ব্রেকিং নিউজ
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনা না কেনা বর্তমান সরকারের জন্য পরীক্ষা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা বিশ্ববাজারে কমলেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম সেভাবে কমে না কেন? ভারত-জাপান ম্যাচে বিতর্ক—আম্পায়ারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন ভারতের পক্ষে গেল শান্তির দেশে বিশ্বজুড়ে ঝুঁকির মুখে রয়েছে গন্ডার ফিফা সংস্কারের জন্য আলোচনায় আগ্রহী ইনফান্তিনো বেসরকারি সাবমেরিন কেব্‌ল কোম্পানি বাজারে এলে ইন্টারনেটের দাম কতটা কমবে ‘গ্যাস আছে, ফোঁস ফোঁস কইরা বাহির হয়; বোতলগুলি নিয়া যান’
জাতীয়

শান্তির দেশে

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

দীর্ঘ তিন চার বছর প্রচণ্ড পরিশ্রমের পর শান্তির দেশ সুইডেনের আসল রূপ অনুভব করতে শুরু করেছে কাজল। একটি দেশের সুযোগ–সুবিধা ভোগ খরতে হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সে দেশের স্থায়ী পারমিশন থাকতে হয়। কাজল এখন বিজনেস পারমিশনের মাধ্যমে সুইডেন এ স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি অর্জন করেছে। এরপর আরকটি ধাপ বাকি আছে, তা হলো নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা। স্থায়ী পারমিশন পাওয়ার এক বছর পর কাজলের দ্বিতীয় সন্তান মোহাবের জন্ম হয় সুইডেনে। মোহাবের জন্মের তিন মাস আগে কাজল তার শাশুড়িকে সুইডেনে নিয়ে আসার জন্য আবেদন করে, এবং সহজেই ভিসা মিলে যায়। এ দেশে বাবা, মাকে সহজেই ভিজিট ভিসায় নিয়ে আসা যায়, হতে পারে তিন মাস বা ছয় মাস, পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে ওই ভিসা রিনিউ করা যায়।

বাচ্চা মায়ের পেটে আসার পর থেকে এখানে একজন মিড ওয়াইফের মাধ্যমে মাকে নিয়মিত চেকাপের মধ্যে রাখা হয়। মিড ওয়াইফ হচ্ছেন বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন নার্সের মতো। বাচ্চা জন্মের আগপর্যন্ত মিড ওয়াইফ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, খাবারের রুটিন, নির্দিষ্ট সময় পর পর মা এবং বাচ্চার ওজন মাপাসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন।

মোহাবের জন্মের একমাস আগে মোহাবের নানু সুইডেনে এসে পৌঁছায়। বাসায় এবার বেশ আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। বাচ্চা জন্মের এক সপ্তাহ আগে হাসপাতালে বেশ কয়েক বার যাওয়া হয়, কাজলেরা হাসপাতালে থাকার প্রস্তুতি নিয়ে যায় কিন্তু চিকিৎসকেরা চেকাপ করে ফিরত পাঠায়। এ দেশে পারতপক্ষে খুব সহজে কোনো রোগীকে হাসপাতালে রাখতে চায় না খুব ইমার্জেন্সি না হলে। জন্মের সম্ভাব্য তারিখের পর আর দেরি না করে এবার তারা কাজলের ওয়াইফকে হাসপাতালে ভর্তি করাল। এখানে বলে রাখা দরকার, এ দেশে গণহারে অপারেশনের মাধ্যমে বাচ্চার জন্মগ্রহণ করানো হয় না।

