝখানে ম্যানচেস্টার সিটির ফুটবলাররা গা গরম করছেন। ওদিকে কানফাটা ডান্স মিউজিক বাজছে। ডাগআউটে দাঁড়িয়ে মৃদু হাসছেন কোচ এনজো মারেসকা। সিটির অনুশীলনে এখন দৃশ্যটা বেশ পরিচিত। ৪৬ বছর বয়সী এই ইতালিয়ান কোচ কেবল দল সামলাচ্ছেন না, সিটির ট্রফি-ঠাসা ড্রেসিংরুমে নিজের আলাদা এক সংস্কৃতি আর পরিচয়ের বীজ বুনছেন।

পেপ গার্দিওলার মহাকাব্যিক ছায়া ডিঙিয়ে নিজের পথ তৈরি করা সহজ নয়। মারেসকা তাই হাঁটছেন অন্য পথে। সুরই তাঁর নতুন ভাষা। নতুন পরিচয়ের শুরু।

মারেসকার অধীনে নতুন মৌসুমের শুরুটা দারুণ হয়েছে সিটির। প্রিমিয়ার লিগে চার ম্যাচে শতভাগ জয়ের রেকর্ড। এর সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগে পোর্তোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ে শুরু, সর্বশেষ লিগ কাপেও সিটি ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে নরউইচ সিটিকে। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পেছনে অনুশীলনের ওই উন্মাদনাভরা সুরের একটা অদৃশ্য ভূমিকাও হয়তো আছে। মারেসকাও বিশ্বাস করেন, সংগীত খেলাকে বদলে দিতে পারে।

মারেসকার অধীনে নতুন মৌসুমের শুরুটা দারুণ হয়েছে সিটির।

এই মৌসুমে সিটির অনুশীলন শুরুই হয় মিউজিক দিয়ে। ক্লাবের ব্র্যান্ডেড স্পিকার থেকে ভেসে আসে তীব্র বিটের গান। তবে কৌশলগত জটিল নির্দেশনা দেওয়ার সময় সেই সুর থেমে যায়। তখন ফুটবলই প্রধান ভাষা।

মারেসকা বলেছিলেন, ‘লেস্টার আর চেলসিতে এটা করেছি, এখানে এসেও চালু করেছি। খেলোয়াড়রা মিউজিক থাকলে বেশি খুশি থাকে। ভালো কাজও করে। গানগুলো খেলোয়াড়রাই ঠিক করে। মূল উদ্দেশ্য তাদের জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া।’

সেই পরিবেশটা খেলোয়াড়দের ভালোই লেগেছে। ডিফেন্ডার মাতেউস নুনেস বেশ উপভোগ করছেন বিষয়টা, ‘অনুশীলনের আগে সব ফুটবলারই এখন যেন ডিজে হতে চায়! ব্যাপারটা দারুণ।’

ভাবনাটা নতুন, আবার ইংলিশ ফুটবলে একেবারে অচেনাও নয়। গত মৌসুমে বার্নলির কোচ স্কট পার্কারও অনুশীলনে মিউজিক ব্যবহার করেছেন। তবে বিষয়টা শুধু ‘ভাইব’ নয়। এর পেছনে আছে বিজ্ঞানের যুক্তিও। জার্মানির হ্যানোভার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্স ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট ছন্দের গান ফুটবলারদের খেলার মান লক্ষণীয়ভাবে বাড়িয়ে দেয়। তাদের পাসিং, সময়জ্ঞান এবং মাঠে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের সূক্ষ্মতা বেড়ে যায় দ্রুতগতির ইলেকট্রনিক সংগীত শুনলে।

লাউড স্পিকারে গান ছেড়ে দিয়ে অনুশীলন করেন হলান্ডরা।


স্পোর্টস সাইকোলজিস্ট মার্টিন পেরি বিষয়টিকে দেখছেন আরও দারুণ এক উদ্যোগ হিসেবে, ‘মিউজিক একটা কোডের মতো কাজ করতে পারে। আলাদা পরিস্থিতির জন্য আলাদা গান। ম্যাচে পিছিয়ে পড়লে একধরনের, নিয়ন্ত্রণে থাকলে আরেক ধরনের, রক্ষণে থাকলে ভিন্ন কিছু। এতে খেলোয়াড়ের মেমোরিতে দ্রুত সাড়া জাগে, কথার চেয়ে দ্রুত।’

বার্নলিতে মেন্টাল পারফরম্যান্স কোচ ছিলেন ড্যানি ডোনাচি। তাঁর মতে, ফুটবল কখনো কখনো খুব যান্ত্রিক হয়ে যায়। সবকিছু মাপা, হিসাবি, কঠোর। সেখানে মিউজিক মানুষটাকে ফিরিয়ে আনে। তাঁর কথা, ‘ফুটবল এতটাই সিরিয়াস হয়ে যায় যে খেলোয়াড়দের রোবটের মতো মনে হয়। মিউজিক সেই ভারটা কমায়। তাদের একটু হালকা করে, আনন্দ দেয়। কোচ যদি খেলোয়াড়দের মানুষ হিসেবে দেখেন, সেটাই সবার জন্য ভালো।’

ম্যান সিটির অনুশীলনে এনজো ফার্নান্দেজ


অন্য কোচরাও ভিন্নভাবে সংগীত ব্যবহার করেছেন। আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতাও কিন্তু একসময় তাদের মাঠে অনুশীলনে অ্যানফিল্ডের আবহ তৈরি করতে লিভারপুলের ঐতিহাসিক গান ‘ইউ উইল নেভার ওয়াক অ্যালোন’ বাজিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য একটাই, ম্যাচের আগেই সেই চাপ, সেই আবেগ অনুভব করানো।


মারেসকার এই অভিনব কৌশলে আরও একটি দিক আছে। ফুটবলারদের হাতে গান বেছে নেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে তাদের একধরনের স্বাধীনতা দিচ্ছেন তিনি। মনোবিজ্ঞানী মার্ক সাগালের মতে, খেলোয়াড়দের গান বাছাই করতে দেওয়া মানে তাদের হাতে কিছুটা ক্ষমতা তুলে দেওয়া, ‘দিনভর খেলোয়াড়েরা নির্দেশ মেনে চলে। গান বাছাইয়ের মতো ছোট একটা জায়গায় মতামত দেওয়ার সুযোগ তাদের কোচের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত করে। এতে তারা মনে করে, সিদ্ধান্তের ভাগীদার তারাও।’ কার্লো আনচেলত্তি বা মার্সেলো লিপির মতো কিংবদন্তি কোচদের অধীনে খেলার অভিজ্ঞতা আছে মারেসকার। তাঁদের কাছ থেকেই তিনি খেলোয়াড়দের মন বোঝার এই অদ্ভুত বিদ্যা রপ্ত করেছেন।

ম্যান সিটি কোচ এনজো মারেসকা।


ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়নের হয়ে ক্যারিয়ারের শুরুতে ড্রেসিংরুমে শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে ইতালীয় পপ গান গাইতেন তরুণ মারেসকা। ফুটবলীয় মেধার বাইরে সেই ইতালীয় সুরই তাঁকে সতীর্থদের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল।
সেই মানুষটিই এখন সিটির মতো ক্লাবে গার্দিওলার উত্তরাধিকার বয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে। আর সেই চ্যালেঞ্জে সুরই তাঁর সবচেয়ে বড় সেতু। দল গড়ার, সম্পর্ক গড়ার এবং জয়ের পথে হাঁটার।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>