বিজ্ঞাপন
গ্রীষ্মের দলবদলে আরও এক বড় চমক দেখাতে যাচ্ছে টটেনহাম হটস্পার। ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশকে এক মৌসুমের জন্য ধারে দলে নেওয়ার ব্যাপারে দুই ক্লাব সমঝোতায় পৌঁছেছে। চুক্তিতে আগামী বছর ৬ কোটি পাউন্ডে (প্রায় ৮ কোটি ২০ লাখ ডলার) মারমুশকে স্থায়ীভাবে কিনে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকছে বলে জানিয়েছে সূত্র।
এখন টটেনহামে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে লন্ডনে মেডিকেল পরীক্ষা দেবেন মিশরের এই ফরোয়ার্ড। মেডিকেল সফলভাবে শেষ হলে সম্পন্ন হবে তার দলবদলের বাকি প্রক্রিয়া।
ম্যানচেস্টার সিটিতে খুব বেশি সময় না কাটিয়েই এবার নতুন ঠিকানায় পাড়ি জমাচ্ছেন ২৭ বছর বয়সী মারমুশ। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জার্মান ক্লাব আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে তাকে ৫ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ডে দলে নিয়েছিল সিটি। টটেনহামের চুক্তির ৬ কোটি পাউন্ডের বাধ্যবাধকতা পূরণ হলে সেই অর্থই প্রায় পুরোপুরি ফিরে পাবে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা।
মারমুশকে পাওয়ার মাধ্যমে কয়েক দিনের মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে দ্বিতীয় খেলোয়াড়কে দলে নিতে যাচ্ছে টটেনহাম। এর আগে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার সাভিওকে সিটি থেকে দলে ভেড়ানোর চুক্তি সম্পন্ন করেছে তারা। সেই দলবদলের প্রাথমিক মূল্য ৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড।
অর্থাৎ, সিটির সঙ্গে টটেনহামের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গত কয়েক দিনে বেশ জমে উঠেছে। এবার মারমুশও যোগ দিলে নতুন মৌসুমের আগে টটেনহামের আক্রমণভাগে আরও একটি বড় অস্ত্র যুক্ত হবে।
নতুন মৌসুমের আগে টটেনহাম যে ব্যাপকভাবে দল পুনর্গঠন করছে, মারমুশের আগমন তারই আরেকটি উদাহরণ। এখন পর্যন্ত ক্লাবটি সান্দ্রো তোনালি, মাতেউস ফার্নান্দেস, ইয়ান-পল ফান হেকে, অ্যান্ডি রবার্টসন ও মার্কোস সেনেসির মতো খেলোয়াড়দের দলে এনেছে। এর সঙ্গে সাভিও ও মারমুশ যোগ হলে দলটির স্কোয়াডে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
বিশেষ করে আক্রমণভাগে মারমুশের সংযোজন টটেনহামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মিশরীয় ফরোয়ার্ড একাধিক আক্রমণাত্মক পজিশনে খেলতে পারেন এবং গোল করার পাশাপাশি আক্রমণ তৈরিতেও কার্যকর।
ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর অবশ্য প্রত্যাশা অনুযায়ী নিয়মিত একাদশে জায়গা করে নিতে পারেননি মারমুশ। সিটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬২ ম্যাচে ১৬ গোল করেছেন তিনি। তবে বেশির ভাগ সময়ই তাকে আরলিং হালান্ডের বিকল্প বা সহকারী ভূমিকায় থাকতে হয়েছে।
হালান্ডের মতো একজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের উপস্থিতিতে সিটির আক্রমণভাগে নিয়মিত জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল। ফলে মারমুশকে অনেক সময় বেঞ্চ থেকেই ম্যাচ শুরু করতে হয়েছে।
চলতি মৌসুমের প্রথম প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচেও একই চিত্র দেখা যায়। রোববার বোর্নমাউথের বিপক্ষে সিটির ম্যাচে বেঞ্চে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। এর এক সপ্তাহ আগে কমিউনিটি শিল্ডে মাঠে নেমেছিলেন মারমুশ। সেটিই এখন পর্যন্ত সিটির হয়ে তার সর্বশেষ ম্যাচ।
কেন মারমুশকে ছেড়ে দিলো সিটি?
মারমুশের বিদায় এমন এক সময়ে আসছে, যখন ম্যানচেস্টার সিটির স্কোয়াডে বড় ধরনের পরিবর্তন চলছে। রদ্রি, বার্নার্ডো সিলভা, জন স্টোনস, তিয়ানি রেইনডার্স, নাথান আকে ও জেমস ট্রাফোর্ড এরই মধ্যে ক্লাব ছেড়েছেন। অর্থাৎ, গত কয়েক মৌসুমের সিটির পরিচিত কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
মারমুশের সম্ভাব্য বিদায়ের পর আরও একজন খেলোয়াড় ক্লাব ছাড়তে পারেন। নিকো গনসালেসকে নিয়েও দলবদলের শেষ সপ্তাহে আগ্রহ রয়েছে।
অন্যদিকে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের সঙ্গে মারমুশের আগের চুক্তি নিয়ে সিটির আর কোনো আর্থিক দায় নেই বলেও জানা গেছে। সিটি ইতোমধ্যেই জার্মান ক্লাবটিকে মারমুশের দলবদলের পুরো অর্থ পরিশোধ করেছে। ২০২৫ সালে তাকে কেনার সময় চুক্তিতে কোনো সেল-অন ক্লজও রাখা হয়নি।
ম্যানচেস্টার সিটিতে ১৬ গোল করার পর এবার নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে মারমুশ। টটেনহামে তিনি আরও নিয়মিতভাবে মাঠে নামার সুযোগ পাবেন- এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এক মৌসুমের ধার চুক্তির পর ৬ কোটি পাউন্ডে তাকে স্থায়ীভাবে কিনে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় টটেনহামের পরিকল্পনায় মারমুশের গুরুত্ব যে বেশ বড়, সেটি স্পষ্ট।
মেডিকেল ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই নতুন ক্লাবে যোগ দেবেন তিনি। আর টটেনহাম সমর্থকেরা অপেক্ষায় থাকবেন- সিটির বেঞ্চ থেকে বেরিয়ে টটেনহামের আক্রমণভাগে মারমুশ কি নিজেকে নিয়মিত তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন?
আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন