বিজ্ঞাপন
রান্নাঘরে পেঁয়াজ ছাড়া বাঙালির খাবারের কথা ভাবাই কঠিন। ডাল, তরকারি, ভর্তা কিংবা সালাদ-প্রায় সব ধরনের খাবারেই কোনো না কোনোভাবে জায়গা করে নিয়েছে এই পরিচিত সবজি। রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকায় নিয়মিত ও পরিমিত পেঁয়াজ খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। বিশেষ করে পেঁয়াজে থাকা কোয়ারসেটিন ও সালফারযুক্ত যৌগ নিয়ে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের আগ্রহ রয়েছে। তাহলে প্রতিদিনের খাবারে পেঁয়াজ রাখলে কী কী উপকার মিলতে পারে?
রান্নার স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজে রয়েছে নানা পুষ্টি উপাদান
অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ
পেঁয়াজে রয়েছে কোয়ারসেটিন নামের একটি ফ্ল্যাভোনয়েড, যা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। কোয়ারসেটিনের প্রদাহ-সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রভাব নিয়েও গবেষণা হয়েছে।
হজমের জন্য ফাইবার
পেঁয়াজে খাদ্যতন্তু বা ফাইবার থাকে। একটি মাঝারি থেকে বড় পেঁয়াজে আনুমানিক কয়েক গ্রাম ফাইবার পাওয়া যেতে পারে, যা দৈনিক খাদ্যতালিকায় ফাইবার যোগ করতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ফাইবার মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে এবং হজমতন্ত্রের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পেঁয়াজে থাকা কিছু প্রিবায়োটিক উপাদান অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাদ্য হিসেবেও কাজ করতে পারে। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে কাঁচা পেঁয়াজ খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই ব্যক্তিভেদে পরিমাণ ঠিক করা জরুরি।
কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে যে ভূমিকা রাখে
পেঁয়াজে থাকা সালফারযুক্ত যৌগ ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ উপাদান হৃদ্স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সম্ভাব্য উপকারের জন্য গবেষণায় এসেছে। কিছু গবেষণায় পেঁয়াজ বা এর নির্যাসের সঙ্গে রক্তের লিপিড ও কোলেস্টেরলের কিছু পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেলেও, ফলাফলকে এমনভাবে নেওয়া ঠিক নয় যে পেঁয়াজ খেলেই কোলেস্টেরল কমে যাবে।
উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ-সবকিছুর গুরুত্ব রয়েছে।
রক্তচাপের ক্ষেত্রেও কি উপকারী?
পেঁয়াজে থাকা কোয়ারসেটিনসহ কিছু উদ্ভিজ্জ যৌগ রক্তনালির কার্যক্রম ও রক্তচাপের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। তবে পেঁয়াজকে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
কারো রক্তচাপ বেশি থাকলে নিয়মিত রক্তচাপ মাপা, লবণ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
কম ক্যালরিতে কিছু পুষ্টি
পেঁয়াজে পানির পরিমাণ বেশি এবং ক্যালোরি তুলনামূলক কম। পাশাপাশি এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। ফলে বেশি ক্যালরিযুক্ত উপকরণের বদলে স্বাদ ও পুষ্টি বাড়াতে পরিমিত পেঁয়াজ খাবারে যোগ করা যেতে পারে।
কাঁচা না রান্না করে খেতে হবে
কাঁচা পেঁয়াজে কিছু তাপ-সংবেদনশীল উপাদান তুলনামূলক ভালোভাবে বজায় থাকতে পারে। অন্যদিকে রান্নার সময় তাপের কারণে কিছু যৌগের পরিমাণ কমতে পারে। তাই কাঁচা পেঁয়াজ খেতেই হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। সালাদে কাঁচা পেঁয়াজ কিংবা রান্নায় পরিমিত পেঁয়াজ-দুইভাবেই খাদ্যতালিকায় রাখা যায়।
পেঁয়াজ কোনো ওষুধ নয়। এর পুষ্টিগুণকে কাজে লাগাতে হলে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য রাখা জরুরি। শাকসবজি, ফল, পূর্ণশস্য, ডাল ও পর্যাপ্ত প্রোটিনের সঙ্গে পরিমিত পেঁয়াজ যোগ করলে খাবার যেমন সুস্বাদু হবে, তেমনি খাদ্যতালিকাতেও যুক্ত হবে বাড়তি কিছু পুষ্টি।
সূত্র: হেলথ লাইন, এনডিটিভি
এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন