ব্রেকিং নিউজ
টমি নেই, পুরান ঢাকার গলিতে এক কুকুরের জন্য শোক দখল ও অব্যবস্থাপনায় ঝুঁকিতে তেজগাঁও সিএসডি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নামেই ‘ক্যাশলেস ক্যাম্পাস’, কমেনি ভোগান্তি রাত ১টার মধ্যে দেশের ৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় আপিলের ওপর শুনানি শেষ, এখন রায়ের জন্য অপেক্ষা ৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস আবুল কালাম আযাদের আপিলের সুযোগের অংশটি আইনসম্মত হয়নি: চিফ প্রসিকিউটর আগামী বছর থেকে সারা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ বাংলাদেশে ডিপোর্ট করা মুমতাজ বেগমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ সিজারিয়ান অপারেশনকালে প্রসূতির মৃত্যু, ক্লিনিক সিলগালা
জাতীয়

শিক্ষক নিজে ভালোভাবে পড়ে পড়ালে সেই শিক্ষাই বেশি কার্যকর

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম প্রফেসর ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক। ৮৬ বছর বয়সেও তিনি শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। দীর্ঘ শিক্ষকতা ও গবেষণাজীবনে নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, নন-মনোটনিক পটেনশিয়াল, নিউট্রন স্টারসহ পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন জটিল বিষয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। পাবনার রাধানগরে শৈশব, সংগ্রাম ও পারিবারিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে তার জীবনবোধের বিকাশ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর গবেষণা ও শিক্ষার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পেয়েও দেশে ফিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন তিনি। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠাকালেও পথিকৃতের অবদান রেখেছেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা, গবেষণা, বিজ্ঞানচর্চা, আদর্শ শিক্ষক এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাকের সঙ্গে কথা বলেছে জাগো নিউজ। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি মনির হোসেন মাহিন। জাগো নিউজ: শৈশব থেকে শুরু করি। পাবনার রাধানগরে আপনার যে শৈশব-অভাব, সংগ্রাম, পরিবারের পরিবেশ এবং আপনার মায়ের ত্যাগ—এসব অভিজ্ঞতা আপনাকে আজকের অরুণ কুমার বসাক হয়ে উঠতে কতটা প্রভাবিত করেছে? অধ্যাপক অরুণ বসাক: জীবনসংগ্রাম মানুষের বাস্তবতা উপলব্ধি করার সুযোগ করে দেয়। আমার সমাজ, দেশ ও মানবসম্পর্কিত বোধ শৈশবেই গড়ে উঠেছিল। মায়ের আদর্শ এবং পরে পিতা-মাতার পারিবারিক শিক্ষায় আমি দীক্ষিত হয়েছি। আমার বাবা ছোটবেলা থেকেই শেখাতেন, অন্যের ধর্ম, মত কিংবা বক্তব্যের মধ্যেও শিক্ষণীয় বিষয় থাকতে পারে। একদিন তাকে নামাজের ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বুঝিয়েছিলেন, নামাজের কিছু আসন শরীরের জন্যও উপকারী। সেদিন থেকেই বুঝেছিলাম, সব ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেও ভালো কিছু থাকতে পারে। রাধানগর মজুমদার অ্যাকাডেমি ও এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষা ও পরিবেশও আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। আমি মনে করি, প্রতিকূলতা মানুষকে সাহসী, পরিশ্রমী, সৃজনশীল ও যুক্তিবাদী করে তুলতে পারে। তবে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঠিক প্রশিক্ষণ না থাকলে সেই সংগ্রাম ধ্বংসাত্মক দিকেও যেতে পারে। জাগো নিউজ: আপনার জীবনে কয়েকজন শিক্ষকের বিশেষ প্রভাবের কথা জানা যায়। বিশেষ করে মাখনলাল চক্রবর্তী স্যার কীভাবে আপনার মধ্যে বিজ্ঞান ও জ্ঞানচর্চার আগ্রহ তৈরি করেছিলেন? একজন ভালো শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর জীবন কতটা বদলে দিতে পারেন? অধ্যাপক অরুণ বসাক: শুধু একজন শিক্ষক আমার জীবনকে প্রভাবিত করেছেন—এ কথা বললে অন্যায় হবে। রাধানগর মজুমদার