জাতীয়

শিশুর জন্মের পর থেকে মায়ের যত্ন কেমন হবে?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
নতুন প্রাণের আগমন পরিবারের প্রতিটি কোণে আনন্দের বন্যা নিয়ে আসে। সেই আনন্দের পাশাপাশি নতুন মায়ের ওপরে আসে বিশাল দায়িত্ব। একটি শিশুর মাতৃগর্ভের নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে বাইরের পৃথিবীতে খাপ খাইয়ে নিতে প্রথম কয়েক দিন ও সপ্তাহ অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। এ সময় মায়ের একটু বাড়তি সচেতনতা ও সঠিক যত্নই নিশ্চিত করতে পারে শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা। প্রথম ঘণ্টার স্পর্শ ও শালদুধ শিশুর জন্মের পরপরই দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে মায়ের বুকের ওপর দেওয়া উচিত। এতে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে এবং মা ও শিশুর মধ্যে আত্মিক বন্ধন তৈরি হয়। জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে ‌‘শালদুধ’ দিতে হবে। এই হলুদ রঙের আঠালো দুধ শিশুর জীবনের প্রথম প্রাকৃতিক টিকা, যা তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। বুকের দুধই একমাত্র খাদ্য জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুর জন্য মায়ের দুধ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই—এমনকি এক ফোঁটা পানিও নয়। প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর বা শিশুর চাহিদামতো দুধ পান করাতে হবে। দুধ পানের পর শিশুকে কাঁধে নিয়ে আলতো করে পিঠে চাপড়ে ঢেকুর তোলানো জরুরি। এতে দুধ পেটে জমা হয়ে গ্যাসের সমস্যা হয় না। শিশু কান্নাকাটি করলেই দুধ না দিয়ে তার ক্ষুধা পাওয়ার লক্ষণগুলো খেয়াল করতে হবে। আরও পড়ুন শিশুর লেখাপড়ার হাতেখড়িতে মায়ের করণীয় নাভির সঠিক যত্ন সাধারণত শিশু জন্মের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে নাভির অংশটি শুকিয়ে নিজে থেকেই খুলে পড়ে। শিশুর নাভির গোড়া শুকনো ও পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। নাভিতে কোনো তেল, সুরমা বা ঘরে তৈরি কিছু লাগানো যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কেবল নির্ধারিত অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করা যেতে পারে। নাভি লাল হলে বা সেখান থেকে পানি বা পুঁজ বের হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। শরীর উষ্ণ রাখা নবজাতকের ঘরে তাপমাত্রা স্বাভাবিক ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তবে প্রথম কয়েকদিন তার শরীরে সরাসরি ফ্যান বা এসির বাতাস না লাগতে দেওয়াই ভালো। শিশুদের শরীর খুব দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে। তাই তাকে সব সময় সুতি ও নরম কাপড়ে পেঁচিয়ে রাখতে হবে। শিশুর হাত-পা হালকা গরম আছে কি না, তা পরখ করে কাপড়ের স্তর নির্ধারণ করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা ও গোসল নাভি না ঝরে পড়া পর্যন্ত শিশুকে ভেজা সুতি কাপড় দিয়ে মুছে দেওয়াই ভালো। নাভি পড়ে যাওয়ার পর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে সপ্তাহে দুই-তিন দিন গোসল করানো যেতে পারে। গোসলের সময় যেন কান বা নাকে পানি না ঢোকে; সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। শিশু প্রস্রাব বা পায়খানা করার পর দ্রুত স্থানটি পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিতে হবে, যাতে র‍্যাশ না হয়। আরও পড়ুন সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব নয়, গড়ে তুলুন বন্ধুত্বের সম্পর্ক ঘুমের ধরন বোঝা নবজাতকের রাত ও দিনের পার্থক্য বুঝতে কিছুটা সময় লাগে। তারা দিনে গড়ে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা ঘুমায়। তবে তারা একটানা দীর্ঘসময় ঘুমায় না; দুই-এক ঘণ্টা পরপর জেগে ওঠে এবং খাবার খেতে চায়। কাজেই শিশু যখন ঘুমাবে, মায়েরও উচিত সেই সময়টুকুতে বিশ্রাম নেওয়া। সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা শিশুকে কোলে নেওয়ার আগে পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। কারণ নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কম থাকে। সর্দি, কাশি বা কোনো ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কিছুদিন নবজাতকের কাছ থেকে দূরে রাখা উচিত। ​মায়ের যত্ন ও মানসিক স্বাস্থ্য শিশুর যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি মায়ের নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রসব-পরবর্তী মায়ের সুষম ও পুষ্টিকর খাবার, প্রচুর পানি এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন। এ সময় অনেক মা ‘পোস্টপার্টাম ব্লুজ’ বা বিষণ্ণতায় ভুগতে পারেন। তাই পরিবারের অন্যদের উচিত মায়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে তাকে পূর্ণ মানসিক ও শারীরিক সহযোগিতা দেওয়া। আরও পড়ুন মা হওয়ার আগে ও পরে নারীর যেসব যত্ন জরুরি ​মায়ের একটু যত্ন, ভালোবাসা আর সঠিক সচেতনতাই পারে একটি নবজাতককে সুন্দর ও সুস্থ জীবন উপহার দিতে। তাই সবাইকেই সচেতন হতে হবে। এসইউ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>