ব্রেকিং নিউজ
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছ থেকে বাংলাদেশিসহ ৭৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার ইনভেস্ট বাংলাদেশ চেয়ারম্যানকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পাবনায় কমিটি বাতিলের দাবিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঝাড়ু মিছিল অজিত দোভাল-ওয়াং ই বৈঠক: সীমানা নির্ধারণ এগিয়ে নিতে চায় ভারত ও চীন ফারহান ফাইয়াজকে যখন রিকশায় ওঠাই , তখন সে একটি দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়ে: জবানবন্দিতে সাক্ষী সাইদ সিআইএর সতর্কতা শোনেননি ট্রাম্প, নেতানিয়াহুর পরামর্শে যুদ্ধে জড়ান সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৩ জনকে আত্মসমর্পণ করতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ রাজবাড়ীতে ইয়াবাসহ দুই নারী ইউপি সদস্য আটক মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি, শিশুকে দিয়ে সরানো হয় দেহাবশেষ রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ ৫ দাবি শিবিরের
জাতীয়

মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি, শিশুকে দিয়ে সরানো হয় দেহাবশেষ

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবস্থা আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের ওপর ক্রমাগত নির্মম নির্যাতন। এমনকি গণহত্যায় নিহতদের হাড়গোড় সরাতে শিশুকে বাধ্য করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) এক প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার ওএইচসিএইচআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবেদনের বিষয়ে জানানো হয়।

কীভাবে অব্যাহত সহিংসতা ও সংঘাতভিত্তিক অর্থনীতি একসঙ্গে মিলে বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে বর্ণনাতীত দুর্ভোগের মুখে ফেলেছে, প্রতিবেদনটি তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে। এই প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়কালের চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ ও বৈধতা অর্জনে সামরিক বাহিনীর ক্রমাগত চেষ্টা কেবল বেসামরিক জনগণের ভোগান্তি এবং তাদের জীবনযাত্রার বহুমুখী ঝুঁকি ও মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। ভয় ও নিয়ন্ত্রণ আরোপের সামরিক কৌশল জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে গ্রাস করেছে। নজরদারি বাড়াতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এ কাজকে আরও সহজতর করেছে।

বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী সহিংসতার ঘটনাগুলো তুলে ধরে প্রতিবেদনে বিমান হামলা, অগ্নিসংযোগ, উচ্ছেদ ও সহায়তা প্রদানে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাগুলোর অব্যাহত ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৭ সালের ভয়াবহ সহিংসতার ৯ বছর পরও মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং ‘আরাকান আর্মি’—উভয়ের হাতেই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ও পরিকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিবরণ এতে স্থান পেয়েছে। ২০১৭ সালের ওই সহিংসতার কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর রাখাইনজুড়ে আরাকান আর্মি নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্যাতন, যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, গুম, জোরপূর্বক কাজ করানো ও নিয়োগ, জমি ও আবাসিক সম্পত্তি বেআইনিভাবে বাজেয়াপ্ত করা এবং গ্রাম, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে, যা রোহিঙ্গাদের নতুন করে বাস্তুচ্যুত করেছে।

শিশুকে দিয়ে সরানো হয় নিহতদের হাড়গোড়

ওএইচসিএইচআরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘শিশুদের পরিকল্পিতভাবে শ্রমের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ছয় বছরের ছোট শিশুরাও জঙ্গল পরিষ্কার করা, ভবন নির্মাণ এবং রাখাইন পরিবারগুলোর জন্য সাধারণ কাজকর্ম করছে। একটি ঘটনায় এক শিশুকে গণহত্যায় নিহত ব্যক্তিদের হাড় ও খুলি পরিষ্কার করতে বাধ্য করা হয়েছিল।’

কুচকাওয়াজে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা

সশস্ত্র বাহিনীতে জোরপূর্বক নিয়োগ এড়ানোর চেষ্টা করায় রোহিঙ্গাদের গ্রেপ্তার ও আটক করার কথা জানিয়েছেন সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্যক্তিরা। এমনকি বিবাহিত মেয়েদের জোরপূর্বক নিয়োগের ঝুঁকি কম—এমন আশায় অনেক রোহিঙ্গা মেয়ে বাল্যবিবাহ বেছে নিচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একবার আটক হলেই নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে ছাড়া পাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তাঁরা জানান, বাঁশের লাঠি, রাবারের পাইপ ও বেল্ট দিয়ে পেটানো, দেশলাই ও সিগারেট দিয়ে শরীর পুড়িয়ে দেওয়া, পা ওপরে দিয়ে ঝুলিয়ে ঘুরিয়ে অজ্ঞান করে ফেলা, যৌনাঙ্গে মরিচ দেওয়া এবং হাতের নখ উপড়ে ফেলার মতো নির্যাতন চালানো হতো।

সংঘাতের অর্থায়নে খনিশিল্প

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মিয়ানমারজুড়ে আইনের শাসনের অভাব অবৈধ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ করে দিয়েছে, যা সংঘাতকে অর্থায়ন করছে, সংকটকে আরও গভীর করছে এবং পুরো অঞ্চলে এর প্রভাব ফেলছে। খনিজ সম্পদের অবৈধ উত্তোলন, মাদক উৎপাদন, মানব পাচার এবং অনলাইন স্ক্যাম সেন্টারের বাড়বাড়ন্তের ফলে মানবাধিকার সংকট অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক ধস ও সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুতি এমন এক শ্রমবাজার তৈরি করেছে, যেটি অর্থনৈতিক সুবিধাভোগী ও অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর জন্য শোষণ করা সহজ হয়ে উঠেছে। বেসামরিক মানুষ এমন এক ব্যবস্থার দিকে প্রলুব্ধ হচ্ছে, যা ক্রমাগত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও শোষণে জর্জরিত।

প্রাকৃতিক সম্পদের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার দেশের একের পর এক অঞ্চলে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু–অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিবেশ, জীবিকা এবং প্রথাগত জনগোষ্ঠী-ভিত্তিক ব্যবস্থাগুলোকে ধ্বংস করেছে।

আরাকান আর্মির টহলরত সেনা

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কাচিন ও শান রাজ্যে অবৈধ অর্থনীতি ও বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) আন্তসীমান্ত অপরাধী নেটওয়ার্কের বিস্তার, কাণ্ডজ্ঞানহীন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও আন্তসীমান্ত পরিবেশদূষণের মতো গুরুতর ঘটনার জন্ম দিয়েছে। উপগ্রহ চিত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, কাচিন মূল খনি এলাকা হিসেবে রয়ে গেছে, যেখানে ২০২১ সালের পর নতুন ৩০২টি খনি সাইট তৈরি হয়েছে, যা আগের চেয়ে ১৪৯ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে শান রাজ্যে সেনা অভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী সময়ে ১২টি খনি সাইট থাকলেও পরে তা বেড়ে ৮৫টিতে দাঁড়িয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যপ্রাপ্তি সীমিত হওয়া সত্ত্বেও প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে বাণিজ্যপ্রবাহ সর্বোচ্চ ১৪০ কোটি মার্কিন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আর্থিক তদন্তে দেখা গেছে, একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক জটিল সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, যেখানে সম্পূর্ণ দায়মুক্তি নিয়ে অবৈধ উপার্জন সহজতর হয়েছে।

অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার অভাব, বাস্তুচ্যুতি ও জোরপূর্বক সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের কারণে খনি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি সুপারভাইজার, নিরাপত্তারক্ষী ও মিলিশিয়া সদস্যদের দ্বারা যৌন সহিংসতা ও হয়রানির ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিয়েছে, যারা সম্পূর্ণ দায়মুক্তি নিয়ে এসব খনি পরিচালনা করছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বলেন, এই প্রতিবেদনে বহু স্তরে এবং দেশজুড়ে থাকা দুর্ভোগ, দুর্দশা ও নির্মমতার এমন এক চিত্র উঠে এসেছে, যা হৃদয়বিদারক।

ফলকার টুর্ক আরও বলেন, ‘আমি সব রাষ্ট্র, কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন তাদের কর্মকাণ্ড বা নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আত্মপর্যালোচনা করে; নিজেদের জিজ্ঞেস করে—এটি কি মিয়ানমারের জনগণের জন্য ন্যায্য ও ন্যায়সংগত? তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতি কি আদৌ পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব? তাদের নিজেদের সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা এখন ঝুঁকির মুখে।’

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>