বিজ্ঞাপন
চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন নাহিদ হাসান নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর। নাহিদ হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘উজান টিভি’র কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নাহিদ হাসান নামের এক যুবক বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিষয়ে নাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, আমরা কেবল তার বিচার চাই। মিল্টন সমাদ্দার যেভাবে আমাদের ওপর অতর্কিত ও হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছেন, আমরা আইনের মাধ্যমে তার সঠিক বিচার প্রত্যাশা করছি।’
মিল্টন সমাদ্দারের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে, ২৭ আগস্ট নাহিদ হাসান সাভার মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা হয়েছে বলে জানান পুলিশ।
অভিযোগে নাহিদ হাসান বলেন, তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন ও লোকমুখে তিনি জানতে পারেন, সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর এলাকায় মিল্টন সমাদ্দার পরিচালিত চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে পরিচয়হীন শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি অসুস্থ ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
নাহিদের ভাষ্য, গত ২৩ আগস্ট দুপুর সাড়ে দুইটার দিকে বাগেরহাটের শরণখোলা থানার বকুলতলা এলাকার দশকুড়াসংলগ্ন সড়কে প্রায় ৬৫ বছর বয়সী এক অসুস্থ ও পরিচয়হীন বৃদ্ধাকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ওই বৃদ্ধার পরিচয় ও স্বজনদের সন্ধান না পেয়ে তাকে উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর মিল্টন সমাদ্দারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বৃদ্ধাকে তার প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় দেওয়ার অনুরোধ করেন।
আরও পড়ুন
মিল্টন সমাদ্দারের আশ্রমে বেওয়ারিশ বৃদ্ধা, মারধরের শিকার দুই সাংবাদিক
অভিযোগে নাহিদ বলেন, প্রথমে মিল্টন সমাদ্দার বৃদ্ধাকে তার প্রতিষ্ঠানে নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে অনুরোধের একপর্যায়ে আশ্রয় ও সেবা দেওয়ার বিনিময়ে মাসে ১৮ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন নাহিদ। বিষয়টি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
নাহিদের অভিযোগ, মিল্টন সমাদ্দারের কথামতো গত ২৫ আগস্ট শরণখোলা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই বৃদ্ধাকে নিয়ে তারা রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে পৌঁছান। সেখানে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের জের ধরে মিল্টন সমাদ্দার, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার দেবাশীষ (২৬) এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে সাতজন তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে মিল্টন সমাদ্দার তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার সঙ্গে থাকা মো. ইলিয়াস হোসেনকেও মারধর করা হয়। এতে ইলিয়াসের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহায়তায় ভয়ভীতি দেখিয়ে নাহিদের কাছ থেকে তার দায়মুক্তি ও পক্ষপাতমূলক বক্তব্য-সংবলিত একটি ভিডিও ধারণ করা হয়।
নাহিদের দাবি, আগের পোস্টটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নিজের দায় এড়াতে মিল্টন সমাদ্দার ওই বৃদ্ধাকে তার প্রতিষ্ঠানে রেখে দেন এবং নাহিদ ও ইলিয়াসকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে বের করে দেন।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় নাহিদ ও ইলিয়াস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৬ আগস্ট ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ হাসান অভিযোগ করেছিলেন, এক বৃদ্ধ নারীকে চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে আশ্রয় দিতে নিয়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ করে তাকে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে ওই বৃদ্ধার কাছ থেকে টাকা চাওয়া হয়নি-এমন বক্তব্যও জোর করে ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাভার মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাহফুজুর রহমান নিপু/MARN/এমআরএম
বিজ্ঞাপন