ব্রেকিং নিউজ
জাতীয়

যে কারণে আজও প্রিন্সেস ডায়ানাকে ভুলতে পারেনি বিশ্ব

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
এখনো যদি আপনি কাউকে জিজ্ঞাসা করেন কিংবা গুগল করেন বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারী কে? উত্তরে যদি কয়েকজন কিংবা দুজন নারীর কথাও বলা হয় তার মধ্যে একজন থাকবেন প্রিন্সেস ডায়না। যিনি শুধু তার সৌন্দর্যের দ্যুতি ছড়াননি তার মানবিকতাও মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়ছিল। তবে একটা কথা আছে না, ‘অতি বড় ঘরণী না পায় ঘর, অতি বড় সুন্দরী না পায় বর’। তার ব্যপারও অনেকটা সেরকম ছিল। এত সুন্দরী আর সুন্দর হৃদয়ের মানুষটির ঘর ভেঙেছিল। যার মৃত্যু হয়েছিল হৃদয়ে প্রতারণার ক্ষত নিয়ে। সৌন্দর্য, প্রেম, প্রতারণা-মৃত্যু, রূপকথা নয় এ গল্প প্রিন্সেস ডায়ানার। ১৯৬১ সালের ১ জুলাই এডওয়ার্ড জন স্পেন্সার ও তার স্ত্রী ফ্রান্সেসের ঘরে ডায়ানার জন্ম। সেসময় ব্রিটেনের অভিজাত শ্রেণির ব্যবস্থায় তার বাবা ভিসকাউন্ট আলথর্প উপাধি ধারণ করতেন। ১৯৬৯ সালে ডায়ানার আট বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তার বাবা ডায়ানার একক অভিভাবকত্ব লাভ করেন। ডায়ানার ১৪ বছর বয়সে দাদা মারা গেলে তার বাবা উত্তরাধিকারসূত্রে ‘আর্ল’ উপাধি লাভ করেন। স্পেন্সার (ব্রিটেনের ঐতিহাসিক ও অভিজাত রাজপরিবার) পরিবার ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের ধনী ভূমিমালিক পরিবার এবং ১৭৬৫ সাল থেকে এই উপাধি তাদের পরিবারে চলে আসছে। ডায়ানার পরিবার ‘পার্ক হাউজ’ নামের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল, যা ছিল রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মালিকানাধীন। শৈশবে ওই এলাকায় থাকার সময় ডায়ানা প্রিন্স চার্লসের ছোট ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রু ও প্রিন্স এডওয়ার্ডের সঙ্গে খেলেছেন বলে ধারণা করা হয়। চার্লস ডায়ানার চেয়ে ১৩ বছরের বড় ছিলেন। চার্লস ও ডায়ানার প্রেম-বিয়ে কৈশোরের বেশির ভাগ সময় নামী বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা করায় ডায়ানার সঙ্গে চার্লসের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে ১৯৭৮ সালে লন্ডনে বসবাস ও কাজ শুরু করার পর তাদের আবার দেখা-সাক্ষাৎ শুরু হয়। লন্ডনে প্রথমে তিনি একজন আয়া হিসেবে কাজ করেন। পরে ইয়াং ইংল্যান্ড স্কুলে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন। চার্লস ও ডায়ানার প্রেমের সম্পর্ক কয়েক বছর স্থায়ী হওয়ার পর ১৯৮১ সালের ২৯ জুলাই লন্ডনের সেন্ট পলস ক্যাথেড্রালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ডায়ানা ‘প্রিন্সেস অব ওয়েলস’ উপাধি পান। কারণ তখন চার্লসের সরকারি রাজকীয় উপাধি ছিল ‘প্রিন্স অব ওয়েলস’। ডায়ানার মানবিক ও দাতব্য কর্মকাণ্ড শৈশব থেকেই সংগীত ও ফ্যাশনের প্রতি আগ্রহী ডায়ানা দ্রুত জনপ্রিয় সংস্কৃতির একজন বৈশ্বিক আইকনে পরিণত হন। সংগীতশিল্পী জর্জ মাইকেল ও এলটন জনসহ বিনোদন জগতের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। নিজের খ্যাতিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মানবিক বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং দাতব্য তহবিল সংগ্রহে ব্যবহার করতেন। এজন্য তিনি মানুষের কাছে জনপ্রিয় হতে শুরু করেন। এর আগে শিক্ষিকা হিসেবে তিনি শিশুদের কল্যাণে আজীবন কাজ করেছেন। পাশাপাশি স্থলমাইন ব্যবহারের বিলুপ্তির প্রচেষ্টাকেও সমর্থন করেন। ডায়ানা এইডস-সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগেও সক্রিয় ছিলেন। ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্যের প্রথম বিশেষায়িত এইচআইভি/এইডস ইউনিট উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে তিনি সম্মানিত অতিথি ছিলেন। রোগটিতে আক্রান্ত মানুষের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি গণমাধ্যমের সামনে এইডস আক্রান্ত এক রোগীর সঙ্গে হাত মেলান। কিন্তু হাতে কোনো গ্লাভস পরেননি। এর মাধ্যমে স্পর্শের মাধ্যমে এইডস ছড়িয়ে পড়ে; এই ধারণা দূর করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। চার্লস ও ডায়ানার বিচ্ছেদ চার্লস ও ডায়ানার দুই ছেলে। ১৯৮২ সালে প্রিন্স উইলিয়াম এবং ১৯৮৪ সালে প্রিন্স হেনরি (হ্যারি) জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কসহ নানা কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। ১৯৯২ সালে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা থাকার ঘোষণা দেন। যদিও তারা তাদের রাজকীয় দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছিলেন। রানি ২য় এলিজাবেথ এই দম্পতিকে বিচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়ার দুই মাস পর, ১৯৯৬ সালের আগস্টে প্রিন্স এবং প্রিন্সেস একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছান। একটি বড় অংকের আর্থিক সমঝোতা, কেনসিংটন প্যালেসে তার অ্যাপার্টমেন্ট রেখে দেওয়ার অধিকার এবং ‘প্রিন্সেস অব ওয়েলস’ পদবী বহাল রাখার বিনিময়ে ডায়ানা ‘হার রয়্যাল হাইনেস’ পদবী এবং ব্রিটিশ সিংহাসনে ভবিষ্যতের সব ধরনের দাবি ত্যাগ করতে সম্মত হন। সেই বছরের ২৮ আগস্ট তাদের আইনি বিবাহবিচ্ছেদ বা ডিভোর্স সম্পূর্ণ হয়। প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ডায়ানার সঙ্গে মিসরীয় চলচ্চিত্র প্রযোজক দোদি আল-ফায়েদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দোদি ছিলেন একজন ধনকুবেরের ছেলে এবং লন্ডনের বিখ্যাত হ্যারডস ডিপার্টমেন্ট স্টোর ও ফুটবল ক্লাব ফুলহ্যাম এফসির সাবেক মালিকের সন্তান। চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে দোদি ‘চ্যারিয়টস অব ফায়ার’ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের সম্পর্ক দ্রুত ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলোর আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তারা যেখানেই যেতেন, পাপারাজ্জিরা (স্বাধীন বা ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী) তাদের অনুসরণ করতেন। প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট রাতে ডায়ানা ও আল-ফায়েদ প্যারিসের বিখ্যাত ‘রিটজ প্যারিস’ হোটেলের ইম্পেরিয়াল স্যুইটে ব্যক্তিগতভাবে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। তারা হোটেলের রেস্তোরাঁয় শান্ত ও রোমান্টিক সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। জানা যায়, ওই দিন এর আগে আল-ফায়েদ ডায়ানার জন্য একটি আংটিও কিনেছিলেন। কিন্তু সংবাদকর্মী ও অন্যান্য অতিথিদের বিরক্তির কারণে মাত্র ১০ মিনিট পর তাদের সেখান থেকে চলে যেতে হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা আল-ফায়েদের প্যারিসের অ্যাপার্টমেন্টে যাওয়ার জন্য হোটেল ছাড়েন। নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও পাপারাজ্জিরা তাদের পিছু নেয়। এমনকি হোটেলের সামনে থেকে একটি বিভ্রান্তিমূলক বা ডিকয় গাড়িও পাঠানো হয়েছিল। ডায়ানা ও আল-ফায়েদ হোটেলের পেছনের দরজা দিয়ে বের হন। তাদের সঙ্গে ছিলেন ফরাসি চালক অঁরি পল এবং ডায়ানার দেহরক্ষী ট্রেভর রিস-জোনস। মার্সিডিজ এস-২৮০ গাড়িতে করে চালক পল রিস-জোনস, ডায়ানা ও আল-ফায়েদকে নিয়ে মধ্য প্যারিসের প্রশস্ত সড়ক ও সরু রাস্তায় দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে থাকেন। পরে তদন্তকারীরা ধারণা করেন, গাড়িটির গতি ঘণ্টায় ৬০ মাইলেরও বেশি ছিল। রাত ১২টা ১৯ মিনিটে পঁ দ্য লমা সেতুর ১৩ নম্বর স্তম্ভে মার্সিডিজটি ধাক্কা খায়। ঘটনাস্থলটি রিটজ প্যারিস হোটেল থেকে দুই মাইলেরও কম দূরে ছিল। আল-ফায়েদ ও চালক পল ঘটনাস্থলেই মারা যান। ডায়ানাকে প্যারিসের লা পিতিয়ে সালপেত্রিয়ের হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ভোর ৪টায় তিনি মারা যান। দিনটি ছিল ৩১ আগস্ট, তখন তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৬ বছর। দেহরক্ষী রিস-জোনস গুরুতর আহত হলেও বেঁচে যান। সুস্থ হওয়ার পর তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে যান। পরবর্তীতে তিনি পারিবারিক ব্যবসায় কাজ করেন এবং ডায়ানার সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বইও প্রকাশ করেন। প্রিন্সেস ডায়ানার শেষকৃত্য ডায়ানার মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে তাৎক্ষণিক এবং নজিরবিহীন শোকের সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর পাঁচ দিন পর লন্ডনে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। তার লন্ডনের বাসভবন কেনসিংটন প্যালেস থেকে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবি পর্যন্ত শেষকৃত্যের পথে আনুমানিক ১০ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিল। ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। ইংল্যান্ডের নর্থহ্যাম্পটনশায়ারে স্পেন্সার পরিবারের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি আলথর্পে একটি হ্রদের মাঝখানে ছোট একটি দ্বীপে ডায়ানাকে সমাহিত করা হয়। ডায়ানার মৃত্যুর তদন্ত প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার জন্য তাদের ফরাসি চালক অঁরি পলকে দায়ী করা হয়। ধারণা করা হয়, ট্যাবলয়েড ফটোগ্রাফারদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে বেশি গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পরবর্তীতে ব্রিটিশ পুলিশের তদন্তের ভিত্তিতে ২০০৬ সালে প্রকাশিত একটি তদন্ত প্রতিবেদনে ডায়ানার মৃত্যুকে ‘মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তদন্তে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় পল মাতাল ছিলেন এবং তিনি যে প্রেসক্রিপশন অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ গ্রহণ করছিলেন, সেটিও তার শারীরিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে থাকতে পারে। দুর্ঘটনার পর পলের রক্ত পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার শরীরে অ্যালকোহলের মাত্রা ফ্রান্সে গাড়ি চালানোর বৈধ সীমার চেয়ে তিন গুণেরও বেশি ছিল। তদন্তকারীরা মনে করেন, এর ফলে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। তদন্তের জুরি সিদ্ধান্ত দেয়, পল এবং ডায়ানা ও আল-ফায়েদকে অনুসরণকারী পাপারাজ্জিরা ‘চরম অবহেলার’ কারণে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ছিলেন। ডায়ানা ও আল-ফায়েদের মৃত্যুকে ‘অবৈধ হত্যাকাণ্ড’ হিসেবেও ঘোষণা করা হয়, যা আইনি অর্থে অনিচ্ছাকৃত হত্যার সমতুল্য। এছাড়া জুরি জানায়, তারা সিটবেল্ট পরা থাকলে দুর্ঘটনার পরও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল। ডায়ানা ও আল-ফায়েদের মৃত্যুর ঘটনায় কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। কারণ চালক পল নিজেই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর কয়েকজন পাপারাজ্জিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ডায়ানার মৃত্যুর পর ব্রিটিশ রাজপরিবারে যে পরিবর্তন আসে জীবদ্দশায় এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত মানুষের জন্য কাজ করার পাশাপাশি ডায়ানা যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল এইডস ট্রাস্টের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে আছেন। সংগঠনটি এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করে। সংস্থাটির বিভিন্ন উদ্যোগ তার সম্মানে নামকরণ করা হয়েছে। একজন বায়োগ্রাফারের মতে, ব্রিটিশ জনগণের সঙ্গে রাজপরিবারের সম্পর্ককে আধুনিক করে তুলতেও ডায়ানার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ঐতিহ্যগতভাবে জনসাধারণের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখা ব্রিটিশ রাজপরিবার, বিশেষ করে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, ডায়ানার মৃত্যুর পর জনগণের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হতে শুরু করেন। ডায়ানার দুই ছেলে উইলিয়াম ও হ্যারিও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, তাদের মানবিক ও দাতব্য কর্মকাণ্ডে তাদের প্রয়াত মায়ের প্রভাব ছিল। এই কর্মকাণ্ডের মধ্যে এইচআইভি/এইডস বিষয়ে সচেতনতা এবং আফ্রিকায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। সূত্র: হিস্টোরি ডটকম, বিবিসি নিউজ কেএসকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>