বিজ্ঞাপন
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ যোগাযোগের সবচেয়ে পুরোনো পথগুলোর একটি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ (পাগলা) পুরাতন সড়ক। একসময় রাজধানীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল সড়কটি। কিন্তু ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড চালুর পর গুরুত্ব কিছুটা কমলেও শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এর বড় অংশই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সড়কটির পঞ্চবটি থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে পিচ, পাথর ও খোয়া। তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ভেঙে গেছে দুই পাশের শোল্ডারিংও। বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে তৈরি হয় ছোট-বড় জলাবদ্ধতা। কাদা-মাটিতে প্রায়ই আটকে যায় যানবাহনের চাকা। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই গভীর যে সেগুলো দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
এ কারণে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ পথে চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীদের। সামান্য বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সড়কের খানাখন্দ এড়িয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করায় সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও।
শিল্পাঞ্চলের হাজারো যানবাহনের চাপ
সড়কটির পাশে ফতুল্লার শাসনগাঁওয়ে রয়েছে বিসিক শিল্পনগরী। সেখানে রয়েছে অন্তত এক হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যেখানে কাজ করেন প্রায় পাঁচ লাখ শ্রমিক। এ ছাড়া মুন্সিখোলায় রয়েছে রড-সিমেন্টের পাইকারি ব্যবসাকেন্দ্র। আলীগঞ্জ ও দাপায় রয়েছে পাথর ও বালুর ব্যবসা। পঞ্চবটি, নরসিংপুর ও বক্তাবলী এলাকায় রয়েছে শতাধিক ইটভাটা। বিভিন্ন এলাকায় আছে অর্ধশতাধিক রি-রোলিং মিল। পঞ্চবটিতে রয়েছে মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়ামের তেলের ডিপো।
ফলে এসব শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান, ট্রাক, তেলবাহী ট্যাংকলরি মিলিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে সড়কটি দিয়ে। মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরে গড়ে ওঠা সিমেন্ট কারখানার কয়েকশ কাভার্ডভ্যানও নিয়মিত এই পথ ব্যবহার করে। সড়কের বেহাল দশার কারণে এসব যানবাহনের চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, কোনোভাবেই সড়কটির সংস্কার করানো যাচ্ছে না। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শ্রমিকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় বিদেশি ক্রেতারা এলে সড়কের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।
সংস্কারের পথে বাধা মালিকানা জটিলতা
সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকার সঙ্গে যুক্ত হলেও এর সংস্কারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশাসনিক জটিলতা। নারায়ণগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দাবি, সড়কটি তাদের আওতাধীন নয়। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়কটি সওজের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক সংগঠন ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’র সভাপতি হাজী নুরু উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, সড়কটিকে কেন্দ্র করেই বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অথচ সমন্বয়ের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার হচ্ছে না। দ্রুত এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, সড়কটি বর্তমানে তাদের অধীনে নেই। নারায়ণগঞ্জ সওজের অধীনে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্যরাও এ বিষয়ে চিঠি দেবেন। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। সড়কটি তাদের অধীনে এলে সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির বলেন, সড়কটি নারায়ণগঞ্জ সওজের আওতাধীন না হওয়ায় সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। সড়কটি নারায়ণগঞ্জের আওতাভুক্ত করার বিষয়ে জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আওতাভুক্ত হলে দ্রুত সংস্কার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
এমওএসআর/কেএইচকে/জেআইএম
বিজ্ঞাপন