ব্রেকিং নিউজ
দিনু বিল্লাহকে স্মরণ: আলোচনায় গণসংগীতের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ সৌদি-হুতি সংঘাত বাড়ছে, জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি সার্ককে সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন গুরুতর অসুস্থ সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব, নতুন গন্তব্য সেমিকন্ডাক্টর শিল্প রাতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার কথা জানিয়েছিলেন মাকে, সকালে খাটের নিচে মিলল লাশ বলিভিয়ার জঙ্গলে নতুন প্রজাতির বন্য বিড়াল, জীবিত সদস্য একটিই মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, বিকল্প পরিবহন উপেক্ষিত: আইপিডি তপু বর্মণকে ছাড়াই আসিয়ান কাপের দল ঘোষণা বাফুফের
জাতীয়

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ২৬% বেড়েছে, ইইউতে বেড়েছে ৯%

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

দেশে তীব্র জ্বালানিসংকটের মধ্যেও গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম মাসে অর্থাৎ জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমার পর আগস্টে তা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে ইইউতে গত জুলাইয়ে আড়াই শতাংশ কমার পর আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ৯ শতাংশ।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা বলছেন, গত মাসে গ্যাস-বিদ্যুৎসংকটে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তারপরও ক্রেতাদের ধরে রাখতে অনেক কারখানামালিক বাড়তি খরচ করে হলেও সময়মতো পণ্য রপ্তানি করেছেন। এতে বড় দুই বাজারে রপ্তানি বেড়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, বড় দুই বাজারে ভালো করায় গত মাসে মোট ৩৬১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত (জুলাই-আগস্ট) মোট ৫৫০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে ২৫%

আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৮১ কোটি ৭১ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এ রপ্তানি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ৭ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে।

দেশীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, গত বছর পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের চাহিদা কমছে। চীনের ক্রয়াদেশ পাওয়া দ্রুত কমলেও তার বড় অংশ চলে যাচ্ছে ভিয়েতনামে। কিছু অংশ পাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া। বাংলাদেশে আসছে তুলনামূলক কম। কারণ, চীন থেকে সরে আসা ক্রয়াদেশের বড় অংশই কৃত্রিম তন্তুর বা ম্যানমেইড পোশাক, যেখানে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলনামূলক কম। পাশাপাশি দীর্ঘ লিড টাইমের কারণে ফাস্ট ফ্যাশনের ক্রয়াদেশেও বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেন। এরপর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগ করে সব দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আইন অনুযায়ী ১৫০ দিনের জন্য এ শুল্ক আরোপ করা যায়, যার মেয়াদ গত মাসে শেষ হয়েছে।

জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে কার্যকর না করার অভিযোগে জুলাই মাসে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর ১০ ও সাড়ে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে প্রতিযোগী কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশের শুল্কহার কম। এতে সামনের দিনে বাজারটিতে সম্ভাবনা দেখছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা।

ইইউর বাজারেও প্রবৃদ্ধি

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশ ১৫৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ রপ্তানি ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেশি।

এর আগে জুলাইয়ে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছিল। ওই মাসে রপ্তানি হয়েছিল ১৯৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩৪৯ কোটি ডলারের। এ রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইইউর বাজারে ১৯ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়, যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কম।

ইউরোস্টাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি পঞ্জিকা বছর ২০২৬ সালের প্রথম ৭ মাস জানুয়ারি-জুলাইয়ে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৩৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক।

জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইপিবির তথ্যের সঙ্গে অটেক্সা ও ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখানের পার্থক্য থাকে। ফলে এক মাস পর দুই সংস্থা থেকে তথ্য পাওয়া গেলে প্রকৃত রপ্তানি কত হয়েছে, সেটা বোঝা যাবে। গত মাসে গ্যাস–বিদ্যুতের সংকটে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও বাড়তি ব্যয় করে হলেও সময়মতো রপ্তানি করেছেন আমাদের উদ্যোক্তারা।’

মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, দুই দিন ধরে কারখানায় গ্যাসের চাপ সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। এটা অব্যাহত থাকলে রপ্তানি বাড়বে। কারণ, তখন ক্রেতারা ক্রয়াদেশ দিয়ে ভরসা পাবেন।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>