অ্যাকাডেমি, এডওয়ার্ড কলেজ ও রাজশাহী কলেজে আমি অনেক আদর্শ শিক্ষকের সান্নিধ্য পেয়েছি। রাধাবিনোদ বসাক স্যার ছিলেন অসাধারণ শিক্ষক। তার নিষ্ঠা, সরল জীবনযাপন ও ছাত্রদের প্রতি দায়িত্ববোধ আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এডওয়ার্ড কলেজের মাখনলাল চক্রবর্তী স্যার আমার জীবনে বিশেষ প্রভাব রেখেছেন। তিনি বলতেন, সারাদিন যা পড়বে, দিনের শেষে নিরিবিলি পরিবেশে বসে তা মনে মনে কল্পনা করে বোঝার চেষ্টা করবে। বুঝতে না পারলে আবার পড়বে ও চিন্তা করবে। এই উপদেশ আমি সারাজীবন অনুসরণ করেছি। তার পড়ানোর ধরন ছিল অসাধারণ। কঠিন বিষয়ও তিনি সহজ ও প্রাণবন্তভাবে বোঝাতেন। রাজশাহী কলেজের প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান স্যারের কাছ থেকেও নিষ্ঠা, সততা ও জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার শিক্ষা পেয়েছি। আমি মনে করি, আদর্শ ও লোভমুক্ত শিক্ষকই একটি জাতির বাতিঘর। একজন ভালো শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর পুরো জীবনকে বদলে দিতে পারেন। জাগো নিউজ: ১৯৬৩ সালে এমএসসিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে পরদিনই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। প্রথম ক্লাসে যখন আপনার শিক্ষার্থীদের অনেকে সহপাঠী বা সিনিয়র ছিলেন, তখন আপনার অনুভূতি কেমন ছিল? অধ্যাপক অরুণ বসাক: ১৯৬৩ সালে এমএসসি পাস করার পরই আমি এমএসসি শ্রেণিতে পড়ানো শুরু করি। প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ছিল আমার এক বছরের জুনিয়র এবং প্রায় ৬০ শতাংশ ছিল আমার সহপাঠী কিংবা সিনিয়র। এমনকি একজন ছিলেন আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। তবে আমি বিষয়টিকে খুব স্বাভাবিকভাবে নিয়েছিলাম। মনে হতো, আমি একজন প্রশিক্ষক এবং আমরা সবাই মিলে বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি। ক্লাসে অনেক প্রশ্ন ও পাল্টা-প্রশ্ন হতো। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আমাকে সমীহ করলেও ক্লাসের বাইরে তারা ছিলেন অন্তরঙ্গ বন্ধু। আমার মনে হয়েছে, শিক্ষক নিজে ভালোভাবে পড়ে তারপর পড়ালে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দ্বিমুখী আলোচনা করলে শিক্ষা সবচেয়ে কার্যকর হয়। জাগো নিউজ: উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পাকিস্তান সরকার একসময় আপনার পাসপোর্ট আটকে দিয়েছিল। একজন তরুণ শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে সেই হতাশা কীভাবে সামলেছিলেন? অধ্যাপক অরুণ বসাক: এটি আমার জীবনের গতিকে অনেকটা থামিয়ে দিয়েছিল। তখন অনেক শুভানুধ্যায়ী আমাকে ভারতে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি আমার আলমা ম্যাটার (লালনপালনকারী জননী) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে ছেড়ে যেতে চাইনি। তখন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক ছিলেন মাত্র পাঁচজন। আমার শিক্ষকরা বিদেশে এবং অনেক শিক্ষার্থীও বিদেশে চলে যাচ্ছিলেন। তাই মনে করলাম, বিভাগের গবেষণা ও উন্নয়নের ধারাটা ধরে রাখা আমার দায়িত্ব। আমি গবেষণা, ল্যাবরেটরি উন্নয়ন ও পঠন-পাঠনে আরও বেশি মনোযোগ দিলাম। সভা-সমিতি প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলাম। তখনই বুঝতে পারলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশকে আমি কতটা ভালোবাসি। নিজের স্বার্থের চেয়ে প্রতিষ্ঠান ও দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখার প্রেরণা ওই সময়েই পেয়েছি। জাগো নিউজ: ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে গবেষণা শুরু করেন। কণাবিজ্ঞান থেকে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে আপনার গবেষণার যাত্রা কীভাবে শুরু হলো? অধ্যাপক অরুণ বসাক: ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ পেয়ে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই। আমার আগ্রহ ছিল কণাবিজ্ঞান, কিন্তু তখনকার পরিস্থিতি ও বয়স বিবেচনায় এক্সপ্রেরিমেন্টাল লো এনার্জি নিউক্লিয়ারি ফিজিক্সে গবেষণার সুযোগ গ্রহণ করি। নতুন বিষয়ে শুরুতে অনেক কিছুই বুঝতে পারতাম না। তখন নিজেকে বলেছিলাম—অন্যরা যদি ১০ মিনিটে বোঝে, আমাকে তিন ঘণ্টা পরিশ্রম করে বিষয়টির গভীরে যেতে হবে। প্রায় দুই মাস এভাবে পড়াশোনা করার পর দেখলাম, অন্যরা ১০ মিনিটে বুঝলে আমি পাঁচ মিনিটে বুঝতে পারছি। নয় মাস পর পরীক্ষায় আমি নিউক্লিয়ার ফিজিক্স গ্রুপে প্রথম হই। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে—দৃঢ় সংকল্প, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে কঠিন পরিস্থিতিতেও সাফল্য অর্জন সম্ভব। জাগো নিউজ: নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, নন-মনোটনিক পটেনশিয়াল ও নিউট্রন স্টারের মতো জটিল বিষয় নিয়ে আপনার গবেষণা রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ভাষায় আপনার গবেষণার মূল বিষয়টি কী? অধ্যাপক অরুণ বসাক: আমরা যে পদার্থ দেখি, তা অণু দিয়ে তৈরি; অণু তৈরি হয় পরমাণু দিয়ে এবং পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস। দুটি নিউক্লিয়াসের মধ্যে যে বল কাজ করে, তার ওপর তাদের বিক্রিয়া নির্ভর করে। নিউট্রন স্টার হলো একটি তারার বিশেষ পরিণতি, যেখানে মূলত নিউক্লিয়ার ম্যাটার থাকে। নিউট্রন স্টারের বৈশিষ্ট্য বুঝতে হলে নিউক্লিয়ার ম্যাটারের ইক্যুয়েশন অব স্টেট বা অবস্থার সমীকরণ জানতে হয়। আমাদের গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুটি নিউক্লিয়াস কাছাকাছি এলে শুধু আকর্ষণ বলই কাজ করে—এ ধারণার পরিবর্তে স্বল্প দূরত্বে বিকর্ষণও থাকতে পারে। আমরা এ ধরনের সম্ভাবনাকে নন-মনোটনিক পটেনশিয়াল হিসেবে দেখিয়েছি। এর ফলে নিউক্লিয়াসের পারস্পরিক ক্রিয়া এবং জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নতুনভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়। জাগো নিউজ: বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আপনি দেশে ফিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এর পেছনে আপনার দর্শন কী ছিল? অধ্যাপক অরুণ বসাক: আমি দেশকে ভালোবাসি। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই আমি বিদেশে গিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পেয়েছি। বিদেশে থেকে গেলে জীবন হয়তো অনেক আরামদায়ক হতো, কিন্তু দেশকে সেবা করার সুযোগ কমে যেত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আমার আলমা ম্যাটার। এখানেই আমি গবেষণার দ্বার উন্মোচন করেছিলাম। নিজের হাতে একটি প্রতিষ্ঠান ও গবেষণার পরিবেশ গড়ে তোলার মধ্যে যে নির্মল আনন্দ আছে, তা অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন। জাগো নিউজ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সেন্টার এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবকাঠামো গড়ে তোলার সঙ্গেও আপনার নাম জড়িত। একজন শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠান নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কীভাবে দেখেছেন? অধ্যাপক অরুণ বসাক: গবেষণার জন্য কম্পিউটার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বিদেশ থেকে ফিরে দেখি, গবেষণার প্রয়োজনে আমাদের ঢাকায় গিয়ে কম্পিউটার ব্যবহার করতে হচ্ছে। ১৯৮৫ সালে তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর এম. আব্দুর রকীবের উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট আকারের কম্পিউটার স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। আমি ড. রমেশচন্দ্র দেবনাথের সঙ্গে ঢাকায় গিয়ে বাজার যাচাই করি এবং মটোরোলা প্রসেসর সমৃদ্ধ আলফা মাইক্রো কম্পিউটার কেনার প্রস্তাব দিই। কম্পিউটার রুম ও ব্যবহারকারীদের কক্ষের নকশার ক্ষেত্রেও আমি কাজ করি। পরে সিস্টেমটি নিজে ম্যানুয়েল পড়ে শিখতে হয়েছিল, কারণ তখন প্রশিক্ষিত অপারেটর খুবই কম ছিল। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এবং হিসাব-সংক্রান্ত কাজ কম্পিউটারের মাধ্যমে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের কম্পিউটার কেন্দ্র স্থাপনে আমি কাজ করেছি। আমার বিশ্বাস, গবেষণা ও শিক্ষা এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তির অবকাঠামো তৈরি করা জরুরি। জাগো নিউজ: বাংলাদেশে গবেষণার সংখ্যা বাড়লেও মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আপনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় একটি ভালো গবেষণার অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য কী? তরুণ গবেষকদের কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত? অধ্যাপক অরুণ বসাক: বাংলাদেশে গবেষণার সংখ্যাগত বিস্ফোরণ ঘটেছে, কিন্তু মানের জায়গায় এখনও প্রশ্ন রয়েছে। বর্তমানে অনেক ভুঁইফোড় ও প্রিডেটরি জার্নাল রয়েছে। এমনকি প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা সংস্থার বিশেষ করে নতুন–প্রতিষ্ঠিত কিছু জার্নালের ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি তথা পিয়ার রিভিউ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তরুণ গবেষকদের বলবো, অচেনা ও সন্দেহজনক জার্নালে সহজে গবেষণা প্রকাশের চেষ্টা করবেন না। নিজেদের ক্ষেত্রের স্বীকৃত ও মানসম্মত জার্নালের গবেষণাপত্র পড়তে হবে। সেগুলোর আলোকে গবেষণা পরিকল্পনা করতে হবে এবং মানসম্মত জার্নালে প্রকাশের চেষ্টা করতে হবে। কেবল গবেষণাপত্রের সংখ্যা দিয়ে একজন গবেষকের মূল্যায়ন করা উচিত নয়। অল্পসংখ্যক মানসম্মত গবেষণাপত্র অনেক দুর্বল গবেষণাপত্রের চেয়ে বেশি মূল্যবান। শর্টকাট নয়, ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে মানসম্মত গবেষণার দিকে যেতে হবে। জাগো নিউজ: আপনি ৮৬ বছর বয়সেও শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আজকের তরুণদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী? অধ্যাপক অরুণ বসাক: জীবনে সাফল্যের জন্য নৈতিকতা, সৃজনশীলতা, যুক্তিবুদ্ধি, নিষ্ঠা, সহনশীলতা ও পরিশ্রমের মানসিকতা প্রয়োজন। এগুলো সবার মধ্যেই সুপ্ত থাকে; সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তা জাগিয়ে তুলতে হবে। বিষয়কে গভীরভাবে বুঝতে হবে। না বুঝে মুখস্থ করা যাবে না। সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে এবং নিজের মধ্যে একঘেয়েমি দূর করার জন্য বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে যুক্ত থাকতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষার্থীর মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা প্রয়োজন। শুধু নোট চালাচালি নয়, আলোচনা ও যুক্তির মাধ্যমে বিষয়ের গভীরে যেতে হবে। তবেই শিক্ষার্থীরা স্বাবলম্বী হতে পারবে। অভিভাবকদেরও অন্ধস্নেহ পরিহার করে সন্তানদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। আর শিক্ষকদের বলব, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় পাস করার জন্য নয়, মানসম্মত শিক্ষায় গড়ে তুলুন। তরুণদের বলবো—জ্ঞান অন্বেষণে সবসময় ক্ষুধার্ত থাকুন, শেখার ক্ষেত্রে বিনয়ী থাকুন এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরিশ্রম করুন। আমাদের সন্তানরা যদি মানসম্মত শিক্ষা পায়, তাহলে তারা সাহসী, পরিশ্রমী, সৃজনশীল ও স্বাবলম্বী হয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সফল হতে পারবে। তখনই আমরা সত্যিকার অর্থে একটি সমৃদ্ধ ও সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব। জাগো নিউজ: সময় দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার। অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক: আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। এমওএইচএম/কেএইচকে/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>