নরমাল ডেলিভারির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। এক দিন যায়, দুই দিন যায়, স্বাভাবিক জন্মের কোনো খবর হয় না, তারপর এক সকালে ডাক্তার কাজলকে ডেকে জানাল, বাচ্চার সাইজ ৪.৫০ কেজির বেশি, এবং মায়ের যে শারীরিক গড়ন, সার্জারির মাধ্যমে আজকের মধ্যেই ডেলিভারি করতে হবে। কাজল অনুমতি পেপারে সাইন করে সম্মতি দিল। কাজলকে অপারেশন রুমে থাকার অনুমতি দিল। কাজল চোখের সামনে অপারেশন দেখল, নির্দিষ্ট যায়গায় কাটার পর মনে হচ্ছিল আরও অনেক ভেতরে যেতে হবে বাচ্চাকে হাতে নিতে, সম্ভবত পেটে যথেষ্ট পরিমাণ চর্বির লেয়ার ছিল, ডাক্তার যখন সেগুলো সরাচ্ছিল, তখন অনেক শব্দ হচ্ছিল, বাচ্চার মায়ের অর্ধেক শরীর অবস থাকার কারণে সে ওই শব্দ বা কষ্টটা বুঝতে পারছিল না, অনেকক্ষণ পর শিশুকে পাওয়া গেল, বেশ বড়সড় একটা বাচ্চা স্টিলের ট্রেতে করে কাজলকে দেওয়া হলো। নার্সরা বলছিল, দেখ, বাচ্চাটার ঘাড় এখনি কি মজবুত। বলা চলে একটা সুস্থ বাচ্চার আগমন হলো পৃথিবীতে। তারপর কাজল বাচ্ছাকে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট কেবিনে গেল, বাচ্চার মা অপারেশন–পরবর্তী কাজ শেষ করতে সেখানেই থাকল।

সম্ভবত তিন দিন পর কাজল বউ–বাচ্চাকে নিয়ে বাসায় ফিরে। হাসপাতালে থাকতেই বাচ্চার নাম ঠিক করতে হয়, কাজল আগেই নাম ঠিক করে রেখেছিল, মোহাব, মজার বিষয় হচ্ছে মোহাবকে বাসায় আনার পর পরবর্তী চেকাপ বাসাতেই হয়, ডাক্তার আর নার্স এক সপ্তাহ পর কাজলের বাসায় আসে এবং মোহাবের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে। এখানে জন্ম নেওয়া একটি শিশু ধাপে ধাপে সরকারি হিসেবে সব জন্ম–পরবর্তী সেবা পেতে থাকে। চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো সবকিছুর হিসাব রাখে, কবে কোন টিকা দিতে হবে বা কোন পরীক্ষা করতে হবে। নাগরিকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা এদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

কাজলের পরিবারে এবার সুখের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। ছেলের জন্মের পর যেন কাজলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ে, দেশে সবাই আনন্দিত হয়, বাবা, মা কাজলকে দেশে আসার জন্য তাড়া দেয়। চার বছরের বশি সময় কাজল দেশে যায় না, নিজেরও ইচ্ছা হচ্ছে দেশে যাওয়ার জন্য। এরই মধ্যে সুইডিস নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করে কাজল। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশের যাওয়ার জন্য টিকিট করে। অনেক দিন পর নিজের মাতৃভূমিতে যাবে সবাই বেশ উৎফুল্লভাবে ডিসেম্বরের আসার অপেক্ষা করে থাকে। সেপ্টেম্বরের দিকে পাসপোর্ট বের করে কাজল দেখতে পায় ডিসেম্বরের আগেই এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সামনে এল নতুন সমস্যা। কী করা যায়? এখানে পাসপোর্ট রিনিউ করতে দিলে স্টকহোমে পাঠাতে হবে, অনেক কাগজপত্র তৈরি করতে হবে, চার পাসপোর্টের ফি লাগবে। সবকিছু মিলে অনেক ঝামেলা। কাজলের মাথায় হঠাৎ ভাবনা এল, মাইগ্রেশনে একটা চিঠি লেখলে কেমন হয়, যদি নাগরিকত্বের ডিসিশন দিয়ে দেয় তাহলে সুইডিস পাসপোর্ট পেতে সপ্তাহ দুয়েক লাগতে পারে, তা ছাড়া নাগরিকত্ব অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে বাংলাদেশি পাসপোর্টও জমা আছে সুইডিস অ্যাম্বেসিতে। কাজল চিঠি পাঠাল :

জনাব, আমি আমার নিজের দেশ বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে টিকিট কেটেছি, সমস্যা হচ্ছে আমার এবং আমার পরিবারের পাসপোর্টের মূল কপি আপনার অফিসে জমা আছে আমাদের নাগরিকত্ব আবেদনপত্রের সঙ্গে, আরও একটি বিষয় হচ্ছে আমাদের পাসপোর্টের মেয়াদ ডিসেম্বরের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন আপনার কাছ থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে রিনিউ করা তারপর আবার আপনাদের ফেরত দেওয়া অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আমাদের সিটিজেনশিপ অ্যাপ্লিকেশন করেছি প্রায় সাত মাস হয়। আমার অনুরোধ হচ্ছে আমাদের নাগরিকত্ব আবেদন অনুমোদন করলে আমরা সহজেই সুইডিস পাসপোর্ট পেতে পারি এবং নিজের দেশে ভ্রমণে যেতে পারি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের অপেক্ষমাণ আবেদনটি অনুমোদনের জন্য আপনার সুবিবেচনা আশা করছি।

বিনীত,

কাজল রহমান

আবেদন নাম্বার :.........

অবাক করার বিষয় হচ্ছে আনুমানিক একমাস পর কাজলের নাগরিকত্ব আবেদন গৃহীত হয়। সুইডিস পাসপোর্ট পাওয়ার নিয়ম হচ্ছে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তা নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশনে নিয়ে গেলে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ছবি তুলতে হয়, পাঁচ–সাত দিন পর ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট দিয়ে দেয়। এখানে পাসপোর্টকে একটা সাধারণ ট্রাভেল ডকুমেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও কাজলের মতো ইমিগ্রেন্টদের কাছে লাল পাসপোর্ট মানে একটা বিশেষ কিছু। কারণ, এ ধরনের পাসপোর্টকে পৃথিবীর যেকোনো দেশে ভালোভাবে মূল্যায়ন করে। অনেক দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়। সুইডিস পাসপোর্ট পাওয়ার পর আর পুরোনো বাংলাদেশরটা রিনিউ করতে হলো না। এবার দেশে বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তুতি ভালোভাবেই শুরু হলো। সুইডেনের পাসপোর্ট নিয়ে দেশে যাওয়া গেলেও কাজ পুরো হচ্ছে না, এই সুইডিস পাচপোর্ট এবার বাংলাদেশ অ্যাম্বাসি স্টকহোমে জমা করে তার মধ্যে

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com

‘বাংলাদেশ ভ্রমণে কোনো আপত্তি নাই’ এমন কিছু লিখে আনতে হবে, যার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিতে হবে। কী আর করা, আপন দেশ, এতটুকু তো করাই যায়। পুরো প্রসেসে প্রায় ২০ দিন সময় লাগল। এবার লাগেজ গোছানোর পালা, বাংলাদেশে সবার জন্য কিছু না কিছু নিতে হবে। কাজল তার বউকে বলল, দেখো, তুমি যত কিছুই নেও না কেন কাউকে খুশি করতে পারবা না, তা ছাড়া বাংলাদেশে সবকিছুই এখন পাওয়া যায়। কে শোনে কার কথা, নিজেদের জামাকাপড় আর সবার জন্য কিছু নিতে গিয়ে লাগেজের সংখ্যা ছোট–বড় মিলিয়ে সাত–আটটা হলো। এগুলো শুধু এয়ারপোর্ট পর্যন্ত নিতেই দুই–তিনজনের সাহায্য লাগবে।

