বিজ্ঞাপন
মাদারীপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জেলাবাসী। প্রায় দেড় মাস ধরে এই ভোগান্তিতে মানুষ। মাঝে একটু কমলেও গত এক সপ্তাহ ধরে চরম আকার ধারণ করেছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ফ্রিজের খাবার পর্যন্ত নষ্ট হচ্ছে। আইপিএসও পর্যাপ্ত চার্জ নিতে পারছে না।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ রেখে অলস সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে সমিল, দর্জির দোকান, ছাপাখানা, কম্পিউটারের দোকানসহ উৎপাদিত প্রায় সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহকের ১৭ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ১১ মেগাওয়াট। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চার লাখ ২৩ হাজার গ্রাহকের ১০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫২ মেগাওয়াট। ১৪টি সাবস্টেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন
সংসদে রুমিন ফারহানা / বিদ্যুৎ নিয়ে দুষ্টু লোকেরা বলে, ‘টুকু আসে, টুকু যায়’
লোডশেডিংয়ে ভোগান্তির কথা জানিয়ে নতুন শহর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র মো. তামিম বলে, ‘বিদ্যুৎ থাকে না। তাই গরমে ক্লাস করতে আমাদের কষ্ট হয়।’
মাদারীপুর পুরানবাজারের দর্জি দোকানের মালিক সাইদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ ঠিকমতো না পাওয়ায় কাজ করতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।’
বাগেরপাড় এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ শারমিন আক্তার। তিনি বলেন, ‘ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের জন্য বাসার আইপিএসও ঠিকমতো কাজ করছে না। পর্যাপ্ত চার্জ নিতে না পারায় অল্প সময় পরই আইপিএসও বন্ধ হয়ে যায়। ফ্রিজের মাছ-মাংসও নষ্ট হচ্ছে। খাবারে গন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফ্রিজ দিয়ে পানি পড়ছে। এই অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টির দ্রুত সমাধান জরুরি।’
আরও পড়ুন
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে কারখানা চলছে জেনারেটরে, ডিজেলের ‘নীরব ঘাটতি’
ঠিকমতো বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে জানান বিসিক শিল্পনগরী এলাকার সমিলের মালিক সালাম হোসেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘কোনো কাজই করতে পারছি না। এভাবে চললে আমরা কীভাবে ব্যবসা ধরে রাখবো জানি না।’
এ বিষয়ে ওজোপাডিকো মাদারীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং হচ্ছে।
আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এসআর/এএসএম
বিজ্ঞাপন