মোহাবের বয়স তখন মাত্র ১৫ মাস, ও তখন বেশ রাগী ছিল, বেশ কিছু দিন থেকে ওকে বোঝানো হচ্ছিল যে আমরা বাংলাদেশে যাব। সে কিছুদিন হয় হাঁটতে শিখেছে। ওকে নিয়ে আমরা বাসার বাইরে গেলে, কেউ ওর আগে হাঁটতে পারবে না, এ নিয়ম সে প্রায় আইনে পরিণত করেছে। যদি আমরা কেউ আগে যাই তাহলে সে কান্না শুরু করে দেয়। আবার পেছনে ফিরে আসতে হবে এবং সে আগে যাবে, অন্তত স্টার্টিংয়ে তাকে আগে থেকে ঠাটা শুরু করতে দিতে হয়। ছোট মানুষ, ঝামেলা এড়াতে গিয়ে আমরা তার কথা মতো চলি। আমাদের সবার মনে একটা ভয় ছিল দেশে যাওয়ার সময় মোহাব কিছু ঝামেলা তৈরি করতে পারে। সে জন্য তাকে আগেই বারবার বলে রাখা ছিল আমার দেশে যাব, তুমি প্লেইনে উঠবে, এ–জাতীয় বিভিন্ন বিষয়। এসব পূর্বপ্রস্তুতি কোনো কাজে দিল না। যেদিন আমাদের ফ্লাইট, সবকিছু রেডি, আমাদের কাপড় পরা হয়ে গেছে, পাশের বাসার পরিচিত দুজনকে কাজল বলেছে সাহায্য করার জন্য। সমস্যা হচ্ছে মোহাবের মুড ভালো না, সে যাবে না, জামাকাপড় পরানো যাচ্ছে না। অনেকক্ষণ ধরে তাকে বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে, কিন্তু কাজ হচ্ছে না। সময় আর খুব একটা বাকি নেই, কি করা যায়, কাজলের বউ বলল, তুমি মেয়েকে নিয়ে লাগেজসহ রওয়ানা দাও, আমি চেষ্টা করতে থাকি। কাজল অন্য দুজন সাহায্যকারীসহ রওয়ানা হলো, বিশাল এক অনিশ্চিয়তা নিয়ে। কাজল ট্রেনস্টেশনে আসার পর জানতে পারে মোহাব আসতে রাজি হইছে, পরবর্তী বাসে তারা আসছে। ভাগ্য ভালো লুন্দ থেকে একই ট্রেনে কোপেনহেগেন পৌঁছাল পুরো পরিবারের। বিশাল এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে বাঁচা গেল।

কোপেনহেগেনে গিয়ে আরেক সমস্যা পড়তে হলো, সিকিউরিটি চেকাপে একজন একজন করে সিকিউরিটি ডোর পার হতে হয়, প্রথমে কাজলের ওয়াইফ পার হলো, মোহাব ব্যাপারটা মানতে পারল না, এখন তার মাকে আবার দরজার এ পাশে আসতে হবে তারপর সে সবার আগে যাবে, এটা তো বাসা না, এয়ারপোর্ট, সিকিউরিটির লোকজনকে বুঝলাম, ও আগে যেতে চায় এ জন্য কান্না করছে, তারা ও বেশ ভদ্রভাব মোহাবের আবদার রক্ষা করল। আমরা সিকিউরিটি চেক পার হলাম, তারপর হাঁটছি ফ্লাইট গেইটের দিকে, পথে খেলনার দোকান দেখে মোহাব থেমে গেল, এখন সে খেলবে, বললাম আমাদের যেতে হবে, মানছে না, অনেকক্ষণ খেলার পর একজন পুলিশ এসে বলল যে তুমি না গেলে ফ্লাইট তোমাদের রেখে চলে যাব। এবার সে খেলা ছেড়ে যেতে রাজি হলো। আর কোনো ঝামেলা ছাড়াই কাজলেরা ফ্লাইটে উঠতে পারল। বিমানে মোহাব তেমন কোনো ঝামেলা করেনি। অনেক সময় ধরে কার্টুন দেখেছে আর কিছু সময় ঘুমিয়েছে। কাজল তার পরিবারসহ সহিসালামতে ঢাকা পৌঁছে।

সেই চিরাচরিত প্রিয় মাতৃভূমি, মনে হলো আগের মতোই আছে, ঘোলা আকাশ, ধুলাবালি যেন উড়ে বেড়াচ্ছে। রাস্তার দুই ধারে সেই আগের মতোই ফুটপাত হকারের দখলে, যেখানে সেখানে গাড়ি পার্ক করা, ময়লা আবর্জনা যত্রতত্র পড়ে আছে, এই সবকিছুর মধ্যেই ব্যস্ত মানুষ ছুটছে, পনেরো মিনিটের দূরত্ব পার হতে দুই ঘণ্টা লাগছে, কারও কোনো জবাবদিহিতা নেই। সরকার আছে, আইন আছে, কার্যকারিতা নেই। এটা একটা জাদুর শহর, সারা দেশের মানুষ এখানে আসতে চায়, কিছু একটা করতে চায়, আবার কেউ শূন্য হয়ে ফিরে যায়। শহরটা বদলায় না।

কিছু আত্মীয়স্বজন এয়ারপোর্টে আসছিল, কাজলদের নিতে। কাজল পরিবারসহ ছোটো বোনের বাসায় উঠল। বিদেশ থেকে যাওয়ার পর সবার আগ্রহ থাকে লাগেজগুলো খোলার দিকে। অনেক চকলেট ছিল, সবাইকে তাদের জন্য আনা উপহারসামগ্রী দেওয়া হলো। কেউ বেশ খুশিমনে নিলো, আবার কেউ উপহার পছন্দ না হওয়ায় নিলোই না, কাজল আগেই তার বউকে বলেছিল, সবাইকে খুশি করতে পারবে না। দেশের মানুষ জানে না দেশের বাইরে প্রতিটি টাকা কত কষ্টে অর্জিত হয়। তারা ধারণা করে, বাইরে একবার যেতে পারলে আর কোনো সমস্যা থাকে না। গাছে উঠে আর টাকা পেড়ে দেশে পাঠাও।

দেশে এসে মোহাবের কিছুটা সমস্যা দেখা দিল, অনেক সাবধানতা সত্ত্বেও পানিতে সমস্যা হচ্ছিল তার, পাতলা পানির মতো বাথরুম শুরু হলো, কোনো কিছু তেমন একটা খেতে চায় না, মোহাব পুরোটা সময় পেটের সমস্যায় ভোগে। তারপরও আশপাশে কাছের মানুষকে নিয়ে সময় ভালোই যাচ্ছে। দুই সপ্তাহ না যেতেই মনে হলো লাগেজ গোছাতে হবে, ফিরে যেতে হবে কাজের দুনিয়ায়। ব্যবসা চালাচ্ছে একটি ছেলে, অনেক দিন হয় সে কাজলের সঙ্গে কাজ করছে। সে দৈনন্দিন আপডেট পাঠায়। কাজলের বউ শপিং করতে পছন্দ করে, এখন বাংলাদেশ থেকে অনেক কিছু কিনে নেবে। লাগেজ প্রায় ভরা শেষ। প্রতিবার দেশে গিয়ে ফিরে আসতে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার মতো খরচ করতে হয়। তারপরও মাতৃভূমি বলে কথা, দেশের বাইরে যত আরামেই থাকি না কেন, দেশের জন্য খারাপ লাগে, মন কাঁদে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুদের সঙ্গে এক মাসের বেশি সময় কাটিয়ে কাজলের পরিবার সুইডেনে ফিরে আসে। তারপর ব্যবসা দেখাশোনার কাজ শুরু হয়, এই কাজ আর ভালো লাগছে না, এত শারীরিক পরিশ্রম আর করতে ইচ্ছা করছে না কাজলের। কোনো একটা ট্রেইনিং করে যে একটা জব করবে, সেটাও সম্ভব নয়; কারণ, কাজল চাকরি করা পছন্দ করে না। বিকল্প আর বাকি থাকল ব্যবসায় নতুনত্ব আনা বা ভালো কোনো ব্যবসা শুরু করা যায় কি না। কাজল তার বউয়ের সঙ্গে পরামর্শ করল কী করা যায়? যদি একটা রেস্টুরেন্ট দেওয়া যেত? কিন্তু অনেক ইনভেস্টমেন্ট দরকার, এত টাকা কাজলের সঞ্চয়ে নেই। পরবর্তী স্বপ্নপূরণে এবার কাজল উঠেপড়ে লাগল, প্রতিনিয়ত খুঁজতে থাকল কম দামে কোনো রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায় কি না, স্বপ্ন দেখা যখন শুরু হয়েছে, কাজল তা বাস্তবায়ন করে ছাড়বে, এটাই স্বাভাবিক।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>